জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ের ক্ষেত্রে একজন মানুষের দ্বীনদারিতা দেখে বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। আরেক বর্ননায় অধিক সন্তানপ্রসবকারীনী ও প্রেমময় নারীকে বিবাহ করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। "মানুষের জন্য শুধু বিয়ে করাটা মূল বিষয় নয়, মূল বিষয়টা হলো সে কাকে বিবাহ করছে। এটিই (সঠিক সঙ্গী নির্বাচন) কাম্য।"-- শায়েখ সালেহ আল ফাউজান হাফিঃ। আমি আল্লাহর নিকট এমন একজন স্ত্রী চাই, যাকে দেখলে আমার আল্লাহর কথা স্মরণ হবে, যার সঙ্গ আমাকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে সাহায্য করবে এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে আমাকে সহযোগিতা করবে। আমিও তাকে দ্বীনের উপর থাকার জন্য সর্বোচ্চ সাহায্য করবো ইন শা আল্লাহ। একজন কোমলমতি, লজ্জাশীল, নিজের ভুল সংশোধন এর মানসিকতা রাখে এমন। স্বামীকে মেনে চলার মানসিকতা রাখে, তর্ক করে না এমন। হুটহাট রেগে যায় না, রেগে গিয়ে ভাংচুর করা, বদমেজাজি এমন না হওয়া। ইদানিং অনেকের ব্যাপারে দেখা যায়, তারা নিজেদের দ্বীনের প্রতি যত্নশীল, কিন্তু দাম্পত্য জীবনে স্বামীর হক, সংসারের দায়িত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো সম্পর্কে উদাসীন । এমন কেও জীবনে না আসুক। আমি মনে করি, স্বামী- স্ত্রী উভয়েরই নিজেদের হক ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শুধু স্ত্রী স্বামীর হক জানবে এমনটা নয়; স্বামীরও স্ত্রীর হক, সম্মান, অনুভূতি ও প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। আমি আপনার কাছ থেকে ওই বিষয়গুলোই আশা করতে পারি যা আমি আপনাকে দিতে সক্ষম। আপনি দেখতে কেমন—এর চেয়েও বড় বিষয় হলো আপনার চরিত্র কেমন। আমি আগে ভাবতাম কি সেই জিনিস যা একজন মানুষকে আরেকজনের প্রতি আকৃষ্ট করে মৃত্যু পর্যন্ত? পরে বুজলাম সেটা হলো উত্তম চরিত্র বা আচরণ। আপনার মধ্যে যদি মায়া, আন্তরিকতা, সম্মান ও ভালোবাসা থাকে—সেটাই আমাকে আটকে রাখবে মৃত্যু পর্যন্ত, ইন শা আল্লাহ। অন্য অনেক বিষয়ে আমার ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আছে। ধন সম্পদ, সৌন্দর্যতা, পছন্দ-অপছন্দ, ছোটখাটো অভ্যাস—এসবের মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে। সংসার করতে হলে একে অপরের কিছু বিষয় মেনে নিতে হবে, কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে সমঝোতা করতে হবে। তবে দ্বীনদারির মূল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমি ছাড় দিতে আগ্রহী নই। একজন আলেমের বক্তব্য থেকে শিখলাম,, স্বামী ও স্ত্রী একটা পিরামিডের মতো, দুইজন দুই প্রান্তে আর উচ্চতায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা। স্বামী ও স্ত্রী যতই আল্লাহর নিকটবর্তী হবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা ততই তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো গাঢ় করে দিবেন। কিছু প্রচলিত কথা আছে,, অনেকেই বলে, মেয়ে ঠিকঠাক, সুন্দরী, বংশ ভালো বিয়ে করে নে, বিয়ের পর দ্বীনদার বানিয়ে নিস, এটা একটা ধোঁকা, যদিও অনেকের ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনও হয়, বিয়ের পর নানা দায়িত্ব ও ব্যস্ততার কারনে উভয়ের থেকে এমন অনেক আমল হয়তো ছুটে যাবে যা এখন করা হচ্ছে । একই বিষয় দ্বীনদার মেয়েদের ক্ষেত্রেও হয়। সংসার, জীবিকা, সন্তান ও অন্যান্য দায়িত্ব বাড়ার সাথে সাথে অনেক সময় মানুষের নিজের দ্বীনের প্রতি আগের মতো মনোযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিয়ের শুরুতে অনেক ফ্যান্টাসি কাজ করে, সময়ের সাথে বাস্তবতা তার আসল রুপ দেখিয়েই দেয়। দুজন মানুষ যখন একসাথে জীবন কাটাবে, তখন মতের অমিল বা ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। আমার মনে হয়, স্বামী-স্ত্রী যদি নিজেদের সমস্যা ও কষ্টগুলো খোলাখুলিভাবে একে অপরের সাথে আলোচনা করতে পারে, তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং উত্তম মানুষ হিসেবে সেই ব্যক্তিকেই বলেছেন, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আমি চাই, আমার স্ত্রীর জন্য এমন একজন স্বামী হতে, যার কাছে সে নিরাপদ বোধ করবে, নিজের কথা নির্ভয়ে বলতে পারবে এবং যে তাকে সম্মান করবে, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেবে এবং তার দ্বীনের পথে সহযোগিতা করবে। সবশেষে এটাই বলতে চাই, আমি কোনো নিখুঁত নারী খুঁজছি না। কারণ আমি নিজেও নিখুঁত নই। আমারও ভুল আছে, দুর্বলতা আছে এবং সংশোধনের প্রয়োজন আছে। আমি শুধু এমন একজন মানুষ চাই, যে আল্লাহকে ভয় করে, দ্বীনকে ভালোবাসে, নিজের ভুল বুঝতে পারলে সংশোধন করার চেষ্টা করে, স্বামীর হক ও নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির একটি মাধ্যম হিসেবে দেখতে চায়। আরেকটি কথা,, আপনার যদি দুনিয়াবি চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা বেশি থাকে, তাহলে দয়া করে আমার বায়োডাটাটি স্কিপ করুন। সুখ শুধু টাকা-পয়সা বা দুনিয়াবি ভোগ-বিলাসের মধ্যে নেই। সুখ হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে যা দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে জীবন কাটানো। আমি হালালভাবে উপার্জন করে সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব, ইন শা আল্লাহ।
|