জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
অর্ধেক দ্বীনের প্রতি আমার প্রত্যাশাঃ উত্তম চরিত্রের অধিকারী, বিনয়ী, সত্যবাদী, সৎ, শান্ত স্বভাবের, পরিশ্রমী, ধৈর্য্যশীল, আল্লাহর হক, বান্দার হক আদায়ে সচেতন থাকবে, এমনকি একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর ক্ষেত্রেও। বিশুদ্ধ আকিদা লালনকারী। ''আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত'' এর অনুসারী। তাওয়াক্কুলকারী, তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর অবলম্বনকারী। "তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর অবলম্বনকারী" এটা বলার পর আর আর কিছু হয়তো ভেঙ্গে বলতে হয় না, তারপরও বলছিঃ যে সন্দেহাতীত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে। কোনো কাজ কাজ করার আগে চিন্তা করবে, এই কাজে আমার রব সন্তুষ্ট হবে নাকি অসন্তুষ্ট। ভুলের উর্ধ্বে কেঊ নয়, ভুল হবেই, কিন্তু ভুলটা যখন বুঝতে পারবে বা কেউ ধরিয়ে দেবে, তখন সেই ভুলটা শুধরে নেয়ার মন মানসিকতা রাখবে। অনর্থক কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকবে। উত্তম মন-মানসিকতার অধিকারী হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতন থাকবে, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার থেকে বড় ফিতনা আর কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না, হয়তো এটা দ্বারা কিছুটা উপকৃত হওয়া যায়, কিন্তু এটা নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা বলা চলে। উপকারের থেকে অপকার'ই বেশি করে, কিন্তু আমরা সচেতনতার অভাবে সেটা উপলব্ধি করতে পারি না। ইলম অর্জনের প্রয়োজনে টেলিগ্রাম আর প্রয়োজনে এখন ফেসবুক একাউন্ট খুলতে হয়েছে, তবে ফেসবুক থেকে দূরে থাকতে চাই, যা আপাতত চাইলেও হচ্ছে না। আমি মনে করি, যদি আমার ফিতনার সাথে লড়ার ক্ষমতা না থাকে তবে, যে রাস্তা দিয়ে ফিতনা আসে, সে রাস্তাটা বন্ধ করে দেয়াই ঈমানের দাবি। উনাকেও এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী যদি বলে, সে চোখের পর্দা করতে পারে, আমার মনে হয় এটা মিথ্যা বলা হবে, বিশেষ করে ফেইসবুক ব্যবহারকারী। আর অন্যকে নিয়ে খোঁচা দিয়ে পোস্ট, গিবত, নন মাহরামের পোস্টে কমেন্ট, কমেন্টের রিপ্লাই এসব ফিতনা তো আছেই। প্রয়োজন ব্যতীত ছবি তোলা জায়েজ নেই জানা মতে, তারপরও কিছু পুরুষ অনর্থক ছবি তুলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মেয়েদের ফিতনার কারণ হয়, আমার দৃষ্টিতে এটা গায়রতহীনতা, আমার উনি এমন গায়রতহীন হবেন না, আশা করি ফেসবুকের এসব ফিতনা থেকে বেচে থাকবেন। নন মাহরাম মেইনটেইনের ক্ষেত্রে অধিক সচেতন হতে হবে (আমার এবং তাঁর উভয়ের ক্ষেত্রেই)। দৃষ্টি হেফাজতে অধিক সচেতন হতে হবে। আমার পর্দা মেইনটেইনে সাহায্য করতে হবে, দ্বীন জানতে ও মানতে সাহায্য করবে।আমার পর্দার ব্যাপারে আমার থেকেও তিনি বেশি সচেতন থাকবে। কারণ, আমি বেপর্দা হলে তিনি হবেন দাইয়্যুস। দ্বীনহীন পরিবেশে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়, পর্দা রক্ষা করা এবং গীবত থেকে বেঁচে থাকা। জামাতের সাথে স্বলাত আদায় করবেন। নবীজি স্বল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন যাপনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সুন্নাতি দাড়ি থাকবে অবশ্যই (হরমোনজনিত কারণে দাড়ি না গজালে ভিন্ন ব্যাপার)। দাওয়াতি কাজে জড়িত থাকবেন। সততার সাথে জীবন যাপন করবেন, অল্পতে সন্তুষ্ট থাকবেন, দুনিয়া বিমুখ হবেন, দুনিয়াবি নাম-যশ, খ্যাতি, তথাকথিত সফলতার থেকে আখিরাতের সফলতাই তার কাছে অধিক প্রাধান্য পাবে। এসবের পেছনে ছুটে আখিরাত ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। উঁচু-নিচু, সাদা-কালো ভেদাভেদ করবে না, উনার কাছে মর্যাদার মাপকাঠি হবে তাকওয়া। তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর অবলম্বনের ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেক জায়েজ বিষয় থেকেও বিরত থাকতে হয়, নিজের নফসের খায়েশ পূরণের জন্য হারামকে হালাল, নাজায়েজকে জায়েজ ফতোয়া খুঁজে বেড়াবেন না, বরং অনেক সময় তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর অবলম্বনের ক্ষেত্রে জায়েজ কাজ থেকেও বিরত থাকার মন-মানসিকতা রাখবেন। তিনি আমার উপর ছায়া হয়ে থাকবেন, আমার ভুলগুলো ঠান্ডা মাথায় ধরিয়ে দিয়ে শুধরে নেয়ার সুযোগ করে দেবেন, হুটাহাট রেগে যাবেন না। তিনিও ইলম পিপাসু হবেন। অধিক পরিমাণ দ্বীনি ইলম না থাকলেও বা অতিরিক্ত আমল না থাকলেও অন্তত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবেন, বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি উনার পিতা-মাতার হক সম্পর্কেও সচেতন থাকবেন এবং স্ত্রীর হক সম্পর্কেও সচেতন থাকবেন, পুরুষকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই সমতা রক্ষা করে চলার যোগ্যতা দিয়েই পাঠিয়েছেন, যে পিতা-মাতার হক আদায় করতে গিয়ে স্ত্রীর হক নষ্ট করে এবং স্ত্রীর হক আদায় করতে গিয়ে পিতা-মাতার হক নষ্ট করে সে আসলে পুরুষ'ই না। পরিশেষে, আমি আমি আমার চাহিদার ক্ষেত্রে অন্যান্য দিক ছাড় দিতে রাজি আছি, কিন্তু দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। দ্বীনের ব্যাপারে থাকে সর্বোচ্চ সচেতন ও কঠোর হতে হবে। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, জান্নাতুল ফেরদৌস হবে তাঁর চূড়ান্ত সফলতার মাপকাঠি। আমার জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী আমি আশা করি সেসব নিজের মধ্যেও ধারণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। আমরা একে অপরের সহযোগী হবো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে। ভেঙেচুরে বলতে গিয়ে লেখাটা বেশি বড় হয়ে গেছে, তার জন্য দুঃখিত। বিঃদ্রঃ কারো যদি এই আত্মবিশ্বাস থেকে থাকে যে সে আমার চাহিদা মতো (বিশেষ করে দ্বীনের ক্ষেত্রে) তাহলে ইস্তিখারা করে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। অন্যথায়, বায়োডাটা ক্রয় করে অর্থ অপচয় করার প্রয়োজন নেই। লেবাসধারী হতে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।
|