জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
১। আমার পূর্বের অভিজ্ঞতা অনেক কষ্টের হলেও মূল্যবান। তিক্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাকে দ্বীনের গুরুত্ব শিখিয়েছেন। তাই আমি চাই আমার ভবিষ্যৎ স্ত্রী এমন একজন হবেন ইনশাআল্লাহ যিনি আল্লাহ প্রদত্ত নিখুঁত দ্বীন ইসলাম এর সঠিক জ্ঞান অর্জন করেন এবং তা পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে মেনে চলেন। জীবনের সব ক্ষেত্রে আখিরাতকে প্রাধান্য দেন এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দ্বীন ইসলাম এর উপর অটল থাকার জন্য জীবনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকবেন ইনশাআল্লাহ। আবূ হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদেরকে (সাধারণত) চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়। তার ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, তার রূপসৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারী। তবে তুমি দ্বীনদার নারী বিয়ে করো। অন্যথায় তুমি লাঞ্ছিত হবে। [বুখারী] ২। তিনি পবিত্র, কখনো হারাম সম্পর্কে লিপ্ত হননি। একজন মুমিনা, মুত্তাকী, মুহসিনা, সত্যবাদী, সৎকর্মশীল, নিরহঙ্কার, হিংসামুক্ত, বিনয়ী, প্রেমময়ী, প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ, আমানতদার, ধৈর্যশীল, দায়িত্বশীল, সংসারী, উত্তম আখলাক ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। "দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য; দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য; সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য। লোকে যা বলে এরা তা থেকে পবিত্র; এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।" [সূরা আন-নূর, আয়াত ২৬] ৩। ইনশাআল্লাহ আমার পুত্র ও কন্যা সন্তানদ্বয়কে আপন সন্তানের মত করে আদর, যত্ন ও ভালবাসা দিয়ে লালন-পালন করবেন এবং দ্বীন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম পুরষ্কার পাওয়ার আশায়। ৪। আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সর্বাবস্থায় স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অনুগতা থাকবেন ইনশাআল্লাহ। স্বামীর সম্মান, সন্তানাদি ও সম্পদ আমানত হিসেবে সব সময় সুরক্ষিত রাখবেন। কখনো আমানত খেয়ানতকারী হবেন না। আবূ হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল, 'কোন্ স্ত্রী সর্বশ্রেষ্ঠ?' তিনি বললেন, শ্রেষ্ঠ স্ত্রী সেই, যার দিকে তার স্বামী তাকালে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং স্ত্রী ও সম্পদের ব্যাপারে স্বামী যা অপছন্দ করে তা থেকে বিরত থাকে। [আহমাদ] ৫। মুনাফিকের তিনটি লক্ষনঃ ১) মিথ্যা কথা বলা ২) ওয়াদা ভঙ্গ করা ৩) আমানত খেয়ানত করা। তিনি এসব থেকে অনেক দূরে থাকেন। ৬। অপচয়, আড্ডাবাজী, গীবত, ঝগড়া, কুতর্ক, পরচর্চা, পরনিন্দা, কুৎসা রটনা, লোভ, হিংসা, মোবাইল-টিভি আসক্তি ইত্যাদি বদঅভ্যাস নেই। ৭। পূর্বে বিবাহিত হলে সন্তান নেই। ৮। সম্পূর্ণ সুন্নাহ তরিকায় বিয়ে করতে আগ্রহী। ৯। সন্তান নিতে আগ্রহী ইনশাআল্লাহ। বন্ধ্যা হলে ৩৫ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। আনাস ইবনে মালিক রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেনঃ ‘‘অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী রমণী বিবাহ কর। কারণ, আমি তোমাদেরকে নিয়ে কিয়ামতে অন্যান্য উম্মতের সামনে (সংখ্যাধিক্যের ফলে) গর্ব করব।’’ [আবু দাঊদ] "হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় (অন্তরে প্রশান্তি আনে) আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন।" [সূরা ফুরকান, আয়াত ৭৪]
|