| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
সত্যি কথা বলতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অভ্যাসটা আমার ছোটবেলা থেকেই ছিল। আব্বু আম্মু তাগাদা দিতেন। যতদূর মনে পড়ে, স্কুল জীবন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের ফিকির ছিল। হয়তো দ্বীনের সঠিক বুঝ ছিল না, সে কারণে নামাজ কাজা হতো প্রায়ই। আলহামদুলিল্লাহ দ্বীনের বুঝ আসার পর থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামায়াতের সঙ্গে আদায় করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, যেখানেই থাকি না কেন। তবে কোন সিরিয়াস ওজর থাকলে, বা মিস হয়ে গেলে নিজে নিজে আদায় করে নিই। তবে ২০২২ থেকে নিয়মিত পড়ি |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
সাধারণত এক্সট্রিম ওজর ছাড়া নামায কাজা হয় না। দিনের বেশিরভাগ সময়ই মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য জায়গায় থাকা হয়। যেখানেই থাকি না কেন জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের চেষ্টা করি আলহামদুলিল্লাহ । কাযা হয়না বললেই চলে |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
এ ব্যাপারেও আমার মায়ের ভূমিকা ছিল অমূল্য। ছোটবেলাতেই আমাকে বিশুদ্ধ উচ্চারণে কুরআন শিখানোর ব্যাপারে আমার মায়ের আগ্রহ ছিল ভীষণ। আম্মুর তত্ত্বাবধানেই এলাকার এক হাফেজ ভাইয়ের কাছে কোরআন শেখা। আলহামদুলিল্লাহ এখন বিশুদ্ধ উচ্চারণে তাজউইদ সহ পবিত্র কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করার চেষ্টা করি। তবে দ্বীনি ইলমের প্রতি ঝুঁকে যাওয়ার পর থেকে বুঝতে পেরেছি আধুনিক তাজউইদে আরো বেশি সময় দেয়া প্রয়োজন। বর্তমানে হিফজ করার নিয়তে উস্তায হাফেজ ক্বারী আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের তত্ত্বাবধানে পবিত্র কোরআনুল কারীম শেখার নতুন যাত্রায় রয়েছি।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
না। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাকে রিজিকের সর্বোচ্চ স্তর “সুস্থতা”র নিয়ামত দান করেছেন। তবে গত বছর স্কিন ইনফেকশন হওয়ার কারণে পায়ে কিছু ছোট ছোট দাগ রয়ে গেছে। ইন-শা-আল্লাহ খুব দ্রুত মিশে যাবে।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
একটা কবর বৈ কিছু না
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
১. রেইনড্রপস পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত “সীরাহ মুহাম্মাদ সা:” (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড) আমার অন্যতম পছন্দের একটা সীরাহ। আশেপাশের মানুষদেরও এই বইটি পড়ার ব্যাপারে নসিহা করি। আমার প্রাণের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন-কর্ম বোঝার জন্য সহজ বাংলায় লেখা দারুন একটা কিতাব। ২. ইমাম তিরমিযী (র) এর লেখা “শামায়িলুন নবী” । আমার অত্যন্ত পছন্দের কিতাব। খুব সাধ জাগে, ইশ ! যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো দেখতে পেতাম ! হোক না স্বপ্নে! কেমন ছিলেন তিনি? কেমন ছিল তাঁহার কেশ ! কেমন ছিল তাঁহার শারীরিক গঠন ! এই কিতাবে দেয়া আছে তারই বিস্তর বর্ণনা। বইটি আমি আগ্রহ নিয়ে বারবার পড়ি। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুরত, তার চলার পদ্ধতি, খাওয়ার পদ্ধতি ইত্যাদি নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করি। ৩. "তাদাব্বুরে কুরআন" আমার অন্যতম পছন্দের একটা কিতাব। কুরআনের 114 টা সূরা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উৎস এবং তাফসির রয়েছে। জেনারেল থেকে আসা গবেষণা ও ইলম অর্জনে আগ্রহী ছাত্রদের জন্য খুবই কার্যকর একটি কিতাব। এছাড়াও আমার বই পড়ার অভ্যাস প্রচুর। প্রতি মাসে অন্তত চারটি বই পড়ার চেষ্টা করি আলহামদুলিল্লাহ। কখনো কখনো চারটি শেষ করতে পারি, আবার কখনো দুটো। কিন্তু বই পড়া হয় ভীষণ।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
১. হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ ইয়াহইয়া সাহেব দামাত বারাকাতুহুম। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: জামেআ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এবং মারকাজুল ফাতাওয়া আল ইসলামিয়া ঢাকা, প্রাক্তন উস্তাযুল ফিকহ: মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয় ঢাকা, খতিব: মোল্লা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মিরপুর ১২, ঢাকা। ২. পাকিস্তানের মাওলানা তারিক জামিল হাফিজাহুল্লাহ । আমার দ্বীনে ফেরার সময়টাতে যখন অস্থির হয়ে পড়তাম, অশান্ত লাগতো, তখন হযরতের বয়ান শুনতাম ইউটিউবে সার্চ করে করে। তাঁর হৃদয়গ্রাহী বয়ান আমার অন্তরকে ঠান্ডা করে দিত, আমি দিল থেকে প্রশান্তি অনুভব করতাম। হযরতের বয়ান শুনে কাঁদিনি এমন সময় খুব কম গেছে। যখনই আমি পথ হারিয়ে ফেলার শঙ্কা বোধ করি, তখনই তাঁর বয়ান গুলো খুঁজে বের করে করে শুনি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হযরতকে নেক হায়াত দান করুন। ৩. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহিমাহুল্লাহ)। প্রচন্ড মেধাবী এই মানুষটাকে দিল থেকে ভীষণ মহব্বত করি। এতটা বিনয়ী, নির্বিবাদী একজন আলেমে দ্বীন ছিলেন! সুবহানাল্লাহ ! প্রত্যেক ঘরানার আলেমরাই হযরতকে পছন্দ করেন তার শান্ত, মিষ্ট আখলাকের জন্য। ৪. শায়খ আহমাদুল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ। বাংলাদেশের মানুষের জন্য হযরত আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। কোন প্রচার-প্রচারণা নেই, কোন ঝগড়া-বিবাদে নেই, কোন হিংসা বিদ্বেষে নেই, নিরবে নিভৃতে যিনি কাজ করে যান ইসলামের জন্য। ইসলামের শিক্ষায় আলোকিত এই মানুষটি এগিয়ে আসেন দেশের প্রত্যেকটা বড় বড় দুর্যোগের মুহূর্তেই। অনেকটা আড়ালে থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের সমাজের মানুষের জন্য। আলহামদুলিল্লাহ। আরো কিছু পছন্দের আলেম এবং দায়ীদের মধ্যে রয়েছেন- - শায়েখ হারুন ইজহার হাফিজাহুল্লাহ - শায়েখ মাহফুজুর রহমান হাফিজাহুল্লাহ - মুফতি আফফান বিন শরফুদ্দিন হাফিজাহুল্লাহ - আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান হাফিজাহুল্লাহ - উস্তায নাহিদ হাসান - শামসুল আরেফিন শক্তি ভাই - শিবলী মেহেদী ভাই - উস্তায ইমরান রায়হান ভাই পছন্দের তালিকাটা অনেক দীর্ঘ। হয়তো এখানে উল্লেখ করেও শেষ করতে পারবো না। তবে আল্লাহ ওয়ালা আলেম এবং দায়ী ভাইদের পছন্দ করি ভীষণ।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আমি আল্লাহর এক অধম গুনাহগার বান্দা। আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে তিনি আমাকে হেদায়েতের পথে চলার তাওফিক দিয়েছেন। যদিও আমি নিজেকে দ্বীনদার বলে মনে করি না, তবে সর্বদা চেষ্টা করি ইসলামের প্রতিটি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই পথেই অটল থাকতে চাই, ইন শা আল্লাহ। দ্বীনের ব্যাপারে কোনো আপস করতে চাই না, বরং যা কিছু করবো, তা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়—এটাই আমার একমাত্র প্রচেষ্টা। জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো একজন দ্বীনদার ও হৃদয়বান জীবনসঙ্গীর সঙ্গে এক সুন্দর ইসলামী জীবন গঠন করা। এমন একজন সাথী চাই, যিনি দ্বীনের পথে আমার জন্য সহযাত্রী হবেন এবং একসাথে এই পথ চলতে সাহায্য করবেন। আমি নিজেও চাই, তার জন্য একজন উত্তম জীবনসঙ্গী হতে। একসঙ্গে উমরাহ করার স্বপ্ন আছে, ইন শা আল্লাহ, এবং প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ আমাদের সম্পর্ক জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ইসলামের জ্ঞান অর্জনের প্রচণ্ড ইচ্ছা রয়েছে এবং আমৃত্যু তালিবে ইলম (জ্ঞান অন্বেষণকারী) হিসেবে থাকতে চাই। ভবিষ্যতে উম্মাহর জন্য দ্বীনের দাঈ হওয়ার প্রত্যাশা আছে। তাই এমন একজন জীবনসঙ্গী চাই, যিনি এই পথ চলায় আমাকে উৎসাহিত করবেন, বাধা নন, বরং সহযোগী হবেন। আমি আল্লাহর একজন গুনাহগার বান্দা। এমন একজনকে প্রত্যাশা করি, যিনি আমার দ্বীন পালনে সহযোগিতা করবেন, আমার জান্নাতের সঙ্গী হবেন, দুনিয়াতে হবেন আমার কুররাতু আইয়ুন, আমার মানসিক প্রশান্তির জায়গা। অনেক আশা নিয়ে এমন একজন জীবন সঙ্গিনীর প্রত্যাশা করে জায়নামাজে চোখের অশ্রু ফেলি। তাই এই অধমকে বিবেচনা করবার আগে, দয়া করে ভালো করে চিন্তা ভাবনা এবং ইস্তিখারা করে সিদ্ধান্ত নেবেন ইন-শা-আল্লাহ…
|