জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
বি.দ্র.বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই জানিয়ে রাখা আবশ্যক মনে করছি, পাত্র যে জেলারই হোক স্থায়ীভাবে ঢাকায় অথবা নারায়নগঞ্জ, সোনারগাঁওয়ে বসবাসরত হতে হবে,কারন আমি বাবা-মায়ের এক মেয়ে তাই বাড়ির কেউই দূরের কোনো জেলাগুলোতে কোনো সম্বন্ধের বিষয়ে আগ্রহী নয় বা এরকম কিছু তাদের পরিকল্পনাতেও নেই। তবে ঢাকায় কিংবা নারায়ণগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাসরত হলে এগোনোর চিন্তা করবে ইনশাআল্লাহ। ***যেদিন থেকে পবিত্র কুরআনের সূরা ফুরকান এবং ক্বসাসের এই আয়াতগুলো পেয়েছি সেদিন থেকেই এই আয়াতগুলো আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। ১।("রব্বানা হাবালানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া জুররিয়াতিনা কুররাতা আ'ইনুন ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকীনা ইমাম) সূরা (ফুরকান:৭৪) অর্থ: হে আমার 'রব' আমাদের স্বামী ও সন্তানদেরকে এমন বানাও যাতে আমাদের চোখ জুড়ায় এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের মধ্যে অগ্রগামী করে নাও। আমিন। সত্যি সত্যিই এমন একজন জীবন সঙ্গী আমি সবসময় প্রত্যাশা করি। ২।(রব্বী ইন্নী লিমা আন জালতা ইলাইয়া মিন খইরিন ফাক্বির) অর্থ: হে 'রব' আপনি আমাকে যা দেবেন আমি তার জন্য ফকির হয়ে বসে আছি। আমিন। ৩। সত্যি কথা বলতে আমি সবসময় মহান আল্লাহর কাছে চাইছি একজন প্রকৃত দ্বীনদার, বিনয়ী আর ভালোবাসায়পূর্ন হৃদয়ের একজন মানুষ।শুধুমাত্র তার অপেক্ষাতেই বিয়েটাতে এতো লেট করতে হচ্ছে আর অন্য কোনো কারন নেই। এ বেপারটাতে আমি কখনো কোনো কমপ্রোমাইজও করিনি।আমার এ জার্নিটা সহজও ছিলোনা এবং সেই সাথে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে নিজেকে এপর্যন্ত প্রস্তুত করে এসেছি আলহামদুলিল্লাহ,মহান আল্লাহ ধৈর্য দান করে সাহায্য না করলে সেটা কখনোই সম্ভব হতোনা। আমি চাইছি আল্লাহ আমাকে দেরি করে দিলেও যেনো একজন উত্তম মানুষই দান করেন। ৪০ বা ৫০বছর যন্ত্রণা আর যাতনাদায়ক জীবন বয়ে বেড়ানোর চেয়ে মধুময় জীবন যাপন করতে চাই ১দিন বা যদি আল্লাহ চান তো আমৃত্যু। ৪। নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের বেপারে গুরুত্ব থাকা। দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারা। যেনো দুনিয়া ও আখিরাত দুটোতেই বরতকময় সফলতা থাকে। ৫। অবশ্যই আমার সম্মান, মর্যাদা, সম্ভ্রম রক্ষায় যেন যত্নশীল থাকে। আমিসহ আমার সাথে জরিয়ে থাকা সব বিষয়গুলোকে গুরুত্ব এবং প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা রাখা। ৬।নরম ও শান্ত স্বভাবের হওয়া। অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত রাগ থেকে নিজের নফসকে দমন করা। Unnecessary অতিরিক্ত রাগি লোকেদের আমার ভালোলাগেনা। ৭। অবশ্যই সংকীর্ণমনা,কৃপন,আত্মকেন্দ্রিক,স্বার্থান্ধ না হওয়া।এজাতীয় মানুষদের কাছ থেকে আমি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করি। বরং অন্যের সাহায্যে সবসময় সাধ্যমতো পাশে থাকার একটা Tendency রাখা। ৮। অবশ্যই যার অবস্থান থেকে যে যতটুকু সম্মান, শ্রদ্ধা, স্নেহ প্রাপ্য বা যোগ্য তাকে ততটুকু দেয়া।তাতে নিজের সম্মানও বাড়ে বই কমেনা বলে আমার মনে হয়। ৯। যা কিছু হোক নিজের পরিবারকে বোঝা,পরিপারের প্রতিটা সদস্যদের সাথে যতোটা সম্ভব সময় কাটানো। তাদের মতামতের priority দেয়া,তাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়াসহ আরো অনেক ছোট-বড় বিষয় আছে যেগুলো একটা আদর্শ, সুখী, সমৃদ্ধ পরিবার তৈরিতে অত্যন্ত প্রয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। #মোরাল অব দ্যা পয়েন্ট হলো দুনিয়াবি সবকিছুর উপরে রাখতে হবে পরিবারকে। কারন একটা মানুষের জীবন চলার পথ শুরু হয় পরিবার থেকে আর জীবদ্দশায়ও থাকে পরিবার-পরিজনরাই।তাই পরিবারকে প্রাধান্য না দেওয়া বা পরিবারের কোনো সদস্যকে অবহেলা করার কোনো শুযোগ থাকে না, পরিবারের প্রতি অবহেলাটাই একটা পরিবারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে শুরু করে,তাই এটা নির্বোধ,বোকা লোক ছাড়া,কোনো ভালো,সচেতন আল্লাহভীরু মানুষ করবে বলে আমার মনে হয় না। কথাগুলো নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। বি.দ্র.: আমি খুবই ঘরোয়া এবং সাংসারিক টাইপের মেয়ে,আমার জীবনের বর্তামান লক্ষ্য,উদ্দেশ্য বা স্বপ্ন যাই বলিনা না কনো সেটা হলো ইসলামের আদলে উঠিত একটা আদর্শ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা গঠন করা।তাই এত্তোগুলো কথা বলতে হলো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিষয়টি হৃদয় দিয়ে অনুধাবন এবং বোঝার তৌফিক দান করুন আমিন। ৮। যদি কোনো কারনে,অন্য যেকোনো ধরনের চাহিদা পূরণ নাও করতে পারে, তাতে আমি কোনোরকম আপত্তি জানাবো না। শুধুই এই শর্তে যে, আমার প্রতি উত্তম আচরণ, শ্রদ্ধা,ভালোবাসা,সম্মানের জায়গাটা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টাটুকু আমৃত্যু করে যাবে। যদি যথাযথ সম্মান,মর্যাদা আর ভালোবাসা আমার প্রতি রাখে,তবে সেই জীবন সঙ্গীর সাথে আমি গাছতলাতে থাকার প্রশ্ন আসলেও (আল্লাহ রহম করুন,না করুন এমনটা কখনো)তবু এক কদমও পিছু হটবো না বরং মহান বরং মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াককুল রেখে আরো বেশি শক্ত করে তার হাত ধরে হাসি মুখে সামনে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। ৯। আল্লাহ না করুন জীবনে যতই সময়-অসময়,ঝড়,বাধা,বিপত্তি,চড়াই-উতরাই আসুকনা কেনো,কেউ কাউকে ছেড়ে যাবেনা বরং শক্ত করে হাতে হাত রেখে ভালোবেসে পাশে থেকে যাবে,কারন এতে প্রকৃত অর্থে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ফিল বা উপলব্ধি করা যায় এবং ভালোবাসার মানুষটিও চেনা যায়। অপরদিকে সবকিছু পেয়ে গেলে বা স্বাভাবিক থাকলে নিজেকে প্রমানের সুযোগ থাকেনা। আমি বিশ্বাস করি মানুষের হৃদয়ের খুব কাছে জায়গা করে নিতে সেক্রিফাইযের কোনো বিকল্প নেই আর এখানটাতেই প্রায় সব মানুষই নিজিকে গুটিয়ে নিতেই আমরা পছন্দ করি। এই সেক্রিফাইজ মুডটাই বতর্মান সময়,সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে মানুষের সাধ্যের বাইরের একটা কাজ হয়েগেছে এখন। বরং হয় ঠিক তার উল্টোটাই বেশি।আত্মকেন্দ্রিক। কেউ খুবই সামান্য কারন ধরে চলে যায়,আবার কেউ কেউ যে কারন দেখায়,তা মাঝে মাঝে হাস্যকর আবার কখনো ভয়ংকর। আবার অনেকের কাছে চলে যাবার শত কারন থাকলেও থেকে যায়।কিছুটা ভাগ্য বলা চলে। মহান আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুন এবং হেফাজত করুন আমিন। বি.দ্র. দয়া করে বদমেজাজি,একরোখা,আত্নকেন্দ্রী,কৃপন স্বভাবের কেউ নক না করলে ভালো।আমি সম্ভব হলে এধরনের মানুষ থেকে আকাশ-পাতাল দুরত্বে অবস্থান করতে চাই। আমি মনে করি আর যাই হোক,এধরনের মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা আর সম্মান আশা করা যায় না।কিন্তু আমার ভালোবাসা আর সম্মানটাই চাই,আমার এটাই লাগবে, এটারি প্রয়োজন। আমি খুবই শান্তিপ্রিয় মানুষ। পরিস্থিতি যাই হোক আমি শান্তি বজায় রেখে চলার সাধ্যমতো চেষ্টা করি এবং পছন্দ করি। নোট: একটা পকৃত এবং সুন্দর সত্য কথা হলো,সত্যিকার অর্থে আল্লাহভীরু,দ্বীনদার,আখিরাতে বিশ্বাসী নারীরা,পুরুষের ধন-দৌলত বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে একদমই আটকায় না। সে আটকায় শুধুমাত্র তখনই,যখন কোনো পুরুষ,নারীকে ভালোবেসে তার সম্মান এবং মর্যাদার জায়গায়টা শেষপর্যন্ত ধরে রাখতে পারে। #আমি একজন আল্লাহভীরু,মুত্তাকী,সাংসারিক,শান্ত,মার্জিত,যত্নশীল ব্যক্তিত্ত্বসম্পন্ন মানুষের অপেক্ষায় আছি।এরকম একজন মানুষ বড় প্রয়োজন। মহান আল্লাহ যেন খুব তাড়াতাড়ি সেই মানুষটির সাথে আমাকে মিলিয়ে দেন। আমিন। (হাসাবিয়াল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহু আ'লাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রব্বুল আ'রশিল আ'যীম।) অর্থ: জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি একমাত্র তার-উপর ভরসা করে আছি,তিনিই মহান আরশের মালিক। আমিন। এই এ্যাপসটা শুধুই ওসিলা বা মাধ্যম মাত্র।আমি আমার বায়োডাটা মহান 'রব' এর শাহী দরবারে সাবমিট করছি।আমি আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াককুল রাখছি। তিনি আমাকে এবং আমার জোড়া হিসেবে যাকে পছন্দ করে রেখেছেন। আমাদের দুজ'নের উপর দুনিয়া ও আখিরাতের সম্পুর্ণ কল্যাণ দান করে আল্লাহর পুর্ণ সন্তুষ্টি স্থাপন করে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মিলিয়ে দেন। আমি আশা করি তিনি আমাকে নিরাশ করবেন না। আমিন।
|