জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
প্রথমতই বলবো - মুহাম্মদ (সা:) এর যোগ্য উম্মাহ, যোগ্য অনুসারী, সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ যার আদর্শ হকপন্হী,সহিহ,আকীদাহ মানহাজ সম্পন্ন মানুষটাই আমার হোক। আল্লাহ কাছে তো চাই একজন এমন পুরুষ যিনি, মসজিদের সাথে জুড়ে থাকা অন্তরের অধিকারী> পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত যিনি প্রথম কাতারে মসজিদে,জামায়াতে তাকবীরে উলার সাথে নিয়মিত আদায় করেন। সুন্নাহ এবং নফল আদায়ের মাধ্যমে ঘরকে তিনি কবর হতে দেন না। হালাল এবং হারামের সু-স্পষ্ট জ্ঞান যার আছে। জবান,অন্তর,কর্ণ, দৃষ্টি এবং লজ্জা স্থানের হিফাজতকারী, পোশাকে কাফের মুশরিকদের সাথে বৈসাদৃশ্য রাখেন যিনি,যিনি বাঁচলে গাজির মতো বাঁচবেন এবং মরলে শহীদ হওয়ার মতোই মরবেন( ওয়ামা তাওফীকি ইল্লা বিল্লাহ) একজন তাকওয়াবান পুরুষ। কার "তাকওয়া" কতটুকু তা তো ব্যক্তি নিজে এবং তার আল্লাহ জানেন,তাকওয়ার প্রকাশ ঘটে — গুনাহ করার সময়~ আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে বিরত থাকার নামই তো তাকওয়া। আমি দ্বীনের পথে নতুনই ধরা যায় তাই এমন কাউকে প্রয়োজন যিনি আমাকে হাতে ধরে দ্বীনের প্রতিটি বিষয় উত্তমভাবে শিখাবেন। গায়ের রং মুখ্য নয়,দ্বীনদারিতাই আগে+ আমার জন্য চক্ষু শীতলকারী হওয়াটাই মুখ্য। জীবনসঙ্গী হিসেবে তো এমন একজনকে চাই যার একমাএ উদ্দেশ্য হবে জান্নাত। যিনি নিতান্তই একজন "সাধারণ মানুষ"এবং একজন গুরাবাহ।যার জীবন চলবে নববী আদর্শে,নববী রুটিনে।যাকে আকড়ে ধরে আমি সমস্ত দুনিয়াবি বাধা বিপত্তি গুলোকে কাটিয়ে উঠবো।এবং যিনি আমাকে আগলে রাখতে পারবেন।যিনি বিপদে সবর এবং তাওয়াক্কুল করতে জানেন ও সর্বাবস্হায় শুকরিয়া আদায় করতে জানেন। দ্বীনহীন পরিবারে দ্বীনের উপর অবিচল থাকা,পর্দা মেইনটেইন করা কতটা সবরের আর কষ্টকর ব্যপার আমি জানি। তাই এমন একটা পরিবারও আমার চাই যেখানে দ্বীনি পরিবেশ আছে। দ্বীনের কোনো আদেশ নিষেধ মানতে আমাকে কোনো পরিক্ষার সম্মুখীন হতে হবেনা।যেই মানুষগুলো আমাকে যত্ন করে,ভালোবাসার সাথে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন,আমার তো ভুলের শেষ নেই,তাই বলে ভুলের উপর অটল থাকার মানসিকতা নেই। তাকে আদর্শবান পরিশ্রমি এবং দায়িত্ববান হতে হবে।দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা থাকা যাবেনা।অত্যন্ত গায়রত ওয়ালাহ। কথা বার্তায়, আচার আচরণে তার "আত্নমর্যাদাবোধ" থাকবে কিন্তু অহংবোধ থাকবেনা। আমাকে পরিপূর্ণ পর্দা করার মতো পরিবেশ করে দিবেন।( ইনশাআল্লাহ) যিনি ফ্রি মিক্সিং থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখতে সদা চিন্তিত এবং কোনোভাবেই নিজের আহলিয়াকে ফ্রি মিক্সিংয়ে নিয়ে 'ফিতনাহ' তৈরি করবেন না(যেটা বর্তমানে দ্বীনী কাপলদের একটা সমস্যা) যিনি নিজে শিখবেন এবং আমাকে শিখাবেন, কোনো রকম হিংসা কিংবা অহংকার ব্যতিত,সুন্নাতি দাড়ি তো থাকতেই হবে অবশ্যই। কথা বার্তায় বিনয়ী হতে হবে। উগ্রতা থাকা যাবে না, লোক দেখানোর মানসিকতা থাকা যাবেনা,হোক সেটা অনলাইন কিংবা অফলাইনে। আমল যাই করেন না কেনো এতোটাই গোপনে করবেন যাতে রিয়া'র কোনো সংমিশ্রণ হবে না ইনশাআল্লাহ। অল্পভাষী তবে যা বলবেন সেটার ওজন থাকবে এবং গায়রে মাহরামদের সামনে ( অফলাইনে প্রয়োজন ব্যতিত যিনি কথা বলেন না) অনলাইনে তো না ই!! যিনি আল্লাহকে ভালোবাসেন, এবং আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন। সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ,ইলম ও আখলাকের দিক দিয়ে অতি উত্তম, উচ্চ পর্যায়ের তাকওয়াবান পুরুষ। যিনি কেবল আল্লাহর কাছেই স্পেশাল হতে চান,দুনিয়ার মানুষ চিনুক বা নাই চিনুক তাতে তার কিছুই আসে যায়না।আখিরাতের জীবন নিয়ে সদা চিন্তিত থাকেন,যার থেকে কেবল কল্যাণ ছড়িয়ে পড়ে, অকল্যাণ এবং ফিতনা - ফাসাদ তিনি সৃষ্টি করেন না। ফিতরাতে ইসলাম তথা দ্বীন ইসলামের উপর হক্বভাবে সু প্রতিষ্ঠিত। কোরআন এবং সুন্নাহকে আকড়ে ধারণকারী, সালাতে আন্তরিকভাবে বিনীত, যিনি অহেতুক বিষয় থেকে দুরে থাকেন,যাকাত সম্পাদনকারী এবং রাসুল সা:এবং পিতা মাতার আনুগত্যকারী, মুখলিস-মুত্তাকীন,যার জিন্দেগী আমলিয়াত এবং কবুলিয়াতে ভরপুর,রব্বের বান্দাগণের হক্বপালনকারী, আয়ইয়্যুব আ: এর মতো সবরকারী,ইব্রাহিম আ: এর মতো হক্বের উপর অবিচল, মুহাম্মাদ সা:এর চরিত্রের উত্তম উত্তরসুরী, সচেতন,প্রজ্ঞাবান,মুসলিম ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে বৈবাহিক জীবন সুখের করতে হলে সর্বাবস্থায় একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া মুখ্য বিষয়। দুজনকেই একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে,সম্মান থাকতে হবে,ছাড় দিতে হবে,চুপ থেকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা জানতে হবে,সুযোগ দিতে হবে, সাহায্য করতে হবে,সবর করতে হবে,এবং সব সময় আল্লাহর নিকট দুয়া করতে হবে। কারণ ভালোবাসা একটা রিযিক্ব,আর রিযিক দেওয়ার মালিকের কাছেই তাই রিযিকে ভরপুর বারাকাহ চেয়ে দুয়া করতে হবে। অতপর আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই সেইসব বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে এবং তেমন স্বামী এবং সন্তান কিংবা স্বামীর পরিবার ও আমার পরিবারের মানুষগুলো তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে, যারা আল্লাহর অবাধ্য,আর রহমান যাদের উপর অসন্তুষ্ট,রাগান্বিত, তিনি যাদেরকে ঘৃণা করেন,যারা মিথ্যাবাদী,নিন্দুক, অহংকারি,শিরককারী,সেলিব্রিটি,ভন্ড,মাজারপুজারী,নফসের দাস,যারা অন্যকে ভালোবাসে, আল্লাহকে ভালোবাসার মতো,যারা অন্যের হৃদয়কে কথার আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে,গালাগালি করা,বেনামাজি, লজ্জাহীন, পিতা মাতার অবাধ্য, মালিকুল মুলকের অবাধ্য, তার রাসুল সা: এর অবাধ্য,সুন্নাহ অবমাননাকারী,যারা সুন্নাকে ভালোবেসে গ্রহন করেনা,কিংবা বিদ'আতি, রাগের সময় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, ক্ষতিসাধনকারী,খোটাদানকারী,কৃপণ, গাফেল, লেবাসধারী ভানকারী,ঠাট্টা উপহাসকারী,আল্লাহ এবং আল্লাহর বান্দাদের হক্ব নষ্টকারী,দুনিয়ামুখী,নারীলোভী,যারা হারামে জড়িত,উচ্চ বিলাসী, অতিরিক্ত চাহিদা, সুদখোর,ঘুষখোর,চুরি করে,অন্যকে ঠকায়, অল্পতেই বিচলিত হয়ে যায় সবর করতে পারেনা, শয়তানের অনুসারী, যারা মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, ওয়াদা খেলাফকারী,নীল জগতে আসক্ত,গুনাহ সম্পাদন করে তৃপ্ত হয় এবং যারা তওবা করেনা সেই হতভাগা গুনাহগাররা এককথায় যারা——— আল্লাহকে ভুলে গেছে এবং আল্লাহ যাদেরকে ভুলে গেছেন, যাদের জন্য জান্নাতকে হারাম এবং জাহান্নামকে নিশ্চিত করে দিয়েছেন। কিয়ামতের সেই ভয়ংকর দিনে তিনি যাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না। যারা নিজেদের মুসলিম ভাবছে অথচ তারা কাফির হয়ে গেছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে হেফাজত করুন। আমিন। আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর কাছে সেইসব হতভাগ্য বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে এবং তাদের মধ্য থেকে কাউকে স্বামী কিংবা সন্তান হিসেবে পাওয়া থেকে~~ যারা যোগাযোগ করবেন না --- উপরোক্ত বদনসীব ওয়ালা, বদগুন ওয়ালার ভিতরে যারা ডুবে আছেন। আরেকবার মিলায় দেখার অনুরোধ "আমি কি এর ভিতরে পরেছি" পরলে যোগাযোগ না করার অনুরোধ। স্ত্রীর পরিবার থেকে উপহারের ( জাহেলিয়াত চর্চার) আশা করেন মানে ডিজিটাল ফকির। স্ত্রীকে দিয়ে "ভাইদের" খেদমত করানোর ইচ্ছে আছে [গায়রতহীন]নারীবাদী মনোভাব রাখেন ( সমান সমান) দ্বীনের সাথে " দেখি দুনিয়াও পাওয়া যায় কি না" এমন মনোভাব লালনকারী ~~ না। **শুধুই দ্বীনের স্বার্থ যার আছে সেই স্বার্থবাদীকে আমার দরকার, দুনিয়া তো দুনিয়াই। দুনিয়ায়র জীবন শুধুই মরীচিকা। কট্ররপন্হী,ইনস্টাগ্রাম,ইউটিউব - এডিকেটেড ( এগুলো ছাড়া থাকাও অতি উত্তমভাবে সম্ভব) আনম্যাচুরড,টিন এইজার,ফিতনাবাজ,সব আছে কিন্তু গায়রত নাই,যৌতুকের আশা করেন, লেবাসধারী ইত্যাদি। আসলে "উনি" ঠিক কেমন হওয়া উচিত উনার কেমন গুনাবলি থাকা দরকার তা আমি জানিনা, শুধু এতোটুকু জানি তার একজন প্রকৃত "আব্দুল্লাহ" হওয়ার উচিত। সবই আমার আল্লাহ ভালো জানেন, নিশ্চয়ই আমার আল্লাহর পরিকল্পনা সর্বোত্তম। বিশেষ দ্রষ্টব্য: আদম সন্তান কেউ'ই নিষ্পাপ নয়,তবে উত্তম ওই ব্যক্তি যিনি তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
|