| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
নামাজ খুব ছোটবেলা থেকেই পড়া হয়। আনুমানিক ২০১০ সাল থেকে নিয়মিত, তারও আগে থেকে নামাজের চর্চা আছে। তবে আগে ফজরে অনিয়মিত ছিলাম। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত পড়া হয় আনুমানিক ২০১৯ সাল থেকে |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
১/২ ওয়াক্ত (কোনো সপ্তাহে ১/২ দিন ফজর কাজা হ্য়, কোনো সপ্তাহে একদমই হয় না) |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জি, আলহামদুলিল্লাহ
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
এজমা ও সাইনুসাইটিস আছে, তবে দুটিই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে, আলহামদুলিল্লাহ (এজমা আগে অনেক বেশি ছিল, এখন প্রায় নাই বললেই চলে)। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
কবর হিসেবে জিয়ারত করা যেতে পারে, এর বাইরে কিছু করার বা ভাবার প্রশ্নই আসে না
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
তাফহীমুল কুরআন (বাংলা অনুবাদ ও তাফসীরসহ সম্পূর্ণ ১৯ খন্ড তাফহীম ছোটবেলায় একাধিকবার পড়া হয়েছে), আর রাহিকুল মাখতুম (আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সিরাত প্রতিযোগিতার সুবাদে এটিও ৩/৪ বার পড়া হয়েছে), ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, ফেরা, প্রদীপ্ত কুটির, কুররাতু আইয়ুন, কাঁটা ও ফুল (ইহইয়া সিনওয়ারের উপন্যাস), মু্হাম্মাদ বিন কাসীম (নসীম হিজাজীর আরো অনেক বই), সাইমুম সমগ্র, বেলা ফুরাবার আগে, তুমি ফিরবে বলে, মুহসীনীন, কিতাবুয যুহদ বা রসুলের চোখে দুনিয়া, আল্লাহর রসুল কীভাবে নামাজ পড়তেন, উত্তরসূরী, কষ্টিপাথর, আফিয়া সিদ্দিকী-গ্রে লেডি অফ বাগরাম
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক , খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহি.), শায়েখ আহমাদুল্লাহ, মাওলানা তারিক জামিল, শায়েখ আসিম আল হাকিম, শায়েখ আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
ছোট থেকেই বই পড়ার নেশা। এখন কমেছে, তবে কেনার নেশা কমেনি। এপার ও ওপার বাংলার লেখকদের নানা বই, গল্প-উপন্যাস, কিশোর পাঠ্য ও পত্রিকা, গোয়েন্দা গল্প, সায়েন্স ফিকশন, এডভেঞ্চার, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী প্রচুর পড়েছি। কলেজে ওঠার পর ইসলামী সাহিত্য পড়া শুরু হয়। অধুনা প্রকাশনাসমূহ যেমন গার্ডিয়ান, সমকালীন এসবের বইই বেশি। এখন বই খুব কম পড়া হয়, ব্যস্ততা ও সোশাল মিডিয়াও অনেকাংশে দায়ী। তবে পুরনো অভ্যেসে ফিরে যেতে উদগ্রীব। পারিবারিক লাইব্রেরি আছে। ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে তোলা ও ভবিষ্যতে পরিবারিকভাবে বই পাঠের অভ্যেস গড়ে তুলতে চাই। কবিতা আবৃত্তি করতে ভালো লাগে। শখের মোবাইল ফটোগ্রাফি করি। আল্লাহর নানা সৃষ্টি ও স্থানিক সৌন্দর্যকে ফ্রেমবন্দী করতে ভালোবাসি। লিখতে ভীষণ ভালো লাগে। যেকোনো বিষয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি। ফেসবুকে টুকটাক লেখালেখি করি। হাতের নানা কাজ, ফটোগ্রাফি, বুক রিভিউ, নিজের নানা ভাবনা ও অভিজ্ঞতার কথা, রাজনৈতিক আলাপ ফেসবুকে শেয়ার করি। পেন্সিলে ক্যালিগ্রাফি করা হয়। ঘুরতে ভালো লাগে। এমনি ঘোরাঘুরি তো হয়ই, সাইকেল নিয়ে লং রাইডেও বের হই। একসাথে কয়েকটা জেলা কভার করি। এভাবে পুরো বাংলাদেশ ঘোরার ইচ্ছে আছে। হারামাইন শরিফাইন যিয়ারতের অদম্য ইচ্ছে, টাকা জমাচ্ছি। আল্লাহ যেদিন কবুল করেন। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ অনুরাগ আছে। বাঙালি ও বাংলাদেশি সংস্কৃতি (যেটুকু ইসলামের সাথে কঠোরভাবে সাংঘর্ষিক নয়) এবং ইসলামী সংস্কৃতি হৃদয়ে লালন করি পরম যত্নে। আমি কিছুটা মধ্যডানপন্থী এবং অনেক বেশি উদারপন্থী। মানুষকে মৌলবাদী, শাহবাগী, মোল্লা, নাস্তিক, সুশীল, হিন্দু, মুসলমান, ডান, বাম ইত্যাদি নানা লেন্সে না দেখে তাকে মানুষ হিসেবে দেখতে ভালোবাসি। আল্লাহর সৃষ্টি প্রতিটি মানুষই সুন্দর, প্রত্যেকের চিন্তাধারাকেই আমি সম্মান করি। একমাত্র ইসলাম বিদ্বেষী ছাড়া (তাদের ঘৃণা করি না, করুণা হয়) প্রতিটি মানুষকেই আমি মানুষ হিসেবে ভালোবাসি। খুব বেশি ইন্ট্রোভার্ট নই, আবার একদম এক্সট্রোভার্টও নই। কথা বলি কম, শুনি বেশি। বাকপটু নই, তবে মানুষের সাথে সর্বদা হাসিমুখে কথা বলি। যেচে পরিচিত হতে ভালোবাসি। যেকোনো পরিস্থিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারি, রাগ নেই বললেই চলে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে খুব বেশি দ্বিধান্বিত থাকি, পরামর্শের প্রয়োজন অনুভব করি। কোথাও কোনো অসংগতি পরিলক্ষিত হলে আওয়াজ তোলার চেষ্টা করি। সবসময় যে পারি তা না। কিছু কঠিন বাস্তবতার কথা বলি। অনার্স শেষ করে আমার আরেকটি সাবজেক্টে সেকেন্ড অনার্স করার ইচ্ছে আছে, রাজশাহী বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমার স্বপ্ন অনেক বড়। তবে তা সময়সাপেক্ষ, পথও বন্ধুর। চলমান অনার্স শেষেই স্থায়ী অর্থসংস্থান বা চাকুরীর সুযোগ কম। সেকেন্ড অনার্স শেষে দেশের বাইরে হায়ার স্টাডি ও দেশে সেটেল হয়ে শিক্ষকতা পেশাতে বা একাডেমিক সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছে আছে। সে পর্যন্ত এই লম্বা সময় ও কঠিন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিয়ে পুরোটা সময় আমার পাশে থাকতে পারবেন এবং তিনি ও তাঁর পরিবার পজিটিভ ও সাপোর্টিভ থাকবেন এমন কাউকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে চাই৷ বিষয়টি সহজ নয়। চিন্তাভাবনা করে ও পরিবারের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ। (পরিবারের ইচ্ছেতে বিসিএস এর জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি। আল্লাহ চাইলে সেখানেও হয়ে যেতে পারে। তবে আমার ব্যতিক্রমী ইচ্ছাটাও জানিয়ে রাখলাম।) আমার বিশ্বাস আমি একজন গায়রতবান পুরুষ। আমার বাবা মা আমাকে ননীর পুতুল করে গড়ে তোলেননি। সংসারের টুকিটাকি নানা কাজে আমি মা-বাবাকে সাহায্য করি, নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করি। নারীদের আমি ভীষণ শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। তাঁদের মন মানসিকতা, চাহিদা, পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা রাখি। বড় বোন আমাকে সেভাবেই ছোট থেকে গড়ে তুলেছেন। এক গভীর মমত্ববোধ নিয়ে আমি ইসলামকে লালন ও পালন করি। পারিবারিক জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটাতে চাই। উদাহরণস্বরূপ যদি বলি, পরিবারকে সাথে নিয়ে একসাথে বিভিন্ন মসজিদে জুমার সালাত আদায়, তারাবি আদায়, তাহাজ্জুদে পা বন্দী হতে চাই। পরিবারে ও জীবনে নানা সুন্নাতের অনুশাসন ও অনুসরণ জারি রাখতে চাই, যেগুলো এখন একাই করছি ও করার চেষ্টা করছি। সন্তান লালনপালন নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা আছে। আমার সন্তানদের জন্য একজন আদর্শ মা-এর সন্ধান করছি, যাঁর সহায়তায় ও আল্লাহর রহমতে একটি আদর্শ পরিবার গঠন করতে পারি।
|