| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জি আলহামদুলিল্লাহ, পড়ি। শৈশব থেকেই অনেকটা অভ্যস্ত হয়েছি। বিশেষত ৯-১০ বছর বয়সে আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে এই অভ্যাস পাকাপোক্ত হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অনেক পূর্ব থেকেই। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
সবসময় যেহেতু মাদ্রাসায় অবস্থান করা হয় তাই এক ওয়াক্ত ও না, আলহামদুলিল্লাহ। (তবে ঈদ কিংবা পরীক্ষার পর দীর্ঘ সময় ছুটিতে বাড়িতে থাকলে কখনো কখনো কাযা হয়ে যায়।) |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জী, আলহামদুলিল্লাহ।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
জী না, নেই। আলহামদুলিল্লাহ।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
বর্তমানের মাজারগুলো এবং এগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রুসূমের প্রায় সবই বিদআত এবং শিরক।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
শৈশব থেকেই প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস পারিবারিক সূত্রে তৈরি হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। এ পর্যন্ত পড়া বইয়ের সংখ্যা কয়েক শতাধিক। এর মধ্য থেকে সেরা তিনটি নাম বলা অত্যন্ত কঠিন। তাই নির্বিশেষে আমার পড়া কয়েকটি চমৎকার বইয়ের নাম উল্লেখ করছি। *তালিবানে ইলমের জীবন পথের পাথেয়* মূল: সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী। অনুবাদ: মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ। *বাইতুল্লাহর মুসাফির*, মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ। *গল্পে আকা মহীয়সী খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)*, অনুবাদ: ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী। *আই লাভ কুরআন*, শায়েখ আতীক উল্লাহ। *কোথাও নিঝুম হয়েছে কেউ*, সাবের চৌধুরী। *সুখময় জীবনের সন্ধানে* মূল: শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আরিফী। অনুবাদ: তাকমীল সমাপ্তকারী ছাত্রবৃন্দ। মাদানীনগর মাদ্রাসা ।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
আমার অত্যন্ত পছন্দের কয়েকজন আলেমের নাম উল্লেখ করছি। *শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ.*। *সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.*। *শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ হাফিজাহুল্লাহ*। *মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম*। *শায়খ তাহমীদুল মাওলা হাফিজাহুল্লাহ*। *শায়খ শরীফ মুহাম্মাদ হাফিজাহুল্লাহ*।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
অল্প কথায় নিজেকে ব্যাখ্যা করতে পারা অনেক বড় একটি যোগ্যতা, যা এখনো আমার অর্জনাতীত। তবু যদি নিজের বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু বলতে চাই, বলব - আমি মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। হয়তো সে কারণেই আত্মমর্যাদাবোধ যথেষ্ঠ তীব্র। নিজের সাধ্য বুঝি, এর বাহিরে যেমন যাইনা, তেমনি এর ভেতরের সবটুকু নিজের মানুষের জন্য ব্যয় করতে পারাটাও পরিবার থেকে শিখেছি। খুব স্বাভাবিক ছন্দের জীবন যাপন করি। পড়াশোনার ব্যস্ততায় থাকি, এর মধ্য থেকেই খুঁজে নিই আনন্দ-বিনোদন। অবসরগুলো বই পড়ে কাটাতে অনেক পছন্দ করি। পরিবারের মানুষদের সাথে গল্প করা, তাদের সাথে সময় যাপন করা অনেক প্রিয়। বিশেষ কোন উচ্চ রুচিবোধ নিজের মধ্যে আবিষ্কার করি না, তবে সবকিছুকে পরিপাটি করে রাখা এবং যে কোন কাজ তার শৈল্পিক পদ্ধতিতে পরিচ্ছন্নতার সাথে করাটা আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করি। স্বপ্ন কিংবা সুপ্ত ইচ্ছেগুলোর সবটুকু এখানে প্রকাশ করতে আমি আসলে অনিচ্ছুক। তবে এতটুকু অবশ্যই বলতে চাই যে - আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার। আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবারের একজনকেই আমি পাশে চাই, তার পাশে থাকতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, আমার মত তার হৃদয়েও জমে আছে একান্ত অনেক আনন্দ-বেদনার কাব্য। আমি সেই কাব্য মন দিয়ে শুনতে চাই। একটি পরিবারে পূর্বের সদস্যদের গুরুত্বের পাশাপাশি স্ত্রীর গুরুত্বের সমন্বয়টা আমি বেশ বুঝি। প্রত্যেককেই তার যথাযোগ্য গুরুত্ব, মর্যাদা ও অধিকারের সাথে রাখার অপরিহার্যতা আমি পরিবার থেকে ও মহান আসাতেযায়ে কেরামের এর নিকট থেকে শিখেছি আলহামদুলিল্লাহ। তবে, দাম্পত্য জীবনে কিছু মৌলিক ইচ্ছে কিংবা স্বপ্ন আছে যা অনেকের মতো আমার হৃদয়ও লালন করে। দুজনে একসাথে হাত ধরে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নবীজিকে সালাম পেশ করা, সময় আর সাধ্য মিলিয়ে চেনা পৃথিবীকে ঘুরে দেখা, একসাথে দাঁড়িয়ে পাহাড় দেখা, সমুদ্র দেখা, কোন সন্ধ্যায় নোনা জলে ভেজা সমুদ্রতটে খোলা পায়ে একসাথে হাঁটা, চাঁদনী রাতে জানালা খুলে তন্ময় হয়ে বসে থাকা, উদাস দুপুরে দুজনের পছন্দের বই আর কফি নিয়ে মগ্ন হওয়া - এমন অনেক কিছু ! পরিসমাপ্তিতে বলতে চাই, যেসমস্ত হেকমতকে নিহিত করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জীবনে বিবাহের প্রয়োজন সৃষ্টি করেছেন, আমাদের দাম্পত্য-জীবন সাধ্যমত সেই হেকমতগুলো বাস্তবায়ন করবে— স্বপ্নের বৃহত্তর অর্থে এই অনুভূতিকেই আমি লালন করি।
|