| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জী, আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করি। এর আগে মাঝে মাঝে কিছু ওয়াক্ত ছুটে যেত, বিশেষ করে ফজরের নামাজ। তখন এক-দুই ওয়াক্ত পড়তাম—কিন্তু নিয়মিত ছিলাম না। ২০২৩ সাল থেকে আল্লাহর অশেষ রহমতে ও নিজের চেষ্টা-সাধনার মাধ্যমে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সম্পূর্ণ নিয়মিতভাবে আদায় করছি, ! |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
আলহামদুলিল্লাহ, সারা সপ্তাহে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসাধ্য সময়মতো আদায়ের চেষ্টা করি। কখনো কোনো এক ওয়াক্ত ছুটে গেলে পরবর্তীতে তা কাজা করে নেই। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জি
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
না
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
ইসলামের মূল শিক্ষা হলো তাওহীদ — একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর সঙ্গে কোনো অংশীদার না করা। মাজার বা কবর এক সময় ছিল শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির দাফনের স্থান, যা সম্মানের সাথে দেখা হতো। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকাল অনেক মাজারকে শিরক, বিদআত ও গোমরাহির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে। সেখানে মানুষ দোয়া করে, মানত দেয়, সিজদা করে বা সাহায্য চায়, যা স্পষ্টতই কুরআন ও হাদীসের আলোকে শিরক হিসেবে বিবেচিত। ছোটবেলা থেকেই আলহামদুলিল্লাহ, আমার মাজারের সাথে কোনো সংশ্রব নেই এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দোয়া ও সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করা উচিত — যেমনটি নবী করীম ﷺ ও সাহাবায়ে কিরাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। কবরস্থানে যাওয়া শুধুমাত্র ইবরত গ্রহণ ও দোয়া করার উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত, সেখানে কোনো রকম ইবাদত, তওয়াফ বা মধ্যস্থতার বিশ্বাস রাখা ইসলামবিরোধী।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
আলহামদুলিল্লাহ, দ্বীনি জ্ঞান ও আত্মিক উন্নতির লক্ষ্যে নিয়মিত ইসলামিক বই পড়ার চেষ্টা করি। ইতোমধ্যে আমি তিনটির মতো বই পড়েছি, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 1. আরিফ আজাদের লেখা – যেমন "আলোতে আঁধারে" বা "প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ" সিরিজ, যা আমার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনেছে এবং তাওহীদ ও যুক্তিভিত্তিক বিশ্বাস আরও মজবুত করেছে। 2. Practical Sajid – আধুনিক সময়ের সমস্যার আলোকে দ্বীনি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে, যা বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল রেখে প্রয়োগযোগ্য। 3. এছাড়াও বেশ কিছু নাম না জানা ইসলামিক বই ও পুস্তিকা পড়েছি, যেগুলোর মাধ্যমে বিশ্বাস, ইবাদত, চরিত্র গঠন ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে দ্বীনি দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট হয়েছে।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
মিজানুর রহমান আজহারী, শাইখ আহমাদুল্লাহ
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
শখ ও পছন্দ: গান গাওয়া, লেখা ও কবিতা রচনা, গ্রাফিক ডিজাইন, নিজে রান্না করে খাওয়া, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ভ্রমণ করা আমার অন্যতম শখ। নতুন নতুন স্থান দেখা ও সেখানে সময় কাটানো আমার ভেতরের আনন্দের জায়গা। ইনশাআল্লাহ, বিবাহের পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামিক পরিবেশপূর্ণ সুন্দর জায়গাগুলো ভ্রমণ করার ইচ্ছা রয়েছে। নতুন ও ভিন্ন স্বাদের হালাল খাবার খেতে ভালোবাসি—বিশেষ করে ভ্রমণের সময় নতুন কিছু চেষ্টা করার আলাদা আনন্দ পাই। অপছন্দ: মিথ্যা বলা, অহংকার করা, কাউকে ছোট করে দেখা, ঠকানো বা ঠকে যাওয়া এবং গসিপ—এসব একদমই অপছন্দ। রুচিবোধ: পরিচ্ছন্নতা, শালীনতা ও সরলতায় বিশ্বাস করি। বাহারি চটকদার জিনিসের চেয়ে পরিশীলিত ও মার্জিত সৌন্দর্য আমার রুচির সাথে মেলে। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ, ব্যবহারিক বিনয় ও আন্তরিকতা আমার ব্যক্তিগত রুচির অংশ। আচরণ ও ভাবনা: সবার সঙ্গে সহজভাবে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। মানুষের সঙ্গে ভদ্র ও সুন্দর আচরণ করতে চেষ্টা করি সবসময়। কাউকে হাসতে দেখে আমার মনেও প্রশান্তি আসে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও সম্মান আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বপ্ন: নিজের মেধা ও সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে এমন কিছু গড়ে তোলা, যা আমাকে আত্মনির্ভর করবে, অন্যদের উপকারে আসবে এবং যেখানে দ্বীন ও দুনিয়া—উভয়ই থাকবে ভারসাম্যে। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথেই এগিয়ে যেতে চাই।
|