জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
তিনি হবেন প্রকৃত দ্বীনদার এবং পরিপূর্ণ পর্দাশীল। খোদা ভীরুতায় যে হবে, রাবেয়া বসরির মতো, যার জায়নামাজ কখনো সিজদা থেকে বিরত হবে না। যার হৃদয়টা হবে সাগরের মতো বিস্তৃত, এমন ব্রড মাইন্ডেট, যেখানে থাকবে না, ধনী-গরীব ও উত্তম-অধমের ভেদাভেদ। জীবনে সফলতার পথে যার অনুপ্রেরণা হবে, পাখির সেই দুই ডানার মতো, যা তাকে নিয়ে ছুটে চলে দেশ দেশান্তরে। শেখার মানসিকতা থাকতে হবে, ঐ তৃষ্ণার্ত মরুচারির মতো, ৯৮ লক্ষ্য বর্গ কিলোমিটারের সাহারা মরুভূমির মাঝে, যার পানির মশক্ গত দু’দিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। যার জীবন চারণ হতে হবে গবেষণাধর্মী। অন্যকে অনুসরণ নয়, নিজেকে অনুসরণীয় রূপে গড়ে তোলা। চিন্তাশীলতায় যে হবে, মারিয়াম এসট্রোলাবির মতো, দূর মহাকাশে লুকিয়ে থাকা জ্ঞানকে ছিনিয়ে এনে, মরুভূমে সে সাগর রচনা করবে। ব্যক্তিত্বে হতে হবে, হিমালয়ের মতো অনড়। সততায় যে হবে, ঐ মহিয়সীর মতো, যে ছিদ্দীকে আকবরের ঘর আলোকিত করে এসেছিলো। বিশ্বাস হতে হবে, মিশর ও শাম বিজেতা আমর ইবনে আছ (রা:) এর, সেই মা কবুতরটির মতো, যে জানতো যুদ্ধের তাবুতে বাসা বাঁধলেও, সেখান থেকে তাকে কখনোই উঠিয়ে দেওয়া হবে না। জীবনের অভিযাত্রায় কন্টাকাকীর্ণ পথ, যে পাড়ি দিবে, রেহলা আ'য়েলা আল মুকাদ্দাসা: মারয়াম (আ:) মত, সাগর, মরু, পর্বতরাজি ও যার গতিপথকে থামকে দিতে পারেনি। পৃথিবীর সুখ সমৃদ্ধি যার কাছে হবে, খাদিজার মতো তুচ্ছ। যার মুখনিসৃত জ্যোতির্ময়ে বেজে উঠবে, কুন ফিদ দুনয়া...। তাকে ভ্রমণ পিপাসু হতেই হবে। হতে পারে জীবনের অর্ধেকটাই কেটে যাবে, সাম্রাজ্য থেকে সালতানাতের পথে পথে। তাকে হতে হবে, আমার স্বপ্নের “বোরাক।” কেননা আমার স্বপ্ন এতটাই বড় যে, যদি অন্যের স্বপ্ন সামান্য মিল্কওয়ে গ্যালাক্সি হয়, তাহলে আমার হবে বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সিদের সংগঠন, সুপার ক্লাস্টারের চেয়েও বড়। যে হবে আমার আয়েশা! “যে হবে “প্রশান্ত হৃদয়” নামক সালতানাতের সম্রাজ্ঞী। যার জন্য আবার উঠবে গড়ে, শাহ জাহানের তাজমহল। পরিশেষে আমি তার চক্ষুশীতল কারী হতে চাই, তিনিও আমার চক্ষুশীতল কারী আহালিয়া হবেন।
|