| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ আল্লাহর নামে শুরু করছি। নিজের সম্পর্কে লেখা আমার জন্য কখনোই সহজ ছিল না। কারণ আমি মনে করি, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় কয়েকটি অনুচ্ছেদে নয়; বরং তার চরিত্র, মূল্যবোধ, সিদ্ধান্ত এবং মানুষের সঙ্গে তার আচরণের মধ্যেই প্রকাশ পায়। তবুও জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে নিজের সম্পর্কে কিছু জানানো দায়িত্বের অংশ বলেই লিখছি। আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় কী—এই প্রশ্নের উত্তরে কোনো ডিগ্রি, ফলাফল কিংবা দুনিয়াবি অর্জনের কথা আগে মনে আসে না। বরং আমি চাই, যদি কখনো মানুষ আমাকে কোনো পরিচয়ে মনে রাখে, তাহলে সেটি হোক একজন সৎ, দায়িত্বশীল, বিনয়ী এবং উত্তম চরিত্রের মানুষ হিসেবে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা আমার খুব প্রিয় ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সবসময় ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেই ছিলাম এবং শিক্ষকরা আমার প্রতি অনেক আশা রাখতেন। একসময় আমার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। এই স্বপ্নের পেছনে দুনিয়াবি কোনো পরিচয়ের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে মানুষের সেবা করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইচ্ছাই বেশি কাজ করত। তবে জীবনের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা ও আল্লাহর নির্ধারিত পরীক্ষার কারণে সেই পথ আর পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি। তাই আমার একাডেমিক ফলাফল হয়তো আমার সামর্থ্য, পরিশ্রম কিংবা শেখার আগ্রহকে পুরোপুরি প্রকাশ করে না। তবে একটি বিষয়ে আমি আলহামদুলিল্লাহ তৃপ্ত—আমার প্রতিটি ফলাফল আমার নিজের সৎ প্রচেষ্টার ফল। আমি কখনো এমন কোনো অর্জন চাইনি, যার জন্য সততার সঙ্গে আপস করতে হয়।সবচেয়ে বড় কথা জীবনের পথ সবসময় আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয় না। আমার জীবনেও এমন কিছু অধ্যায় এসেছে, যেগুলো আমাকে থামিয়েছে, ভেঙেছে, আবার নতুন করে গড়েও তুলেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে আরও দৃঢ়ভাবে শিখিয়েছে যে, আল্লাহর ফয়সালার চেয়ে উত্তম কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই আজ শিক্ষাজীবনের কোনো অপূর্ণতা নিয়ে আফসোস করার চেয়ে প্রতিদিন নিজেকে আগের দিনের চেয়ে একটু ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দিই। একটি বিষয় কখনো ছাড়িনি—সততা। আমার বিশ্বাস, ফলাফল যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও তাকওয়ার মূল্য অনেক বেশি।আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই জীবনের বাকি সময়টুকু দ্বীনকে আরও গভীরভাবে জানা, শেখা, নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং সেই পথেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে চাই, ইন শা আল্লাহ। "আমি একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন আদর্শ মা এবং সর্বোপরি একজন আদর্শ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে চাই।" তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের বিবেক, নৈতিকতা ও দ্বীনের সীমারেখা রক্ষা করে চলার আন্তরিক চেষ্টা করি। আমি চাই, আমার পরিচয় হোক একজন সৎ, বিশ্বস্ত ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে। দুনিয়ায় যদি কোনো পরিচয় রেখে যেতে চাই, তবে সেটি হোক একটি সুন্দর হৃদয়ের মানুষ হিসেবে। আমার জীবনের একটি মূলনীতি আছে— "সবার আগে ভালো মানুষ হও।" কারণ আমি বিশ্বাস করি, একজন মানুষ যদি চরিত্রে উত্তম হওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে ইন শা আল্লাহ তিনি একজন ভালো সন্তান, ভালো জীবনসঙ্গী, ভালো অভিভাবক এবং সমাজের জন্যও একজন উপকারী মানুষ হতে পারবেন। তাই বাহ্যিক অর্জনের চেয়ে নিজের চরিত্রকে সুন্দর করার চেষ্টাকেই আমি বেশি মূল্য দিই। আরেকটি বিষয় আমি সবসময় মনে রাখার চেষ্টা করি। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করি— "এই কাজে কি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন?" সব প্রশ্নের উত্তর সবসময় সহজ হয় না। কিন্তু এই একটি প্রশ্ন আমাকে সঠিক পথ খুঁজে নিতে অনেক সাহায্য করে। আমি নিজেকে নিখুঁত মনে করি না। ভুল আমারও হয়। তবে ভুল বুঝতে পারলে তা সংশোধনের চেষ্টা করি এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও পরিণত, আরও বিনয়ী এবং আরও উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নেই। এটি মানুষের প্রতি অনাগ্রহের কারণে নয়; বরং নিজের সময়, মনোযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনকে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা ও বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। আমি শান্ত, পরিমিত এবং অর্থবহ জীবনযাপনেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। স্বভাবের দিক থেকে আমি শান্ত, সংযত এবং অল্পভাষী। প্রথম দেখায় অনেকেই আমাকে গম্ভীর মনে করেন। তবে কাছের মানুষদের সঙ্গে সহজ, আন্তরিক এবং প্রাণবন্ত থাকতে ভালোবাসি। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অহংকারের কোনো স্থান দেখি না। আমার কাছে "আমি কেন আগে বলব?"—এই ভাবনার চেয়ে সম্পর্কটিকে সুন্দর রাখা অনেক বেশি মূল্যবান। তাই প্রয়োজন হলে আগে এগিয়ে যেতে বা আগে ক্ষমা চাইতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। আমি বিশ্বাস করি, সুন্দর সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, দয়া, ক্ষমাশীলতা এবং উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী হয়। আমি স্বাস্থ্যকর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন পছন্দ করি। পরিচ্ছন্নতা, সময়ের মূল্য, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করি। অযথা অপচয়, অহংকার, উচ্চস্বরে কথা বলা কিংবা কাউকে ছোট করে দেখা আমার স্বভাবের সঙ্গে যায় না বললেই চলে। আল্লাহ যদি তাওফিক দেন, ভবিষ্যতে অসহায়, এতিম, বৃদ্ধ ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। মানুষের উপকারে আসতে পারা আমার কাছে বড় একটি নেয়ামত। সংসার সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই সাধারণ। আমার কাছে একটি পরিবার শুধু একসঙ্গে বসবাসের জায়গা নয়; বরং এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, পারস্পরিক সম্মান, রহমত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। আমি একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন আদর্শ মা এবং সর্বোপরি একজন উত্তম মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে চাই, ইন শা আল্লাহ।উম্মুল মুমিনীন খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ও আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মতো মহান নারীদের মর্যাদা ও গুণাবলির সমকক্ষ হওয়া আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়; তবে তাঁদের ঈমান, ধৈর্য, প্রজ্ঞা, বিশ্বস্ততা, ত্যাগ, ভালোবাসা, জ্ঞান, উত্তম চরিত্র ও স্বামীর প্রতি সহযোগিতার মতো মহৎ গুণগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের জীবনে সেগুলো ধারণ করার এবং একজন উত্তম, বিশ্বস্ত ও সহানুভূতিশীল স্ত্রী হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে চাই, ইন শা আল্লাহ। আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া খুবই সীমিত। বিলাসবহুল জীবন নয়; বরং হালাল রিযিক, একটি শান্ত ঘর, পরিবারের ভালোবাসা এবং আল্লাহর রহমতে ভরা একটি জীবনই আমার কাছে প্রকৃত প্রাচুর্য। জীবনসঙ্গী হিসেবে এমন একজন মানুষকে প্রত্যাশা করি, যিনি আল্লাহভীরু, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, দায়িত্বশীল, বিনয়ী এবং পারিবারিক মূল্যবোধকে সম্মান করেন। আমি চাই, আমরা একে অপরের দুনিয়ার শান্তি এবং আখিরাতের কল্যাণের কারণ হতে পারি। সবশেষে শুধু একটি কথাই বলতে চাই— আমি অসাধারণ কোনো মানুষ নই, আর সে দাবিও করি না। আমি শুধু প্রতিদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের চরিত্রকে একটু একটু করে সুন্দর করার চেষ্টা করি। আল্লাহ যাঁকে আমার নসীবে লিখে রেখেছেন, তাঁর জন্য এমন একজন বিশ্বস্ত, সহানুভূতিশীল, দায়িত্বশীল ও উত্তম সঙ্গী হতে চাই, যিনি সুখে কৃতজ্ঞতার সঙ্গী, কষ্টে ধৈর্যের সঙ্গী এবং আখিরাতের পথে একসঙ্গে চলার সহযাত্রী হবেন। যদি তাঁর জন্য একজন বিশ্বস্ত আমানত হতে পারি, তবেই নিজেকে সফল মনে করব, ইন শা আল্লাহ। ﴿وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ﴾ "আমার সকল তাওফীক একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই দিকেই প্রত্যাবর্তন করি।" (সূরা হূদ: ৮৮) জাযাকাল্লাহু খাইরান।
|