জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
🌿 প্রত্যাশিত জীবনসঙ্গী আমি এমন একজন দ্বীনদার, নম্র, পর্দাশীল এবং উত্তম চরিত্রের জীবনসঙ্গী কামনা করি, যিনি আল্লাহকে ভালোবাসেন এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করেন। তার মধ্যে নিম্নোক্ত গুণাবলী থাকলে ভালো লাগবে— ✅ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী ✅ পর্দার প্রতি যত্নশীল ✅ নম্র, ধৈর্যশীল ও ভদ্র স্বভাবের ✅ পরিবারকে সম্মান করেন ✅ ইসলামী মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেন ✅ পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ায় বিশ্বাসী শিক্ষাগতভাবে অন্তত HSC বা সমমান উত্তীর্ণ হলে ভালো হয়। তবে আমার কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে দ্বীনদারিতা, চরিত্র এবং আখলাক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 🤲 দুআ “হে আল্লাহ! আমাকে একজন উত্তম, দ্বীনদার জীবনসঙ্গিনী দান করুন।” رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ✍️"হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যদি কোন নারী যথাসময়ে 🥀১.পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, 🥀২. রমজান মাসের রোজা পালন করে, 🥀৩.নিজের লজ্জা স্থানের হেফাজত করে এবং - 🥀৪.স্বামীর আনুগত্য করে, তবে সেই নারীকে (কেয়ামতের দিন) বলা হবে-'তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ কর সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমাদ-১৬৬১, মিশকাত ২৮০পৃ:) ✍️৫.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: সমগ্র দুনিয়াই উপভোগ্য সম্পদ। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হলো পূণ্যবতি স্ত্রী।🥀(মুসলিম-৩৭১৬,৩৫৩৫) 🤲"হে আল্লাহ আপনি আমাকে এই উত্তম সম্পদ দান করুন! "রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাও ওয়াফিল আখিরতি হাসানাও ওকিনা আজাবাননা"🤲 এমন জীবনসঙ্গী আমি চাই এবং খাস পর্দা মেনে চলতে হবে মাহারাম মেনে চলতে হবে, কারো সাথে দেখা দেওয়া যাবে না,, মা-বাবার সাথে খারাপ আচার আচরণ করবে না বাসার যতটুকু কাজ করার দরকার ঠিক ততটুকু করার চেষ্টা করবেন,, ইনশাআল্লাহ এবং আমার আম্মুকে নিজের আম্মুর মতন খেয়াল রাখবেন আমিও তার-আব্বু-আম্মুকে নিজের আব্বু-আম্মুর মতন সম্মান এবং শ্রদ্ধা করব ইনশাআল্লাহ,, আমি যেগুলো পছন্দ করিনা সেগুলো সে বয়কট করবেন সে যেগুলো পছন্দ করে না আমিও সেগুলো বয়কট করবো,, এবং আমার বিপদ এর সময় আমাকে ইসলামিক দিক দিয়ে সান্ত্বনা দিবেন এবং আমাদের দুইজনার ভিতরে ভুল-বোঝাবুঝি হলে নিজেরাই শুধরে নেব একজন আরেকজনকে কখনো ভুল বুঝবো না কারো মিথ্যে কথায় কান দিবো না,, জীবনে চলার পথে অনেক বাধা সম্মুখীন হতে হবে অনেক অশান্তিতে থাকতে হতে পারে এবং আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষা করবেন সেই পরীক্ষায় নিজেদের বিজয়ী হতে হবে,, সর্বপরি কথা হচ্ছে দ্বীনদার ধার্মিক খাস পর্দাশীল ইসলামকে ভালোবাসেন ইসলামিক অনুযায়ী চলার চেষ্টা করেন এবং অত্যন্ত ধৈর্যশীল হবেন এমন একজন উত্তম জীবনসঙ্গিনী আমি চাই,, ইনশাআল্লাহ,, 🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀🥀 ~~স্ত্রীদের সাথে ভালো ব্যবহার করার অসিয়ত~~ ✍️✍️✍️✍️ ✍️১/ওয়াশিরুহুন্না বিলমারুফ,অর্থ: তোমরা স্ত্রীদের সাথে মিলেমিশে সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করো'( সুরা নিসা-১৯) ✍️২/স্ত্রীদের মাঝে পুরোপুরি ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তোমাদের সেধ্যাতিত'তোমরা মন-প্রাণ দিয়ে চাইলেও তা করতে পারবে না। কাজেই একজন স্ত্রীকে একদিকে ঝুলিয়ে রেখে অন্যজনের দিকে একেবারে ঝুঁকে পড়বে না। তোমরা যদি নিজেদের কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন কর এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো তাহলে আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও দয়াময় ( সূরা নিসা-১২৯) ✍️৩/হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর। কেননা, নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি সবচেয়ে বাঁকা। অতএব, তুমি যদি তা সোজা করতে চাও, তবে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি ছেড়ে দাও, তবে বাঁকা হতেই থাকবে। সুতরাং তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর! বুখারির অপর বর্ণনায় আবু হুরায়রা রাযি. থেকে উল্লেখ আছে- নারীরা হচ্ছে পাজোরের হাড়ের ন্যায়(বাঁকা) যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং যদি তোমরা তাদের থেকে উপকৃত হতে চাও, তাহলে ওই বাঁকা অবস্থাতেই উপকৃত হতে হবে। (বোখারী-৩৩৩১,৫১৮৪, মুসলিম-১৪৬৮) ✍️৪/আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: কোন মুমিন পুরুষ যেন কোন মুমিন নারীকে (স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে। কেননা তার একটি বিষয় খারাপ মনে হলেও আরেকটি বিষয় অবশ্যই ভালো লাগবে (অর্থাৎ তার দোষ থাকলে গুণও আছে) সেই গুণের দিকে তাকিয়ে তুমি তাকে অত্যন্ত ভালোবাসো। (মুসলিম-৩৭২১,৩৫৪০) 🥀৫/ হযরত মুআবিয়া কুরাইশী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো উপর স্ত্রীর কি হক রয়েছে? তিনি বললেন, তুমি যখন আহার করবে, তাকেও আহার করাবে, তুমি যখন (পোশাক) পরিধান করবে, তাকেও পরিধান করাবে, কখনো তার চেহারা কিংবা মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না, কখনো তাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিবে না এবং ঘরের ভেতর (অর্থাৎ বিছানা) ছেড়ে তার থেকে আলাদা হয়ো না। (আবু দাউদ-২১৪২,২১৪৩) 🥀৬/হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মুমিনদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ ওই ব্যক্তি, তাদের মাঝে যার চরিত্র সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে উত্তম তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (তিরমিযী-১১৬২, আহমদ-৭৩৫৪) 💘ইনশাআল্লাহ- আল্লাহ যদি আমাকে তাওফিক দান করেন আমি যথাযথ কুরআন এবং হাদিস অনুযায়ী জীবন যাপন করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহুল আজিজ,,, 🤲হে আল্লাহ আপনি আমাকে এগুলো মেনে নতুন জীবনের অধ্যায়ে আমাদের স্বামী- স্ত্রীকে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন আমীন..!
|