| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৪ সাল থেকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। ৭-১৩ বছর পর্যন্ত মাঝে মাঝে দু-এক ওয়াক্ত বাদ যেতো। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
সাধারণত হয় না। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ। সিফাত আরেকটু ভালোভাবে আয়ত্ত করা প্রয়োজন।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
আমার জানামতে স্থায়ী কোনো অসুস্থতা নেই। তবে কিছু Lifestyle-sensitive সমস্যা আছে। যা ওষুধনির্ভর নয় (প্রয়োজনে বিস্তারিত জানাতে পারি)।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
কবরপূজারীদের আকীদা ইসলামি আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক। সাধারণত আউলিয়া/পীর-বুযুর্গদের কবরকে মানুষ সম্মানার্থে মাজার বলে থাকে। সুন্নাহ অনুযায়ী যেকোনো মুসলিমের কবর জিয়ারত করা অনুমোদিত। কিন্তু সমাজে প্রচলিত মাজার কেন্দ্রিক কার্যক্রমগুলো সুস্পষ্ট শিরক। যেমন: মনোবাসনা পূরনের উদ্দেশ্য মাজারে ভ্রমণ/মান্নত, সমাহিত ব্যক্তির অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাস/তাকে মধ্যস্থতাকারী মনে করা, মোমবাতি জ্বালানো, মাজারে সিজদা করা, মাজারকে পূণ্যভূমি বা তীর্থস্থান মনে করা ইত্যাদি।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
গুনাহ মাফের উপায়, রাহে বেলায়াত, জিহ্বার আপদ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা, চার ইমামের আকীদা, প্রোডাক্টিভ মুসলিম, জীবন উপভোগ করুন, যাদুকর ও জ্যোতিষীর গলায় ধারালো তরবারি, ঈমানের মূলনীতি, মানহাজ, ফিরকায়ে নাজিয়া, শুয়াবুল ঈমান, নারীর জান্নাত লাভের উপায়, অন্তরের রোগ ও আমল, পর্দা একটি ইবাদত।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
ড.খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহি.), আব্দুল্লাহিল হাদী, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ নাসীল শাহরুখ, শায়খ আবু বকর মোহাম্মদ জাকারিয়া, মতিউর রহমান মাদানী সহ আরো অনেক আলেম রয়েছেন।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
পরম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহ আমার সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। অতঃপর আমার ব্যাপারে আমি যতটুকু জানি তার কিছুটা এখানে তুলে ধরছি- আমি ইসলামকে আল্লাহর নির্ধারিত একমাত্র মধ্যমপন্থী এবং পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছি। দুনিয়াবী ব্যাপারে পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী।তাই আমার জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণে হওয়া আবশ্যক মনে করি। শিরক-বিদয়াত বর্জন করে সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করি। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য অল্প হলেও কিছু নফল ইবাদত নিয়মিত করার চেষ্টা করি। মানুষ মাত্রই ভালো দিক ও সীমাবদ্ধতার সমন্বয়। আমিও তার ব্যাতিক্রম নয়। ইসলামী নির্দেশনার আলোকে নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম কারণ মনে করি। আমার দ্বীনি জ্ঞানের পরিধি সীমিত। তবে যতটুকু জানি তা কঠোরভাবে মেনে চলার চেষ্টা করি। নফসের দিক থেকে আমি অনুশোচনাপ্রবণ। হারাম, পাপ ও সন্দেহপূর্ণ বিষয়সমূহ বর্জন আমাকে মানসিক স্বস্তি দেয়। আমার অজ্ঞতা ও উদাসীনতার কারণে হওয়া মানবীয় ভুল বা পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমার আশা রাখি। দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে জানতে, বুঝতে ও তা নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে। যেমন: কুরআন-হাদিস, তাফসীর, সালাফদের লিখিত বই, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও প্যারেন্টিং। ছোটবেলা থেকেই আমি তথ্যনুসন্ধানী, Reflective learner. তথ্যসমৃদ্ধ বই, পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী ইত্যাদি পড়ার ও সংরক্ষণ করার ঝোঁক ছিল। ২০১৫/১৬ সালের দিকে আমার ছোটমামার থেকে পাওয়া সালাফি মানহাজের বইগুলো আমার দৃষ্টিভঙ্গি তথা জীবনবোধ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে এগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত ইসলাম বনাম প্রচলিত ইসলামের স্বরূপ, তাকদীর সম্পর্কিত আকীদা বুঝতে পারি। তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল পরিবারে বড় হওয়ায় এর আগেও নামাজ-রোজা-পর্দা আমার অভ্যাসগত ইবাদত ছিলো। আমি এম্বিভার্ট। একাকিত্ব এবং সামাজিকতা বা মানুষের সঙ্গ Selectively দুইটাই ভালো লাগে। উভয়ক্ষেত্রেই অর্থবহ সময় কাটানোকে গুরুত্ব দিই। কথা ও কাজে স্বচ্ছতা খুবই পছন্দ করি। আমি স্বভাবগতভাবে ধীরস্থির। তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করার চেয়ে ভালোভাবে শেষ করাকে বেশি গুরুত্ব দিই। সবকিছু পরিপাটি রাখতে পছন্দ করি। আমি সহানুভূতিশীল। মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমি গভীরভাবে অনুভব করি। মানুষের মন্দ কথা/কাজ/আচরণের বিপরীতে ভালো কথা/কাজ/আচরণ করার চেষ্টা করি। এমন নয় যে কখনো আমি কষ্ট পাই না, রাগ করি না বা বিরক্ত হই না। তবে যাচ্ছেতাই ভাবে নিজের ইমোশন প্রকাশ করাকে সঠিক মনে করি না। আল্লাহর কাছে নিজ প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে এবং মন্দ মানুষদের থেকে আশ্রয় চাই। পছন্দ-অপছন্দ: এর কারণ হতে পারে আবেগিক, যৌক্তিক, নৈতিক বা ধর্মীয়। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই আমি Value-driven. প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক না হলে আমার সাথে আরেকজনের পছন্দ-অপছন্দের ভিন্নতা তেমন প্রভাব ফেলে না। যেমন: আমি এই রং পছন্দ করি বা এই খাবার আরেকজনের ভিন্ন কিছু পছন্দ। আমি নিজের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক বা ভালো মনে করি, অন্যদেরও সে বৈশিষ্ট্যের জন্য পছন্দ করি। অপছন্দের ক্ষেত্রেও এরকম। কোরআন বুঝে তেলাওয়াত করা/শোনা, দ্বীনি জ্ঞানার্জন, ভালো মানুষের সাহচর্য, মানুষের উপকার করা, রাগদমন, সদাচরণ, ওয়াদা পালন, সত্যবাদিতা, সময়ের সদ্ব্যবহার করা, পরনিন্দা না করা, অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথা/কাজ বর্জন করা ইত্যাদি আমি বিশেষভাবে পছন্দ করি। শখ: নতুন কিছু জানা, কুশি ও সূচি শিল্প, গাছের পরিচর্যা, বিভিন্ন রেসিপি দেখে নিজের মতো সংযোজন বিয়োজন করে নতুন কিছু তৈরি। স্বপ্ন: আদর্শ নারী হওয়া, বায়তুল্লাহ সফর (ইং শা আল্লাহ্)। FAQ: আমার ছোটবোনের কেনো আমার আগে বিয়ে হলো? প্রথমত, বিয়েটা যার যার তাকদীরের সাথে সম্পর্কিত। দ্বিতীয়ত, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে আমি বোনের থেকে ভিন্ন। আমার বোনের জন্য সার্বিক বিবেচনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রস্তাব আসায় পারিবারিক ভাবে আগে ওর বিয়ে হয়েছে। পড়াশোনা, নিজেকে জানা এবং দৃষ্টিভঙ্গি গুছিয়ে নিতে আমি একটু বেশি সময় নিয়েছি। ১৫/১৬ বছর থেকেই আমার বদ্ধমূল ধারণা ছিলো 'স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন'-এটা বিয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তখন থেকেই আমি জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, বিভিন্ন বিষয়ে অভিমত-অনুভূতি ডায়েরীতে লিখতাম। আমার আত্মীয়-প্রতিবেশীরা মনে করেন আমি রাজি না থাকলেও জোরপূর্বক আরো আগে আমাকে বিয়ে দেয়া মা-বাবার দায়িত্ব ছিলো। যদিও হাদিসে কন্যার সম্মতি ও অভিভাবকের অনুমতি উভয়ই বিয়ের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। যাহোক, তারা কেউ আমার মা-বাবার চেয়ে আমাকে ভালো জানেন না। আমার অভিভাবক কখনোই আমাকে পাত্রস্থ করার ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন না। তারা আমার অসম্মতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন যৌক্তিক ও বাস্তবিক কারণেই। [বিস্তারিত লিখে এ প্রসঙ্গ দীর্ঘায়িত করছি না; Nothing to hide] ওয়াল্লাহি! আমি কখনো হারাম রিলেশনশিপে ছিলাম না।নবম শ্রেণি থেকে এ পর্যন্ত আমার অনেক প্রস্তাব এসেছে। তবে কখনোই পাত্রের সামনে বা আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্রের পরিবারের নারী সদস্যদের সামনেও আমার যাওয়া হয়নি। পরিশেষে, আমি যে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছি, দু'আ করতে শিখেছি; আমার পার্থিব জীবনের প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তি উভয়ই নিয়ামত! অতঃপর তাওয়াক্কুল, সবর আর শোকর! আলহামদুলিল্লাহ আ'লা কুল্লি হাল।
|