জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
১- মৌলিকভাবে নম্র বিনয়ী ভাল, গড়ে ওঠার মানসিকতা ও নিজেকে অন্তর হতে স্বামীর কাছে সপে দেয়া যে, তাকে দেখলেই যেন মনে দ্বীনের কাজের জন্য ও হালালের দিকে ও সঠিক পথে চলতে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও খুবই সাহস মনোবল তৈরী হয় ৷ ২- চেহারা দেখে মায়া লাগা, সাদা হোক বা কাল, লাল বা হলুদ ৷ দ্বীনদার তো হবেই ৷ কিন্তু চেহারা দেখে দয়া মুহাব্বত মায়া লাগলে মানসিক শান্তি হবে ৷সুখ হবে ৷ ৩- হাসি মুখ হলে মানসিক প্রশান্তি হয় ৷ ৪- অধিক চরিএবান ৷ যেমনঃ সংসার স্থায়ী হতে বাড়ীর কোন কাজ না করলেও সকলের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মত বুদ্ধিমান বিচক্ষণ বিনয়ী আদবওয়ালা চরিএবান হওয়া ৷ যেমন শাশুড়ী কোন কাজের কথা বললে উনাকে খুশী করে তাল মিলিয়ে চলা ৷ যখন শশুড়-শাশুড়ীকে বিনয় আদবের সাথে সন্তুষ্ট রেখে আনুগত্য ও সুধারণা নিয়ে চলবে, তখন ঘর বাড়ীর কাজ তেমন না করলেও সংসার ভাল থাকে ৷ আর উনার সাথে বে-আদবের মত ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার করে যদি ঘর বাড়ীর কাজ খুব বেশি করে সারাদিনও করে, তবুও সংসার স্থায়ী হয় না ৷ সংসারে সমস্যা তৈরী হয় ৷ শান্তি হয় না ৷ কেউ শাশুড়ীর কোন হুকুম মানল, কিন্তু রাগ দেখিয়ে, বা বিরক্তি প্রকাশ করে বা রাগ প্রকাশ করে যেন সামনে তাকে কোন কিছু করতে না বলে ৷ বা কাজটি করল নোংরা করে ত্রুটির সাথে যাতে তাকে কাজ করতে না বলে ৷ তার হাতের খানা খেতেই ঘৃণা করে যে, তার আন্তরিকতার অভাব ৷ পরিচ্ছন্ন নয় ৷ তাহলে এমন মেয়ে সংসার গড়তে পারে না ৷ সংসারিক নয় সে ৷ কেউ কেউ শাশুড়ী করতে বলে একটা, আর সে করে আরেকটা ৷ মুখে মুখে কথা বলে ৷ তাহলে এসব মেযেদের দিয়ে ঝামেলা হয় ৷ এমনকি দ্বীনের গুণাবলীও নাই হয়ে যায় ৷ দ্বীনের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায় ৷ ঝগড়ার মাঝে দ্বীনের কাজ ও চিন্তা ফিকির দ্বীনের জন্য হয় না ৷ এমনকি তালাক পর্যন্ত হয়ে যায় অনেক স্থানে ৷ কখনো শাশুড়ী মা নিজের ছেলের শান্তির জন্য বউয়ের অন্যায় সহ্য করে কিছু বলে না, যেন ছেলে শান্তিতে থাকে ৷ কিন্তু এই অযোগ্য মেয়েরা স্বামীর জন্য বাবা মায়ের দোয়া আনে না ৷ স্বামীর মুখ বাবা মায়ের কাছে উজ্জল করে না ৷ বরং মা বাবার কাছে স্বামীকে ও স্বামীর কাছে মা-বাবাকে খারাপ ও স্বার্থপর ও উদাসীন বানায় ৷ এই সকল সমস্যাগুলো ও এই জাতীয় ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত সুন্দর নম্র বিনয়ী চরিএবান দ্বীনদার মেয়ে কাম্য ৷ ৫- খাদীজা রাযিঃ এর মত জীবনসঙ্গী চাই ৷ যেমনঃ গোটা মক্কা গোটা আরবের কেউ স্বামীর পাশে নেই ৷ খাদীজা রাযিঃ একাই রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে ছিলেন ৷ হীরা গুহায় গিয়ে খানা দিয়ে আসতেন ৷ বর্তমানে আলেমদের বন্দী গ্রেফতার করলে কেমন যেন জেলখানায় গিয়ে খানা দিয়ে আসার মত কুরবানী জাতীয় কাজ ৷ ঐ সময় স্বামীর মনোবল বৃদ্ধিতে একাই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে ছিলেন ৷ আমি যেই হালতেই থাকি, আমার ঈমান-আমল-মনোবল-মানসিক শান্তি ও শক্তি যোগাতে আমার আহলিয়া সর্বদা আমার কল্যান কামনা করবে বিশ্বস্ততা আমানতদারীতার সাথে ৷ ও আমার সাথে থাকবে ৷ এমন জীবন সঙ্গী কামনা করি ৷ আমীন ৷ ৬- হাযেরা আলাইহিস সালাম এর মত আমানতদার অন্তরের অন্তস্থল নিবেদিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য, দ্বীনের জন্য, স্বামীর জন্য ও সন্তানের যোগ্য মা হবে ৷ এমন জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করি ৷ সন্তানের সর্বপ্রথম হক হলো ভালো মা বাঁছাই করা ৷ হাজেরা আলাইহিস সালামকে মক্কার মরুভূমিতে হযরত ইব্রাহীম আঃ রেখে এসেছেন ৷ দশ বছর পরে যখন সন্তান ইসমাঈল আঃ কে বললেন যে, হে ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখেছি ,আমি তোমাকে কুরবানী করছি, তোমার রায় কি? সন্তান মা হাজেরা আলাইহিস সালাম এর শিক্ষা দীক্ষা ঈমান-আমল-চরিএ মা এর কাছে গড়ে ওঠে বাবাকে জবাব দেনঃ يآبت افعل ماتؤمر ، ستجدني إن شاء الله من الصابرين ـ سورة الصافات ـ ١٠٢ ـ হে পিতা! আপনি যা নির্দেশিত হয়েছেন, তাই করুন ৷ ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন ৷ আমি এমন জীবনসঙ্গী কামনা করি, যে জামানা পরিবর্তনকারী সন্তান জন্ম দিবে ও ইসমাঈল আঃ এর মায়ের মত সন্তানদের ঈমান-আমল-চরিএ গড়ে তুলবে ৷ যার সন্তানরা আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব দিবে, উম্মাহর মুক্তির দূত হবে ৷ দাজ্জালী ফেতনা হতে নিজে মুক্ত থাকবে ও উম্মাহকে নিরাপদ রাখবে ৷ ইনশাআল্লাহু তাআলা ৷ আমীন ৷ ৭- মূসা আলাইহিস সালাম এর স্ত্রী ও হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম এর কন্যাদের মত লজ্জাশীলা, কর্মঠ, ফ্রী-মিক্সিন হতে দূরে থেকে বুদ্ধিমানের মত সকল কাজ করা, বিপদ আপদে দরকারে লজ্জাশীলতা বজায় , ফ্রী-মিক্সিন হতে দূরে থেকে কর্মঠ পরিশ্রমী কন্যাদের মতন সকল কাজ, খেদমত ও দরকার পুরা করা ৷ যেমনঃ হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম এর কন্যাদ্বয় বকরীর পানি পান করাতে যেতেন দূরে এবং পরিশ্রমী কর্মঠ, বাবার কাজ মেয়েরাই করেন, যখন বাবা বৃদ্ধ ও দুবর্ল হয়ে গেছেন ৷ এবং লজ্জাশীলা, পর্দানশীল, বুদ্ধিমান ও ফ্রী -মিক্সিন (নারী-পুরুষ একসাথে হওয়া হতেও দূরে) যখন সকলে পানি পান করিয়ে চলে যেত, তখন তারা গিয়ে পানি পান করাত ৷শরীয়তের উপর, নারীর গুণাবলীর উপর, প্রয়োজন যথাযথ পূরণ করার বিষয়ে যোগ্য দ্বীনদার, অনুসরণীয় ছিলেন ৷ আমিও নবীদের কন্যা ও মূসা আঃ এর আহলিয়া এর মত জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করি ৷ আমীন ৷ ৮- যদি কখনো আমার ঈমান-আমলের উপকারে, দ্বীনের প্রয়োজনে, ফেতনা ও গুনাহ মুক্ত হতে একাধিক বিবাহের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমার জীবনসঙ্গী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, এমন চাই ৷ আমার কল্যানকামী, ও হিতাকাঙ্গী হবে ৷ এমনকি ভাল নেককার সুন্দরী, সকল গুণের সমষ্টি মেয়ে খুঁজে আমার উপকার করতে সচেষ্ট থাকবে ৷ যাকে কুরআনের ভাষা বলে " ادخلوا في السلم كافة " পরিপূর্ণরূপে ইসলামের মধ্যে ঢুকা" যা প্রকৃত ঈমানদার করতে পারে ৷ আর দ্বীনদার তো ঈমানের পরে ৷ মেয়েদের ঈমান এই জায়গাতে পরীক্ষিত হয় ৷ আমি চাই আমার আহলিয়া আনন্দিত হয়ে খুশী হয়ে সহযোগিতা করবে ৷ এমনকি হিজরত করলে, হিজরত করবে ৷ স্বামীর ঈমান-আমল- গুনাহমুক্ত -হালাল জীবন করতে আন্তরিকভাবে সততা ও আমানতদরীর সাথে সাহাবীওয়ালা জীবনের মত সহযোগিতা করবে ৷ ইনশাআল্লাহু তাআলা ৷ এমন জীবনসঙ্গী কামনা করি ৷ আমীন ৷ ৯- আমি চার বিয়ে করলে আহলিয়া ও পরিবার কোন বাঁধা হতে পারবে না ৷ ফতোয়া হলোঃ হালালকে হালাল ভালো মনে না করলে ঈমান থাকে না ৷ আর হারামকে হারাম খারাপ মনে না করলে ঈমান থাকে না ৷ ১০- মোহর মোহরে ফাতেমী বা আরো কম হলে মানানসই হয় ৷ ১১- আহলিয়ার জন্য আমার প্রত্যাশাসমূহ আরো বিস্তারিত উল্লেখ করার জন্য আমি প্রশ্ন উওর আকারে আমার মন-মানসিকতা উল্লেখ করছি ৷যেগুলো আমি বিভিন্ন লোকজন হতে শুনেছি, যা অতি উওম নেককারদের বৈশিষ্ট ৷ আমার জন্যও এমন কামনা করি ৷ আহলিয়ার জন্যও হলে ভাল হয়, নতুবা এমন শিখে নিতে হবে, গড়ে ওঠতে হবে ☞ প্রশ্নঃ তার সম্পর্কে আমাকে জানান, তার গুণগুলো কি কি? তার দোষগুলো কি কি? তার ভিতরে কি কি সমস্যা? বিয়ের আগেই বিস্তারিত উল্লেখ করে দিবে সততার সাথে ৷ - দ্বীন মানার উদাহরণঃ - আদব ও বাধ্য হওয়ার উদাহরণঃ - কর্মঠের উদাহরণঃ সে যখন বাড়ীতে থাকে, তার দিন কিভাবে কাটে? - মেনেজমেন্ট ও স্বাতন্ত্রতার উদাহরণঃ সে আপনাকে বা তার মাকে বা পরিবারকে দ্বীন মানার ক্ষেএে কোন সহযোগিতা কি করে? কোন পরামর্শ দেয়? সাংসারিক উন্নতির ক্ষেএে সে কি কোন পরামর্শ দেয়? তার পরামর্শ আপনার পরিবারে কতটুকু প্রয়োজন মনে করেন? - সে ঘর ঝাড়ু দেয়? ঘর পরিপাটি রাখে? ঘর ঝাড়া দেয়? - বড়দের কথায় কেমন সাড়া দেয়? - দৈনন্দিন তার আমলের বিবরণ ৷ তিলাওয়াত কেমন? নফল ইবাদত কেমন? দোয়ায় কেমন? নফল রোযায় কেমন? - কানাআত কেমন? কোন জিনিস নিয়ে পীড়াপীড়ি কেমন? - খাবারের ক্ষেএে কেমন? শুকরগুজার? নাকি টের বেটের হলে খায় না? বকাবকী করে? - আপনারা কোন কাজে শাসন করলে সে তা কিভাবে গ্রহণ করে? আন্তরিক ও বিনয়ের সাথে আপনাদের শাসন মেনে নেয়? সামনে এমন করবে না, এমন ভাব থাকে? নাকি তেরাভাব থাকে? - ধৈর্য কেমন? - অপ্রয়োজনীয় কথা কেমন বলে? নীরবতা কেমন? - কাজ করার আগে চিন্তা করে? - কোন কাজে সতর্ক করলে কতবার বলা লাগে? নাকি আজকে বললে সামনে সে এটি সারা জীবন মনে রাখে? - নিজে শিখা ও বই পড়ার ক্ষেএে কেমন? বইয়ের ক্ষেএে তার কেমন ঝোঁক? অন্যদের শিখানোর ক্ষেএে কেমন? বিনামূল্যে কেমন? মূল্যে কেমন? - তার নিয়মতান্ত্রিক কোন রোগ আছে কিনা? জিন্নাতের কোন সমস্যা আছে কিনা? - পরোপকার কেমন? - মোবাইল? - তার চরিএ সন্দেহমুক্ত ও অভিযোগমুক্ত হতে হবে সবার কাছে ৷ - সে কি বাচ্চাদের পড়াতে মন-মানসিকতা রাখে? * এমন আহলিয়া বিয়ে করা প্রয়োজন , যে আমার দ্বীনের ক্ষেএে সহযোগিতা করবে ৷ আমাকে শিক্ষার ক্ষেএে সহযোগিতা করবে ৷ সন্তানদের জন্য আদর্শ মা হবে ৷ সংসারের উওম হেফাজতকারিনী হবে ৷ আমার অন্য সকল (বাড়ীর) কাজ করে ফেলবে ৷ আমলের ক্ষেএে সহযোগিনী -মুযাক্কিরাহ হবে (মনে করিয়ে দিবে) দ্বীন মানতে আন্তরিক ও আল্লাহর ভয় ( উর্বর অন্তর) হবে ৷ আদব ও বাধ্য হওয়া ( উর্বর অন্তর) বিচক্ষণ কর্মঠ ও অলস না হওয়া মেনেজমেন্ট পরিচ্ছন্নতা: এই সবগুণাবলী জীবনসঙ্গীর জন্য প্রত্যাশা করি ৷ সে সালাতে সাহেবে তারতীবা হবে, কোন সালাত, কোন রোযা জীবনে কাযা থাকবে না ৷ তিলাওয়াতে সিজদাহ ও কোন ফরজ ওয়াজিব বাকী থাকবে না ৷ সকলের হক আদায় করা থাকবে ৷ কোন হক ঋণ রাখবে না ৷ ইনশাআল্লাহ ৷ মুত্তাকী হবে ৷ আমীন ৷ হাদীসে আছে, অধিক স্বামীভক্ত, অধিক সন্তান প্রসবকারিনী, সোহাগিনী, অধিক চরিএবান, অধিক দ্বীনদার ৷ এই সবগুণগুলোই কাম্য ৷ ইনশাআল্লাহুল আযীয ৷ আমীন ৷ ছুম্মা আমীন ৷ ইয়া আরহামার রাহিমীন ৷
|