| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জ্বি আলহামদুলিল্লাহ। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন আল্লাহ হিদায়াতের আলো দেন। তখন থেকে একাদশ শ্রেণীর কিছুদিন পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ নামাজ চলমান থাকে। তারপর ঈমান দুর্বল হয়ে যায় এবং নামাজ অনিয়মিত হয়ে যায়, কয়েক ওয়াক্ত হয় আবার কয়েক ওয়াক্ত হয়না এভাবে চলতে থাকে। তবে জুমার নামাজ আর বাদ যায়নি। অবশেষে আল্লাহ ২০২০ থেকে আলোতে প্রত্যাবর্তন করার তাওফিক দেন। আলহামদুলিল্লাহ এখনও চলমান। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
আলহামদুলিল্লাহ সাধারণত হয়না। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
মোটামুটি শুদ্ধ আলহামদুলিল্লাহ। চেষ্টা চলমান।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
অ্যাজমা/শ্বাসকষ্ট, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
কবরে শুয়ে থাকা ব্যাক্তিটি হয়তো আল্লাহ্-রাসূলের ﷺ আশেক, কিন্তু তাদের অনেক অনুসারীরাই অনুসরণের সীমা অতিক্রম করে। ফলে অনেকেই শিরকে এবং নানান ধরনের পাপে সয়লাব হয়ে যায়।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
আল-কুরআন অনুবাদ, তাফসীরে ইবনে কাসীর, আর রাহীকূল মাখতূম, শামায়েলে তিরমিজি, কালিমায়ে তাইয়েবা বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ, তাফসীরে সূরা তাওবা, তাওহীদের মূলনীতি, ইখলাস, ইসলামী শিষ্টাচার, জীবিকার খোঁজে, অবাধ্যতার ইতিহাস, মুমিনের ক্যারিয়ার ভাবনা, ফাহমুস সালাফ, আত্মপরিচয়ের সংকট, শয়তানের চক্রান্ত, আয়নাঘর, চিন্তাপরাধ, সিক্রেটস অব জায়োনিজম, ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত ইত্যাদি
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
শাইখ তামিম আল আদনানি, মাওলানা আব্দুল মালেক, মুফতি হারুন ইজহার, ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, শায়খ আহমাদুল্লাহ, শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ, মোহাম্মদ হবলোস, মাহমুদ হাসনাত, শাইখ আহমাদ মূসা জিবরিল, শাইখ জসিমউদ্দীন রহমানি, ড. ইসরার আহমেদ প্রমুখ।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
প্রথমত, আমার সঙ্গে “আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করিনা, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্ম-প্রবণ। [১২:৫৩]” আয়াতটি সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক। আল্লাহ হিদায়াতের আলো দান করার পর থেকে চেষ্টা করছি তা ধরে রাখার। বুঝ আসার পর থেকেই টুকটাক বইপত্র কেনা, পড়া, আয়ত্তের মধ্যে হওয়া দ্বীনি ইসলাহী মজলিশে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা, সমসাময়িক দ্বীনি দাওয়াতে সক্রিয় বান্দাদের অনুসরণ, কুরআন শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা ইত্যাদিতে লেগে থাকার চেষ্টা করি। বইপত্র সংগ্রহ ও পড়ার ক্ষেত্রে দ্বীনের বেসিক বুঝ, ঈমান সম্পর্কিত, সালাফদের আমল এবং সমসাময়িক ফিতনা সম্পর্কিত লেখা বেশি গুরুত্ব দিই। হারাম উপার্জন এবং ভোগ থেকে যথাসাধ্য বাঁচার চেষ্টা করি। আল্লাহর ফয়সালা। রিযিকের ব্যাপারে এই ধারণা লালন করি— আমার রিযিক ওইগুলো, যেগুলো আল্লাহ ﷻ রহম করে আমাকে ভোগ করার তাওফিক দিয়েছেন। তা হতে পারে অর্থকড়ি, হতে পারে সুন্দর বাসস্থান, হতে পারে প্রশান্তিকর কিছু সম্পর্ক ইত্যাদি। আল্লাহ ﷻ কখনও অন্যের দ্বারা আমার কখনও আমার দ্বারা অন্যের রিযিকের ব্যবস্থা করিয়ে দেন। আমার রিযিক পূর্বনির্ধারিত এবং যা আমার জন্য নির্ধারিত নেই তা কখনও পাব না। আমার জন্য দায়িত্ব হচ্ছে উত্তম রিযিকের তালাশ করা, যা কেবলমাত্র আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষেই আমি অর্জন করব। মুমিন বান্দাদের আল্লাহ ﷻ ভয়, দারিদ্রতা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি দিয়ে পরিক্ষা করেন। এজন্য সর্বদা আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করি। নিজের ব্যক্তিগত/পারিবারিক বিষয়াদি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা আমার ঘোর অপছন্দ। অযাচিত নিজের ছবি তোলাতেও কোনো আগ্রহ নেই। তবে কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখলে ফটোগ্রাফির অভ্যাসটা একটু রিভিশন করে নিই। একটু অগোছালো টাইপের। অ্যাজমা থাকায় ক্ষতিকর কিছু খাবার এড়িয়ে চলি। রাস্তার পাশে, চলতি পথে খাওয়াদাওয়ার আগ্রহ কম। মাঝেমধ্যে অবহেলায় খাওয়া বাদ যায়। নিজের শখে স্বভাবত রেস্টুরেন্টে যাইনা, তবে কেউ খেতে চাইলে কিংবা খাওয়াতে চাইলে কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষী ভাইয়েরা একটু সময় কাটাতে চাইলে যাই। ঘুরাঘুরির বিষয়টিও এমন, নিজ থেকে যাই না, কেউ নক দিলে যাই। জীবনের উদ্দেশ্য? আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর থেকে সেই দৈহিক মৃত্যু, যে মৃত্যুতে রূহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই আল্লাহর ক্ষমা নসিব হয়, পরকালীন বাসস্থান দৃষ্টিগোচর হয়। অথবা আসহাবুল উখদুদের সেই বালকের ন্যায়। আলহামদুলিল্লাহ এখানে যা লেখা হলো তা সবসময় মেনে চলার চেষ্টা করি। তবুও শয়তান থেমে নেই, সে তার মেহনত চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমাঝে ঈমানের হ্রাসবৃদ্ধি হয়ে যায়।
|