| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
[ এই লেখাটা ১টু বড় হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। ] ১) আমার গাত্রবর্ণ কেউ বলে ফর্সা, কেউ বলে উজ্জ্বল শ্যামলা। এটা নিয়ে কখন মাথা ঘামাইনি। তবে, গাত্রবর্ণ এ ২টার ১টাই হবে। ২) কিছুদিন পূর্ব থেকে দ্বীনি শিক্ষা- দ্বীনি কাজের প্রতি আগ্রহটা ভেতর থেকে টের পাচ্ছি। উপরে বর্ণিত আলেমগণের এছলাহীগুলো এই আগ্রহের পেছনে অনেক অবদান। এদের সংস্পর্শে এসে বুঝতে পারছি - কতটা ভুল আর মোহে ছিলাম এতোদিন। তাই, যেই বোধটা সৃষ্টি হয়েছে, এমন ১জন জীবনসঙ্গিনীর প্রত্যাশায় আছি, যার সহচর্যে থেকে দ্বীনের পথে এগিয়ে আসাটা আরো সহজ হবে, এবং পরিপূর্ণভাবে দ্বীনি বিধিবিধানগুলো মেনে চলা আরো সহজ হয়ে উঠবে। ✪✪ পবিত্র কোরআন নাজেরা করার চেষ্টায় আছি। ইনশাআল্লাহ্, যদি সম্ভব হয় হেফজ করার নিয়ত আছে। ৩) উল্লেখ করার মত দ্বীনী কোন যোগ্যতা আমার নেই। এখনো পর্যন্ত সারাজীবন দুনিয়াবি যোগ্যতার পিছনেই ছুটেছি। তবে, ইনশাআল্লাহ্, যদি বেঁচে থাকি- দ্বীনী শিক্ষা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছেটা দিনদিন নিজের ভেতর টের পাচ্ছি। ২-৩ বছর পূর্বেও, জেনারেল শিক্ষায় আরো উচ্চতর পড়াশোনা ও ডিগ্রি অর্জনের প্রবল ঝোঁক ছিল। তবে,এখন আর তা নেই। বরং, বর্তমানের জেনারেল শিক্ষার প্রতি অনীহা চলে এসেছে। এত্তো বছর ধরে যে ভুলটা করেছি, সেসব পূরণ করার ইচ্ছা আছে, ইনশাআল্লাহ্। ৪) ইদানিং কোরআনে হাফেজদের প্রতি ভালো লাগাটা সবচেয়ে বেশি কাজ করে। কিছুটা হাস্যকর শুনালেও মনে মনে এই বাসনা পুষে রেখেছি - আল্লাহ যদি কবুল করেন- বিয়ের পর যদি আল্লাহ কোন সন্তানাদি দান করেন, তাহলে তাদের কোরআনে হাফেজ করা চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্ (যদি আল্লাহ্ কবুল করেন) ৫) "বিয়ে পূর্ব-নির্ধারিত"- বুঝ হওয়ার পর থেকে এই বিশ্বাস ধারণ করেই বড় হয়েছি এবং এখনও এটাই বিশ্বাস করি। তবে, দোয়ায় বিয়ের ব্যাপারেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়- এটা শুনার পর, মহান আল্লাহর নিকট দোয়ায় অন্যান্য দোয়ার পাশাপাশি এই দোয়াও করি যে - আল্লাহ্ যেন আমাকে একজন দ্বীনদার ( আল্লাহর কাছে দোয়ায় বিশেষভাবে চাই কোরআনে হাফেজা জীবনসঙ্গী) জীবনসঙ্গিনী দান করেন। এই দোয়ার শেষে দোয়ায় এটাও চাই - "হে আল্লাহ্, আমার জন্য যা কল্যাণকর, তাহা-ই আমার জীবনে ব্যাবস্থা করে দেন। " আর,আল্লাহ্ যদি অন্যরকম কিছু যদি আমার তকদীরে লিখে রাখেন, তাহলে এমন নিয়তও করে রেখেছি - আমার জীবনসঙ্গিনী হয়ে যে আসবে, আল্লাহ্ যদি কবুল করেন, তাহলে উনাকে কোরআনে হাফেজা হওয়ার জন্য যা করার প্রয়োজন, আমি সে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্। সবশেষে, সবচেয়ে সত্য কথা হচ্ছে - সবকিছু-ই আল্লাহর ইচ্ছায়। (বি.দ্র.: আমার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় গ্র্যাজুয়েশন (অনার্স) শেষ করে, তারপর কোরআনে হাফেজা হচ্ছে/হয়েছে। এটা শুনে এই চিন্তাটা আরো দৃঢ় হয়েছে।) জীবিকা:- মাদ্রাসায় (কামিল) শিক্ষকতা। আরো ভালো কিছুর (হালাল উপায়ে) চেষ্টায় আছি। পাশাপাশি, বিদেশে বন্ধুর ১ ব্যাবসায় ( দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের) কিছুটা শেয়ার আছে। প্রতি মাসে সেখান থেকে কিছুটা আয় আসে। ৫) আমি ১টা সরকারি ব্যাংকে (বিশেষায়িত) বেশ কিছুদিন চাকরি করেছি। তবে, সুদের কার্যাবলির সাথে সম্পর্কিত হওয়ায়, কিছুদিন পূর্বে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। (করোনা পরবর্তী এমন কঠিন সময়ে সরকারি চাকরি ছাড়ায় প্রায় সবার তিরস্কার উপেক্ষা করেও)। বেসরকারি ব্যাংকেও যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল। একই কারণে সেটাও করিনি। মোটকথা, সুদ ও সুদের সাথে সম্পর্কিত কার্যাবলি থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকার নিয়ত করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ্। ৬) এতিম শিশু + পথশিশুদের নিয়ে এবং দরিদ্র অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের, (বিশেষ করে দুনিয়ায় যারা অসহায়) নিয়ে কাজ করার ১টা সপ্ন দীর্ঘদিন যাবৎ। এখনো সুযোগ পেলে সাধ্যমত যতটুকু পারি করি। ভবিষ্যতেও এগুলো নিয়ে সাধ্যমত কাজ করার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ্। ৭) যারা পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের রাস্তায় আছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও অসম্ভব ভালোলাগা কাজ করে। ৮) তথাকথিত আধুনিকতাকে ঘৃণা করি। ছেলেমেয়েদের অবাদ মেলামেশাকেও ঘৃণা করি। এমনকি সারাজীবন ছেলেমেয়েদের কো-এডুকেশনে পড়াশোনা করেও, এই সিস্টেমটাকে এড়িয়ে চলেছি এবং অপছন্দ করি। ৯) বিধবা/ ডিভোর্সী কাউকে বিয়ে করার ব্যাপারে পরিবারকে মানাতে পারব না।(মানবেই না। এমন কিছু করতে হলে আমাকে পরিবার ছেড়ে করতে হবে)। নয়তো এমন কাউকে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে আমার কোন সমস্যা ছিল না। তবে,কেউ (কোন মেয়ে) যদি কখনও অবৈধভাবে নিজের হাতটাও কোন পরপুরুষকে ধরার সুযোগ দিয়ে থাকে, তাকেও আমি মেনে নিতে পারব না। আমার কাছে সতীত্ব ব্যাপারটা শরীরে নয়, বরং মনে। এই ব্যাপারটায় আমি নিজে যেমন ছিলাম/আছি, আমি চাই আমার জীবনে এমন একজন জীবনসঙ্গীনীর ব্যাবস্থা মহান আল্লাহ্ যেন করে দেন- আল্লাহর কাছে আমি এই দোয়াই করি। নিশ্চয়ই, আল্লাহ্ গোপন-প্রকাশ্য সবকিছুই জানেন। ১০) ৫ ওয়াক্ত নামাজ শুরুর বিষয়ে এখানে ১টু বলতে হয়- ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ভাবে কঠোর বাধ্যবাধকতা ছিল নিয়মিত নামাজ আর প্রতিদিন সকালে কোরআর তিলাওয়াত ব্যাপারে। তবে, আগে মাঝে মাঝে কখনো ব্যস্ততায় বা কখনো কখনো খেলাধুলায় মগ্ন হয়ে নামাজ মিস হয়েছে - কখনো কখনো কাযা আদায় করতাম, আবার কখনো কাযা আদায় করা হতো না। এখন মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে ঐসব কাযা আদায় করি। আলহামদুলিল্লাহ্ এখন এমন হয় না। কোন দীর্ঘ ভ্রমণ বা কোন যথাযথ ওজরে যদি কোন ওয়াক্ত নামাজ সময় মত আদায় করতে না পারলে, দিনে দিনে কাযা আদায় করে ফেলি।
|