| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
নিজের সম্পর্কে অনেক কিছুই বলার আছে। আমি বাংলায় খুব একটা ভালো না। তাও চেষ্টা করেছি অব্র দিয়ে ঘুচিয়ে লেখার, ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। আমার সম্পর্কে জানুন আমাকে বুজুন। আমি দ্বীনের পথে কিভাবে এসেছি তা জানুন। আমি যা চাই তা পাত্রীর সাথে মিলিয়ে দেখুন। তারপর আমার সাথে যোগাযোগ করুন। যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার হুকুম থাকে তবে এই সাইটের মাধ্যমে আমার অর্ধেক দ্বীনকে পাব ইনশাআল্লাহ। আমি একটু বড় করেই লিখেছি। একটু সময় নিয়ে পড়ুন। বিয়ে আমার জীবনের খুবই গুরুত্তপূর্ণ একটা বিষয়। যাকে বিয়ে করব তার সাথে জীবনের বাকি সময় কাটাতে হবে, বিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন। তাই যার সাথে আমার বিয়ে দিবেন তাকে আমার সম্পর্কে ভালোভাবে জানার সুযোগ দিন। যদি সে সন্তুষ্ট থাকে, আমার সাথে যোগাযোগ করুন। এই ব্যাপারে তারাহুড়ো করে কোনো ডিসিশন না নেওয়াই উত্তম। -------------------------------------------- আমি জেনারেল লাইনের ছেলে। লাইফে অনেক কিছু দেখেছি। কিন্তু সবকিছুই একসময় ফুরিয়ে যায়। সবচেয়ে পছন্দের বস্তুও একটা সময় এসে বিষাদ মনে হয়। জীবনে এত কষ্টের কামায় কেউ পুরোপুরি ভোগ করে যেতে পারে না। স্কুল শেষ করে কলেজে উঠার পর আমি দূনিয়াবি বিনোদনে ডুবে যায়। নিজের চতুরতার কারনে স্কুল-কলেজে খুবই পপুলার ছিলাম। প্রচুর ফ্র্যান্ডস ছিল আমার। গ্রুপিং করে চলতাম। বন্ধু-বান্ধব, আড্ডা এবং গান বাজনা নিয়ে সময় পার করতাম। আমি পড়তাম মহসিন কলেজে। কিন্তু আমাকে চিটাগং কলেজ, কমার্স কলেজের, সিটি কলেজের ছেলেরাও ছিনত। আমার ব্যাচ এর প্রতিটা গ্রুপ এ আমাকে চিনত না এমন খুব কম ছেলেই ছিল। আমারা ইউটিউবে কন্টেন্ট বানাতাম। এগুলো ২০১২ সালের ঘটনা। আমার একটা নিক নেইম ছিল। ঐ নামটাতে সবাই আমাকে চিনত। গিটার বাজাতাম। আমার আম্মু অনেকবার আমার গিটার ভাঙ্গতে চেয়েছিলেন। আমি বন্দুর গিটার বলতাম। আর রুম বন্ধ করে গিটার শিখতাম। অনেক চেষ্টা করেছি বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করার। IELTS করেছি পাসপোর্টও বানিয়েছি, আব্বু রাজি ছিল, কিন্তু আম্মু যেতে দেয় নি। আমার খরচের হাত ছিল লম্বা। আব্বুর কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করতে পারতাম না। টিউসন করে যা পেতাম তা এক সপ্তাহও হাতে রাখতে পারতাম না। তাই একসময় অতিরিক্ত টাকা ইনকামের জন্য ফ্রীল্যান্সিং এর কাজ শিখি এবং খুব দ্রূত প্রগ্রেস করা শুরু করি। এতই তাড়াতাড়ি সাকসেস করি যে আমি নিজেও বুজে উঠতে পারি নি। এর পেছনে আমার অনেক ডেডিকেশনও ছিল বটে। New Horizon এ তখনকার চলাকানলীন যত ব্যাচ ছিল, তার মধ্যে শুধুমাত্র আমিই সাকসেস পাই। প্রথম এক বছর আমার মাসিক ইনকাম ২০-৩০ হাজার, সেটা আস্তে আস্তে বেড়ে ১.৫ লাখে যায়। আমি খুব মুভি অ্যান্ড গেইমিং ফ্রিক ছিলাম। জানিনা আপনি পিসি গেইমিং সম্পর্কে কতটুকু জানেন। তবে এতটুকু বলি যে, এটা সম্পূর্ণ অন্য একটা জগত। আমার মনে হয় ড্রাগ এডিকসন থেকেও খারাপ। গেইমিং এর জন্য ৫ লাখ টাকার একটা লেপটপও কিনেছিলাম। পুরো বাংলাদেশে আমিই প্রথম ওই লেপটপ কিনি। বের হয়ার সাথে সাথে সিঙ্গাপুর থেকে অরডার করি। হাই কোনফিগ গেইম কিনতাম আর বিভিন্ন দেশের প্লেয়ার দের সাথে খেলতাম। সবই আমার নিজের কামানো টাকা ছিল। ইউটিউবে গেমিং কন্টেন্ট ক্রিয়েট করতাম, যদিও সব এখন ডিলিট করে দিয়েছি। লাইফে প্রচুর সময় গেইমের পেছনে ব্যয় করেছি। নামাজ দোয়া তেমন একটা পড়তাম না। আব্বু-আম্মু অনেকবার আমার পিসি ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি ফ্রিল্যান্সিং এর দোহায় দিলে চুপ থাকত। রাত জাগা দেখলে সুইচ অফ করে দিত, আমি তখনো ফ্রিল্যান্সিং এর দোহাই দিতাম। মূলত আমি গেইম খেলতাম। তবে পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ও করে যেতাম। আমি আমার কাজে খুবই পারদর্শী। বিদেশি প্লেয়ারদের সাথে গেইম খেলার কারনে, ভালই ইংরেজি বলতে পারতাম। তাই খুব সহজেই ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করতাম। আমার পোর্টফোলিও এবং প্রোফাইল রেটিং দেখলে বুজবেন আমার কেমন স্কিল ছিল। খুব অল্প বয়সেই প্রচুর টাকা ইনকাম করি। শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং করে। Upwork এর টপরেটেড একজন ফ্রিল্যান্সার আমি। ইংরেজিতে আমার কমিউনিকেশন স্কিল ভালো হওয়ার কারনে খুব অল্প সময়ে অনেক টাকা কামায়। USA, Canada, UK, France, Australia, Germany সহ আরো অনেক দেশে আমার লং টার্ম ক্লায়েন্ট ছিল। যখন আমি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে তখন আমি মাসে ১ লাখ এর উপর ইনকাম করতাম। ঐ সময়ে পড়ালেখা তেমন একটা করতে ইচ্ছে করত না। ভার্সিটিরে প্রচুর ক্লাস মিস হত। ফ্রিল্যান্সিং এর ট্রেইনিং ও দিতাম। ১৫০+ স্টুডেন্ট ছিল আমার। চারদিক থেকেই ভালোই টাকা আসত। আমার ব্যাংক ব্যালেন্স ২৫ লাখ এর নিচে নামতে দিতাম না। তবে কখনো সুদ খায়নি। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যেতাম। প্রচুর টাকা খরচ করতাম। যে সময় আমার বয়সে ছেলেরা বাবার কাছ থেকে খরচের টাকা খুজত, সে সময় আমি নিজের টাকাই যা খুশি করতাম এবং বন্দুদের ট্যুর স্পনসর করতাম। বন্দুদের প্রয়োজন অপ্রয়োজনে টাকা বিলি করতাম। যেহেতু আমার স্মোকিং এবং ড্রিঙ্কিংস এর অভ্যাস নেই এত টাকা কিভাবে খরচ করব বুজে উঠতে পারছিলাম না। দামি দামি ব্র্যান্ড এর কাপড় কিনতাম, স্মার্টলি চলাফেরা করতাম। সপ্তাহে এরকম দুই-একদিন এমনই বন্দুদের নিয়ে ঘুড়তে বেড় হতাম ১০ হাজার এর উপর খরচ করে বাসায় ফিরতাম। অনেক ভাব নিয়ে চলতাম। একসমইয় আমার মাজে খুব অহংকার চলে আসে। (তবে কখনো কোনো মেয়ের সাথে রিলেশনে যায় নি। কিছু জিনিস আমি ছোটবেলা থেকে ঘৃণা করি। স্মোকিং, ড্রিঙ্কিং, প্রেম/জেনা এবং বাজে ভাবে গালা-গালি করা। এগুলো আমার ব্যাক্তিত্তের পরিপন্তি।) -------------------------------------------- ইসলামিক ল্যাকচার শুনতাম না। সব সময় এড়িইয়ে চলতাম। ভাবতাম আমি ত মুসলিম আল্লাহ এর কাছে মাফ চেয়ে নিব। তাহলেই জান্নাত। একদিন কোনো এক জায়গাই এক জনৈক মুফতির সাথে দেখা। ঢাকাতে উনার মাদ্রাসা আছে। উনিও আমার মত সেইম জায়গায় বেড়াতে গিয়েছেন। আমি তখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পরি। আমি তখনও হুজুড় দেখলে এড়িয়ে চলতাম। ভাবতাম এই বুজি জ্ঞ্যান দেওয়া শুরু করবে। কিন্তু উনি যেহেতু মেহমান, আমি উনার সাথে দ্বীনী-দুনিয়াবী কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করি। কোনো এক ঘোরে উনাকে জিজ্ঞেস করে বসি, মুসলমানরা কি জাহান্নামে যাবে? উনি বললেন হ্যা মুসলমানরাও জাহান্নামে যাবে, যার যত গুনা তত শাস্তি ভোগ করেই তারপর যদি ইমান থাকে এরপরেই জান্নাত পাবে, আর যদি শিরক করে মারা যায়, তাহলে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। জাহান্নামের শাস্তি কত দীর্ঘ এবং কষ্টের তিনি তা বর্ণনা করেছিলেন। সেইদিনই বোধ হয় আল্লাহতাআলা আমাকে হেদায়েত দান করেন। ওই রাতে আমি ভয়ে ঘুমাতে পারি নি। হারাম যেন আমাকে চারদিক থেক ঘিরে ধরেছে। মনে হচ্ছিল তখনি মারা যাব আর সরাসরি জাহান্নামে যাব। তখন পাঁচ ওয়াক্ত নামজ এবং কুরান পড়তে জানতাম শুধু। কিন্তু দ্বীনী বুজ খুবই কম ছিল। হুজুরের কথা সত্যি কিনা বাসায় এসে তাই যাচাই করি। মনকে এই বলে শান্তনা দিচ্ছিলাম যে তিনি আমাকে হয়ত ভয় দেখানোর জন্য বলেছেন। পরে রিসার্চ করে দেখলাম তিনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন। জাহান্নামে যাব সেটা ধরে নিয়েই, ফুল ডিপ্রেসনে চলে যায়। নিজেকে মুনাফিক হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। একদিন শবে বরাত(অনেক পরে জেনেছি যে শবে বরাত বলতে কিছুই নেই, শবে কদর আছে।) এর রাতে আল্লাহর কাছে প্রচুর কান্নাকাটি করি, একদম বাচ্ছাদের মত কান্নাকাটি করেছিলাম। আল্লাহকে শুধু বলেছিলাম, হে আল্লাহ তুমি আমাকে যা শাস্তি দিবে দাও, কিন্তু আমি আগে যেভাবে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরতাম, সেভাবে আমাকে নামজি বানিয়ে দাও। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছিলেন। সেই তখন থেকে আর নামাজ মিস যায়নি। ওই বছর রমজান থেকেই দ্বীন নিয়ে রিসার্চ শুরু করি। তখনি আল্লাহতা আলার ক্ষমা সম্পর্কে জানতে পারি। মহান আল্লাহ বলেন, نَبِّئْ عِبَادِيْ أَنِّي أَنَا الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ ‘আমার বান্দাদের জানিয়ে দাও যে, নিশ্চয়ই আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও অপরিসীম দয়ালু’। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, "হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশের উচ্চতা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও তবুও আমি তোমাকে ক্ষমা করব, আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে থাকো, তাহলে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪০)" জানি না, সেই জনৈক হুজুর আমাকে আল্লাহর ক্ষমার ব্যাপারে কেন বলেন নি। যদি আল্লাহতাআলার ক্ষমার ব্যাপারে না জানতাম তাহলে, আগের মতই থেকে যেতাম। অথচ কত আয়াত আল্লাহ তালা নাজিল করেছেন এই ক্ষমার ব্যাপারে। জানিনা তিনি আমাকে তাওবার কথা কেন বলেন নি। এই তাওবার মাধ্যমে ওই রামজান থেকেই শুরু হয় আমার দ্বীনের পথে চলা। আমার দাড়ী রাখা আর ১০ জন দাঁড়ী রাখার ঘটনার মত নয়। এর পেছনে রয়েছে আরেক গল্প। যখনই দ্বীন সম্পর্কে নতুন নতুন বিষয়ে জানতে পারি তখনই নিজেকে সাথে সাথে সেভাবে তৈরি করার চেষ্টা করি। আমার এখনো সেই দিনের কথা মনে পড়ে, যখন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের টাকনুর নিচে কাপড় পরার গুনাহের লেকচার শুনি, ভয়ে সাথে সাথে সব প্যান্ট বের করে অল্টার করাতে চলে যায়। অথচ আমি ঠাকনুর উপড়ে প্যান্ট পড়া কে আনস্মার্ট, ক্ষেত মনে করতাম। যেই আমি দাড়ি দেখেলে জঙ্গী বলে উপহাস করতাম, আর আজ আমার দাড়ি ধরে বন্দুরা জঙ্গী বলে উপহাস করে। যেই আমি ২০/৩০ জন বন্দু মিলে আড্ডা মারতাম তাদের লিড দিতাম, আজ মসজিদের পথে একলা হাটি। আস্তে আস্তে আমার পরিচিত মুখও সবার কাছে অপরিচিত হওয়া শুরু করে। দাড়ি এবং ইসলামিক ভাব-সাব চলে আসায় অনেকে আমাকে চিনতেও পারে না। মাঝে মাঝে আমিও নিজেকে নিজে চিনতে পারি না। এই অবস্তানে আসব আমি কখনো কল্পনাও করি নি। আলহামদুলিল্লাহ। -------------------------------------------- তখন থেকেই ফ্রিল্যান্সিং ছেড়ে দিয়েছি। যদিও অল্প সল্প কিছু বাচাই করা কাজ এখনো করা হয়। আমার ভালো স্কিল এর কারনে আমকে অনেক কোম্পানি বেশি টাকা দিয়েও রাখতে চেয়েছিল। আমি রাজি হয় নিই। যখন বুজলাম যে ফ্রিল্যান্সিং এর যে কাজ গুলো করছি তা হারাম তখন থেকেই দূরে সরে আসি। মাসে এখন ২০/৩০ হাজার কামাতে হিমসিম খেতে হয়। শুরু হয় আমার হালাল ইনকামের সোর্সিং খোজা। অনেক জব খুজেছি। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে ৩০/৪০ হাজার টাকার জবের অফার পাই। যেখানে ১ লাখ করে কামাতাম সেখানে আমার জন্য ৩০/৪০ খুবই কম লাগত। পরে দেখি সব জবই আমাকে মোটামুটি হারামের দিকে নিয়ে যায়। কারন আমার স্কিল ছিল গ্রাফিক ডিজাইন, যেখান বেগানা মেয়ে-পুরষের ছবি এডিট করতে হত। তাছাড়া বিদেশের প্রায় ৯০% কাজই হারাম পরে, দেখা যায় মদ, সুদ, ক্রিপ্টো কারেন্সি, এল.জী.বী.টি, মিউসিক ইত্যাদি। আরো অনেক আদার্স কাজ ছিল সবই ঘুরে ফিরে হারামেই পরত। আইন বিভাগে স্নাতক পাশ করে এডবোকেটশিপ নেই নি, কখনো প্র্যাক্টিসেও যায় নি, সেটাও ছেড়ে দিয়েছি আল্লাহতালার জন্য। দরকার হলে ভিক্ষা করে খাব কিন্তু উকালতি করে মানুষের হক মেরে খাব না। ছূড়ে ফেলেছি আমার সেই প্রিয় গিটারটিও। ব্যাংক এর কোনো জবে আমি আগ্রহী নয়, যেহেতু সুদ ভিত্তিক। আমি ব্যাবসাকেই হালাল ইনকাম এর প্রোপার সোর্স মনে করি। যে টাকা কামিয়েছিলাম তা দিয়ে হালাল ব্যাবসা করার ট্রাই করি। কিন্তু সবই লোস প্রোজেক্ট। পার্টনারি ব্যাবসায় নিজের ভাইয়ের মত বন্দু টাকার লোভে পরে বেইমানি করে । ঐ সময় আমি মানসিকভাবে খুবই ভেঙ্গে পরে ছিলাম। সবই ছিল আমার টাকা সে ছিল কর্মী অংশীদার। সেই বন্ধুর কাছ থেকে কোনো টাকা ফেরত না নিয়ে মুখ ফিরিয়ে চলে আসি। ছিড়ে ফেলি পার্টনারশিপ ডিড। বাস্তবে হারাম টাকার কোনো বরকত নেই। এভাবে প্রচুর টাকা লস করি। আল্লাহর ভয়ে হারাম ছাড়তে ছাড়তে, যা আছে সবকিছুই হারাতে বসেছি। এভাবে যখনি আমার টাকার ফ্লো কমতে শূরু করে তখনি আমি আমার কাছের বন্দুদের হারাতে শুরু করি। বস্তুত তারাতো আমাকে না, আমার টাকাকে পছন্দ করত। সত্যি বলতে এই যুগে আপনি যখন পুরোপুরি দ্বীনী হওয়ার চেষ্টা করবেন, আপনি নিজেকে পৃথিবীর সবচাইতে অসহায় ব্যাক্তি হিসেবে পাবেন। কেউই আপনাকে এসে বলবে না ভাই তুই সাহস হারাবি না, আমি তোর সাথে আছি। আল্লাহ ছাড়া আপনার কাছের আর কেউ থাকবে না, কিন্তু আল্লাহত কথা বলেন না, মাঝে মাঝে খুব কাঁদতে ইচ্ছে করে। একটা সময় অনেক ডিপ্রেশনে ছিলাম। দিন শেষে ঘুমাতেও পারতাম না। চিন্তা করতাম যদি আজ রাতে মারা যায় আল্লাহকে কি জবাব দিব। জীবনেই যাই করলাম সবই ত হারাম। কি নিয়ে কবরে যাব... এসব চিন্তা ঘুরত শুধু। কিন্তু যখন থেকে প্রকৃত ইসলাম প্র্যাক্টিস শুরু করি তখনই ডিপ্রেসন থেকে অনেকটা কেটে উঠি। আল্লাহর কাছে অনেক কেদেছি। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং রিজিকের মালিক। বুজে না বুজে কত গুনাহ করেছি,জানিনা আল্লাহ মাফ করবেন কিনা। তবে আমি আমার ওই বিলাসী জীবন আর চাই না। চাই না আমার লাখ টাকার জব। চাই না আমার দুনিয়ার এই মিথ্যা সফলতা। এখনও শুধু হালাল হারামের সাথেই লড়াই করে যাচ্ছি। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লাইফে অনেক সেক্রিফাইস করেছি। অনেকে আরামের লাইফকে ঘৃণা করতে শিখেছি। জানিনা আল্লাহ আমাকে কতটুকি পছন্দ করেন তবে আমি শুধু তার জন্য বাঁচি এবং তার জন্যই মরব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর কসম, শুধুমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না। আল্লাহ যেন আমার গুনাহ মাফ না করে আমাকে মৃত্যু না দেন। জানিনা আল্লাহ আমাকে সফল ব্যাক্তিদের কাতারে রাখবেন কিনা। তবে আমার বাবার চোখে আমি কোনো সফল ব্যাক্তি নয়। তিনি চেয়েছিলেন আমাকে বিদেশে পড়িয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানাতে। তিনি চেয়েছিলেন আমাকে উকিল বানাতে, তাও না হলে অন্তত তার ব্যবসা দেখতে। তিনি চাইতেন আমাকে বিয়ারিং ইম্পোর্টার বানাতে এবং তার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে। আমি যে ফ্রিল্যান্সিং বন্ধ করে দিয়েছি তাতেও তিনি সন্তুষ্ট নন। -------------------------------------------- সাফল্যের সংজ্ঞা শেখানো হত আমদেরকে পরিবার থেকে। সফল হতে হবে বাবা। নিজের পায়ে দাড়াতে হবে,বাবা কে দেখতে হবে, মা কে দেখতে হবে। বিয়ে করবি কি নিয়ে? তোর তো কিছুই নেই। চাকরি, বাকরি করতে হবে। লোকে কি বলবে? বড়লোক হতে হবে, গাড়ী-বাড়ি মেইন্টেন করতে হবে। প্রতিষ্টিত হতে হবে। কিন্তু সাফল্যের একটাই সংজ্ঞা দিয়েছেন আল্লাহ কুরানে। একটাই সংজ্ঞা। সূরা আ-লু ইমরান ( আয়াত নং - ১৮৫ ) - لُّ نَفۡسٖ ذَآئِقَةُ ٱلۡمَوۡتِۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ أُجُورَكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۖ فَمَن زُحۡزِحَ عَنِ ٱلنَّارِ وَأُدۡخِلَ ٱلۡجَنَّةَ فَقَدۡ فَازَۗ وَمَا ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلۡغُرُورِ "প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমাদের সকলকে (তোমাদের কর্মের) পুরোপুরি প্রতিদান কিয়ামতের দিনই দেওয়া হবে। অতঃপর যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হবে, সে-ই প্রকৃত অর্থে সফলকাম হবে। আর (জান্নাতের বিপরীতে) পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়।" এত নাম, টাকা পয়সা দিয়ে কি হবে? দিন শেষে ত রাস্তার অই গরিব চাচা, কৃষক, কুলি, কামার আর আমার রিক্সওয়ালা ভাই জান্নাতে যাবে। আর আমি আমার হারাম টাকা, আমার সুনাম দিয়ে জাহান্নামের আগুনে পুড়বো??? এ কেমন সফলতা? শুধুমাত্র লোকে কি বলবে মনে করে, আমরা হালাল এবং ছোট কাজ গুলোকে ছোট মনে করে এড়িয়ে চলি। অথচ আমরা নিজেরাই জানি না আমদের মূল উদ্দেশ্য কি। মিথ্যা সফলতাই আমরা মজে গেছি। আজ হালাল আমদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে গেছে। আর হারাম কতইয় না সোজা এবং পছন্দনীয়। এই বুজ আর ধোকা আমি যখন থেকে বুজতে পেরেছি তখন থেকে এই একটাই যুদ্ধ করে যাচ্ছি। হালাল ইনকাম এর যুদ্ধ। আমাদের নবী (সঃ) এর ত কিছুই ছিল না। অথচ তিনি ছিলেন পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ট ব্যাক্তি। সেখানেত আমি কিছুই না। আল্লহাতালাকে কাছে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে আমি রিক্সা চালাতে রাজি আছি। কিন্তু হারাম রিজিক আর না। আমার কাছে, রিজিকের ফেতনা অনেক বড় ফেতনা। -------------------------------------------- এভবে হালাল রিজিকের জন্য নতুন জব খোজা শুরু করি। কিন্তু কোথাও মনের মত হালাল জব পাই না। ব্যাংক এবং এন জি ও এর কোনো স্মার্ট জবে আমি আগ্রহী নয়, যেহেতু সুদ ভিত্তিক। গ্রাফিক্স এর কাজে ফেতনা এবং আইন বিভাগে কোনো জব করার ত প্রশ্নই উঠে না। ২০২২ এর রমজানে আমি আল্লাহতালার কাছে দুনিয়াই তিনটি জিনিসের জন্য দোয়া করি। তার মধ্যে প্রথমটি ছিল হালাল ইনকাম এর সোর্স। এস্তেগফার এবং তাহাজ্জুদ নামজের মাধ্যমে অনেক কান্নাকাটি করি, আর হালাল আয়ের ব্যবস্তা করে দেওয়ার জন্য দোয়া করি। যা তিনি কবুল করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। চট্টগ্রামের জুহুর মার্কেটে কাপড়ের দোকান দিয়েছি। যা থেকে হালাল ভাবে ইনকাম করার সুযোগ হয়েছে। আল্লাহ যেভাবে কবুল করেছেন আমার জন্য তা অকল্পনীয়। ঠিক যেভাবে আমি চেয়েছি তার চাইতেও উত্তম। চোখের পানি ফেলে শুকরিয়া আদায় করেছি। আমি এখনো অবাক হয়, যে আমি ব্যবসার ব বুজি না, সে আমাকে আল্লাহ তা আলা আজ কোথায় নিয়ে এসেছেন। সুবাহানাল্লাহ। এই দোয়া কবুল এর ব্যাপারটা আমি আপনাকে কিভাবে বুজাই? একদম ম্যাজিক এর মত কাজ করে। যখন থেকেই দোয়ার পাওয়ার বুজতে পারি তখন থেকেই আমি পুরোপুরি আল্লাহর উপর নির্ভরশীল হয়ে পরি। হতাশাতো সেই কত আগেই পালিয়েছি যখন থেকে এই দোয়ার ক্ষমতা বুজতে পেরেছি। আমি মনে করি পৃথিবীর সব শক্তি আপনার সাথে আল্লাহতালার পবিত্র সম্পর্কের কাছে হেরে যাবে, আর এই সম্পর্ক শক্ত হয় শুধু মাত্র দোয়ার মাধ্যমে। আমি ব্যাবসাকেই হালাল ইনকাম এর প্রোপার সোর্স মনে করি। যদিও আমার বাবা আমি যে ব্যবাসা করি তা পছন্দ করেন না। তিনি চান আমি যেন উনার ব্যাবসায় পরিচালনা করি। কিন্তু বাবার ব্যাবসায় আমার আপন দুই ভাই আছে। আমি চাইনা সেখানে গিয়ে নতুন কোনো ফেতনা সৃষ্টি করতে। আর উনার ব্যাবসা চলে উনার মত করে, আমি চাই এমন ব্যাবসা যেখানে আমার পার্টনার হবে আমার আল্লাহ এবং আমি। তাই আমি এই কাপড়ের ব্যবসা বেচে নিয়েছি। যেখানে আমি ইচ্ছা করলে হারাম ছাটাই করতে পারব, কেউ বাধা দেওয়ার থাকবে না। আমি এত পড়ালেখা করে জুহর মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করায় আমার বাবা আমার প্রতি সন্তুষ্ট নন। তবে এটা এমন বড় কিছু নয়। আমার বাবা আর আমার মাজে সম্পর্ক খুবই ভাল। আর আমার কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রাধান্য বেশি। যে যাই ভাবে ভাবুক। হয়তাবা একদিন রাস্তায় ফল বিক্রি করব যদি কাপড়ের ব্যাবসায়ও হারামের হয়। ভবিষ্যতে আমি আলেম এর একটা ছোট কোর্স করব চিন্তা করেছি। চট্টগ্রাম এর লালখান বাজারে মুফতি হারুন ইজহার সাহেবের একটি মাদ্রাসা রয়েছে। খুব শীগ্রই ওখানে এডমিশন নিব। আলেম হওয়ার জন্য নয়, বরং দ্বীনকে আরো ভালোভাবে বুজার জন্য। বস্তুত যার দ্বীনী জ্ঞ্যান নেই, সেই ত সবচেয়ে বড় অজ্ঞ। সবকিছু আরেকটু গুছিয়ে আনতে পারলেই ভর্তি হব ইনশাআল্লাহ। ২য় দোয়াটি ছিল একজন সুন্দরী দ্বীনী স্ত্রী। জানিনা এটা তিনি কবুল করবেন কিনা। কারন আমি মনে করি আমি কোনো দ্বীনী পাত্রীর যোগ্য নয়। আমি কোনো পরিপূর্ণ দ্বীনী ব্যাক্তি নয়। আর না কোনো বড় আলেম। - দ্বীনী খুজছি এইজন্য যে আমাকে দ্বীনী শিক্ষা দিতে পারবে, আমার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেতে সাহয্য করবে। আমাকে ভালো-মন্দ বুজতে সাহাজ্য করবে। অধেক দ্বীন নিয়েতো আর জান্নাত পাওয়া যাবে না। আমি চাই আমার স্ত্রী আমার দ্বীনকে সম্পূর্ণ করুক তার অর্জিত দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত করে। - তার উপর সুন্দরীও খুজছি এইজন্য যে যাকে দেখে আমার মন গলে যায়। আমি যাতে অন্য কোনো মেয়ের ফেতনায় না পরি। যার কাছেই এসে আমি নিরাশ হব না। আমি ডিপ্রেসনে যাব না। যে আমার দুনিয়ার শেষ আশ্রয় স্তল হবে। যার স্নেহ-মমতায় আমি নিজেকে দুনিয়ার ফেতনায় ফেলতে পারব না। যার আদর-মুহাব্বতে আমি তৃপ্ত থাকব। যার পরশে আমি আল্লাহর রাস্তায় দৃঢ় থাকব। আল্লাহর ভয়ে নিজেকে শুধু সেইব করেছি আমার অজানা সেই স্ত্রীর জন্য। আমার সমস্ত প্রেম-ভালবাসা, আবেগ,সুখ সবই তার জন্যই জমিয়ে রেখেছি। ইনশাআল্লাহ তার হক শুধু সেই পাবে।
|