| অভিভাবক আপনার বিয়েতে রাজি কি না? |
হ্যা
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে পর্দায় রাখতে পারবেন? |
জী, ইনশাআল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ, পর্দা করা ফরজ এবং স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে পর্দায় রাখা আমার উপর শরয়ী দায়িত্ব। আমাদের পরিবারে আলহামদুলিল্লাহ পর্দার পরিবেশ আছে। আমার মা পর্দা করেন। বিয়ের পর আমার স্ত্রীকে আমি সর্বাবস্থায় শরয়ী পর্দা (নিকাব-সহ পরিপূর্ণ হিজাব) মেনে চলার ব্যবস্থা করে দিব ইনশাআল্লাহ। বাজার-ঘাট, আত্মীয়-স্বজনের বাসা বা যে কোনো গাইরে মাহরাম পরিবেশে তাকে পর্দার সাথে নিয়ে যাব। এবং ঘরের ভিতরেও নন-মাহরাম আত্মীয় থেকে পর্দা রক্ষার ব্যবস্থা করব। আমি বিশ্বাস করি, স্ত্রীর ইজ্জত-সম্মান রক্ষা করা স্বামীর গাইরতের অংশ। আল্লাহ যেন আমাকে এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার তাওফিক দান করেন। আমিন।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে পড়াশোনা করতে দিতে চান? |
জী, ইনশাআল্লাহ। আমি চাই আমার স্ত্রী দীনি ইলম অর্জন করুক। কারণ নবীজী বলেছেন, "ইলম তলব করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ।” তবে সে পড়াশোনা হবে *শুধুমাত্র কুরআন, হাদিস, ফিকহ, আকিদা ইত্যাদি দীনি বিষয়ে। দুনিয়াবি শিক্ষা, কলেজ-ভার্সিটি বা চাকরির উদ্দেশ্যে পড়াশোনা আমার পছন্দ নয়। শর্ত: পড়াশোনা হতে হবে সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দা (নিকাব-সহ), মাহরামের উপস্থিতিতে অথবা সম্পূর্ণ মহিলা মাদরাসায়, ফিতনামুক্ত পরিবেশে। বেপর্দা হয়ে বা গাইরে মাহরাম পুরুষের সামনে পড়াশোনা করতে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে চাকরী করতে দিতে চান? |
না, ইনশাআল্লাহ। আমি আমার স্ত্রীকে চাকরি করতে দিতে চাই না। কারণ: আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন: আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করো। (সূরা আহযাব: ৩৩)। স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর ভরণপোষণ করা, আর স্ত্রীর দায়িত্ব হলো ঘর সামলানো ও সন্তান প্রতিপালন করা। এটাই আল্লাহর দেওয়া ফিতরাত। চাকরির জন্য বাইরে গেলে পর্দা নষ্ট হয়, গাইরে মাহরামের সাথে উঠাবসা করতে হয়, সন্তান মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হয় এবং সংসারে বরকত কমে যায়। আমি চাই না আমার স্ত্রী দুনিয়ার জন্য আখিরাত বরবাদ করুক। তবে: যদি সে ঘরে বসে পরিপূর্ণ পর্দার সাথে হস্তশিল্পের মতো কোনো কাজ করতে চায় যাতে বাইরে যেতে না হয়, পর্দা নষ্ট না হয় এবং সংসারে ক্ষতি না হয় তাহলে মাসওয়ারা করে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে ইনশাআল্লাহ। আমার মূল উদ্দেশ্য হলো তার ইজ্জত, পর্দা ও আখিরাত হেফাজত করা।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে কোথায় নিয়ে থাকবেন? |
বিয়ের পর স্ত্রীকে নিজ পরিবারে রেখে পারিবারিকভাবে যত্ন ও সম্মানের সাথে বসবাসের ইচ্ছা রয়েছে।
|
| আপনি বা আপনার পরিবার পাত্রীপক্ষের কাছে কোনো উপহার আশা করবেন কি না? |
আস্তাগফিরুল্লাহ! আমার গাইরতে বাধে যে আমি আমার শ্বশুরের কাছ থেকে ভিক্ষা নিব।
|
| কেন বিয়ে করছেন? বিয়ে সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? |
রাসূল বলেছেন, "বিয়ে আমার সুন্নাহ। যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।” আমি বিয়ে করতে চাচ্ছি মূলত ৪টি কারণে: ১. ঈমানের হেফাজত: নিজের চরিত্র ও দৃষ্টিকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে অর্ধেক দীন পূর্ণ করা। ২. সুন্নাহ পালন: রাসূল এর সুন্নাহ জিন্দা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ৩. দীনের সহযোগী: এমন একজন সফরসঙ্গী পাওয়া যিনি আমাকে তাহাজ্জুদে জাগাবেন, গুনাহ থেকে বাঁচাবেন, আর জান্নাতের পথে একসাথে চলবেন। ৪. নেক সন্তান: এমন সন্তান চাই যারা আমার জন্য সদকায়ে জারিয়া হবে এবং উম্মতের খেদমত করবে ইনশাআল্লাহ। দাম্পত্য জীবন নিয়ে আমার চিন্তা: আমি বিশ্বাস করি, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পোশাক। আমার স্ত্রী আমার দীনের অর্ধেক, আমার দুনিয়ার শান্তি এবং আখিরাতের সঙ্গী। সংসার মানে শুধু ভাত-কাপড় না, বরং দুজন মিলে আল্লাহর ইবাদত করা, সবরের সাথে অভাব মোকাবেলা করা, আর হালাল রিজিকের উপর শোকর করে জান্নাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আমি চাই আমাদের ঘরটা যেন ছোট্ট একটা মাদরাসা হয়, যেখানে কুরআন-হাদিসের আলো থাকবে।
|