জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
আমি নিজেই জেনারেল থেকে আগত এক গুনাহগার বান্দা।এই মূল্যবান দ্বীনের পথে চলা খুব বেশি দিনের না,তাই না পেরেছি নিজের দুনিয়াবি কাজের পাশাপাশি ভালোভাবে বেশি বেশি করে দ্বীনি ইলম অর্জন করতে আর না পেরেছি দ্বীনি কাজে সবসময় যুক্ত থাকতে।তাই আমার এই অগোছালো, ভঙ্গুর, ছোট ছোট যাত্রাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আরো গোছানো,বড় করতে যেমন চোক্ষুশীতলকারীর ফরিয়াদ আরশে আজীমের কাছে প্রতিনিয়ত জানায়--- ১.প্রত্যেক ফরয হুকুম পালনের পাশাপাশি সুন্নাহ ও নফল ইবাদতে মুহাব্বত থাকতে হবে, যতটুকু সম্ভব হয় প্রতিদিন করতে হবে। ২.নিজেকে নিজের সর্বোচ্চ ভালোবাসতে হবে, নিজের ছোট বড় সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রতি যত্নশীল হতে হবে ৩.নজরের হেফাজত করা, মাহরাম -ননমাহরাম মেনে চলা, ফরজীয়াত ইলম থাকতে হবে, ৪.রেগুলার কোরআন পড়তে হবে, হালাল উপার্জন করতে হবে, উপার্জনের সুষম বণ্টণের ক্ষেত্রে পরিবার ছাড়াও দ্বীন প্রতিষ্ঠার/প্রচারের জন্য ব্যয় করতে হবে, ৪.আহলিয়াকে পরিপূর্ণ পর্দায় রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে(আপনার পরিবারের মা-বোন পর্দা করলে সবচেয়ে ভালো হয়), বাসায় দ্বীন ইলমের পরিসর করার জন্য নির্দিষ্ট দিনে / প্রতিদিন তালিমের আয়োজন করতে হবে, ৫.কোনকিছুর প্রতি হাই লেভেলের এডিকশন থাকা যাবে না (যেমন-চা,কফি,পান,গেমস,আড্ডা, নিউজ,রিলস, ফাস্টফুড ইত্যাদি), ৬.আত্নসংযমী হতে হবে, বদমেজাজি,কিপটা ,খোটাদানকারী,বোকা হওয়া যাবে না, ছাত্রজীবনে দায়িত্বশীলতার উদাহরণ থাকতে হবে ৭.প্রতিটি হকে প্রতি যত্নশীল হতে হবে, স্ত্রী এবং নিজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা,উভয় পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল ও যত্নশীল আচরণ করতে হবে। ৮.মানুষকে সাহায্য করা, দ্বীনি কাজে যুক্ত থাকা, পরিবার,সমাজ তথা দেশের মানুষদের জন্য দাওয়াহ কাজ করা/ ইসলামিক কাজে আহ্বান করার ও সময় দেওয়ার মনোভাব থাকতে হবে, ৯.ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য নিজে ও নিজ প্রিয় মানুষগুলোকে নির্দ্বিধায় কুরবানির করার মনোভাব থাকতে হবে। ১০.ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়া,সম্ভব হলে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া মনোভাব থাকতে হবে। ১১.প্রতিনিয়ত নিজেকে সংশোধনে আগ্রহ থাকতে হবে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নাহকে প্রাধান্য দিতে হবে , ১২.দানের ক্ষেত্রে কার্পণ্য করা যাবে না, নিজের জন্য যা পছন্দ করেন অপরের জন্য তাই পছন্দ করতে হবে, ১৩.যেকোনো কাজের সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি আলেমদের সরণাপন্ন হতে হবে,সবশেষে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে হবে, ১৪. আহলিয়ার জন্য খরচ করা অহেতুক, অপ্রয়োজনীয় মনে করা যাবে না, ১৫.শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়েতে আগ্রহ থাকতে হবে, শ্বশুরবাড়ি থেকে যেকোনো কিছু গ্রহণের ক্ষেত্রে লজ্জাশীল হতে হবে এবং মুখ ও আচরণে সবোর্চ্চ অনাগ্রহ প্রকাশ করতে হবে। পূর্ণতা/ পারফেক্ট ব্যাপারে আমি বিশ্বাসী না।এইটা আমার কাছে মানুষের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি মনে হয়। বিশ্বাস করি এক এক জনের বৈশিষ্ট্য এক এক রকম। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো আমার চাওয়া এবং দোয়ার অংশ, এতে কম বেশি হতেই পারে। আমি ছাড় দিতেও রাজি আছি।সবকিছু জেনেশুনে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্
|