জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
বিয়ের পাত্রী পছন্দের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আন্তিক ও ঈমানের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন,, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নারীদের চারটি গুণ দেখে বিয়ে করো,,১ তার সম্পদ ২ তার বংশ মর্যাদা ৩ তার রূপ সৌন্দর্য ৪ তার দ্বীনদারী,, তবে তিনি আরো বলেছেন দ্বীনদারীকে বেশি প্রাধান্য দিবে নতুবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে জীবন সঙ্গিনীর যে সব গুণাবলী থাকা আমি প্রয়োজন মনে করি তা হলো,,,স্ত্রীকে বলা হয় অর্ধাঙ্গিনী অর্থাৎ স্বামী এবং স্ত্রী দুজন মিলেই সংসার পরিপূর্ণ। বিবাহিত জীবন সুখ ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে দুজনের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ। স্বামীর জীবনেও তাই স্ত্রীর গুরুত্ব অনেক বেশি। স্বামী হিসেবে আমার যদি বিশেষ কোন গুণ থাকে তবে স্ত্রী হিসেবে আপনি সৌভাগ্যবান আর স্ত্রী হিসেবে আপনারও যদি বিশেষ কোন গুণ থাকে তবে স্বামী হিসেবে আমিও সৌভাগ্যবান। তেমনি জেনে নিন আপনার কয়েকটি গুণের কথা :- ঘরের কাজে দক্ষ: দুজন মিলে সংসারে যতই কাজ করি না কেন,মেয়েরা যেমন নিখুঁতভাবে সংসার গুছিয়ে রাখতে পারে ছেলেরা ততটা পারে না।তাই যে সংসারে স্ত্রী গৃহে কর্মে খুব নিপুণ হন সেই সংসারে সুখ শান্তি সমৃদ্ধি বিরাজ করে। সেই স্ত্রী সমাজ ও সংসারে বিশেষ সম্মান লাভ করেন,,সাথে সাথে তার স্বামীর জীবনও হয়ে ওঠে খুশিতে পরিপূর্ণ। মিষ্টিভাষী :কথায় আছে,, মুখের কথা দিয়েই বিশ্বজয় করা যায়।তবে তা হতে হবে ইতিবাচক।যে স্ত্রী সবার সাথে খুব ভালোভাবে কথা বলেন কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেন না,, সবার সাথে মিষ্টি ভাবে কথা বলেন,, তিনি বিশেষ গুণের অধিকারী,, আর তার স্বামী খুবই সৌভাগ্যবান তা বলে দিতে হবে না।। স্বামীর পরিবারকে আপন করে নেয়া :বিয়ে মানেই প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য নতুন একটি পরিবারে আগমন। বিয়ের পর সব মেয়েকেই তার স্বামীর বাড়িতে যেতে হয়। যে স্ত্রী নতুন বাড়িতে এসে নতুন পরিবারকে আপন করে নেন,, নতুন পরিবারের সবকিছুর সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন,, তিনি গুণবতী স্ত্রী,, তাই তার স্বামী সত্যিই ভাগ্যবান।। স্বামীকে শ্রদ্ধা করেন :যে স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা রাখেন এবং তার নির্দেশ মেনে চলেন, তার স্বামী খুবই সৌভাগ্যবান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম নারীদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন অধিকাংশ নারী জাহান্নামি। তাই নারীদের দাম্পত্য জীবনে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক সুন্দর ও নিরাপদ করার অনেক নসিহত পেশ করেছেন।স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক যত উত্তম ও মধুর হবে দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।কোরআন এবং হাদিসের বিবরণ থেকে জানা যায় যে,, উত্তম স্ত্রী হল তারা,, যারা স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে,,, কারণ পরস্পরের প্রতি যথাযথ সম্মানই দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা লাভের উপায়। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা কতটা গাঢ় তার প্রমাণ আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেন,, তারা তোমাদের পোশাক স্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাক স্বরূপ অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর পোশাক স্বরূপ এবং স্ত্রীও স্বামীর পোশাক স্বরুপ। সুতরাং স্ত্রীর উচিত স্বামীর উপস্থিত অনুপস্থিত সর্বাবস্থায় নিজের ইজ্জত আবরুর হেফাজত করা। স্বামীর আনন্দে নিজেকে সম্পৃক্ত করা। হাদিসে পাকে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,উওম স্ত্রী হলো সেই যে যখন তুমি তার দিকে তাকাও তখন সে তোমাকে দেখে আনন্দিত হয়। যখন আদেশ করে তখন অনুগত্য হও আর যখন সে বাহিরে যাবে তখন নিজের ইজ্জত আব্রুর এবং সম্পদ হেফাজত কর।তাছাড়া যে স্ত্রী ইসলামী শরিয়তের হুকুম আহকাম মেনে চলে,স্বামীর অনুগত্য করে, তার খেদমত করে এবং নিজের সতীত্ব রক্ষা করে হাদিসে পাকে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজান মাসের রোজা রাখি, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে;তাকে বলা হবে তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে চাও প্রবেশ কর। আবার যে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে না এবং স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে তার সর্ম্পকে হাদিসে কঠোরভাবে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন তার কোনো নামাজ কবুল হয় না, কোনো নেক আমল ওপরে উঠানো হয় না,, যতক্ষণ স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হবে।।
|