| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
সমস্ত প্রশংসা রব্বে কারিমের,যিনি এই পাপী মুমিন বান্দীকে, সিরাতল মুস্তাকিমের পথ দেখিয়েছেন।এর চেয়েও বড় কথা আল্লাহ এই পথের উপর রেখেই যেন মৃত্যু দান করেন। নিজের সম্পর্কে বলা তো খুব কঠিন।আমার গ্রামের লোকজন আমার সম্পর্কে + আমাদের পরিবার সম্পর্কে ভালো বলতে পারবে। আমি বলাতে, আল্লাহ হয়তো অসন্তুষ্ট হচ্ছে আর শয়তান মুচকি মুচকি হাসবে। আমি প্র্যাক্টিসিং মুসলিমাহ,পুরোপুরিভাবে দ্বীন পালনের চেষ্টারত। ছোটবেলা থেকেই নামাজ,রোযা ও ইসলামের অন্য বিধানগুলো মেনে চলার চেষ্টা করে আসছি।পর্দাটার শীথিলতা ছিল বাট ২বছর+ থেকে শরী'ঈ পর্দা করে চলি। সহজ,সাদাসিধে, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করে আসতেছি। প্রয়োজন ছাড়া,বিলাসিতা করিনা। তবে সাধ্যের মধ্যে সখ পূরণ করি। অল্পে তুষ্ট থাকতে পারি ।নিরিবিলি থাকতে বড্ডো ভালোবাসি।গীবত,নিন্দা,পরচর্চা, মিথ্যা বলা এসব কবিরাহ গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করি।অহেতুক ফায়েসী কথা ও কাজ ভিশন অপছন্দ।নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করি। অগোছালো,অলস,নিষ্কর্মা, বেহিসাবী ও কার্পন্য,নির্বুদ্ধিতা,হিংসা-বিদ্বেষকারী,দুনিয়াবি লোভ, ব্যক্তিত্বহীন মানুষ এগুলো ভিশন অপছন্দ করি। ধৈর্যশীল,রাগকে কন্ট্রোল করে চলতে পারি আলহামদুলিল্লাহ। মানুষ খাওয়াতে ভালোবাসি,কাউকে কিছু হাদিয়া দিতে পারলে ভালোলাগে। রান্না,সংসারের কাজ,পিঠা, হাতের কাজ পারি। নাশিদ পারি টুকটাক এবং তা শোনার উপযুক্ত।বান্দার হকের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে চেষ্টা করি। এগুলোই দুনিয়াবি যোগ্যতা। দ্বীনি যোগ্যতা - ভোর রাত থেকে সূর্য উদয়ের পর পর্যন্ত সলাত,নফল আমল,তাসবীহ তাহলীল,দোয়া।প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত। অল্প তাফসীর,ইসলামিক বই পড়ি সময় পেলে আলহামদুলিল্লাহ। ভুল-ত্রুটি শুধরিয়ে চলার চেষ্টা করি। শান্তশিষ্ট,সৎ-চরিএ, কর্তব্যপরায়ণ, দায়িত্বশীল,জ্ঞানপিপাসু সহনশীল।আমি উনার পিতামাতার খেদমত,ভাইবোনদের হক,আত্নীয়ের হক আদায়ের সাধ্যমত চেষ্টা করবো ইনশা আল্লাহ।তারপরও মানুষ ভুলের ঊর্ধে নয়।আল্লাহ যেন সহজ করে দেন এসব। অপর পক্ষ থেকে মেয়ের মতো ভালোবাসতে ও শাসন করতে হবে। অন্যের মেয়ে আমানত সেটা স্মরনে রাখতে হবে। পরিশেষে আমি একজন আদর্শ স্ত্রী ও আদর্শ মা হবার স্বপ্ন দেখি,আদর্শ পরিবার গঠনের স্বপ্ন দেখি। আল্লাহ যেন আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন। অল্প বয়সেই উনার সাথে হজ্জ করার স্বপ্ন আছে, আল্লাহ যেন কবুল করেন। চক্ষু শীতলকারিনী স্ত্রী হতে চাই- যাকে দৃষ্টি দিলে চোখ শীতল হয় - সুন্দর চেহারা, ব্যাপারটা এমনও নয় কিন্তু! এক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,‘সালাত আমার চক্ষু শীতলকারী।’ এ কথার ভাবার্থ হলো -রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সালাতের মধ্যে এমন এক অপার্থিব স্বাদ ও ভাব উপলব্ধি হতো, যা দুনিয়ার অন্য কোন জিনিসের মধ্যে হতো না। চোখের শীতলতা চামড়ার রঙের উপর নির্ভর করে না। অনেক সুন্দর মানুষ, আপনার সাথে জঘণ্য আচরণ করে, তাকে দেখলে চোখ শীতল হবে? প্রশান্তি পাবে? মনে তো হবে, যদি এই মুখই দেখতে না হতো ! অফিস শেষে বাসায় যার কাছে যাবার কথা মনে হলেই মন খারাপ হয়ে যায়। অথচ, উত্তম আখলাকের মিষ্টভাষী অনুগত কেউ মনে জায়গা করে নেয়, মনে হয় বার বার তার কাছেই ঠায় হোক, বার বার তার সাথেই কথা হোক, সারাটা দিন তার সোহবতে কাটুক, যার কাছে যার প্রশান্তি মিলে, তার কাছে তার ঠায় হোক। যে চোখের শীতলতার কথা বলা হয়েছে তা মূলত মনের চোখ। বাহ্যিক চোখ শুধু উপরের সৌন্দর্য দেখে। আর মনের চোখ দেখে সম্পর্কের প্রতি আন্তরিকতা নিষ্ঠা ভালোবাসা আর সততা।যখন অন্তরের চোখ সন্তুষ্ট হয় তখন বাহ্যিক চোখ এমনিই সন্তুষ্ট হয়ে যাবার কথা। আর যদি আল্লাহ এমন কাউকে মিলিয়ে দেন, যাকে পেয়ে বাহ্যিক চোখ ও অন্তরের চোখ উভয়ই সন্তুষ্ট হয়, তো আলহামদুলিল্লাহ্ সেটা বোনাস। এই দুনিয়ায় বোনাস না পেলে, ঐ দুনিয়ায় বহুগুণে মিলে যাবে। আলহামদুলিল্লাহ্ আলা কুল্লি হাল।
|