| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
বুঝ হওয়ার আগেই পরিবার আমাকে নামাজে অভ্যস্ত করে তোলে। আর যখন বুঝ জেগেছে, তখন থেকে নিজ দায়িত্বেই নিয়মিত ও সতর্কতার সঙ্গে সালাত আদায় করার চেষ্টা করি। নামাজ এখন কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে অন্তরের প্রশান্তি, জীবনের ভারসাম্য, আর আল্লাহর সঙ্গে সংযোগের এক মহা সৌন্দর্য। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
আলহামদুলিল্লাহ, সালাতের প্রতি সবসময় যত্নবান থাকার চেষ্টা করি। সাধারণত কখনো নামাজ কাযা হয় না। তবে খুব বিরল কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যেমন সফর, অসুস্থতা ও অনিয়ন্ত্রিত সময়সূচির কারণে মাঝেমধ্যে কাযা হয়ে যায়। তবুও আল্লাহর উপর ভরসা রেখে চেষ্টা করি সবসময়ই সময়মতো নামাজ আদায় করতে। আলহামদুলিল্লাহ, সালাতের গুরুত্ব ও নিয়ম মেনে চলার তাওফিক দিয়েছেন রব্বুল আলামীন। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
আলহামদুলিল্লাহ, কুরআন তিলাওয়াতে শুদ্ধ ভাবে পড়তে পারি। তাছাড়া কুরআনের কিছু অংশ হিফজ করার তাওফিকও আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
আমার চোখে হাইপো সমস্যা থাকায় দূরের জিনিস দেখতে কিছুটা অসুবিধা হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত চশমা ব্যবহার করি। এ ছাড়া শারীরিকভাবে আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালোই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
মাজার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসলামে মৃত্যুপরবর্তী কাউকে কেন্দ্র করে ইবাদত করা, দোয়া চাওয়া, মানত করা কিংবা সেজদা দেওয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এসব কাজ রাসূল ﷺ ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে ছিল না; বরং পরবর্তীকালে নতুনভাবে চালু হয়েছে। অনেক মানুষ মাজারে গিয়ে সন্তান, চাকরি, রোগমুক্তি ইত্যাদি প্রার্থনা করে, যা একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করার কথা ছিল। সুতরাং, মাজারে গিয়ে কিছু চাওয়া বা সেজদা করা স্পষ্ট শিরক ও বিদআত যা ইসলামের মৌলিক আকীদার পরিপন্থী।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
আল কুরআন, আকিদাতুদ ত্বহাবী, ঈমান কুফর ও তাকফীর।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
মুফতি ত্বাকি উসমানি, মুফতি আব্দুল মালেক, আবু তাহের মিসবাহ (আদিব হুজুর)
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আমার শখ মূলত চিন্তাভিত্তিক। নিরিবিলি পরিবেশে বসে কিছু ভাবতে ভালো লাগে, বিশ্ব, জীবন, মৃত্যু, সম্পর্ক কিংবা নিজের অবস্থান নিয়ে। মাঝে মাঝে একটা হাদীস, একটি আয়াত বা জীবনের কোনো ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা আমাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। তখন মনে হয়, এসব বিষয়ে কিছু লিখে ফেলি নিজের অনুভবকে ধরে রাখি, কিংবা কারও হৃদয়ে আলো জ্বালাই। আমি এমন লেখা ভালোবাসি, যেগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। শব্দে থাকে গভীরতা, বাক্যে থাকে বাস্তবতা, আর চিন্তায় থাকে দ্বীনি ভাবনা। ইসলামী দাওয়াতি কাজ, সত্যকে ছড়িয়ে দেওয়া, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এসবের মধ্যেই আমি তৃপ্তি খুঁজি। জীবনের সাধারণ ঘটনাগুলোর মাঝেও আমি চেষ্টা করি গভীর কিছু উপলব্ধি করতে। আমার পছন্দ সহজ-সরল জিনিস, খাঁটি হৃদয় আর বিনয়ী আচরণ। আমি শ্রদ্ধা করি সেই মানুষদের, যারা কম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন, অহংকার মুক্ত জীবন যাপন করেন, এবং যাঁদের কথায় ও কাজে আন্তরিকতার ছাপ থাকে। অন্যদিকে, কৃত্রিমতা, বাহ্যিকতা আর লোক দেখানোর প্রবণতা আমাকে দূরে ঠেলে দেয়। এমন কিছু যা অন্তরের গভীরতা থেকে আসে না তা আমার কাছে মূল্যহীন। রুচির দিক থেকেও আমি বাইরের চাকচিক্যের চেয়ে ভেতরের সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দিই। পোশাকে সুন্নাহর অনুসরণ, কথায় নম্রতা, আচরণে দয়া এসব বিষয় আমার কাছে সত্যিকারের ভদ্রতা ও সৌন্দর্যের পরিচয় বহন করে। স্বপ্ন খুব বড় কিছু না হলেও, গভীর। আমি চাই আল্লাহ যেন আমাকে এমন কিছু কাজের তাওফিক দেন, যা মানুষের চোখে হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু তাঁর কাছে তা হবে প্রিয়। আমি চাই দীনকে কেন্দ্র করে একটি সুশৃঙ্খল ও কল্যাণময় পরিবেশ গড়ে তুলতে, যেখানে ইলম, দাওয়াহ ও মানবসেবা একসাথে চলতে পারে। এইসব ভাবনা নিয়েই আমি বেঁচে আছি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য রেখে, এবং অন্তরকে সচেষ্ট রাখছি যেন সে পথ থেকে বিচ্যুত না হই।
|