জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
প্রথমত প্রকৃত দ্বীনদার ও তাক্বওয়াবান--নম্র, ভদ্র,হাসি-খুশি,সত্যভাষী ও জ্ঞানী তথা উত্তম আখলাকের অধিকারী এমন কাউকেই চাই,ইনশাআল্লহ ।কোন ভন্ড,প্রতারক,লেবাসধারী ও মিথ্যাবাদী হবেন না। বুঝার সুবিধার্থে নিজের পছন্দের গুণগুলো একটু বিস্তারিত লিখার চেষ্টা করছি, যদিও মুখে সব বলতে পারিনা____ আল্লাহ আমার জন্য যাকে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হিসেবে রেখেছেন, সে ই হবে জীবনসঙ্গী ইনশাআল্লাহ।নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।আমরা মানুষ হিসেবে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন আমাদের নিজস্ব পছন্দগুলো আল্লাহ কাছে দু'আ করে চাইতে পারি, এটাই। পাত্রকে সালাফী মানহাযের অনুসারী হতে হবে(অবশ্যই)।দলীল নির্ভর শির্ক,বিদআত ও কুফুরীমুক্ত আমাল করার চেষ্টা করতে হবে। প্রকৃত দ্বীনদার, তাক্বওয়াবান,ধৈর্যশীল,রাগনিয়ন্ত্রণকারী, দানশীল পরোপকারী, মধ্যমপন্থী(বাড়াবাড়ি ও শিথিলতার মাঝামাঝি অবস্থানকারী) তথা উত্তম আখলাকের অধিকারী এমন কাউকে চাই।।কেননা____ উত্তম চরিত্র নিয়ে পড়া হাদীসগুলো বারবার মনে পড়ে এর মর্যাদা এত বেশি যে---- আবু হুরায়রা (রা:)থেকে বর্ণিত :তিনি বলেন রাসূললু্ল্লাহ(সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল,কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশী জান্নাতে প্রবেশ করাবে?তিঁনি বলেন-তা হচ্ছে আল্লাহ ভীতি ও উত্তম চরিত্র।আর জিজ্ঞেস করা হল,মানুষকে কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করাবে??তিঁনি বললেন,তা হচ্ছে মুখ বা জিহ্বা ও অপরটি লজ্জাস্থান(তিরমিযী,বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৪৬২১,হাদীস সহীহ) এছাড়াও আয়েশা(রা:) থেকে বর্ণিত: আমি রাসূল(সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি ঈমানদার ব্যক্তিরা তাদের উত্তম চরিত্র দ্বারা নফল সিয়াম পালনকারী ও রাতে ইবাদাত কারীর মর্যাদা লাভ করবে'(আবু দাউদ,মিশকাত হা/৫০৮২,সনদ ছহীহ) এছাড়াও তিরমিজি ও আবু দাউদের অপর আরেকটি হাদীসে রয়েছে -নবী(সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন যাকে নম্রতার মতো গুন দান করা হয়েছে তাকে কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর যাকে নম্রতার গুণ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, সে কল্যান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিয়ামতের দিন বান্দার নেকীর পাল্লায় সবচেয়ে ভারী বস্তু হবে -উত্তম চরিত্র। নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীলভাষী ও বাচাল লোককে পছন্দ করেন না'। এই হাদীসগুলো এতটাই বিমোহিত করে আমায়, তাই এখানেও শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারিনি।হাদীসগুলো আমার জন্যও রিমাইন্ডারস্বরূপ বলা যায়। আমি এই হাদীসগুলোর উপর আমাল করে নিজেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সবদিক দিয়ে উত্তম আখলাকের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই,ইনশাআল্লাহ। তাই জীবনসঙ্গীও যেন এমন হয়, তাই ই চাই।আল্লাহ কবুল করুন।আমীন। আমি চাই আমি ও আমার জীবনসঙ্গী (উভয়ের ক্ষেত্রেই)- উভয়ে ফরজ ও ওয়াজিব আমালগুলো যথাযথ গুরুত্ব সহকারে আদায় করবো,ইনশাআল্লাহ ।এক্ষেত্রে পুরুষের জন্য যেমন:-জামআতের সাথে স্বলাত আদায়,ওয়াজিব দাড়ি সুন্নাহ মোতাবেক রাখা ইত্যাদি।এগুলোতে অবশ্যই সিরিয়াস হতে হবে।তবে যেসব ওযর এক্ষেত্রগুলোতে গ্রহণযোগ্য সেগুলো ব্যতীত।যেমন:অসুস্থতা,ভয়-ভীতি,বৃষ্টি ইত্যাদি কারণে বাড়িতে একাকি স্বলাত আদায় করা যেতে পারে।যেহেতু ওযরগুলো গ্রহনযোগ্য।অন্যথায় নয়। ফরজ ও ওয়াজিব বিধানের আমলগুলোতে কম্প্রোমাইজ করে করে,শিথিলতার সাথে দ্বীন মানা যাবে না।পাশাপাশি সাধ্যমতো কিছু নফল ইবাদাত করার চেষ্টা বা মানসিকতা থাকলে খুব ভালো হয়।কেননা হাদীসের ভাষ্যঅনুযায়ী আমাদের ফরজ ইবাদাতগুলোতে কোন ঘাটতি বা ত্রুটি-বিচ্ছুতি থাকলে আল্লাহ আমাদের নফল ইবাদাত গুলো দেখবেন-যেগুলো দ্বারা আমাদের ফরজের ঘাটতি পূরণ করা হবে। এছাড়া হাক্কুল্লাহ ইবাদ(আল্লাহর হাক্ব), হাক্কুল ইবাদ(বান্দার হাক্ব),কুরআনে হাক্ব ইত্যাদি আদায়ে সতর্ক হতে হবে। আল্লাহর হাক্বের পাশাপাশি বান্দার হাক্ব খুবই ভয়ানক।তাই আমি চাই -আমার জীবনসঙ্গী এই ব্যাপারগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করবেন,ইনশাআল্লাহ।আল্লাহ আমার জীবনসঙ্গীসহ আমাকেও এক্ষেত্রে তাওফিক দান করুন।তাই-আমার জীবনসঙ্গী নিজের মা-বাবা,ভাই-বোন,স্ত্রী,সন্তান,পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন সবার হাক্ব আদায়ে চেষ্টা করবেন বা মানসিকতা রাখবেন ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী,একে -অপরকে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকলে আল্লাহ'র অনুগ্রহে সহজ হয়। আল উজব(العجب)আত্মতৃপ্তি,আত্মগরিমা ইবাদাতের,আমলের ও ইলমের অহংকার মুক্ত থাকা।কেননা এটি তিনটি ধ্বংসাত্মক দিকের একটি।নিজেকে ইবাদাতে, আমলে অন্যের থেকে উত্তম না-মনে করা। এছাড়া ভিন্ন মতাদর্শের বা মাযহাবের কারো সাথে খারাপ আচরণ করবেন না বা হিংসাত্মক,তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মতো আচরণ করবেন না।আমি মনে করি- যে, যত বেশি জ্ঞানী সে, তার আচরণে- ততবেশি বিনয়ী ও নিরহংকারী।আমার জীবনসঙ্গী থেকে এমন আচরণ আশা করি যে--- কেউ যদি ভুল করে কিংবা খারাপ আচরণ করে তখন তিনি তা- উৎকৃষ্ট পন্থায় ধৈর্য্য সহকারে কুরআন -সুন্নাহের আলোকে সমাধান করার মানসিকতা রাখবেন।কেননা ভালো আচরণের বিনিময়ে ভালো আচরণ করা সহজ।কিন্তু খারাপের বিপরীতে ভালো আচরণ করা অনেক ধৈর্য্যের কাজ ও উত্তম চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। যা দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করা - অনেকের জন্যও, কষ্টকর বলা যায়।আপনি যদি আল্লাহ'র সন্তুষ্টির জন্য দাওয়াহ'র উদ্দেশ্যে ভালো আচরণ করেন- তখন হতে পারে আপনার শত্রুও বন্ধু হয়ে যেতে পারে আর নাহলেও আপনি এর বিনিময় আল্লাহ'র কাছে পাবেন আর দায়মুক্ত হতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। কেননা আল্লাহ তাআ'লা বলেন--"আর ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না।মন্দকে প্রতিহত কর তা দ্বারা যা উৎকৃষ্টতর; ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে যেন হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু"। (সূরা ফুসসিলাত আয়াত-৩৪)। একটা কথা মোটাদাগে বলতে চাই যে,- যা কিছু করুন না কেন-সর্বপ্রথম নিজের নিয়্যাতকে পরিশুদ্ধ করবেন-যে যা কিছুই করছেন- সবই আল্লাহ'র সন্তুষ্টির জন্য করছেন। অন্যথায় রিয়া কিংবা অন্যের খুশি'র জন্য,নিজের সুনাম-খ্যাতির জন্য হলে কষ্ট করবেন ঠিক'ই কিন্তু এর জন্য আল্লাহ'র কাছে কোন প্রতিদান পাবেন ই না,বরঞ্চ ভয়ানক শাস্তি-চেহারার ভরে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার কথা হাদীসে রয়েছে। এক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের বর্ণানাকৃত -১৫১৪নং হাদীস ই স্মরণ রাখা যথেষ্ট হবে যে-যেখানে শহীদ ব্যক্তি,ইলেম অন্বেষণকারী আলিম ব্যক্তি ও দানশীল ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে।শহীদ ব্যক্তি যুদ্ধ করেছে মানুষ তাকে বীর যোদ্ধা বলবে,আলিম ব্যক্তি ইলম অর্জন ও অন্যকে শিখিয়েছে অন্যরা তাকে আলিম বলবে।দানশীল ব্যক্তি দান করেছিল-তাকে দানশীল বলবে এই উদ্দেশ্যে। এই ৩ ব্যক্তি সবই করেছে- কিন্তু তাদের নিয়্যাত ছিল তাওহীদশূন্য, আল্লাহ'র সন্তুষ্টির জন্য নয়।বরঞ্চ সুনাম-সুখ্যাতি ইত্যাদি অর্জনের উদ্দেশ্যে।যার জন্য তাদেরকে উক্ত হাদীসে শাস্তিস্বরূপ মুখের ভরে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। কতটা ভয়ানক!!! আল্লাহ আকবার। আমার নিজের জন্যও এটা অনেক বড় রিমাইন্ডার। আমি আশা করি- আমি যদি ভুল করি বা কখনো খারাপ আচরণ করে ফেলি-তিনি তখন উত্তম ভাবে- আমার ভুল ধরে দিয়ে সংশোধন করে দেয়ার চেষ্টা করবেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝে এমন মানসিকতার পুরুষ আমার পছন্দ। কখন -কার সাথে কীভাবে আচরণ করতে হবে এমন উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষ হলে খুব ভালো হয়। দ্বীনের পথে চলতে গেলে নানাভাবে পরীক্ষা'র সম্মুখীন হতে হবে হয়তো।তখন ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতি গুলো পার করার চেষ্টা করা।স্বামী-স্ত্রী একে-অপরের দুঃখ -কষ্টে উত্তমভাবে পাশে থাকা, মেন্টাল সাপোর্ট দেয়া ইত্যাদি গুনাবলি'র হলে ভালো হয়।স্ত্রী'র সাথে নবীজি(সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সুন্নাহস্বরূপ আচরণগুলো করার চেষ্টা করা। কখনো একপাক্ষিক চিন্তাধারার না হওয়া-যে শুধু নিজের অধিকার ও পছন্দগুলোই শুধু স্ত্রী'র থেকে আশা করা- এমন নয়।বরঞ্চ উভয় জনের কথাই ভাববে আমার যেমন -স্ত্রী'র প্রতি অধিকার রয়েছে, পছন্দ ও অপছন্দের দিক রয়েছে, তেমনিই আমার স্ত্রী'রও আমার প্রতি অধিকার, পছন্দ ও অপছন্দ থাকতে পারে। এমন সুন্দর মানসিকতার হওয়া।আসলে সংসার জীবনে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই নিজেদের দায়িত্ব -কতর্ব্য, ভালোলাগা-মন্দলাগা,একে-অপরের মন বুঝা,পরস্পর বিশ্বাস, ভালোবাসা, পরস্পরের হাক্ব, অধিকার,ক্ষমা করা,সর্বাবস্থায় উত্তমভাবে পাশে থাকা,ধৈর্য্য ধরার চেষ্টা করা ইত্যাদি দিক লক্ষ্য রাখলে ও উভয়ে সচেষ্ট থাকলে আল্লাহ'র অনুগ্রহে বলা যায় সংসার জীবন অনেকটা ই কল্যানকর হয়। একসাথে চলতে গেলে,মান -অভিমান, রাগ,মতের অমিল ইত্যাদি হতে পারে।সেক্ষেত্রে রাগ পুষে না রেখে-- পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে নিজেদের মধ্যকার ভালোবাসা আল্লাহ'র অনুগ্রহে আগলে রাখার চেষ্টা করা।আমরা কেউ ই পারফেক্ট নয়।তাই যতই দ্বীন মানার চেষ্টা করি না কেন,ভুল হতেই পারে। অনেক সময় নানা পরিস্থিতিতে দ্বীন মানার ক্ষেত্রে গাফিলতি,হতাশা, অলসতা তথা কারো ঈমানের দূর্বলতা দেখা দিলে পরস্পরকে রিমাইন্ডার দেয়ার চেষ্টা করা। দ্বীনের পথে চলতে অনুপ্রেরণা দেয়ার চেষ্টা করা -কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে। বিয়ে করার ক্ষেত্রেও নিয়্যাত সহীহ রাখার চেষ্টা করবেন, অবশ্যই। যে এমন কাউকে চাই-যার সাথে দুনিয়াতে আল্লাহ'র হিদায়াতের পথে অটুট থেকে ঈমান নিয়ে যেন মরতে পারি+জান্নাতেও একসাথে থাকতে পারি।অবশ্যই,আল্লাহ'র কাছে চাইতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক জীবনযাপন করে এমন জীবনসঙ্গী ও পরিবার চাই।আল্লাহ কবুল করুন। এছাড়াও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঠিক তারবিয়াতের প্রতি লক্ষ্য রাখা।এক্ষেত্রে বাবা-মা উভয়ের জন্যই কথাটা প্রযোজ্য।মনে রাখা উচিত- মা -বাবার হাক্ব আাদায়ের আগে সন্তানের কিছু হাক্ব রয়েছে যেগুলো মা-বাবার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।কেননা সন্তান আল্লাহ'র পক্ষ থেকে আমানতস্বরূপ এর জন্যও আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হতে হবে হয়তো।তাই সন্তানকে জান্নাতের পথে অগ্রগামী করে গড়ে তোলার দায়িত্ব -কর্তব্যের প্রতি সচেষ্ট হওয়ার চেষ্টা করা, ইনশাআল্লাহ। তাহলে আশা করা যায়- সন্তানও বাবা-মা'র হাক্ব আদায়ে সচেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। আর স্ত্রী হিসেবে আমাকে দ্বীনি ইলম অর্জনে সাহায্য করা আর এক্ষেত্রে উনি নিজেও যদি আমার সহপাঠী হয় তাহলে আরো ভালো হয়।কুরআন নিয়ে তাদাব্বুর করা।নিজের অর্জিত ইলম নিজের পরিবার-স্ত্রী- সন্তানদের শিখানোর চেষ্টা করা। স্ত্রী'র ও পরিবারের পর্দার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাপোর্ট করা ও এমন পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার চেষ্টা করা-যেন আমার জীবনসঙ্গীকে কোন দাইয়্যুস হতে -না হয়। মা-বাবা,আত্মীয় -স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা।কেননা আমি চাই আমার সঙ্গী মা-বাবা ও আত্মীয় -স্বজনের যথাযথ হাক্ব আদায় করে জান্নাতের পথে অগ্রগামী হোক।এতে রিযিক ও হায়াত বৃদ্ধি পায় এমনটাও হাদীসে রয়েছে। এর বিপরীত আত্মীয়দের সাথে সম্পর্কছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না, বলেও হাদীসে রয়েছে। পরিবারে মা-বাবা,বয়োজ্যেষ্ঠ /বয়োবৃদ্ধ: -দাদা-দাদী থাকলে তাদের কার কি লাগবে- সে বিষয়ে সাধ্যমতে তদারকি করা।মানুষগুলো সারাজীবন থাকবে না।তবে তারা সবসময় এমনও নয় যে-সত্যি আপনার কাছে কিছু চায়।কিন্তু তাদের এভাবে খোঁজ -খবর নিলে -তারা খুব খুশি হয়- অন্তর থেকে দোয়া আসে।তাই এগুলোও লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করা ইত্যাদি চেষ্টা থাকা যে,যাতে সবকিছু ই হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।আল্লাহ'র প্রিয় বান্দা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলে যেন আমরা ঈমানের উপর অটুট থেকে পরকালের জন্য কামিয়াবী হাসিল করে -উত্তমভাবে মৃত্যু বরণ করতে পারি, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও গানশুনা,নাটক-সিনেমা দেখা,টাখনুর নিচে প্যান্ট পরা, মিউজিক যুক্ত নাশিদ শুনা, দাড়ি না রাখা এসব দিক কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও স্ত্রীকে নিজের পছন্দ -অপছন্দ আগেই জানিয়ে দিবেন (অবশ্যই ইসলাম সমর্থন করে এমন পছন্দ)। তাহলে স্ত্রী'র বুঝতে সহজ হবে কিংবা স্বামী'র অনুগত হতেও সুবিধা হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া হালাল -হারাম দৃঢ়ভাবে মেনে চলতে হবে।সর্বাবস্থায় তাক্বওয়া অবলম্বন করার চেষ্টা করা।অনলাইন বা অফলাইনে মাহরাম-ননমাহরাম মেইনটেইন করে চলতে হবে।অযথা ননমাহরামের সাথে চ্যাটিং,কমেন্টে কথা বলা যাবে না। নিজের দৃষ্টি সংযত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।নাফসের কু-প্রবৃত্তি থেকে আল্লাহ'র নিকট আশ্রয় চাওয়া। এটা খুবই ভয়ানক বান্দাকে ক্রমে অন্যায়,অশ্লীলতা ও আল্লাহ'র অবাধ্যতার দিকে লিপ্ত করে দিতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিভিন্ন অযথা ছবি আপলোড না করা।এতে যদি কোন ফায়দা থাকতো তাহলে ভিন্ন কথা।যেখানে অযথা ছবি তুলা নিয়ে -হালাল-হারামের ফতোয়া রয়েছে। এছাড়া হতে পারে -আপনার এই অযথা ছবিতে, অযথা লাইক,কমেন্ট করবে মানুষ। কিংবা কোন মেয়ের ননমাহরামকে দেখবে যার কারণে চোখের +মনের যিনার কারণ হবেন আপনি।এতে বরঞ্চ আপনিও গুনাহের অংশীদার হবেন, হয়তো। তাই এই বদ-অভ্যাস ত্যাগ করা বা না থাকলে ভালো হয়।যদি একান্ত জরূরী হতো বা ফেসবুক কতৃপক্ষ আপনার আইডেন্টিটি'র জন্য ছবি দেয়া বাধ্যমূলক করতো, তাহলে ভিন্ন কথা ছিল।তবে নিজের অতি প্রয়োজনে বা আইডেন্টিটির জন্য প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা। তাই এদিক গুলোতে একজন প্রকৃত মুমিন অথবা মুহসিন সর্বোচ্চ তাক্বওয়া অবলম্বন করবে বলে আশা করি।ফেসবুক ব্যবহার করলে বাজে পোস্টে লাইক, কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকবেন, অবশ্যই।এগুলোও আপনার আমালের অংশ হবে। পারলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভালো পোস্ট করতে পারেন-এতে দাওয়াহ'র কাজ হবে। আপনার জন্য তা সাদকায়ে জারিয়াহ হতে পারে ইনশাআল্লাহ। আমর বিল মারূফ(সৎ কাজের আদেশ), ওয়া নাহি আনিল মুনকার (অসৎ কাজের নিষেধ) করার চেষ্টা করা।হাত ও মুখ দিয়ে প্রতিহত করার সাধ্য না থাকলে,মন থেকে ঘৃণা করা(ঈমানের দূর্বলতম স্তর) নারী ফিতনা থেকে নিজেকে দূরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।এটা একটা পুরুষের জন্য খুবই ভয়ানক জিনিস। যা হতে পারে -একজন পুরুষের পদস্খলন ও দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ।বর্তমান প্রেক্ষাপটেও আমরা অনেক উদাহরণ দেখছি।আল্লাহ হিফাজত করুন।আপনি যতই আল্লাহ ভীরু হোন না কেন!শয়তান হারামকে কাছে টানার চেষ্টা করবে আর হালালকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইবে।স্ত্রী'র অগোচরে হলেও- নিজেকে আল্লাহ'র ভয়ে এসকল ফিতনা থেকে দূরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।মনে রাখা উচিত যে- স্ত্রী না দেখলেও, আপনি আল্লাহর মুরাক্ববাহ(পর্যবেক্ষণ) থেকে কখনোই মুক্ত নয়। অবশ্যই সম্পূর্ণ সুন্নাহ মোতাবেক বিয়ে করার নিয়্যাত থাকতে হবে।পাত্রীপক্ষ থেকে যৌতুক, বিভিন্ন জিনিস আশা করা যাবে না। স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই, উভয়ের পরিবারের প্রতি সদাচরণ করা,বিনয়ী,নম্র ও ভদ্র আচরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে ।কেউ কারো পরিবারকে ছোট করবে না, ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্র গুলো নিজেরা ভালো থাকার চেষ্টা করা।আল্লাহ'র সন্তুষ্টির জন্য। স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই, উভয়ের প্রতি কেয়ারিং হওয়ার চেষ্টা করা।পরিপাটি ও হাস্যোজ্জ্বল থাকার চেষ্টা করা।একে-অপরের মন বুঝার চেষ্টা করা ইত্যাদি। এছাড়া ফিকহুন নিকাহ,তালাক্ব ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা-মাসায়েল সম্পর্কে সহীহ ইলম অর্জন করা ও স্বামী -স্ত্রী'র হাক্ব সম্পর্কে জানা বা জানার চেষ্টা করা ইত্যাদি । বিশেষ সংযোজন :📌-পূর্বেই পাত্রীর কোন প্রকার ছবি দেয়া হবে না,ভিডিও কলে কথা বলা যাবে না, অযথা চ্যাটিং করে কথা বলা যাবে না।যারা এসব আশা করেন--তারা প্রস্তাব না পাঠানোর অনুরোধ। তবে মাহরামের উপস্থিতিতে সরাসরি পাত্রীর সাথে কথা বলা ও পাত্রী দেখা যেতে পারে। 📌প্রবাসীরা প্রস্তাব না পাঠানোর অনুরোধ। তবে দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য স্ত্রীকেসহ কিছু সময়ের জন্য নিয়ে গেলে ভিন্ন কথা। 📌 হারাম রিলেশনে থেকে পরিবারের পীড়াপীড়িতে অন্য পাত্রী দেখছেন ---এমন পাত্র হলে কঠোরভাবে প্রস্তাব পাঠানো নিষেধ। 📌নামায পড়েন আবার গান শুনেন, সিনেমা দেখেন এমন হলে প্রস্তাব- না পাঠানো-অনুরোধ। 📌দাড়ি নেই,টাখনুর নিচে প্যান্ট পরিধান করে, প্রস্তাব পাঠানো নিষেধ । 📌পর্দায় রাখতে পারবেন না,প্রস্তাব পাঠানো নিষেধ। 📌এতই ব্যস্ত যে কুরআন শিখার সময় হয়নি,কিংবা শিখলেও নিয়মিত কুরআন পড়ার সময় হয়না, প্রস্তাব পাঠানো নিষেধ ইত্যাদি ইসলাম পরিপন্থী কাজে জড়িত হলে প্রস্তাব পাঠানো নিষেধ। 📌পাত্র দ্বীনদার নয়,অথচ দ্বীনদার পাত্রী খুঁজচ্ছেন,প্রস্তাব পাঠানো নিষেধ ইত্যাদি। 📌 সালাফী/আহলে হাদীসের অনুসারী ছাড়া অন্য মাযহাব(যেমন:হানাফী) বা অন্য মানহাযের হলেও প্রস্তাব পাঠাতে-- না করি। 📌📌অযথা নক করা---অথচ বিয়ের ব্যাপারে এতটা গুরুত্ব /সিরিয়াসনেস নেই,পাত্রের অভিভাবকের কথাবার্তা অস্পষ্ট/অস্বাভাবিক-- পাত্রীপক্ষকে সুস্পষ্ট মতামত দিতে পারে না---মতামত জানাতে- গিয়ে বিভিন্নরকম কথা বলা কিংবা ৩/৪ মাস সময় লেগে যায়-অর্থাৎ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন এমন মানুষ হলেও নক না--- করার জন্য অনুরোধ করি। কেননা, জেনারেল লাইন থেকে আসা-- অনেকেই দ্বীনদার সঙ্গী খুঁজতে গিয়ে এমনিতেই ---পরিবার বা নানা প্রতিকূলতায় অনেক স্ট্রাগল করে, তার উপর এইটাইপ আচরণগুলো অনেক পীড়াদায়ক। আলহামদুলিল্লাহি আ'লা কুল্লি হাল। 🌻আমার রিকোয়ারমেন্টে উত্তম জীবনসঙ্গী যেমন চাই, তেমনই ভালো সুন্দর মানসিকতার উত্তম/ধার্মিক পরিবার হলে খুব ভালো হয়।যারা ভালো( মানসিকতার /আচরণের) বিবেকবান সুন্দর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হবেন,ইনশাআল্লাহ অযথা পাত্রীর পরিবারকে পেরেশানিতে ফেলবে না।কথার আমানতদারিতা রক্ষা করার সাধ্যমতো চেষ্টা করে।(সমস্যা থাকলে ভিন্ন কথা)...... 📌📌 আমি সালাফী মানহাযের ---তাই সালাফী মানহাযের কাউকে চাই,ইনশাআল্লাহ। তবে এক্ষেত্রে আমি কাউকে ভুল -সঠিক বলে সার্টিফাইড করছিনা।তা করার মতো জ্ঞানও আমার নেই।তবে দুজনে একই মাযহাব বা মানহাযের না হলে -ইবাদাত,আমাল,ইলম অর্জনে নানা মদভেদ হতে পারে। তাই একই মানহাজের হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিছু কথা- ব্যতিক্রম হতে পারে। ভুল -ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে নেয়ার অনুরোধ। পরিশেষে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করার চেষ্টা করার অনুরোধ। আমার ফ্যামিলিতে কেবল আমিই আল্লাহ'র অনুগ্রহে সালাফি মানহায অনুসরণের চেষ্টা করি(যতটুকু জানি/জেনেছি) --তাই আল্লাহ'র হুকুমে বিয়ের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লহ --পাত্রকে আগেই সম্পূর্ণ সুন্নাহ মোতাবেক বিয়ের দিকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে বা বড়দের বলে দিলে ভালো হয় যে --পাত্রীর সম্মতির নেয়ার ক্ষেত্রে কেবল পাত্রীর মাহরাম যেন সম্মতি নিতে যায়।আমার ফ্যামিলি ইনশাআল্লাহ -সুন্নাহ মোতাবেক বিয়ের বিরোধীতা করবে না, আশা রাখি।তবুও গতানুগতিক বিয়েতে সম্মতি নেয়ার ক্ষেত্রে পাত্রীর মাহরাম ছাড়াও কিছু লোক ---পাত্রীকে কবুল বলানোর জন্য পাত্রীর নিকট যাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে ।যা সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ। তাছাড়া সুন্নতী বিয়েতেও কিছু বিষয়কে সুন্নাহ মনে করা হয়,যা আসলে সুন্নাহ নয়।তাই পাত্রকে এদিকে সর্বোচ্চ চেষ্টার মানসিকতা রাখার অনুরোধ করি--যেন বিয়ে হলে এমনই হয় --যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকবে+সুন্নাহ মোতাবেক হবে + বরকতপূর্ণ হবে,এতে ইবাদাহও হবে ইনশাআল্লহ বায়োডাটা যদি ভালো লাগে তবে আগে পাত্রের বায়োডাটা বিস্তারিত দেয়ার অনুরোধ। পাত্র ও পাত্রের পরিবারের পছন্দ -অপছন্দ ও মানহায ইত্যাদি সব বিষয় বায়োডাটা আকারে বিস্তারিত দেয়ার অনুরোধ। আল্লাহ'র ভয় মনে রাখা।কোন প্রকার মিথ্যা তথ্য ও প্রতারণার আশ্রয় না নেয়া। বি:দ্র:- (কর্তৃপক্ষের জন্য) বায়োডাটা জমা দেয়ার কথা এখন আম্মুকে জানিয়েছি।আব্বুকে আগে বলেছিলাম--- আব্বু নিষেধ করেনি।তবে মেইন অভিভাবক আব্বুই। (লেখার অপশান না থাকাই,এখানে বললাম)
|