জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
***আমার কোনো বেস্টফ্রেন্ড নেই।আমি চাই আমার যাওজ আমার বেস্টফ্রেন্ড হবেন। স্বামী হওয়ার আগে তিনি আমার বন্ধু হবেন। অবশ্যই আজীবন সম্মানের সম্পর্ক ইন শা আল্লাহ। ***আমি বিয়ের পর আরেকজন মা-বাবা চাই।আমি চাই উনার পরিবারের সাথে আমার আত্মার একটা সম্পর্ক তৈরি হবে।আমি উনার মা-বাবাকে নিজের মা-বাবা এর মতো ভালবাসতে চাই।কিন্তু আমাকেও নিজের মেয়ের মতো ভালোবেসে আগলে নিতে হবে।পাশাপাশি উনাকেও আমার মা-বাবাকে নিজের মা-বাবা এর মতো ভালবাসতে হবে। ***আলহামদুলিল্লাহ আমার রব আমাকে সর্বদা এসব হারাম রিলেশন থেকে আগলে রেখেছেন। উনারও পূর্বে কোনো অতীত(হারাম রিলেশনশিপ)ছিল না এমন। হালালের জন্য অপেক্ষা করেছেন। **ফ্রি মিক্সিং এ অভ্যস্থ নয়। অনলাইন, অফলাইন উভয় জায়গায়ই নজরের হেফাজত করেন। **স্বাস্থ্য সচেতন,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গোছালো। সর্বদা সত্য কথা বলেন। **কোনো নেশা জাতীয় দ্রব্যে আসক্ত নয়। এমনকি পান-সিগারেটও খায় না এমন। **রাজনীতি করেন বা কোনো দলে যুক্ত এমন কেউ না। ** মুভি, সিরিজ,হলিউড,বলিউড, গান বাজনায় একেবারেই আসক্তি থাকা যাবে না। **ইন্টারনেটের খুব লিমিটেড ইউজার। অনলাইনের থেকে পরিবারকে সময় দিতে বেশি পছন্দ করেন। **যারা ঘরে আহলিয়া রেখে বাইরে কিংবা ইনবক্সে সংসার পাতেন বা এরকম মনোভাব রাখেন আল্লাহর ওয়াস্তে তারা কেউ নক দিবেন না। ***দুনিয়াবী জীবন না আখিরাতমুখী জীবনে আগ্রহী।যার পাশে থাকলে সর্বদা রবের কথাই স্মরণ হবে। ***রিফ্রেশিং ও আল্লাহর নেয়ামত গুলো উপলব্ধি করার জন্য সময় পেলে সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করার মানসিকতা রাখেন ও ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। *** যাকে ভয় পেয়ে নয়; বিশ্বাস,ভালোবাসা, ভরসা ও শ্রদ্ধায় উনার বাধ্যগত আহলিয়া হবো। ***বদমেজাজি হওয়া যাবে না। বদমেজাজি মানুষ কথার আঘাতে অন্তর ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে। হযরত আলী রাঃ বলেছেন,স্বামী-স্ত্রী মেজাজের ক্ষেত্রে হবে আগুন ও পানির মতো। একজন রাগ হলে অপরজন চুপ থাকবে,আগুনের উপর পানির মতো কাজ করবে, তর্ক বা রাগ করবে না। **উম্মাহদরদী,পরোপকারী,নিরহংকারী,নির্লোভ,ধৈর্য্যশীল,হিংসা ও ক্রোধ বর্জনকারী,আমানতদ্বার,ওয়াদা রক্ষাকারী,কোমল হৃদয়ের অধিকারী হবেন। **মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কখনো না বুঝে বা অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল করলে কারো সামনে অপমানমূলক কথা না বলে পরবর্তীতে আলাদাভাবে ভুল শুধরে দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। **উচ্চস্বরে কথা বলেন না। কাউকে ছোট করে দেখেন না ও ছোট করে কথা বলেন না এমন। ***আমি উনার মানসিক শান্তির কারণ হতে চাই। উনিও যাতে আমার মানসিক শান্তির কারণ হয়। উনি যেন আমার কমফোর্ট জোন হয়। ***অবসর সময় পরিবারের মানুষদের সাথে কাটাতে পছন্দ করেন। আহলিয়া কে সময় দেয়ার,খোশগল্প করার মানসিকতা রাখেন। ** যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরিবারের মানুষদের সাথে পরামর্শ করার মানসিকতা রাখেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন। ***মনোমালিন্য হলে পারস্পরিক আলোচনা করে সমাধান করার মানসিকতা থাকা। নিজেদের মধ্যকার কথাগুলো কখনো অন্যকে না জানানো। ***সাপোর্টিভ,কেয়ারিং এন্ড লাভিং। একজন যত্নশীল পুরুষ,একজন সুদর্শন পুরুষ থেকে উত্তম। বাহ্যিক রূপ রবের দেয়া উপহার যা সময়ের সাথে নষ্ট হয়ে যায়।কিন্তু অভ্যন্তরীণ রূপ অর্থাৎ যার আচার ব্যবহার সুন্দর তিনিই প্রকৃত সুন্দর। যার সৌন্দর্য সারাজীবন থাকে। ***নম্র, ভদ্র,দায়িত্বশীল,কর্মঠ,তাকওয়াবান,গায়রতওয়ালা ও কৃপণ নয় দানশীল হবেন ইন শা আল্লাহ। ****সুন্নতি দাড়ি এবং টাকনুর উপর কাপড় পড়েন, কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। *** জীবনে ভালো থাকার জন্য রবের ছায়াতলে থাকা ভালোবাসাপূর্ণ একটি পরিবারই যথেষ্ট।( মেধা, ব্যক্তিত্ব ও দ্বীনদারিতার গুরুত্ব অনেক বেশি আমার কাছে)। ***প্রকৃত দ্বীনদার ও উত্তম জীবনসঙ্গী হতে হলে ওপরের গুণগুলো থাকা আবশ্যক। আমি চেষ্টারত, তাই আশা করি বিপরীত পাশের মানুষটিও ইন শা আল্লাহ চেষ্টারত হবেন। (দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে কোনো লেবাসধারী নক করবেন না,আল্লাহকে ভয় করুন)। *** প্রকৃত দ্বীনদার হলে কিছুক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার মানসিকতা রাখি। আল্লাহ কবুল করুন। আমিন। ***লেখাটি বড় হয়ে যাওয়ার জন্য আফওয়ান।
|