জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
তিনি জামাআতের সাথে সালাত আদায়, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও মাসনূন আমলের প্রতি যত্নশীল হবেন। নিজের এবং আমার ইলম অর্জনে আগ্রহী হবেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর অনুসারী হবেন। সকল মাযহাব, ইমাম ও আলেমদের সম্মান করবেন এবং মাযহাব নিয়ে বাড়াবাড়ি, দলাদলি, আলেমদের নিয়ে বিদ্রূপ করা, অনলাইনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও বিভিন্ন ইস্যুতে জড়ানো থেকে বিরত থাকবেন। “শুনলাম এবং মেনে নিলাম” এই মানসিকতায় দ্বীন পালনের চেষ্টা করবেন, মডারেট মুসলিম নই। নারী-পুরুষ উভয়ের পর্দা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখবেন। নিজে নজরের হিফাজত, অনলাইন ও অফলাইনে মাহরাম-ননমাহরাম মেইনটেইন করবেন এবং পরিবারের নারীদের দ্বীন পালন, সঠিক পর্দার ব্যাপারে সচেতন, দায়িত্বশীল ও গায়রতসম্পন্ন হবেন। হালাল-হারামের ব্যাপারে সচেতন থাকবেন, ফ্রি-মিক্সিং, গুনাহের পরিবেশ এবং ইসলাম সমর্থন করে না এমন অনুষ্ঠান যথাসম্ভব এড়িয়ে চলবেন। বিয়ে, তালাক ও হুরমতে মুসাহারাহ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসআলা সম্পর্কে ধারণা রাখবেন এবং সমসাময়িক ফিতনা সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। কুসংস্কার, শিরক, বিদআত ও কবিরাজির মতো বিষয় থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন। হককে হক এবং বাতিলকে বাতিল বলার সৎ সাহস রাখবেন। ব্যক্তিত্বের দিক থেকে গায়রতসম্পন্ন, দায়িত্বশীল, পরিবারকেন্দ্রিক, বিশ্বস্ত, ধৈর্যশীল ও উত্তম আখলাকের অধিকারী হওয়া প্রত্যাশা করি। যিনি ইতিবাচক মানসিকতা, উদার, সৎ ও দানশীল হবেন। যার প্রচলিত কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে (ইসলামিক দল হলেও) কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেয়। অযথা আড্ডা, ধূমপানে অভ্যস্ত হবেন না। রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং আহলিয়ার ভুল হলে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলার মানসিকতা রাখবেন। সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা, ইনসাফ ও বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। তাই এমন একজন মানুষ প্রত্যাশা করি, যিনি নিজের পরিবার ও আহলিয়ার হকের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন এবং কারো জন্য কাউকে কষ্ট দিবে না। আমার বাবা-মাকে সম্মান করবেন এবং তাঁদের দেখা-শুনার সুযোগ দেবেন। এটুকু কথা দিতে পারি যে আহল দুইজন নতুন বাবা-মা পাবেন যাকে আমার বাবা-মা নিজের ছেলের মতো যত্ন করবে, ভালোবাসবে। আমিও তাঁর পরিবারকে নিজের পরিবারের মতো সম্মান ও ভালোবাসার চেষ্টা করব, ইন শা আল্লাহ। আমি মনে করি শান্তিপূর্ণ দাম্পত্যজীবনের জন্য আহল-আহলিয়া উভয়ের শুধু দ্বীন নয়, দ্বীনের পাশাপাশি চিন্তা-ভাবনা ও মেন্টালিটি ম্যাচ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি এমন একজন জীবনসঙ্গী কামনা করি, যিনি দ্বীনদারিতায় অগ্রগামী হবেন এবং সামাজিকতার আগে দ্বীনকে প্রাধান্য দেবেন। তাঁর সোহবত, নসীহত ও উত্তম চরিত্র আমাকে আল্লাহর দিকে আরও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তিনি আমার জীবনসঙ্গী হওয়ার পাশাপাশি আমার জন্য সবচেয়ে কাছের বন্ধু, উত্তম সহবত, অভিভাবক এবং ব্যক্তিগত উস্তায হবেন। যার শক্ত কাঁধ এবং নরম মন আমার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরতার জায়গা হবে। দুনিয়া ও আখিরাত উভয় দিক থেকেই আহলিয়ার ব্যাপারে দায়িত্বশীল এবং স্বাভাবিক অধিকারবোধসম্পন্ন হবেন। বিশেষ ভাবে বলতে চাই: বিয়ে একটি ইবাদত তাই সাধারণভাবে সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ের মাধ্যমে একটি বরকতময় জীবনে প্রবেশ করতে চাই। আশা রাখি উভয় পরিবারের অল্প কয়েকজন মিলে খুব সাধারণভাবে বিয়ে সম্পন্ন হবে। বিয়েতে সব ধরনের হারাম, বিধর্মীয়, আঞ্চলিক কালচার যেমন: গায়ে হলুদ, ফটোগ্রাফি, ফি-মিক্সিং, গান-বাজনা, গেট ধরা, নন-মাহরাম মহিলারা এসে পাত্রকে স্বর্ণ-টাকা গিফট করা, যৌতুক, সিজনাল জিনিস পাঠানো ইত্যাদি বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। আশা রাখি আহল এই বিষয়গুলো বিয়েতে না করার ব্যাপারে যথেষ্ট সাপোর্ট দিবেন এবং নিজ অবস্থানে অনড় থাকবেন। যৌতুকের কথা বলতে গেলে বর্তমানে সময়ে এমনটা প্রচলিত যে, "খুশি করে যেহেতু দিচ্ছে নিবো না কেন বা না নিলে কি মনে করবে।'' পাত্রীর পরিবারও মেয়েকে যেন শশুরবাড়ি থেকে কথা শুনতে না হয় তাই খুশি করার নামে সামাজিকতা রক্ষার্থে যৌতুক পাঠায়। এক্ষেত্রে পাত্রীর পরিবার পাঠালেও তা সসম্মানে ফেরত দেওয়ার দৃঢ় মনমানসিকতা থাকতে হবে। ছবি দিতে ইচ্ছুক নই। পর্দা ও প্রাইভেসি রক্ষার্থে পর্দার বুঝ হওয়ার পর থেকে ছবি তোলা থেকে বিরত আছি। এক্ষেত্রে পাত্র বা মহিলা অভিভাবক সরাসরি দেখতে কোনো সমস্যা নেই। বায়োডাটা পছন্দ হলে আগে ইস্তেখারা করে এরপর বায়োডাটা কেনার অনুরোধ থাকলো।
|