| জেলা |
যেহেতু আমি ঢাকায় বড় হয়েছি, মেয়েও ঢাকার অস্থায়ী হলেই ভালো। এতে উভয়ের কালচারাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ মিল থাকবে। তবে তার পৈতৃক ভিটা এসব জেলার হলে ভালো। রাজবাড়ী, যশোর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, খুলনা,গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, গাজিপুর,
|
জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
মেয়ের পরিবার সুন্নাহর অনুসারী হতে হবে। তাবলিগী মাইন্ডসেটের হলে ভালো। আলেম না হলেও চলবে। মেয়ের যেসকল আত্মীয়দের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়, তাদের সকলের দ্বীনি মেন্টালিটির হওয়া বাধ্যতামুলক। মেয়ের মা কেও পরিপূর্ণ পর্দানশীন হতে হবে। অবশ্যই কুরআনের হাফেজা হওয়ার পাশাপাশি দ্বীনের ফরজ পরিমাণ জ্ঞান থাকতে হবে। যাতে নিজে শরিয়ার উপর থাকার পাশাপাশি নিজের হুকুক ও জিম্মাদারি সম্পর্কে অবগত থাকে। সন্তানকেও সেভাবে গড়ে তুলতে পারে। একজন সুমিষ্ট তেলাওয়াতকারিনী কুরআনের পাখি আমার ঘরে আসলে ঘরটা যেন কুরআনময় ওঠে। সবসময় জিকির ও তেলাওয়াতের উপর থাকলে জিন-শয়তান বাড়ির আশেপাশে আসতে পারবেনা। বাচ্চারা তাদের আন্টির কাছ থেকে কুরআনি সবক পাবে। মা, খালা, চাচিরা তাদের হাফিজা আম্মার কাছ থেকে কুরানের দরস নিবে। তাকে পর্দানশীন আনুগত্যশীল ও ধার্মিক, বিনয়ী ও কর্মঠ, গৃহস্থালি কাজে পারদর্শী ও দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি গোছালো প্রকৃতির হতে হবে। দাওয়াতি চিন্তাধারা থাকতে হবে। মহিলাদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত কুসংস্কার দূর করে তাদেরকে সঠিক দ্বীন চেনানোর ফিকির থাকতে হবে। কম্পিউটার বা এন্ড্রয়েড চালানো নিয়ে আপত্তি নেই। তবে....,,, অহেতুক সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং,টিকটক, রিলস্, শর্ট ভিডিও, নাটক, সিনেমা, গান, হালের ফ্যাশন ট্রেন্ড, বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর গ্রুপে আড্ডা দেয়া ইত্যাদি থেকে একশ হাত দূরে থাকতে হবে। এমনিতে ফটোগ্রাফি, এডিটিং, অনলাইনে দাওয়াহ মুলক লেখালেখি, নাশিদ শ্রবণ, সৃজনশীল বিভিন্ন কাজ শেখা যেমন: ক্যালিগ্রাফি,ড্রয়িং, রান্না, শেলাই জাতীয় কাজ ইত্যাদি তে সমস্যা নেই। ইসলাম মানে কেবল সালাত সিয়াম নয়, ইসলাম হচ্ছে একটা সফল জীবনের পুরো কমপ্লিট প্যাকেজ। একজন মুমিনা কখনোই হিসাব বিহীন একটা সেকেন্ড ও নষ্ট করতে পারেনা। গল্প আর আড্ডায় ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করতে পারেনা। কিন্তু দ্বীন প্রচারের জন্য হাজারটা কথা বললেও তার ক্লান্তি আসবে না। সে বলার এবং শোনার জন্য পুরো দমে প্রস্তুত থাকবে। আগামীকাল কী করবে তা আগের রাতেই পরিকল্পনা করার এবং সারাদিন যা যা করেছে তা রাতের বেলায় মুহাসাবা করার, এককথায় লেখালেখির অভ্যাস থাকতে হবে। অবশ্যই রুটিন ও ডিসিপ্লিন মেইনটেইন এ অভ্যস্ত থাকতে হবে। আরবি ও ইংরেজি ও ঊর্দূতে (চলনসই)পারদর্শী হতে হবে। বইপ্রেমী হলে ভালো, তবে উপন্যাস প্রেমী নয়। অবশ্যই সুস্থ সাহিত্য, ও দাওয়াহ্ সংস্কার মুলক বই পাঠে আগ্রহী হতে হবে। দারিদ্র্যতা কে আলিঙ্গন করে বাঁচার ধৈর্য্য থাকতে হবে। অন্যকে দামি উপহার বিলিয়ে দেয়ার মতো মনস্তাত্ত্বিক আভিজাত্য থাকতে হবে। মোটকথা সুস্থ রুচিবোধের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি সিচুয়েশন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এগুলো কোনো লিস্ট বা ফিরিস্তি নয়। একজন প্রকৃত মুমিনার মাঝে এই গুণগুলো আগে থেকেই থাকে। বরং আরো বেশিই থাকে। তার চেয়ে বড় বিষয় একজন দাঈর স্ত্রী হতে হলে খাদিজা রা. এর মতো বন্ধু, আর আয়েশা রা. এর মতো প্রেমিকা হতে হয়। আমি একজনের মধ্যে সবগুলো গুণ পেয়ে যাবো সেটা কোনোদিন সম্ভব নয়। আবার আমার মধ্যেই পৃথিবীর সব সফল পুরুষের কম্বো প্যাকেজ লুকিয়ে আছে সেটাও বাস্তব নয়। তাই এরমধ্যে সবদিক মিলিয়ে সর্বোচ্চ যতটুকু পাবো, মোটামুটি ৬০% হলেও চলবে। আমি বিশ্বাস করি, মেয়েদের তিনটি দিক থেকে এগিয়ে থাকতে হয়। ১।সৌন্দর্য, ২।তাকওয়া, ৩।লজ্জা, আর তিনটি বিষয় কম থাকলেও চলে, ১। সম্পদ/ অর্থনৈতিক অবস্থান, ২।পার্থিব জ্ঞান/শিক্ষাগত ডিগ্রি, ৩। বয়স এবং উচ্চতা। এই প্যারামিটারে আমার জীবনে কেউ আসলে আলহামদুলিল্লাহ!! রবের কাছে নিয়মিত দোয়া করে যাচ্ছি, এমন একটি ঝিনুক আবৃত মুক্তাদানা পাওয়ার জন্য। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।
|