জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
আমি এমন একজন জীবনসঙ্গী চাই যিনি সর্বপ্রথম আল্লাহকে ভয় করেন এবং কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। উত্তম আকীদা ও মানহাজের অধিকারী, নম্র, ধৈর্যশীল, দায়িত্বশীল, হাসিখুশি, মিশুক ও উত্তম চরিত্রের মানুষ হবেন। স্ত্রীকে আল্লাহর আমানত হিসেবে ভালোবাসবেন, সম্মান করবেন, গুরুত্ব দেবেন এবং দয়া ও মমতার সঙ্গে আগলে রাখবেন। ভুল হলে রাগারাগি, অপমান বা কঠোর আচরণ না করে হিকমাহর সঙ্গে বুঝিয়ে দেবেন। ছোটবেলা থেকে আমি আমার আব্বুকে দেখেছি আম্মুর পাশে থাকত।ঘরের কাজে সহযোগিতা করতে, আম্মু অসুস্থ হলে দায়িত্ব কাঁধে নিতে এবং সবসময় সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে আচরণ করতে। তাই এমন একজন জীবনসঙ্গী চাই যিনি রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে প্রয়োজনে স্ত্রীর পাশে দাঁড়াতে সংকোচবোধ করবেন না এবং ভালোবাসা, সহযোগিতা ও রহমতের ভিত্তিতে সংসার গড়ে তুলবেন। আমার বাবা-মা আল্লাহর বড় নিয়ামত। তাঁরা আমাকে দ্বীনের পথে চলতে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাই আমি চাই আমার জীবনসঙ্গী তাঁদের সম্মান করবেন এবং উত্তম আচরণ করবেন। একইভাবে আমি তাঁর বাবা-মায়ের প্রতিও যথাসাধ্য সম্মান করব ইন শা আল্লাহ। তিনি নিজের বাবা-মায়ের হক যেমন আদায় করবেন তেমনি স্ত্রীর হকও ন্যায়ের সঙ্গে আদায় করবেন এবং কোনো পক্ষের প্রতি অবিচার করবেন না। আমি স্বভাবে নরম, সংবেদনশীল, কিছুটা চঞ্চল এবং খুবই হাসিখুশি মানুষ। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের পরিবারেও এমনই সুন্দর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ। তাই আমি চাই, আমার জীবনসঙ্গীও হাসিখুশি, মিশুক ও কোমল স্বভাবের হবেন। অতিরিক্ত গম্ভীর, রূঢ়, বদমেজাজী বা অহংকারী স্বভাবের কেউ অনুগ্রহ করে প্রস্তাব দেবেন না। তিনি আমার অনুভূতির মূল্য দেবেন আমাকে মানসিক প্রশান্তিতে রাখবেন এবং আমার ভালো-মন্দের খেয়াল রাখবেন। আমি বাহ্যিক লেবাসের চেয়ে তাকওয়া, আমল ও উত্তম চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দিই। আমি সমাজের সন্তুষ্টির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে চাই। ফরজ বিধান পালনের ক্ষেত্রে কোনো আপস করার ইচ্ছা নেই, ইন শা আল্লাহ। আমি নিজেকে খুব জ্ঞানী মনে করি না তবে ইলম অর্জনের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে আরবি ভাষা শেখার অনেক ইচ্ছা আছে। আমার ইচ্ছা আমার জীবনসঙ্গীও ইলমপ্রিয় হবেন এবং সম্ভব হলে আরবি ভাষা জানবেন বা শেখার আগ্রহ রাখবেন যাতে আমরা একসঙ্গে কুরআন ও সুন্নাহ আরও ভালোভাবে বুঝে আমল করতে পারি, ইন শা আল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ,আমি শরঈ সীমারেখা মেনে চলার চেষ্টা করি এবং কোনো নন-মাহরামের সঙ্গে কথা বলি না। তাই আমার প্রত্যাশা, আমার জীবনসঙ্গীও নন-মাহরাম নারী বা কাজিনদের সঙ্গে মেলামেশা, হাসি-ঠাট্টা বা অবাধ যোগাযোগ থেকে বিরত থাকবেন। আমি চাই, তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনগুলোর খেয়াল রাখবেন। মাসিক ব্যক্তিগত হাতখরচ দেওয়ার মানসিকতা রাখবেন। আমি স্কিন কেয়ার, পরিপাটি থাকা এবং পরিমিত সাজগোজ পছন্দ করি। তাই এসবকে অপ্রয়োজনীয় মনে না করে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করবেন। আমি স্বভাবগতভাবে আমার জীবনসঙ্গীকে একান্ত নিজের মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। তাই আমি সতীনের সংসার করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত নই। যাদের ভবিষ্যতে একাধিক বিয়ে করার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা রয়েছে, তারা অনুগ্রহ করে প্রস্তাব দেবেন না। এছাড়া অনুগ্রহ করে প্রস্তাব দেবেন না যদি আপনি শিরক বা বিদআতে লিপ্ত থাকেন বর্তমানে কোনো হারাম সম্পর্কে জড়িত থাকেন, নন-মাহরাম নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভ্যাস থাকে, শরঈ সীমার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেও বাধা দেওয়ার মানসিকতা রাখেন, অথবা বদমেজাজী, অতিরিক্ত গম্ভীর, রূঢ় বা অহংকারী স্বভাবের হন। বি.দ্র : আহলে হাদিস ছাড়া কেউ প্রস্তাব দিবেন না। লেবাসধারীরা ও দিবেন না। জ্ঞান অর্জন করতে চায় না এবং বই পড়ে না এরাও দিবেন না।
|