| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আমার জীবনের প্রধান স্বপ্ন জান্নাত লাভ করা, এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি বেশি বেশি কবুলযোগ্য আমল করতে চেষ্টা করি। আমি চাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-কে ভালোবাসার মাধ্যমে একটি সৎ, ইসলামি জীবন যাপন করতে। আমার শখের মধ্যে আছে: ফরজ হজ্জ আদায় করা। মা-বাবার ইচ্ছাগুলো পূরণ করা। ভবিষ্যতের সহধর্মিণীর গ্রহণযোগ্য আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। সৎভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দান করা, পরিবারের জন্য গাড়ি ও নতুন বাসা করা। নিজেকে দিয়ে পরিশ্রম করানো এবং দুনিয়ার প্রতি সীমিত চাহিদা রাখা। আমি একজন ডিসেন্ট, সাধারণ ও পরিমিত জীবন পছন্দ করি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আশা না করা, ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী জীবন সাজানো এবং সময় মেনে দায়িত্ব পালন করা আমার রুচির অংশ। আমি একজন অল্পে তুষ্ট, সহজ-সরল, দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আমি অপছন্দ করি দুনিয়াবিমুখ স্বপ্নবাজ জীবনধারা। আমি রাগী ও অহংকারী মানসিকতার মানুষদের এড়িয়ে চলি এবং সহজ-সরল, বাস্তবধর্মী চিন্তার মানুষদের পছন্দ করি। গত কয়েক বছর আমি বেশিরভাগ সময় ঘরেই থাকি, আড্ডা বা অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছি। আমার দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল যারা এখন দেশের বাইরে। দীর্ঘ সময় মেসে থেকেও আলহামদুলিল্লাহ ঈমানদার রুমমেট পেয়েছি। আমি জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করলেও কখনো অপছন্দনীয় কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হইনি — এটি আমার মায়ের সুশাসনের বড় অবদান। আল্লাহও আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন গুরুতর গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে। আমি বিশ্বাস করি, জান্নাত লাভের এই যাত্রায় শুধু নিজের প্রচেষ্টা নয়, মা-বাবার দোয়া ও একজন সহধর্মিণীর সঠিক দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ------------------------------------ আপনার দ্বীন পালনের অবস্থা: আমার দ্বীন পালনের শুরুটা হয় মূলত সালাত, সত্যবাদিতা, পিতা-মাতার সৎ ও ইসলাম সম্মত আদেশগুলো যথাযথভাবে পালন করা, বড়দেরকে পরিপূর্ণ মাত্রায় সম্মান করা এবং ছোটদের কে স্নেহ করা, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসতে পারাটা অন্যতম দ্বীন পালন এবং আমার কাছে ভালবাসতে পারার অর্থ হলো ইবলিশ তথা শয়তানের ইচ্ছাগুলোকে বিনষ্ট করে যে কাজগুলো ইসলাম আমাদেরকে করতে বলে সেগুলোকে যথাযথভাবে পালন করা, বেদাত থেকে দূরে থাকা, রোজা - তারাবির নামাজ রমজান মাসে এবং মাহরাম নন-মাহরাম কঠোরভাবে পালন করা, নেশাগ্রস্ত বিষয়গুলো থেকে কঠোর ভাবে দূরে থাকে, এবং দ্বীন মানে কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুস্থ, সুন্দর, ভালো কাজ এবং সর্বোপরি সমস্ত বিষয়গুলো ইসলামের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পালন করা। ------------------------------------------- দিন পালনের অংশ হিসেবে আমি যে কার্যক্রমগুলো করেছি ও চলমান: ১. ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ ও ইবাদত পালন শৈশব থেকেই ধর্মীয় অনুশাসনে বেড়ে ওঠা এবং ইসলামের ফরজ ও সুন্নাহ বিধানগুলোর নিয়মিত চর্চা। সালাত ও সিয়াম: ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত সালাত আদায় এবং সপ্তম শ্রেণি থেকে ৩০টি রোজা পালন করে আসছি। কুরআন ও তারাবি: ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর খতম তারাবিতে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি। হজ ও ওমরা: ২০২৪ সালে মহান আল্লাহর মেহমান হিসেবে পবিত্র ওমরাহ হজ পালনের সৌভাগ্য অর্জন করেছি। ২. আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতি কাজ ও অভিজ্ঞতা পারিবারিক শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় দ্বীনের পথে সময় ব্যয়। শৈশবের হাতেখড়ি: ছোটবেলায় নানার সাথে আল্লাহর রাস্তায় সময় দেওয়ার মাধ্যমে নামাজ ও ইসলামের সৌন্দর্যগুলো আয়ত্ত করেছি। দাওয়াত ও তাবলিগ: আল্লাহর রাস্তায় অসংখ্য সফরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং পূর্ণ এক চিল্লা সম্পন্ন করার মাধ্যমে দ্বীনি মেহনতে সরাসরি যুক্ত থেকেছি। ৩. তাকওয়া ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা ব্যক্তিগত জীবনে পর্দার বিধান ও চারিত্রিক শুদ্ধতা বজায় রাখা। নারী ও সম্পর্ক: নিজেকে সর্বদা হারাম সম্পর্ক (Relationship) থেকে দূরে রেখেছি। কোনো মেয়ে বান্ধবী তৈরি করিনি এবং প্রয়োজনে গায়রে মাহরাম নারীর সাথে কথা বলার সময় দৃষ্টি অবনত রাখার (গাযযুল বাসার) বিধান মেনে চলেছি। সামাজিক বর্জন: ইসলাম পরিপন্থী উৎসব যেমন— গান-বাজনা, নাচ এবং গায়ে হলুদের মতো অনুষ্ঠানগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলি। ৪. কর্মজীবনে নৈতিকতা ও আপসহীনতা পার্থিব লোভ বিসর্জন দিয়ে শরীয়াহ অনুযায়ী জীবন গড়ার দৃঢ় সংকল্প। হারাম উপার্জন ত্যাগ: বড় অংকের আয়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যেখানে মানুষের সাথে প্রতারণা বা ইসলামের সাথে সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, এমন কাজ বা ব্যবসা আমি সানন্দে বর্জন করেছি। ------------------------------------------------------ কিছু খারাপ অভ্যাস: অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করি, মন থেকে একটা বিষয় সেট করলে সেইটা থেকে সরে দাঁড়াতে সমস্যা হয়। কিছু ভালো অভ্যাস: সব সময় পাক-পবিত্র থাকি, যেকোনো কাজে হালাল হারাম শক্তভাবে পালন, নিজের কাজ যেমন- কাপড় ধোয়া, রুম পরিস্কার করা, আল্লাহ রাসূলের(সাঃ) হক আদায়, আপনজনদের খোঁজ নেয়া, ও যেগুলো নিজের কাজের মধ্যে পড়ে সবগুলো পালন করি। এছাড়া সামগ্রিকভাবে বেশি অভ্যাস গুলোই পজিটিভ এবং যেকোন কেউ পছন্দ করেন না বা যে কাজ দেখতে খারাপ দেখায় সেগুলো করি না। ---------------------------------------------------------- আমার দ্বীনি জীবনদর্শন: আমার কাছে ধার্মিকতার অর্থ হলো কারোর ক্ষতি না করা, সবার উপকারে আসা, নিজেকে ইসলামের জন্য কুরবানী করার মানসিক চিন্তাভাবনা, বাজার যেটা নিকৃষ্ট জায়গা সেখান থেকে সর্বোপরি দূরে থাকা, এবং বর্তমান যুগ অনুযায়ী নিজগৃহে ও মসজিদে বেশিরভাগ সময় অবস্থান করা, হক হালাল দায়িত্ব ও কমিটমেন্ট গুলো যথাযথ ভাবে পালন করা। আমি খুবই লাজুক প্রকৃতির এজন্য কে কোন ভাবে কষ্ট পেতে পারে এটা নিয়ে খুবই সংকোচের ভেতর দিয়ে থাকি। কাউকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা বা কারো খারাপ চাওয়া এগুলো একেবারেই পছন্দ করি না। যে সমালোচনাগুলো অনর্থক বা কোন প্রয়োজনীয়তা নেই সেগুলো একেবারেই অপছন্দ করি এবং এই কাজগুলো থেকে আমি পরিপূর্ণ বিরত থাকি এবং যারা রাগ করে থাকে তাদের থেকে distance মেইনটেইন করে থাকে। আমি মনে করি এগুলো দ্বীন পালনের অংশ। সমাজের এই ধ্বংসলীলা দেখে আমি নিজেকে আবৃত্তি করে নিয়েছি আমার রুম এবং মসজিদের ভেতর। সামগ্রিকভাবে অন্যের উপকারে আসা, আপন পর না দেখে মানুষের উপকারে আসা, সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজে নিষেধ, এবং অন্যের খারাপ কাজকে খারাপ বলার নেক শক্তি নিয়ে আমি চলে থাকি। আমি খুবই আল্লাহ ভীরু একজন মানুষ, আমার মনের সব ইচ্ছা এবং আগ্রহ গুলো দ্বীন পালন এর অংশ। আমি কতটুকু জানি না বোঝাতে পেরেছি তবে আমার সৎ, সরল এবং সহজ মন অনেক কিছুই গুলিয়ে ফেলি, অনেক ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলতে পারি না, সহজ সাবলীল এবং ইসলাম সম্মত চিন্তাভাবনা করতে পছন্দ করি। প্রচুর পরিমাণে দান করা এবং সাহায্য করতে চাই এবং এমন কিছু আমল করতে চাই যেগুলো আর কাউকে জানাবো না, সেটা শুধু আল্লাহর কে ভালোবেসে আল্লাহর জন্যই অজানা থাকবে। আল্লাহর দ্বীন, খেলাফা এবং আল্লাহর শরীয়ত বিধান বাংলাদেশে বাস্তবায়নের জন্য যেকোনো কার্যক্রম এবং সেক্রিফাইস করতে প্রস্তুত আছি। সর্বোপরি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই।
|