জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
পাত্রীর পরিবার শিক্ষিত হলে ভালো হয়। ইসলামকে মনে ও কাজে ধারন করে মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উন্নত, স্বচ্ছ, ইনসাফপূর্ণ ও "ন্যায়বোধসম্পন্ন" ভদ্র মানসিকতার লোকজন যাতে হয়, হালাল রুজি রোজগার করে। সর্বপ্রথম পাত্রীর উদ্দেশ্যে একটা কথা - "আপনার মা ভালোমন্দ সবসময়ের জন্য আপনাদের ঘরে ঠিক যেমন বৌমা/মেয়ে আশা করেন, আপনিও আমাকে পছন্দ হলে ঠিক তেমন একজন আদর্শবান স্ত্রী হয়ে আমার ঘরে আসতে হবে।" (এই লাইনটা বুঝতে না পারলে বুঝদার কারো সাহায্য নিন) - আল্লাহর বিধান, রসূলের সুন্নাহ সমূহ, ইসলামিক নিয়ম, হালাল হারাম যথাযথভাবে মেনে চলবে, গায়রত/লজ্জা/আত্মরুচিবোধ বজায় রাখবে, এ যুগের ভয়াবহ ফিতনাহ গুলো সম্পর্কে সচেতন হবে, মানুষের মাঝে ধৈর্য সহকারে দ্বীনি পরামর্শ দিবে - স্বামীর অসন্তুষ্টি ও কষ্ট না দেওয়া, অল্পে তুষ্টতা ও শোকরিয়া করার মানসিকতা থাকা, নম্র, ভদ্রতা বজায় রাখা। যেন তার আচার, আদব কায়দায়, ব্যবহারে সারাদিন অফিসের যত চাপই থাকুন না কেন, যেন তাকে পেয়ে মন শীতল হয়ে যায় ইনশাআল্লাহ - কারো খারাপ পরামর্শে সংসার চালানো মেয়ে সংসারের শান্তি নষ্ট করে, স্বামীর সাথে সবকিছু স্বচ্ছ ভাবে আলোচনা করা, বলার মত/সন্দহমূলক বিষয় গোপন না করে সত্যটা বলা, ব্যক্তিগত যেকোনো সমস্যা সহজভাবে আলোচনা করার মানসিকতা থাকা - স্বামীর প্রতি সুধারনা রাখা, অকৃতজ্ঞ না হওয়া, রাগ করলে বেয়াদবি না করে চুপ থাকা, পরে শান্ত হলে বুঝিয়ে বলা, মানসিক অবস্থা ও ভালোমন্দ বোঝার চেষ্টা করা - অবৈধ ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য না করা - স্বামীর বর্তমানে তার অনুমতি ব্যতীত রোজা না রাখা, উত্তম আচরন ও ভালোবাসা সহকারে তার ডাকে সাড়া দেয়া, কথায় গুরুত্ব দেয়া, সুখ-দুঃখে সমব্যাথী হওয়া - স্বামী-স্ত্রীর একান্ত গোপনীয়তা কোথাও প্রকাশ না করা - স্বামীর ঘর ছাড়া অন্য কোথাও পর্দা খিলাফ না করা, তার অনুমতি ব্যতীত কাউকে তার ঘরে ঢুকতে না দেয়া / বাড়ির বাইরে না যাওয়া - বিপদে মনের অন্তঃস্থল থেকে সাহায্য করা, সহজভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা - স্বামীর হক, পছন্দ অপছন্দের দিকে গুরুত্ব দেয়া - মনে পরপুরুষের স্থান না দেয়া, স্বামীকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসা - স্বামীর পরিবারের সদস্যদের নিজের পরিবারের মত আপন করে নেয়া - যেকোনো কঠোর পরিস্থিতিতে প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারন করা। আপনার একটু ধৈর্য, ভালোবাসা হয়েই আবার আপনার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরত আসবে ইনশাআল্লাহ, কারন আল্লাহ ধৈর্যশীলকে পছন্দ করেন - সংসারের দ্বায়িত্বের প্রতি মনযোগী ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া - স্বামী স্ত্রী প্রত্যেকে একে অপরের জন্য, এটা মন থেকে বোঝা, সন্দেহকে আশ্রয় না দেয়া - শর্ট ডিভোর্সড হলে বাচ্চা না থাকা শর্ত 📌 যারা যোগাযোগ করবেন না: - উক্ত বায়োডাটার পাত্রকে পাত্রীর নিজের পছন্দ না, অথচ শুধুমাত্র বাবা-মা/আত্মীয়ের পছন্দে/চাপে/উস্কানিতে করা বিয়েতে সংসারে শান্তি আসে না কখনোই - এমন পাত্রীপক্ষ - উকিল, ব্যারিস্টার, মুহুরী/ক্লার্ক, পুলিশ/বাহিনী, প্রসাশনীয় লোক - বাহিরে কাজ করার নিয়ত আছে এমন পাত্রী - পাবলিক কোনো স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, অথচ সেখানে নিয়মিত উপস্থিতি ছাড়া পড়াশোনা করা যায় না। তারা কীভাবে স্বামীর সাথে নিয়মিত ঘর-সংসার করবেন/সুখে থাকবেন? - নারীবাদীতা, সেক্যুলারিজম, লিবারিজম, সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার, পুজিবাদিতা, যেমন খুশি তেমন পোশাক, নারী স্বাধীনতার ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নামে পশ্চিমাদের যত নোংরামি অনুসরণ, পরপুরুষের সাথে ফ্রী মিক্সিং, প্রাণপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, টিকটিক, টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, অশ্লীলতা), রিলস, ইউটিউব, চ্যাটিংয়ে পড়ে থাকা - সিহর, বান, যাদু টোনা, গনক দিয়ে ভাগ্যগননা, জ্বীন দিয়ে ক্ষতি, তন্ত্র মন্ত্র, মানুষ বশীকরন নিয়ে থাকা - অলসতা থাকা [অলস ছেলেকে যেমন মেয়েরা পছন্দ করে না, তেমনি অলস মেয়েকেও ছেলেরা পছন্দ করে না, অলসতা মুমিনের শত্রু] - লোক দেখানো পর্দানশীল! পর্দা করে সে পাপে আসক্ত - এমন মেয়ে - শশুর বাড়িকে পর করে দেখা, তাদের নামে অহেতুক মিথ্যা নালিশ/বিচার দিয়ে ঝামেলা বাধানো মানসিকতার মেয়ে। - সত্য যাচাই না করে সন্দেহ/অবিশ্বাস করা, গীবত/চোগলখোরী, হিংসা-অহঙ্কার থাকা ও বদরাগী/চেঁচামেচি করা স্বভাবের মেয়ে - সংসার জীবন সম্পর্কে ভালো-মন্দ কোনোকিছু না জানা মেয়ে - অন্যের খারাপ পরামর্শে নিজের সংসার চালাবে এমন মানসিকতার মেয়ে - অতীতের অবৈধ ইতিহাস (রিলেশনে/সমকামীতায় লিপ্ত) আছে অথবা যেকোনো বদভ্যাস ও মাদকাসক্ত এমন মেয়ে - পরিবার/আত্মীয়ের মধ্যে অথবা প্রতিবেশীর মধ্যে ডিভোর্স হয়েছে এমন পাত্রী এখনকার সময়ে মেয়ের অভাব নেই এটা সত্যি, কিন্তু একটা ভালো পরিবার সহকারে উত্তম স্ত্রী পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে গেছে। উপরিউক্ত শর্তগুলো এজন্যই দেয়া যেন জীবনে ঝামেলামুক্ত, অবশ্যই ভালো পরিবার ও ভালো একজন স্ত্রী আসুক। আল্লাহ উত্তম পরিবার ও জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দিন, আমিন। 🕯️বিশেষ নোট: একটা দেশে, সমাজে ভালো-মন্দ সবধরনের মানুষ থাকে। নবী আদম (আ:) এর সময় থেকেই ভালোমন্দ চলে আসছে। প্রতিদিন নিউজ শুনতে গেলে প্রায় সব দেশে/এলাকাতেই অপরাধ ও দুঃসংবাদ শোনা যায়। সব এলাকাতেই ডিভোর্স, অপরাধ, ভেজাল, ফিতনাহ, ধর্ষণ, লুটপাট হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেশকিছু মানুষ বুঝতে ভুল করে শুধুমাত্র কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল, চাঁদপুর ইত্যাদি জেলার মানুষকে দোষারোপ করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা কি ইনসাফ হলো? এভাবে ভাবলে শুধুমাত্র "জান্নাত" এমন স্থান যেখানে সবাই ভালো মানুষ হবে! জন্মস্থান আল্লাহ ঠিক করেন, সেখানে কি মানুষের হাত আছে? সৌদি আরব তো হজ্বের স্থান, এখন তার কি হালত হয়েছে দেখেছেন? তাই কি বলবো যে সৌদি আরব খারাপ, সেখানে বিয়ে করা যাবে না! ইজ*রাইলে খারাপ মানুষ অনেক, অথচ সেখানের মুসলিমরা দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ। সব এলাকাতেই ভালো মন্দ আছে, নাহলে শুধু অপরাধপ্রবণ এলাকাতে প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা থাকতো। স্থান কখনো একটা মানুষের মানদণ্ড হতে পারে না। আমরা মুসলিম, আমাদের একতা প্রয়োজন, আল্লাহ বলেছেন তোমরা মুসলিমরা এক হৃৎপিণ্ড, একে অপরের ভাই। তাই, এলাকা/গোত্র নিয়ে দলাদলি আমাদের কাম্য নয়। আমার মতে - "জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো"। ছোটবেলা থেকে সর্বস্থানে নিজের কাজ, একাগ্রতা ও ব্যবহার দ্বারা মানুষের কাছে সম্মানিত হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। যাই হোক, ভেবে দেখবেন। স্থান/গোত্রের অজ্ঞতা থেকে আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। ✅ আল্লাহর মেহেরবানীতে বায়োডাটা পছন্দ হলে ও সবকিছু মিলে গেলে, শুধু পছন্দের লিষ্টে না রেখে দিয়ে ইস্তেখারা করে যোগাযোগ করার আমন্ত্রণ ও শুভকামনা রইলো, কারন পছন্দের লিষ্টে ফেলে রাখার চেয়ে বিয়ের দিকে আগানোর চেষ্টা করা উত্তম। মাগরিবের পর - রাত ১০ টা ফোন দিলে ভালো হয়
|