| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জ্বি, জ্ঞান হওয়ার পর থেকে পড়ার চেষ্টা করেছি। ২০১৩ থেকে। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
সাধারণত কাযা হয় না। কাযা না করার চেষ্টা করি। তবে কাযা হলে সাথে সাথে তা কাযা আদায় করার চেষ্টা করি। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জ্বি। আবারো একজন শিক্ষিকার অধীন হিফজ করতে আবারো শুদ্ধ নাজেরা করছি।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
জানামতে নেই, আলহামদুলিল্লাহ।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
শিরক
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
আমার অল টাইম ফেভারিট আর রাহিকুল মাখতুম, এই বই আমার সংগ্রহে দুইটা আছে। এই বই থেকে আমি একটি সীরাহ প্রতিযোগিতার প্রশ্নও তৈরি করেছিলাম, স্বনামধন্য একটি গ্রুপের জন্য। (রিয়া না হোক)।।।।দ্বিতীয়ত, আকাশের ওপারে আকাশ; তৃতীয়ত, কাশগড় কত না অশ্রুজল।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
মাহমুদ আল হাসানাত হাফিজাহুল্লাহ, শায়খ মোহাম্মাদ হোবলোস, আমাদের দেশের শায়খ আহমাদুল্লাহ-উনার দূরদর্শী কিছু উম্মাহ দরদী কাজের জন্য।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
ছোটবেলা থেকেই পড়ুয়া ছিলাম। ইসলামিক কিংবা নন ইসলামিক যেকোন ধরণের বই পড়েছি। আমার মনে আছে আমি ম্যাক্সিক গোর্কির মা দুই দিনে শেষ করেছিলাম তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়তাম। এখন তো আমার লিস্টে ইসলামিক বইয়ের সমাহার আলহামদুলিল্লাহ। পড়াশোনাতে আমি আমার এলাকায় বিখ্যাত ছিলাম। ইভেন, আমার নামে অনেক মানুষ তাদের মেয়ের নাম রেখেছে। ইউনিয়নের মধ্যে পড়াশোনায় আমার মত মেধাবী নাকি কেউ ছিল না! আমি এসএসসি পাশের পর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে চলে যায়। আমার একাডেমিক রেজাল্ট ও চরিত্র নিয়ে আব্বু অত্যন্ত স্যাটিসফাইড ছিল। সবাই ভাবতো আমি হয়ত প্রথম শ্রেণীর কেউ হব। আত্মীয়-স্বজনরা চেয়েছিল এই মেয়ে সুন্দর ক্যারিয়ার করবে! কিন্তু সহশিক্ষা হারাম হওয়ায় আমি এটা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এত ভালো ছাত্রী যে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে পারে তা কারো কল্পনায়ও আসে নি। কেউ বুঝতেই পারে না যে কেউ শুধু আল্লহর সন্তুষ্টির জন্য সহশিক্ষা ছেড়ে দিতে পারে। স্রেফ আল্লহর জন্য শতকরা ১০০ জনের মধ্যে ১% ও এই চিন্তা করতে পারে তা কেউ ভাবতেই পারে না। সবাই ভাবে, দ্বীনের বুঝ হয়েছে তো কি হয়েছে; দ্বীনও মেনে চলতে হবে+ ক্যারিয়ারও গড়তে হবে। ডাক্তার শামসুল আরেফীন শক্তি ভাইয়ার স্ত্রী শুনেছিলাম আশা ইউনিভার্সিটিতে পড়া অবস্থায় সহশিক্ষা ছেড়ে দিয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে ভাবি, কত লাকি উনার স্ত্রী!! যাইহোক, আমি এইচএসসি দিই কোন প্রস্তুতি ছাড়া। এরপর স্থানীয় একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই, শুধু সামাজিক অবস্থানের কারণে। যেদিন প্রথম ক্লাস করতে যাই, সেদিন আমার কোর্স টিচার বলেছিলেন, "অমুক, তোমাকে আমার অন্য রকম মনে হয়েছে। তোমাকে আমার মেধাবী মনে হয়েছে। ভালো করে পড়ো। তুমি ভালো ক্যারিয়ার দাঁড় করতে পারবা"। কিন্তু টিচাররা জানে না কোন সে গুরাবাহ এসেছে!! এখন শুধু ক্যাম্পাসে পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দিই। আব্বুর ইচ্ছা আমি কিছু করি, অন্তত ফিমেইল পরিবেশে। তাই পরিবার, জাওজ, সন্তানের হক ফাঁকি না দিয়ে তেমন কোন ক্যারিয়ার যদি দাঁড় করাতে হয় করব; অন্যথায় করব না। আমার খুব ইচ্ছে, দ্বীনের দাঈ হওয়ার। আমার স্কিলগুলোকে ইসলামের কল্যাণে ব্যবহার করার। অবসরে বই পড়তে পছন্দ করি, ঘুরতে পছন্দ করি, ছোটদের সাথে খেলতে পছন্দ করি। ব্যায়াম ও এক্সারসাইজ পছন্দ করি। আমার খুবই অপছন্দের কাজ- মিথ্যা বলা, পরনিন্দা করা। অলসতাকে অপছন্দ করি। স্বপ্ন আছে নিজের জাওজকে নিয়ে পবিত্র গৃহ তাওয়াফ করা। এছাড়া আমার এলাকায় ইসলামিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আমি মাশা আল্লাহ, বেশ সুন্দর বক্তব্য দিতে পারি। ইচ্ছে আছে, ভবিষ্যতে এলাকায় এলাকায় ইসলামী সীমার মধ্যে দাওয়াহর কাজ করা। এক্ষেত্রে আমি কখনো আমার জাওজ, আমার সন্তানদের, আমার শ্বশুরালয়ের, আমার আব্বু-আম্মু, ভাই-বোন তথা কারও হক ফাঁকি দিয়ে দ্বীনের কাজ করতে চাই না। আমি দোয়া করি, আমার যেন খুব ফ্রেন্ডলি একজন আত্মার আত্মীয় জীবনসঙ্গী আল্লাহ দেন। আমিন।
|