| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আমি জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করা একজন সাধারণ ছেলে। সত্যি বলতে, কুরআন-হাদিস খুব গভীরভাবে শেখার সুযোগ আমার হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে মাঝে মধ্যে অনেক আফসোস করি। আমি ছোট থাকতে কুরআন শরীফ এর পাঁচ পাড়া পর্যন্ত পরেছিলাম, পরে আর পড়াশোনা কোচিং এর ব্যস্ততার কারণে কুরআন শরীফ পড়া হয়ে উঠেনি, ইনশাআল্লাহ নিয়ত আছে আবার শুরু করবো আল্লাহ্ মাফ করুক। কিন্তু হাদিসের কিতাব পড়া হয় আলহামদুলিল্লাহ। আমি এখন ও হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে আছি। প্রিয়তমা স্ত্রী অশ্লীলতার এই যুগে চক্ষু ও চরিত্র হেফাজত করেছি। আল্লাহর দেয়া হালাল নেয়ামত উপভোগের জন্য নিজেকে হারাম থেকে গুটিয়ে নিয়েছি। এতটুকু বলতে পারি যে, আপনি একজন চরিত্রবান ও চক্ষু হেফাজতকারী স্বামী পাবেন ইনশাআল্লাহ। আমি ও চাই যে আমার আহলিয়া হবে তিনি ও হারাম সম্পর্ক ফ্রি মিক্সিং থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখছে/রাখবে। আমি আমার নিজের চোখকে হেফাজত রেখেছি। সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম - এর আদেশ ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ সুন্নাত দাড়ি রেখেছি। আমি চাই যে আমার আহলিয়া বা জীবন সঙ্গী যিনি হবেন তিনি পরিপূর্ণ পর্দা সহকারে হাত মুজা, পা মুজা পরিধান করবে। আমার কোন খারাপ অভ্যাস নেই , আমি নেশা জাতীয় দ্রব্য, সিগারেট ,পান ,গুল ,এসব কিছুই খাই না এসব পছন্দ ও করি না। মাঝে মধ্যে চা খাই তাও তেমন পছন্দ করি না বাসায় বানালে বা বন্ধুদের সাথে মাঝে মধ্যে খাওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় সময় ঘরের বাইরে যাওয়া ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া ও পছন্দ করি না। ছোটবেলা থেকেই নামাজ পড়ার চেষ্টা করতাম আলহামদুলিল্লাহ, এখনও নামাজ পড়ি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ মেনে চলার চেষ্টা করি। স্কুলে পড়ার সময় থেকে আমাদের মসজিদে দাওয়াত ও তাবলীগের তালিমে বসতাম, বয়ান শুনতাম এবং কয়েকবার আল্লাহর রাস্তায় সফরেও গিয়েছি। যদিও পড়াশোনা, চাকরি ও দুনিয়াবী ব্যস্ততার কারণে সেই কাজের সাথে নিয়মিত থাকতে পারিনি। আমাদের পরিবার মুসলিম পরিবার হলেও, ছোটবেলায় দ্বীন পালনের পরিবেশ খুব বেশি ছিল না। হয়তো দ্বীনের সঠিক বুঝ না থাকার কারণেই এমন ছিল। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, এখন ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। আমি সবসময় চাই আমার পরিবার একটি সুন্দর ইসলামিক পরিবেশে থাকুক। আমার জীবনে একটাই বড় স্বপ্ন তা হলো একটি শান্তিময় ইসলামিক পরিবার গঠন করা। আমার আহলিয়া এমন একজন হোক, যিনি শুধু আমার জীবনসঙ্গীই নন, বরং দ্বীনের পথে ও সাথী হবেন। আমরা পরিবারের সবাই একসাথে ঘরে তালিম করবে। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের হুকুম ও সুন্নাহ শিখবে ও মানার চেষ্টা করবে। আমার মা আমার আহলিয়া কে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসবে, আমার মা খুব ভালো মানুষ তার সাথে কথা বললে বুঝতে পারবেন। আমি আশাবাদি আমার মা আমার জীবনসঙ্গী কে নিজের মেয়ের মত দেখবে। আমার ভাবিকে আম্মু খুবই ভালোবাসে নিজের মেয়ের মত দেখেন। আর আমার আহলিয়া/জীবনসঙ্গী যেন আমার মা কে নিজের মায়ের মতো সম্মান ও যত্ন করবে। যখন নামাজের সময় হবে তখন আমার আহলীয়া নিজে নামাজ পড়বে, ও আমার পরিবার কে সুন্দরভাবে নামাজের প্রতি উৎসাহ দেবে। এক সাথে নামাজ আদায় করবে। পরিবারে দ্বীনের পরিবেশ তৈরিতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। আমি এমন একজন আহলিয়া জীবনসঙ্গী চাই তার প্রধান উদ্দেশ্যে থাকবে আখেরাত। দুনিয়ার প্রতি কোন মহব্বত থাকবে না, নিজের স্বামীকে সম্মান করবে ,স্বামীর হক গুলো পালন করবে ইত্যাদি।পরিবারের পরিস্থিতি বুঝে কাজ করবে যে কোন কাজ করার আগে মা ও স্বামীর সাথে মাসোয়ারা/পরামর্শ করবে। আমি আমার স্ত্রীর হক পালনে সর্বদা চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। বিয়ে সম্পর্কে : আমি চাই আমাদের বিয়েটা যতটা সম্ভব সুন্নাহ অনুযায়ী, সহজ ও বরকতময়ভাবে হোক। আমাদের বিয়েতে কোন হারাম গানবাজনা থাকবে না। গায়ে হলুদ এর নামে কোন অনুষ্ঠান হবে না। আমি চাই না যে আমার আহলিয়া কে কোন বেগানা পুরুষ দেখুক বা হলুদ লাগিয়ে দিক এসব ইসলামে নিষিদ্ধ। আসলে আমরা এমন এক সমাজে ও পরিবেশে বড় হয়েছি যেখানে অনেক মানুষ সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে না, এমনকি আমার পরিবার ও তাই। আমি চাই আমাদের বিয়ে সুন্নাহ অনুযায়ী হোক আমার থেকে সুন্নাহ জিন্দা করবো ইনশাআল্লাহ। আমি মনে করি, ছেলে ও মেয়ে উভয় পক্ষেরই এ বিষয়ে বোঝাপড়া ও সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিয়েটা কোন এক মসজিদে হোক। কারণ মসজিদে বিয়ে করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এবং এতে সরলতা ও বরকত বেশি থাকে। তবে যদি কোনো কারণে মেয়ে পক্ষ এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করে, তাহলে মেয়ের বাসায়ও বিয়ে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমি চাই ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী একজন ইমাম বা হুজুর উপস্থিত থাকবেন, যিনি খুতবা দিয়ে বিয়ে পড়াবেন। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজিও উপস্থিত থাকবেন, যিনি কাবিন ও কাগজপত্র সম্পন্ন করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বিয়েতে খরচ কম, সে বিয়েতে বরকত বেশি। তাই আমি চাই বিয়েটা সাদাসিধে ও কম খরচে হোক। বিশেষ করে মেয়ে পক্ষের উপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ বা কষ্ট তৈরি না হোক। বিয়েটা কোন এক শুক্রবারে হোক। ছেলে পক্ষ থেকে অল্প কিছু মানুষ যাবে। ইসলামে বড় করে বরযাত্রীর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই অযথা অনেক মানুষ নিয়ে গিয়ে মেয়ে পক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করার ইচ্ছা আমার নেই। প্রয়োজনে আমরা বাসা থেকে খেয়ে গিয়েও শুধু বিয়ে সম্পন্ন করে মেয়েকে নিয়ে আসতে পারি। তবে মেয়ে পক্ষ যদি নিজেদের ইচ্ছায় অল্প কিছু আপ্যায়ন করতে চায় এবং এতে তাদের কোনো কষ্ট না হয়, তাহলে সেটা ভিন্ন বিষয়। আমি চাই পুরো বিষয়টি সহজ, সম্মানজনক ও চাপমুক্ত হোক। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হলো যৌতুক। যৌতুক সম্পূর্ণ হারাম, দেওয়া বা নেওয়া কোনোটাই ইসলাম সমর্থন করে না। তাই আমি কোনো ধরনের যৌতুক চাইবো না/, ইনশাআল্লাহ কখনো ও নিবো না। আমার আহলিয়ার পরিবার থেকে কোনো কিছু দাবি করবো না। দেনমোহরের বিষয়েও আমি সহজ ও বাস্তবসম্মত চিন্তা করি। আমি বিশ্বাস করি, বেশি দেনমোহর নির্ধারণ করলেই সংসার টিকে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। সংসার টিকে থাকে ভালোবাসা, বোঝাপড়া, তাকওয়া , দ্বীনদারের ও আল্লাহর রহমতে। আমি চাই দেনমোহর হবে আলোচনা সাপেক্ষে, পরিবারের সামর্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। আমার ইচ্ছা, দেনমোহর সাধ্যের মধ্যে রাখা এবং বিয়ের সময়ই পরিশোধ করা। বাকি দেনমোহর হবে না। বিয়ের দিন স্ত্রীর হাতে দেনমোহর বুঝিয়ে দিবো ইনশাল্লাহ। আমার মতে দেনমোহর ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে পারস্পরিক আলোচনা এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর পক্ষ বিয়েতে যদি সোনা বা অলংকার দেয় , তাহলে সেটা দেনমোহরের অংশ হিসেবে ধরা যেতে পারে তা দুই পক্ষের আলোচনা করে। কনে বা তার পরিবার সম্মত থাকলে তাহলে সোনা অলঙ্কার দেনমোহর হিসেবে ধার্য করা হতে পারে। তাহলে ঐ সোনা অলঙ্কারের হক স্বামী ও স্বামীর পরিবারের কারোর থাকবে না। শুধু মাত্র স্ত্রীর হক থাকবে। আমি চাই কিছু জিনিস স্ট্যাম্প আকারে লিখিত থাকতে পারে যাতে ভবিষ্যতে কোন ঝামেলা না হয় যেমন ছেলেপক্ষ কোন যৌতুক নিবে না , বা দেনমোহর পরিশোধ করবে নগদে ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম ও সাহাবিদের ঘরে ও অভাব ছিল কিন্তু ভালোবাসা কম ছিলো না। কিছু প্রচলিত প্রথা আছে বিয়ে বাড়িতে—যেমন গেট ধরা, জুতা লুকানো, হাত ধোয়ানো, মিষ্টি খাওয়ানোর নামে টাকা নেওয়া, গান বাজনা বাজানো ইত্যাদি আমাদের বিয়েতে এসব থাকবে না। সব দুই পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে হবে কি করলে ভালো হবে ইত্যাদি। আমি চাই বিয়েটা হোক শান্ত, সাদাসিধে, সুন্নাহসম্মত ও বরকতময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন যে বিয়েতে দেনমোহর এবং খরচ কম হয় সে বিয়ে বরকত ময় ও কল্যাণকর । বিয়ের পরের দিন ওলিমা খাওয়ানো সুন্নাহ। মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে লোক আসবে আর ছেলের আত্মীয়-স্বজন ও মুরুব্বিরা ওলিমায় উপস্থিত থাকবে। সবশেষে আমার একটাই চাওয়া—এই বিয়ের মাধ্যমে যেন দুই পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা, সম্মান ও দ্বীনের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং কারও উপর যেন অপ্রয়োজনীয় কষ্ট বা চাপ না আসে।
|