জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি সমূহ: দ্বীনদার, তাক্বওয়াবান, সত্যবাদি, ধৈর্য্যশীলা, লজ্জাশী্লা, পর্দানশীন, চক্ষুশীতলকারিণী(আমার জন্যে), নম্র-ভদ্র-সুচিন্তার অধিকারিণী। [অবাধ্য ও বেয়াদব পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।] মানুষ হিসেবে কেউই সব দিক দিয়ে পরিপূর্ণ বা পারফেক্ট নাও হতে পারে।আমিও কারো চাহিদামতো সকল দিক থেকে বা অনেকাংশে পারফেক্ট নাও হতে পারি বা হবো না।তাই অন্তত উপরোক্ত(আমার চাহিদানুযায়ী) উত্তমগুণগুলো শক্তিশালীভাবে আকড়ে ধড়ার এবং আল্লাহর জন্য নিজেকে উক্ত গুন সমূহের আলোকে গড়ে তোলার স্বচ্ছ ও পূর্ণ নিয়ত বা ইচ্ছা থাকলেও হবে, ইনশআল্লাহ। আরো কিছু কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য,স্বভাব-চরিত্র ও গুনসমূহ: - কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী হক-হালাল ও হারামের বিষয়ে সোচ্চার এবং হক-হালালের সাথে একেবারে আপোষহীন হওয়া।প্রকৃত মুসলিমাহ হিসেবে, নিজেকে আদর্শ নারী হিসেবে গঠন করতে এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়তে কট্টর(আপোষহীন) ইসলামপন্থী হবে বা সেরকম নেক ইচ্ছা-আকঙ্খা রাখবে। - স্বামীপরায়্ন মানসিকতার অধিকারীণী এবং স্বামীর প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা-রোমান্টিকতা, আস্থা, আন্তরিকতা, আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে উত্তম মান বজায় রাখার মনমানসিকতা থাকা। - স্বামী-সন্তান ও শশুর-শাশুরীর প্রতি দায়িত্বশীল ও যত্নশীল হবে এবং শশুর-শাশুরীর প্রতি শুধু ছেলের বউ হিসেবে নয় আপন মেয়ে হিসেবে সুন্দর সম্পর্কে থাকার চেষ্টা করবে নেক নিয়তে। -স্বামীর সাথে উচু আওয়াজে কথা বলা,ঝগড়া-বেয়াদবি বা তর্ক করার মতো নিচু-নিন্দনীয় কটু মানসিকতা রাখবে না, অভাবে ও বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করবে, আখিরাতমুখি উত্তম ও সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে প্রকৃত সফলতা অর্জনে ইসলামের দেখানো পথে কুরআন ও হাদিসের আলোকে স্বামীর নেতৃত্বে এবং স্বামীকে সহযোগিতার মাধ্যমে সংসার জীবন পরিচালনা ও সাংসারিক দায়িত্ব সম্পাদনায় নিজেকে উৎসর্গ করবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে।এক্ষেত্রে স্বামীর কোনো সিদ্ধান্ত ও আচরণ ভুল হিসেবে চিহ্নিত হলে বা মনে কষ্ট পাওয়ার মত হলে বা কুরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামের বিধান বহির্ভূত মনে হলে সেক্ষেত্রে ভালোবাসার সহিত উত্তম আচরণে ভুল শুধরে দিয়ে স্বামীকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতার মনোভাব ও চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। - স্বামীর ও পরিবারের কোনো স্বাভাবিক সাধারণ বিষয় বা কোনো আলাপ-আলোচনা,কথা,শব্দ অর্থাৎ যে্কোনো সাংসারিক তথ্য কোন তৃতীয় পক্ষের নিকট(সেটা নিজের বাবা-মা,ভাই-বোন এমনকি স্বামীর দিক দিয়ে কোনো আত্মীয়ের কাছে) অহেতুক প্রচার করার মানসিকতা পরিপূর্ণরূপে পরিহার করে চলবে।অর্থাৎ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কোনো তথ্যের আমানতের খেয়ানত করেবেনা ও সতর্ক থাকবে যাতে নিজেদের সংসার ও দাম্পত্য জীবনের কোন তথ্যকে পুঁজি করে শয়তান কোনোভাবে কারো দ্বারা ধোকা ও প্ররচনার সুযোগ নিয়ে সাংসারিক ও পারিবারিক শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্টের সুযোগ সৃষ্টি না হয়। - নিজের, স্বামী,সন্তান কিংবা পরিবারের কারো কোনো সমাস্যা,রোগ-শোক ও যেকোনো বিপদে ধৈর্য্যহারা হয়ে হতাশ,বিচলিত ও উত্তেজিত হবেনা।উক্ত সমস্যা মোকাবিলায় কোনো মানুষের নিকট ধর্না দিয়ে মানুষের ওপর নির্ভর করবেনা কেবল আল্লাহ ছাড়া।যাবতীয় বিষয়ে জন্যে আল্লাহর উপর ভরসা করবে,আল্লাহর কাছে চাইবে,প্রয়োজনে নামাজে,জায়নামাজে ও তাহাজ্জুদে নিমজ্জিত থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও সমাধান চাইবে এবং আল্লাহ প্রদত্ত বুদ্ধিমত্তা ও সামর্থ্য দিয়ে মোকাবিলা করবে।চাই যত বড় বিপদ হোক। - মোহরানার বিষয়ে আমি আমার সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে ছুটে চলবো না।অতএব, পাত্রী এবিষয়ে তার চিন্তাভাবনাকে যুক্তিসঙ্গত রেখে আমার অবস্থার উপর মানিয়ে নেওয়ার নৈতিক ও মানবিক চেষ্টা রাখবেন।মোহরানার বিষয়ে কার্পণ্যতার বিন্দুমাত্র মনোভাব আমার নাই।তবে, সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টার মানে হয়না।তাই, আমি আমার সামর্থ্যের বাইরে কোনো অমূলক শর্ত মানার অপচেষ্টা চালাতে চাই না। - এতটুকু বয়সে সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে ভালো আয়ের একাধিক সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছি বা নিজেকে সরিয়ে এনেছি শুধুমাত্র হালাল-হারাম বিবেচনা ও আদর্শিকতার সাথে সাংঘর্ষিক এবং জ্ঞান চর্চা বা পড়াশুনার পথে বাধা হওয়ার লক্ষণ দেখে।আমি এমনই।এমনই থাকবো,ইনশাআল্লাহ।তবে চেষ্টা ও পরিশ্রম করার মানসিকতা রাখি।এভাবে চেষ্টার মাধ্যমে হালাল উপায়ে উত্তম রিজিকের সন্ধানে ছুটে চলার পথে আল্লাহ যখন যতটা উপার্জন বা রিজিক আমার ভাগ্যে রাখেন আমি তাতেই সন্তুষ্ট থাকবো, ইনশাআল্লাহ।কোনো উচ্চ আয়ের সুযোগের লোভে বিবেচনাহীন যেকোনো দিকে আগেও ছুটিনি ভবিষতেও ছুটবো না, ইনশাআল্লাহ।তবে হালালভাবে আয় বৃদ্ধির চেষ্টা অবশ্যই থাকবে,ইনশাআল্লাহ। অতএব, আমার সাথে মানিয়ে নিতে জীবন সঙ্গীণীর ক্ষেত্রেও এমন মানসিকতা থাকা আবনশ্যিক। - দুনিয়ামুখি ভাব নিয়ে চলবে না, অধৈর্য্য হবে না।আল্লাহর কোনো ফয়সালার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করবেনা।আল্লাহর দেয়া প্রকৃত রিজিক তথা নেয়ামতের প্রতি শুকরিয়া আদায় পূর্বক ধৈর্য্য ধারণ করবে এবং সন্তোষ্টচিত্তে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে।আল্লাহর নেয়া'মত অল্প বা সংকুচিত হলেও তাতেই তুষ্ট থাকবে এবং আল্লাহর শোকর গোজার হবে এবং ধৈর্য্য ধারণ করবে।আর আল্লাহর নেয়া'মতের বর্কত অধিক হাড়ে বৃদ্ধি পেলে তাতেও শোকর আদায় করবে এবং অহংকারী ও অপব্যয়কারী হবে না। - দানশীল চরিত্রের অধিকারী হবে।সামর্থ্যানুয্যী দান-সাদাকাহ করার নেক ইচ্ছা রাখবে।অভাবের সময়ও দান-সাদাকাহ করার মানসিকতা রাখবে। - প্রকৃত ও নিয়মিত নামাজী ও পর্দানশীন হবে। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ ও কঠোর পর্দায় থাকার পাশাপাশি নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, বই পড়া তথা জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করবে, শারীরিক সুস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নিয়মিত শারীরিক ব্যয়ামের চর্চা করবে একই সাথে পরিবারের অন্য সদস্যদের এসব প্রয়োজনীয় চর্চায় তাগিদ দিবে এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের আমল-আখলাক-জ্ঞানচর্চা এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে সাংসারিক দায়িত্বে দা্ইয়িত্বশীল হিসেবে নিজেকে অনন্যমাত্রায় নেওয়ার প্রয়াস রাখবে সামর্থ্যানুযায়ী।এক্ষেত্রে প্রয়োজনে স্বামীর আর্থিক সামর্থের সাথে সামঞ্জস্য করেই সাংসারিক বিষয়গুলো মেইনটেইন করবে।স্বামীর আর্থিক স্বামর্থ্য যখন যেরকম সে অনুযায়ী।তবে কোনো অবস্থাতেই বুদ্ধিবৃত্তিক, সু-শৃঙ্খল আদর্শিক ও ন্যায়সংগত উত্তম জীবন যাপনে পিছিয়ে না থাকার বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে মেধাকে কাজে লাগিয়ে এসব কর্ম ও দায়িত্ব সম্পাদনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে, ইনশাআল্লাহ। -জিহাদী চেতনা ও কাজের মানসিকতা নিজে রাখবে এবং একই কাজে আমার(স্বামী) জন্যে সহযোগী হয়ে উঠবে,আমাকে সাহস যোগাবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আত্মত্যাগের মানসিকতায় ও শহিদী তামান্নায় দ্বীনের কোনো সঠিক কাজে ভুলেও আমার জন্য বাধা হয়ে দাড়ানোর চেষ্টা করবেনা বরঞ্চ সার্বিকভাবে সামর্থ্যানুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করবে ও ধৈর্য্য ধারণ করবে।একইভাবে আমার কোনো সিদ্ধান্ত,মত ও কর্মধারা বে-হক অন্যায় মনে হলে সেখানে অবশ্যই গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্তরিকতার সাথে বাধা প্রদানের চেষ্টা করবে তার সর্বচ্চোটুকু দিয়ে। -সাহসী চেতনা ও মানসিকতার হতে হবে যাতে দ্বীনের কাজে কোনো বাধাই বাধা না হতে পারে উভয়ের জীবন-সংসার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে। - দ্বীনে হক্বের কাজ করতে যেয়ে পারিপার্শীক দুনিয়াবী সকল ঝামেলা,বিপদাপদ, জেল-যুলুম ও যাবতীয় নির্যাতনের আশংকাকে পাশ ঠেলে(বা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়ে) হক্বের উপর টিকে থাকার নেক নিয়ত ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে।আমাকেও কখনো জেল-যুলুম বা হত্যা-মৃত্যুর ভয়ে হক্ব কাজ বা জিহাদি কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করবেনা বরং উৎসাহ দিবে ও হৃদয়ে সাহস যোগানোর চেষ্টা করবে। দ্বীনের কাজে আমি তেমন যোগ্য কিছু না তবে আমার প্রতিটি ক্ষুদ্র দ্বীনি নিয়ত ও প্রয়াসকে রদ করার কোন চেষ্টায় কখনো লিপ্ত হবে না। - দ্বীনে হক্বের উপর জোড়ালো গুরুত্ব দিয়ে নিজের সন্তানদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাপ্যের যোগ্য করে গড়ে তোলায় তীব্র প্রয়াসী হতে হবে।কোনো প্রকার অন্যায় আচরণ,শিক্ষা,আবদার ও আদর্শকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় না দিয়ে হক্ব ভালোবাসা,স্নেহ ও নিয়মতান্ত্রিক শাসনের মাধ্যমে আল্লাহর জন্যেই সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকবে।এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হক্ব শাসনে মায়া-ভালোবাসার কোনো প্রশ্রয় দিয়ে সন্তানের আল্লাহওয়ালা ভবিষ্যৎ নষ্ট করার সকল নির্বুদ্ধিতাকে পরিহার করে চলতে হবে, আল্লাহর জন্য।এভাবে হক্ব আদর্শিক শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহওয়ালা পরিবার গড়নের মাধ্যমে যোগ্য মানুষ ও নেতৃত তৈরি করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীনের কল্যাণে ভূমিকা রাখার চিন্তা রাখবে। - দ্বীনি শিক্ষা ও আদর্শে পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে পারিবারিক-সাংসারিকভাবে সার্বিকভাবে স্বামীর নেতৃত্ব(হক্বের উপর থাকা সাপেক্ষে) অবলম্বনের পূর্ণ মানসিকতা থা্কতে হবে। - একান্ত ও বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত ফেসবুক সহ কোনো প্রকার সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা স্মার্টফোন ব্যবহার এবং ইন্টারনেটে স্বাভাবিক পদচারণা থেকে পূর্ণরূপে বিরত থাকবে বা সেইরূপ মানসিকতা রাখবে। তবে, ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন এবং বিশ্বের ভাবধারা বুঝতে ও তার উপর নজর রাখতে এবং সচেতন মেধাবী জনগোষ্ঠী থেকে পিছিয়ে না থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় প্রয়োজনমাফিক ও শৃঙ্খলার সাথে আধুকনিক কম্পিউটার ও কম্পিউটারাইজড ডিভাইস ব্যবহার ও ইন্টারনেটে পদচারণার বিষয়ে যৌক্তিক ও পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিরাপদ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমার সহযোগিতা ও পরামর্শ থাকবে, ইনশাআল্লাহ। - আমার মা-বাবার প্রতি ভালোবাসাহীনতা ও অশ্রদ্ধাপূর্ণ মনোভাব ও আচরণ বিন্দুমাত্র লক্ষণীয় আমার কাছে বিন্দুমাত্রও ভালো লাগবেনা। অতএব, আমার মা-বাবাকে নিজের(অর্থাৎ তার নিজের মা-বাবার সাথেও উত্তম সম্পর্ক থাকতে হবে) মা-বাবার মতোই আপন করে নেয়া এবং ভালোবাসা,শ্রদ্ধা,সম্মান ও যত্নশীল আচরণের প্রতি খেয়ালপূর্বক অধিক গুরুত্বারোপ করে যত্নশীল থাকতে হবে। - আমি পছন্দ করবো না এমন সকল কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে।দ্বি-মত পোষণ করে সেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো প্রকার অবাদ্ধতা ও গোড়ামি মানসিকতা রাখবেনা একেবারেই। - সর্বপরি; একটি নিয়মতান্ত্রিক,শৃঙ্খল ও তাক্বওয়াপূর্ণ আদর্শিক পরিবার ও বংশ গঠনে মনযোগি ও প্রয়াসি হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিনের রাজি খুশির জন্যে।এমন পরিবার ও বংশ যেখান থেকে ভবিষ্যতের দ্বীন ইসলামের নেতৃত্ব দানের জন্য যোগ্য প্রজন্ম জন্মাবে এবং বেড়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।এই পরিবার হতেই পরবর্তী এক একটি পরিবার গড়ে উঠবে এক একটি শক্তিশালী ইসলামি দুর্গ হিসেবে,আর এখান থেকে বেড়ে উঠবে ইসলামের জন্যে যোগ্য নেতৃত্ব, ইনশাআল্লাহ। আর হতে হবে আল্লাহর উত্তম বান্দী, আমার জন্যে আদর্শ স্ত্রী, আমার সন্তানদের জন্যে আদর্শ মা এবং একজন যোগ্য রাব্বাতুল বাইত বা ঘরের রানী।আমিও আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টার সহিত আল্লাহর উত্তম বান্দা, আদর্শ স্বামী ও পিতা এবং পরিবারের জন্য আদর্শ রাহবার বা দায়িত্বশীল হওয়ার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবো, ইনশাআল্লাহ। >>> স্ত্রী হিসেবে যেমন নারী আমার পক্ষে একেবারেই কাম্য নয়: - নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করেনা,তাদের ভালোবাসেনা,যত্ন ও দেখভাল করে না, খোজখবর রাখতে চায় না। - অতিমাত্রায় অহেতুক-অপ্রয়োজনীয় বাক্যালাপে/গল্পে/তর্কালাপে ব্যস্ত থাকে। - অসত,মিথ্যাবাদী,তর্কে পটু,ঝগড়াটে,বেয়াদব ও নারীবাদী মনষ্কা এমন নারী স্ত্রী হিসেবে উত্তম হতে পারে না।অতএব, এমন নারী আমিও পছন্দ করিনা এবং চাইনা। - রাগী ও বদমেজাজী,অমনোযোগী,মেধাশূন্য ও বিবেকবর্জিত এবং ঘৃণীত মনমানসিকতার অধিকারীণী এমন নারী একেবারে বর্জিত বা পরিত্যাজ্য। - বে-নামাজী,বেপর্দাশীল,ফ্রি-মিক্সিং এ অভ্যস্ত ও অসদাচরণ তথা দুর্ব্যবহারের অধিকারী এমন নারী পুরোপুরিভাবে বর্জিত। - মায়া,মুহাব্বত,ভালাবাসা,আন্তরিকতা,বিনয় ও নম্র-কোমল ব্যবহারের যোগ্যতা বা গুনসমূহ নেই এমন নারী স্ত্রী হিসেবে অপছন্দনীয়। - অলস,অপরিচ্ছন্ন-অপরিপাটি,অগোছালো,অহংকারী নারী অপছন্দনীয় ও বর্জিত। /// - আমি আমার চাহিদার বিষয় যথা সম্ভব খোলাখুলি ও বিস্তারিত তুলে ধড়ার চেষ্টা করলাম।তবে এতে আমার চাহিদার পাশাপাশি আমার রুচিবোধ,ব্যক্তিত্ব এবং দুনিয়া ও আখিরাত নিয়ে আমার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনেকটাই পরিষ্কার হবে পাত্রী ও পাত্রীর অভিভাবকের কাছে, ইনশাআল্লাহ। আর আমার চাহিদানুযায়ী এতসব গুণ একজন মানুষের মাঝে নাইবা থাকতে পারে।সবদিক দিয়ে পারফেক্ট হওয়া সাধারণত পসিবল হয়না।আমিইতো- যেভাবে উপরে প্রত্যাশিত জীবনসঙ্গী নির্বাচনে চাহিদা ব্যক্ত করেছি সেই হিসেবে আমার যোগ্যতা মাত্রই না আছে। অবশ্য হ্যা, আমার এই বিস্তর বিবরণ পাত্রী ও পাত্রীর অভিভাবকের নিকট আমার ব্যক্তিত্ব ও ক্যারেক্টার বুঝতে সহায়তা করবে।এরপর কেউ আগ্রহ দেখালে বাকিটা সরাসরি আলাপকালে হয়তো আরো কিছুটা স্বচ্ছতা লাভ করবে,ইনশাআল্লাহ। ভালো গুণ ও যোগ্যতার সাথে দোষ-ত্রুটি ও অযোগ্যতাও একজন ভালো আদর্শবান মানুষের মাঝে থাকতে পারে।আমিও পারফেক্ট নই।আমারও দোষত্রুটি আর অযোগ্যতার অভাব নেই।তারপরও চাহিদাগুলো যথাসাধ্য বিস্তারিত তুলে ধড়ার দরূন আমাকে তারা আমার চিন্তা,ব্যক্তিত্ব ও রুচির সাথে চিনতে পারবে বা অন্তত আমার সম্বন্ধে একটা প্রয়োজনীয় সম্যক ধারণা পাবে পাত্রী পক্ষ,ইনশাআল্লাহ। শেষমেশ, আমার সকল তথ্য যেনে আমার প্রতি আগ্রহ পোষণ করবে এমন নারীর পক্ষে/মধ্যে উপরোক্ত সকল গুণ,আদর্শ ও অভ্যাস এর কমতি থাকলেও অন্তত ইসলামি দৃষ্টিকোন থেকে এবং উত্তম পরিবার ও প্রজন্ম গড়নে যতটুকুন না থাকলেই নয় ততটুকু থাকলে এবং বাকীটা না থাকা সাপেক্ষে পাত্রী যদি উক্ত(আমার উল্লিখিত চাহিদা,গুণ,যোগ্যতা ও আদর্শ) বিষয়ের আলোকে নিজেকে আল্লাহর জন্য পরিবর্তন ও গড়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার সাথে আমার চিন্তা,আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে নিজেকে সামিল করে আমার সাথে ক্ষণকালীন দুনিয়ায় বাকি পথটুকু চলতে আগ্রহী হয় তবে তার বিষয়টি আমলে নিতে ও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে আপত্তি থাকবে না আমার, ইনশাআল্লাহ। ______________________
|