জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
নিজ আগ্রহে দ্বীন পালনকারী হতে হবে। যিনি জীবনের সব ক্ষেত্রেই ইসলামকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আখিরাত কেন্দ্রিক জীবন যাপন করতে ভালোবাসেন। আল্লাহ ও রসুল (স.)-কে, সবকিছুর থেকে বেশি ভালোবাসেন— এমন কাউকে প্রত্যাশা করি, ইনশাআল্লাহ। নিয়মিত নামাজী হতে হবে। সুন্নাতি দাঁড়ি রাখতে হবে। সুন্নাতি পোশাক পরতে হবে। (বাহিরে গেলে শার্ট-প্যান্ট পরলে সমস্যা নেই; তবে জুব্বা, পাঞ্জাবি-পায়জামা, টুপি, এসব পরলে ভালো হয়।) আর, যেসব পোশাক ও যেসব সাজসজ্জা পুরুষদের জন্য হারাম, তা থেকে বিরত থাকতে হবে। গাইরতবান ও চরিত্রবান হতে হবে। হারাম কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা যাবে না এবং সবসময় নন-মাহরামদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। খুব প্রয়োজন না হলে, নন-মাহরামদের সাথে কথা বলা ও দেখা করা যাবে না। আল্লাহ যতটুকু নিয়ামত দান করেছেন তাতে যেনো সন্তুষ্ট থাকেন। দানশীল ও পরোপকারী মানুষ আমি খুব পছন্দ করি। এবং হিংসুক, বদমেজাজি, গিবতকারী, কৃপণ, লোভী হবেন না; এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করি। আর, কখনোই মদ্যপান ও ধুমপান করা যাবে না। হারাম কোনো কিছুতে আসক্ত হওয়া যাবে না। হিদায়াত পাওয়ার পর থেকে, আল্লাহর রহমতে — নববর্ষ, জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, বিবাহবার্ষিকী, এসব সহ যেসব দিবস ও যেসব উৎসব পালন করা ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ, তা থেকে আমি বিরত থাকি। ইনশাআল্লাহ, আমার জীবনসঙ্গীকেও এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। রাজনীতি ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন বা আছেন, দয়া করে এমন কেউ যোগাযোগ করবেন না। এবং সারাজীবনই এসব থেকে দূরে থাকতে হবে, ইনশাআল্লাহ। 🌸 বিশেষ কিছু কথা : বিয়েতে সব কিছু সুন্নাত তারিকায় করতে হবে। সমাজের কথা চিন্তা করে বিয়েতে এমন কোনো কাজ করা যাবে না যেটা ইসলামের বাহিরে। পাত্র ও পাত্রীর কোনো ছবি আদান প্রদান করা যাবে না। পাত্রীকে দেখার জন্য, পাত্র এবং পাত্রের পরিবারের মহিলারা আসতে হবে। আর, পাত্রের বাবা আসলেও, বিয়ের আগে পাত্রীকে পাত্রের বাবা দেখতে পারবেন না এবং কথাও বলতে পারবেন না। 🌸 যে বিয়েতে খরচ যত কম হয়, সে বিয়ে তত বরকতময় হয়। তাই বিয়েতে অতিরিক্ত খরচ করা যাবে না। বর যাত্রার সময় এতো বেশি মানুষ আসা যাবে না। আর, ওয়ালিমা করা সুন্নাত, তাই সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়ালিমা করতে হবে। পাত্রের সামর্থ্য অনুযায়ী মোহরানা নির্ধারন করতে হবে এবং তা পরিশোধ করতে হবে। যৌতুক নেওয়া হারাম, তাই যৌতুক নেওয়া যাবে না; যৌতুককে ঘৃণা করতে হবে। বিয়েতে গায়ে হলুদ, গান-বাজনা, ফটোশুট, স্টেজ, পার্টি এগুলো করা যাবে না। এসব সহ, বিয়েতে হারাম কোনোকিছু করা যাবে না। বিয়ের দিনও যেনো বউকে কোনো নন-মাহরাম দেখতে না পারেন, সে ব্যবস্তা করতে হবে। আর, কেউ যদি মনে মনে এটা ভেবে রাখেন যে, তার ফ্যামিলির ক্ষেত্রে মাহরাম, নন-মাহরাম এর বিষয়টা ছাড় দিতে বলবেন; তাহলে দয়া করে যোগাযোগ করবেন না। (বায়োডাটা পছন্দ হলে, সর্বাদিক বিবেচনা করে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার উপর ভরসা করে, ইস্তেখারার মাধ্যমে আগাবেন, ইনশাআল্লাহ।)
|