| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
(بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيم) (হে সম্মানিতা—আপনার উপর আল্লাহ তা’আলার রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক) 🌿 নিজ সম্পর্কে কিছু কথা : মানুষের জীবনে কিছু নীরব মূল্যবোধ থাকে, যা প্রকাশ না পেলেও ভেতর থেকে তাকে গড়ে তোলে—আমার জন্য “গায়রত” ঠিক তেমনই একটি অনুভূতি। এটি শুধু একটি শব্দ নয়, বরং আমার দৃষ্টিভঙ্গি, আমার সীমারেখা, আমার আত্মসম্মানের একটি অংশ। আলহামদুলিল্লাহ, হালাল উপার্জনের প্রতি সবসময়ই সতর্ক থাকার চেষ্টা করি। একটি পবিত্র জীবনের ভিত্তি শুরু হয় হালাল রিযিক থেকে। এই জায়গাটায় কখনো আপস করতে চাই না। জীবনকে আমি খুব বেশি জটিল করে দেখতে শিখিনি। সাদামাটা থাকা, সরলভাবে চলা—এই জিনিসগুলোতেই যেন এক ধরনের প্রশান্তি খুঁজে পাই। কোলাহলপূর্ণ ভিড়ের মাঝেও আমার মন খোঁজে নিরবতার একটা কোণ, যেখানে নিজের সাথে নিজের কথা বলা যায়, নিজের হিসাবটা নিজের কাছে দেওয়া যায়। আপন মানুষদের সাথে সময় কাটানো, মন খুলে কথা বলা—এসব আমার কাছে দামী কোনো সম্পদের চেয়ে কম নয়। আবার কখনো কখনো সবকিছু থেকে দূরে সরে গিয়ে, গ্রামের খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের ছোট্ট অস্তিত্বটাকে অনুভব করতেও ভালো লাগে। কারো উপকার করতে পারলে অন্তরে এক ধরনের নীরব আনন্দ কাজ করে। তবে মানুষের কাছে কোনো প্রত্যাশা রাখি না—কারণ আমি দেখেছি, প্রত্যাশা যত কম হয়, তত কম ভাঙতে হয়। রাগ আমার খুব কমই হয়। তবে কখনো যদি হয়ে যায়—তখন সেটা গভীর হয়। তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। কারো কোনো কিছু ভালো না লাগলে সরাসরি কষ্ট দেওয়ার মতো করে বলার অভ্যাস নেই—চুপ করে থাকা বা এড়িয়ে যাওয়াকেই সহজ মনে হয়। কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে অলসতা এসে ভর করে—তবে এটাও জীবনেরই একটা অংশ মনে করি। বই পড়ার অভ্যাস আগে খুব একটা ছিল না, কিন্তু এখন ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ছোটবেলা থেকেই শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে সচেতন। শরীরচর্চা আমার কাছে শুধু অভ্যাস নয়, বরং একটা শৃঙ্খলা। খাবারের ব্যাপারেও সচেতন থাকার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে মনে হয়—নিজের খাবার নিজেই উৎপাদন করে খেতে পারলে কেমন হতো! একটা ছোট্ট বাগানবাড়ির স্বপ্ন দেখি—যেখানে দুনিয়ার কোলাহল কম, আর শান্তি একটু বেশি। ইনশাআল্লাহ, যদি আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দেন… 🌱 🎓 শৈশব, কৈশোর ও পড়াশোনা : আমার বেড়ে ওঠা এমন এক পরিবেশে, যেখানে ইসলাম ছিল—কিন্তু তার গভীরতা ছিল না। নামাজ, রোজা—এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল বেশিরভাগের ধারণা। ছোটবেলায় মক্তবে কুরআন পড়া শিখেছি, কিছু বেসিক সুরাকিরআতও। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত স্কুল তারপর মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর ভেবেছিলাম—হয়তো এখানেই দ্বীনের স্বাদ পাবো। কিন্তু গ্রামের এই মাদ্রাসার অবস্থা প্রকৃতঅর্থে স্কুলের চেয়েও যেন বাজে ছিল। ছেলেমেয়ে ফ্রি মিক্সিং, চিঠি আদান প্রদান, পরীক্ষায় নকল করা সহ এমন অবস্থা ছিল যে এখান থেকে ভাগার জন্য ফাইভে বৃত্তি পাওয়া ছেলেটার অসহায় হয়ে শেষমেশ ফেল করতে হয়েছে যেনো ফেল এর খবর শুনে বাবা মা অন্য কোথাও ভর্তি করায়। এবং সেটাই হল। বড় ভাই ঢাকায় নিয়ে এসে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। ঢাকায় এসে নতুনভাবে শুরু—বয়েজ স্কুল, বয়েজ কলেজ, আর একজন ভালো বন্ধুর সঙ্গ—এই তিনটি জিনিস আমাকে দুনিয়াবি গুনাহ থেকে অনেকখানি হেফাজত করেছে। ইন্টার শেষ করে ডিফেন্সে (আর্মি) যাওয়ার স্বপ্নে ভার্সিটি এডমিশনের পড়াশোনা একবারে ছেড়ে দিয়েছিলাম—কিন্তু আল্লাহ যা চান, সেটাই হয়। সেই পথে আর যাওয়া হয়নি এবং পাব্লিক ভার্সিটির কোথাও চান্স হয় নি। ইন্টারমিডিয়েটের পর জীবনের বাস্তবতার সাথে পরিচয় আরও গভীর হয়। টিউশন করানো, কোচিংয়ে পড়ানো—এর মধ্যেই নিজের একটা পথ খুঁজে নিচ্ছিলাম। ২০১৯ সালে প্রাইভেট ভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হই। একই সাথে ব্যবসা শুরু করি—আর সেই ব্যবসাই ধীরে ধীরে আমাকে পুরোপুরি টেনে নেয়। 4th ইয়ারে উঠে পড়াশোনাটা আর শেষ করা হয়ে ওঠেনি—এটা হয়তো জীবনের একটা অপূর্ণ অধ্যায়, তবে আফসোস করে থেমে থাকতে চাই না। 🕌 দ্বীন ও আমার পথচলা : জীবনের কিছু মুহূর্ত থাকে, যা মানুষের ভেতরটা বদলে দেয়—আমার জন্য তেমনই একটি মুহূর্ত ছিল একটি সাধারণ প্রশ্ন। ২০১৯ এ একজন শিক্ষার্থীর মুখে শোনা— “স্যার, আপনার বিহ্যাভিয়ার এবং জিবনবোধ সবি ভালো —তবে নামাজ পড়েন না কেন?” এই কথাটা যেন অন্তরে গিয়ে লেগেছিল। সেই দিনটাই ছিল ফিরে আসার শুরু। এরপর করোনার সময়—যেখানে অনেকেই ভেঙে পড়েছিল, সেখানে আমার জীবনে সেটাই ছিল এক অদ্ভুত রহমত। দুনিয়াবি দিক থেকে কঠিন সময় গেলেও, সেই নিঃসঙ্গতাই আমাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নিয়েছিল। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে দ্বীনকে জানা, বোঝা, অনুভব করা শুরু। তবে এই পথ একেবারে সোজা ছিল না। মাঝে মাঝে হোঁচট খেয়েছি, কখনো দুর্বল হয়েছি। নামাজে গাফিলতি, কিছু ভুল সিদ্ধান্ত—সবই ছিল এই যাত্রার অংশ। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আজ অন্তত এটুকু বুঝি—এই পথই জীবনের অন্তিম গন্তব্য - আর এই পথেই থাকতে চাই। এখন লক্ষ্য একটাই—দ্বীনের ইলম অর্জন করা, নিজের জীবনকে তার আলোকে সাজানো, এবং যতটুকু সম্ভব এই পথে এগিয়ে যাওয়া।
|