জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
বর্তমান সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ বা সাংসারিক অশান্তির মূল কারণ হলো দ্বীনদার পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের অভাব। আল্লাহ কার জন্য কেমন সঙ্গী নির্ধারণ করে রেখেছেন তিনিই ভালো জানেন। তারপরও কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছেন। যেমন: ১/ যে চারটি গুনাবলি দেখতে বলেছেন: সৌন্দর্য্য, দ্বীনদারিতা, সম্পদ এবং বংশ। # সৌন্দর্য্যঃ একবার এক হাদিসে পড়েছিলাম, কোন এক মহিলা সাহাবা শুধু তার স্বামীর চেহারা দেখতে ভালো না হওয়ায় তার প্রতি হক আদায় করতে পারছিলেন না, এজন্য রাসুলের (সা:) কাছে এসেছেন তার থেকে আলাদা হতে। সুতরাং এটাকে অবহেলা করার মতো নয়। # দ্বীনদারিতাঃ দ্বীনদারিতা বলতে আমি বুঝি ব্যক্তিগত আমল, আখলাক, বিনয়, তাকওয়া অবলম্বন, খুশু খুজু ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য। কে মাদ্রা্সায় পড়লো বা কে জেনারেল এটা বিষয় না। বিষয় হলো সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কতটুকু ইসলামকে গুরুত্ব দিয়ে চলি। (এটা ঠিক যে আমরা ১০০% পারবো না কিন্তু সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে দোষ নেই। নিশ্চই আল্লাহ সবকিছু দেখছেন।) ২/ পড়াশোনা বা কোরআন পাঠঃ ঘরের সৌন্দর্য্য হচ্ছে কোরআনের সুর। অবশ্যই কোরআন পড়ার অভ্যাস থাকা দরকার এবং সহিহ শুদ্ধভাবে। আমি চাইবো সে যেন আরো মানুষকে কোরআন শেখাতে পারে। এটাই তার ইসলামের খেদমত হবে ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া, ফযিলতপূর্ণ সুরাগুলো হিফয থাকলে আলহামদুল্লিাহ। যেমন- সুরা মুলক, ওয়াকিয়াহ ইত্যাদি। ৩/ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালোবাসা, সম্মান, অভিমান বা অভিযোগ সবকিছুই থাকবে। সবকিছুই যেন হয় ইসলামের গণ্ডীর ভেতর। তুচ্ছার্থক কোন শব্দ বা অপমানের কোন কথা না বলা, নিজের দাম্ভিকতা বা অহংকার প্রদর্শন না করা। স্মরণ রাখা দরকার রাসূলের (সা:) সাংসারিক জীবনের কাহিনি। বিশেষ করে কষ্টের, সুখের এবং অভিমানের কিছু ঘটনা। তাহলেই ইনশাআল্লাহ সবকিছু সহজ হবে। ৪/ স্যোশাল মিডিয়া পরিহারঃ আমার নিয়ত আছে যদি সম্ভব হয় স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে আনতে। এটা আমাদের সময় এবং বরকত কে কমিয়ে দেয়। তাছাড়া সাংসারিক বিশৃঙ্খলার জন্য অতিরিক্ত ফোন আশক্তিই দায়ী। যার বাস্তব প্রমান আমার আশেপাশেই। তাছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করেও এসব ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে আনা দরকার। ৫/ ইসলামী জ্ঞানঃ বেসিক ইসলামী জ্ঞান যেমন- দৈনন্দিন বিভিন্ন মাসায়লা, গুরুত্বপূর্ণ হাদীস, রাসুলের জীবনী, বিভিন্ন সাহাবীদের জীবনী ইত্যাদি। কম কথা বলা, জিকির করা এবং পরিবারের অন্যকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞান শেখায় প্রতিযোগিতা করা। সর্বোপরি অবসরে বই পড়ার অভ্যাস থাকা এবং অন্যকে জানানো। আমি চাইবো আপনি আমার থেকে বেশি জানেন। এবং বেশি আমল করতে পারেন যা আমার এবং আমার পরিবারকেও প্রভাবিত করবে। যেমনঃ সাপ্তাহিক রোজা বা নফল ইবাদাত, বিভিন্ন হাদিস ইত্যাদি। অর্থাৎ প্রডাক্টিভ মুসলিম হওয়া। ৬/ একজন নারীর উচিত সব পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা থাকা। আল্লাহ কার জন্য কোন বাসস্থানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন তিনিই জানেন। কিন্তু বর্তমানে নারীদের কমন বিষয় হচ্ছে বিয়ের পরে স্বামীর সাথে শহরে থাকতে হবে বা আলাদা থাকতে হবে। এই ধারণা যদি আপনার থাকে তাহলে আশা রাখবো আপনার জন্য হয়তো আমি কল্যাণকর নই। ৭/ মানসিক দৃঢ়তাঃ বাস্তবতা অনেক কঠিন। ভালোবাসা, স্নেহ বা মায়া অনেকসময় বাস্তবতার কাছে হেরে যায়। আমরা কখনো শক্ত থাকতে পারি বা কথনো পারি না। তাই নাটক, সিনেমার জীবন কেউ কল্পনা করলে ভূল করবেন। তাছাড়া মুমিনের জীবনই তো একটা পরীক্ষামাত্র। সবকিছুর মধ্যেই সুখ খোঁজার মানসিকতা থাকতে হবে। টাকা পয়সা তো নামমাত্র। ৮/ একটা বিষয়ে আমি কখনো ছাড় দিবো না ইনশাআল্লাহ, তা হলো আমার মায়ের অসম্মান। তিনি এই যুগের একজন মানুষ কিন্তু তার যে ত্যাগ এটা বলার মতো নয়। আমি চাইবো আপনি আমার মা’কে নিজের মা হিসেবে গ্রহণ করবেন। এবং কোনো পার্থক্য করবেন না। এটা ইবাদত হিসাবে গ্রহন করতে পারলে আল্লাহ খুশি হবেন ইনশাআল্লাহ। অন্যদিকে আপনার পিতামাতার প্রতিও আমার সম্মানের কমতি থাকবে না আশা করি। ৯/ আমি সবকিছুতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করি এবং জোর করা অপছন্দ করি। তাই চাইবো না, এমন কোন বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন যা সম্পর্ককে ফাটল তৈরি করে । আমি যথেষ্ট ছাড় দেয়ার মানসিকতা রাখি এবং সবার জন্য যা কল্যাণকর তাই করার চেষ্টা করি। সুতরাং দুপক্ষের মানুষ যদি আন্তারিকতা বজায় রাখে সেখানে সকল বিষয় সহজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ১০/ কিছু বিষয় নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেমনঃ নামাজ, পরিপূর্ণ পর্দা বজায় থাকে এমন পোষাক( অবশ্যই মুখে নেকাব পড়া), কণ্ঠস্বর ছোট রাখা, হালাল হারাম মেনে চলা, গায়রে মাহারাম বা বন্ধুদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা, স্বামী এবং তার পরিবারের মানুষের হক আদায় কারার চেষ্টা করা বা জরুরি প্রয়োজন হলে ঘরের বাহিরে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলো আপনাকে জোর করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ আন্তরিকতার সাথে গ্রহন করতে পারবেন। ১১/ বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণঃ শারীরিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতা। আমি খাবার এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতেছি। নারীদের এমনিতে খাবার সম্পর্কে চাহিদা বেশি, তারা আক্রান্তও বেশি হয়। অবশ্যই ভেবে দেখা দরকার কি খাচ্ছি এবং যা খাবো তা কতটুকু আমার জন্য ক্ষতিকর বা উপকারী। (আমার বাস্তবতা থেকে কথাগুলো লেখা) ১২/ পরিশেষে, আপনি শুধু কারো স্ত্রী ই হবেন না, একজন আদর্শবান মা, পুত্রবধূও বটে। আগামী প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তীকাস্বরূপ এবং জান্নাতের সঙ্গী ইনশাআল্লাহ। (স্বামী-স্ত্রী উভয়ে জান্নাতী হ’লে আল্লাহ তাদেরকে একত্রে জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দিবেন’) (যুখরুফ ৪৩/৭০)। এতক্ষন যা লিখলাম, শুধু স্মরণ করিয়ে দেয়া মাত্র। সবকিছুর উদ্দেশ্য হল, আমি এক গুনাহগার বান্দা। আল্লাহর জান্নাতের মেহমান হতে চাই। আর সঙ্গী হিসেবে এমন একজন বরকতময় নারী চাই যে দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে। ইনশাআল্লাহ। বিস্তারিত লিখতে হলো। তবে এগুলো কিন্তু শর্ত নয়, কুফু মেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। বি: দ্র: বায়োডাটা পছন্দ হলে ইস্তেখারা করুন।
|