| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জি আলহামদুলিল্লাহ ছোট থেকে নামাজ পড়ি |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
ওজর-আপত্তি ছাড়া কখনো নামাজ কাজা করি না,আলহামদুলিল্লাহ। আর বাকি সব ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে নিয়মিতভাবে আদায় করার চেষ্টা করি এবং সময়মতো আদায় করে থাকি। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জি আলহামদুলিল্লাহ
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
মাঝে মাঝে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু নেয়ামতস্বরূপ শারীরিক কষ্ট এসে যায়—যেমন জ্বর, ঠান্ডা লাগা, কাশি, সর্দি ও এলার্জির সমস্যা—এসব কিছুটা বেশি হয় আমার, তারপরও আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছুর ওপরই আমি সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
মাজার আসলে একটি ভালো ও সম্মানিত বিষয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা মাজারে গিয়ে যেসব কাজ করি, তার অনেকগুলোই সঠিক নয় এবং ইসলামের মূল শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই আমাদের উচিত মাজারকে সম্মান করা, তবে সেখানে গিয়ে কোনো প্রকার ভুল বা শরীয়তবিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকা।শিরক বিদায়াত
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
আলহামদুলিল্লাহ, আমি কওমি মাদরাসার নূরানী থেকে দাওরা হাদিস পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করেছি। এই দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে আমি বোখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিজি শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মেশকাত শরীফ, বায়যাবী শরীফসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও তাফসিরের কিতাব অধ্যয়ন করেছি। পাশাপাশি নাহব-সারফের কিতাব যেমন কাফিয়া, হেদায়াতুন নাহু, নাহবেমীর ইত্যাদিও পড়েছি। সিলেবাসের বাইরেও আল্লাহর ওলী, পীর-বুজুর্গদের লেখা কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া বিভিন্ন লেখকের, যেমন আরিফ আজাদসহ অন্যান্য সমকালীন লেখকদের বই পড়তেও আমি আগ্রহী, যেগুলো থেকে দ্বীন ও জীবনের নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা যায়।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
আল্লামা মামুনুল হক,,, মুফতি মুস্তাকুন্নবীর কাসেমী,,,, মুফতি তকী উসমানী পাকিস্তান,,, মুফতি আব্দুল মালেক,,, মুফতি আনিছুর রহমান আশরাফী,,,, মুফতি নজরুল ইসলাম কাসেমি,,
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। একজন মুসলিম হিসেবে আমার প্রতিটি কাজকর্ম কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক হওয়া একান্ত জরুরি বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই সর্বাবস্থায় আমি চেষ্টা করি আমার জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালনা করতে এবং আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসুল ﷺ-এর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে জীবন গড়ে তুলতে। প্রত্যেক মুমিনের প্রথম ও প্রধান আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা—এটা আমার নিকটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেই কারণে আমি সবসময় চেষ্টা করি হালাল-হারাম মেনে চলার। যে বিষয়গুলো আল্লাহ পাক হালাল করেছেন, সেগুলো মানার চেষ্টা করি, আর যে বিষয়গুলো হারাম করেছেন, সেগুলো থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখার চেষ্টা করি। আমি সর্বদা চেষ্টা করি আল্লাহকে খুশি করতে এবং তাঁর রাসুল ﷺ-এর প্রতিটি সুন্নাহ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ-কে ভালোবাসে, আমি তাদেরও ভালোবাসি এবং তাদেরকে নিজের আপনজন মনে করি—তারা ধনী হোক বা গরিব, কালো হোক বা সাদা, এতে আমার কোনো পার্থক্য নেই। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে, চলতে এবং ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা করি। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তোমাদের নিকট তোমাদের সন্তান, পিতা-মাতা এবং সমস্ত সম্পদের চেয়েও বেশি প্রিয় না হই।” এই হাদিসের আলোকে আমি চেষ্টা করি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ-কে সর্বাধিক ভালোবাসতে। তাই আমি সেই সকল মানুষকেই আপন মনে করি, যাদের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ-এর ভালোবাসা বিদ্যমান। আমার একটি স্বপ্ন হলো—আমি এমন একজন জীবনসঙ্গিনী বেছে নিতে চাই, যাকে পাওয়ার পর আমার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ-এর নিকটবর্তী হওয়া সহজ হবে। যার মাধ্যমে আমার দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনই কল্যাণময় হবে। আমি এমন একজন জীবনসঙ্গিনী চাই, যিনি দ্বীনদার, নেককার এবং আল্লাহওয়ালী ও আবেদা হবেন। তার বাহ্যিক রূপ বা অবস্থান আমার কাছে মুখ্য নয়—সে কালো হোক বা গরিব হোক, তার চেহারা যেমনই হোক, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে আমার জন্য একমাত্র শর্ত হলো, তিনি ১০০% দ্বীনদার হবেন। দ্বীনদারিতা ছাড়া আমি বিয়ে করতে আগ্রহী নই। আমি চাই একটি শান্তিপূর্ণ ও শরিয়তসম্মত পরিবার গড়ে তুলতে। পরিবার নিয়ে হাসিখুশিতে থাকা, শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে জীবন যাপন করা, এবং সুযোগ হলে হালালভাবে ভ্রমণ করা—এগুলো আমার ইচ্ছা। ইনশাআল্লাহ, আমার ইচ্ছা আছে আমার জীবনসঙ্গিনীকে নিয়ে হজ্জ ও উমরাহ করার। আমি চাই, তার দেনমোহর হিসেবে হজ্জ অথবা উমরাহ নির্ধারিত হোক—এই দুইটির মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণ করা হবে। আর যদি তিনি তা করতে না চান, তাহলে হজ্জ বা উমরাহ করতে যে পরিমাণ অর্থ লাগে, তা আমি তাকে বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকব ইনশাআল্লাহ। এরপর সিদ্ধান্ত তার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। আমি সবসময় দ্বীনি পরিবেশ ভালোবাসি এবং শরিয়তের বাইরে কোনো কাজ পছন্দ করি না, বিশেষ করে বেপর্দা চলাফেরা বা অনুচিত আচরণ একদম অপছন্দ করি। যারা বেপর্দা জীবনযাপন করে, তাদের ব্যাপারে আমি দূরে থাকার চেষ্টা করি। আমি বেশি কথা বলা পছন্দ করি না, অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে দূরে থাকি, এবং প্রয়োজন ছাড়া কথা বলি না। চুপচাপ ও শান্তভাবে জীবন যাপন করতে ভালোবাসি। গায়রতহীন মানুষ চাই সে ছেলে হোক বা মেয়ে তাদের প্রতি আমার কোনো আকর্ষণ নেই। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে আমি মানসিক শান্তি অনুভব করি। আমার বিশ্বাস, এই দুনিয়া অস্থায়ী আর আখিরাত চিরস্থায়ী। তাই আমি অস্থায়ী দুনিয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী জীবন যাপন করার চেষ্টা করি, আর বেশি সময় আখিরাতের চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত রাখিএটাই আমাকে শান্তি দেয়।
|