জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
প্রথমেই বলে নেই,ওনার থেকে আমার অনেক এক্সপেকটেশানস(জাগতিক কিছু নয়,মনস্তাত্ত্বিক)।ইতিমধ্যেই আমি অনেকবার বলেছি শুধু ওনার জন্য,ওনার আশায়,ওনার স্বপ্নে আমি আজপর্যন্ত নিজের সাথে কোন কালিমা লেপন করি নি।কাউকে এ মনের অংশীদার করিনি।একদম ফ্রুটিকা পিওর মন পুরোটাই নির্ভেজাল একান্তই ওনার হবে।তাই এ টুকু এক্সপেকটেশানস আমি ওনার থেকে রাখতেই পারি আশা করি। ইতিমধ্যেই আমি আমার সম্পর্কে বলেছি।আমি স্বপ্ন দেখি আমারই মতো সংগ্রামী, দ্বীনদার,পর্দানশীন, দয়ালু,আমার মত করে ভাবতে সক্ষম, সম্মানিত পরিবারের সংগ্রামী একটা মেয়ে,ম্যাচিওর্ড,শিক্ষত,সুমিষ্টভাষী,জ্ঞানী,বুদ্ধিমতী,সুন্দর মনের সচ্চরিত্রা একজন জীবনসঙ্গিনীর যার সাথে একসঙ্গে জান্নাতে যেতে পারব ইনশাআল্লাহ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটা চাই তা হচ্ছে সুশিক্ষা, জ্ঞান যেন স্থান কাল পাত্র বুঝে সিচুয়েশন অনুযায়ী দক্ষভাবে হ্যান্ডেল করতে পারে এমন কেউ।যেহেতু সে বড় বউ হবে তাই তাকে ম্যানেজমেন্ট এ দক্ষ হতে হবে।আমি স্বপ্ন দেখি এমন কেউ আমার জীবনে আসুক যে আমাকে কখনো এমন পরিস্থিতিতে না ফেলুক যে,"মা বড় না বউ বড়?" আমি কাউকে ফেলে কাউকে বেছে নিতে পারব না কেননা একজন আমাকে জন্ম দিয়েছেন অন্যজন আমার সন্তানকে জন্ম দিবেন তাই দুজনেই আমার কলিজার টুকরা।কেউ কম কেউ বেশি নয়।আসলে দুইজন দুই ধরনের ইম্পরট্যান্স বহন করেন।কারো সাথে কারো তুলনা করাটাই মূর্খামি। আমার মা-বাবাকে বিশেষ করে আমার আম্মাকে অনেক বেশি ভালবাসবেন।আমার আম্মার একটা মেয়ে নেই এ নিয়ে আমার আম্মার অনেক আফসোস।আমি চাই এমন কাউকে যে আমার আম্মার পুত্রবধূ কম মেয়ে বেশি হয়ে থাকবে।বউ-শ্বাশুড়ি একজোট হয়ে আমাকে প্যারার উপরে রাখবে।সে সুদিনটার জন্য আমার জান কুরবান।এককথায় সে আমাকে আমার জান্নাত অর্জনে(মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত) সাহায্য করবে আমি তাকে তার(স্বামীর পদতলে স্ত্রীর জান্নাত)।দুইজন পরস্পরকে শ্রদ্ধা সম্মান ভালবাসা কেয়ার দিয়ে দুজনের জীবনকে দুনিয়াতেই জান্নাতের মতো করে তুলব ইনশাআল্লাহ। এমন একজন মানুষ এর তীব্র অভাববোধ করি যে আমার চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝে নিতে পারবে আমার মনের অবস্থা,আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝে নিবে এই মূহুর্তে আমি কি চাই।যাকে আমার মনে কি চলছে তা বোঝানোর জন্য রচনা লিখে দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।যে হবে পুরোটাই আমার,আমার উপস্থিতিতে কিংবা অনুপস্থিতিতেও। যে কখনো বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না,আমি ছাড়া অন্য কারো দিকে তাকাবে না,অন্য কারো চিন্তা মাথায়ও আনবে না।যার সম্পূর্ণ দুনিয়াটাই হব আমি।ইহকালে এবং পরকালেও।কেননা বিশ্বাস একমাত্র সিমেন্ট যা দুইটি প্রাণ একটি সম্পর্ককে একসাথে জুড়ে রাখে।এই বিশ্বাসে যখন একবার চিড় ধরে তখন পৃথিবীর কোন দড়ি ঐ সম্পর্ককে আঁটকে রাখতে পারে না।তাসের ঘরের মতো ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যায়।আর আমার ক্ষেত্রে এটা বেশ মারাত্মক একটা ইস্যু।একবার যে আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করে ২য় বার আমার মনে তার জন্য তিল পরিমাণ ভালবাসা জন্মায় না।এটা আমার জন্মদাতা পিতামাতা হলেও সেম।আর জীবনসঙ্গীর সাথে তো একটা লং টাইম একসাথে কাটাতে হবে,সেখানে যদি কখনো এমন কোন সিচুয়েশন ক্রিয়েট হয়ে যায় কখনো সেটা আর সংসার থাকবে না হয়ে যাবে দুনিয়াতেই একটা জাহান্নাম।তাতে জ্বলেপুড়ে মরবে দুটো তাজা প্রাণ আর অনাগত সন্তানেরাও যার গুণাহের বোঝা মাথায় নিতে হবে সেই বিশ্বাসভঙ্গকারীকেই। সে হবে এক বিশাল হৃদয়ের অধিকারীনী।দয়ালু নরম মনের।অসহায় দুঃস্থ মানুষের জন্য যার থাকবে এক সমুদ্র ভালবাসা।এক টুকরো খাবার সবার সাথে ভাগাভাগি করে তৃপ্তিভরে খাওয়ার মন-মানসিকতা যার থাকবে।আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর, শুধু নিজে খেয়ে নিজে বাচি,আপনি বাচলে বাপের নাম এমন দূষিত মন-মানসিকতার মানুষ আল্লাহর ওয়াস্তে আমার থেকে কোটি হাত দূরে থাকুন।আমার ভালবাসা যেমন প্রকট তেমনি ঘৃণাও প্রচন্ড। দিনশেষে তাকে অবশ্যই হাসিখুশি,চঞ্চল,ধৈর্য্যশীল ও বুদ্ধিমতী হতে হবে। মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট ওয়ান,দ্বীনপালনে একদম ইস্পাতদৃঢ় থাকবে।দ্বীনের ক্ষেত্রে কোন অযুহাত ওজর গ্র্যান্টেড নয়।ইভেন আমিও যদি কখনো দ্বীনপালনে বাধা হই আমাকেও শক্ত হাতে প্রতিহত করে কোমল হাতে বুঝিয়ে দ্বীনে ফেরানোর মতো কলিজাওয়ালা হতে হবে যেন শয়তান আমাদের কখনো গোমরাহ না করতে হবে। পারস্পরিক সম্মান সবসময় বজায় রাখবেন।পুরুষ তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসে যে তাকে সম্মান করে,মূল্যায়ন করে।তার হ্যাঁ তে হ্যাঁ, না তে না মেলায়।বুদ্ধিমতী নারী পুরুষকে রাজা বানিয়ে রেখে নিজেকে রাণী করে রাখে,মূর্খ নারী পুরুষকে চাকর বানিয়ে রেখে নিজে চাকরানী হয়ে থাকে।জ্ঞানীর জন্য ইশারা'ই যথেষ্ট। সর্বশেষ আমাকে অনেক অনেক বেশী ভালবাসতে হবে এক্ষেত্রে কোন কিপ্টেমি করলে চলবে না।দুজন মিলে রাসুলুল্লাহ সঃ & আম্মাজান আয়শা রাঃ এর ন্যায় খুনসুটিময় এবং খাদিজা রাঃ এর ন্যায় বিপদের সঙ্গী এমন একটা পরিবার গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। আমার সাথে থাকতে গেলে বড় মন-মানসিকতার অধিকারীনী হতে হবে এটা শুরুতেই বলে নেওয়া ভাল,এর মানে হচ্ছে যে মন-মানসিকতা, চিন্তাভাবনা অনেক ওয়াইড হতে হবে।আমি অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছি যাকে বইয়ের ভাষায় আমরা বলি গোবরে পদ্মফুল ফোটা।আমার পূর্বপুরুষদের যে ভূলে কিংবা সীমাবদ্ধতার কারণে আমাকে আমার মাকে এই অমানুষিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে আমি চাইনা আমার স্ত্রী-সন্তান তা ভোগ করুক।আমি অনেক বড় হতে চাই।আমার স্বপ্ন অনেক বড়।সরি টু সে আমি আমার পরিবার থেকেও এই সাপোর্ট টা পাইনি।আমি যে পরিবেশে বড় হয়েছি তাদের কাছে কোনমতে খেয়ে পড়ে বাচাটাই জীবন।তারা বড় স্বপ্ন দেখতেও ভয় পান।আমি চাই আমার জীবনসঙ্গিনী আমার সাথে বড় স্বপ্ন দেখুক,আমার হাতটা শক্ত করে ধরে সেই স্বপ্নপূরণে সাথী হোক।আমার লাইফের সবচেয়ে বড় লড়াইটা আমি একা লড়ে ফেলেছি তাতে আমার জীবনসঙ্গিনীর কোন কন্ট্রিবিউশান নেই,থাকার সুযোগ ও নেই।ইনশাআল্লাহ আমার সামনের এই কণ্টকাকীর্ণ পথে আমাকে সঙ্গ দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তার রয়েছে। একথা এজন্য বলছি যে আমার বিশ্বাস যে দুঃসময়ে পাশে থাকে সেই একমাত্র সুসময়ে সঙ্গী হওয়ার অধিকার রাখে। সুমধুর সুরে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারাটা হবে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।রান্না করার সময় কিংবা সাংসারিক কোন কাজ করার সময় তিনি যখন গুনগুন করে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করবেন আমার সম্পূর্ণ হৃদয় যেন জান্নাতের সুবাসে ভরে যাবে। আমি একজন ভোজনরসিক মানুষ। তাই রান্নাবান্নায় দক্ষতা একটা বিশাল যোগ্যতা হবে।আমিও মোটামুটি রান্নাবান্না পারি হোস্টেলে থাকার সুবাদে।ছুটির দিনে একসাথে রান্নাবান্না করব। অল্পে তুষ্ট থাকবে এমন কেউ।ঘ্যানরঘ্যানর নামক সংসার ধ্বংসকারী শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র থেকে যিনি মুক্ত।যেকোনো বিপদে আপদে যিনি ধৈর্যের মূর্ত প্রতিক,একে অপরকে ভালবাসা দিয়ে বুঝিয়ে যেকোনো পারিবারিক সমস্যা সমাধান করার মেন্টালিটি থাকা বাধ্যতামূলক।আমি অনেক পরিবার কে এই ঘ্যানরঘ্যানর এর জন্য ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছি। এটাকে আমি চরম ঘৃণা করি ও তীব্র ভয় পাই।আমি সর্বদা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমার জীবনসঙ্গিনী যেন এসব বদ গুণ থেকে মুক্ত থাকেন। জীবনে কখনো এক সেকেন্ডের জন্য হলেও কোনপ্রকার হারাম রিলেশনশিপ এ ছিলেন কিংবা ফ্রী মিক্সিং এ অভ্যস্ত এমন কেউ আল্লাহর ওয়াস্তে যোগাযোগ করবেন না।আল্লাহর দোহাই লাগে।শিরিকের গুণাহ স্বয়ং আল্লাহ ও মাফ করেন না খাটি তওবা বাদে,আমিতো রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ(বিয়ের পর জানতে পারলে ইন্সট্যান্ট তালাক,এ ব্যাপারে কোন ছাড় নেই,এটা গায়রতের প্রশ্ন আর আমি বে-গায়রত নই)। আবারো বলছি আমার সরকারি চাকরি দেখে আল্লাহর ওয়াস্তে কেউ আগ্রহী হবেন না,ওটা শুধু জীবিকা নির্বাহের একটা উছিলা মাত্র।আমি প্রচন্ড লেভেলের সৎ এবং মিতব্যয়ী। স্বচ্ছলভাবে খেয়েপড়ে চলা যাবে,বিলাসিতার রেশমাত্র দেখতে পাবেন না।আমার জবানই আমার ওয়াদা।এর নড়চড় হবে না ইনশাআল্লাহ।
|