| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
হ্যাঁ, ২০২০ সাল থেকে। আগে পড়তাম, কিন্তু নিয়মিত ছিলাম না। ফরজের পাশাপাশি ১২ রাকাআত সুন্নাত আদায়ে এবং প্রতিদিন তাহাজ্জুদ পড়াকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছি। তাহাজ্জুদ মিস হলেও কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিদিন ফজর শুরু হতেই উঠে যাই। রাত ১১ টার আগে ঘুমানোর এবং ফজরের পরে না ঘুমানোর চেষ্টা করি। নামাজের পরের, সকাল, সন্ধ্যা, ঘুমানোর আগের দু'আ ও জিকিরের আমল করি। 📍 মোটামুটি দ্বীনের বুঝ আসার পর প্রথম প্রথম সাপ্তাহিক রোজা, মাসিক রোজা রাখতাম, তারপর অনেকদিন রাখিনি এখন আবার গুরুত্ব সহকারে রাখছি। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
হয়না, ইন শা আল্লাহ। আগে ফজর বা অন্য ওয়াক্ত কাযা হতো, আল্লাহুম্মাগফিরলি। এখন সময়মতো এবং আউআল ওয়াক্তে নামাজ পড়াকে গুরুত্ব দিতে চেষ্টা করি। নামাজ ঠিক রেখে দৈনন্দিন কাজকর্ম করি। অকারণে বাইরে যাওয়া হয়না, প্রয়োজনে গেলেও মাগরিবের পর যাওয়ার চেষ্টা থাকে যাতে নামাজ কাযা না হয়। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কখনো শিখা হয়নি তাই খুঁটিনাটি অনেক শিখার বাকি আছে। YouTube এ কিছু নির্ভরশীল channel অনুসরণ করি। Online হোক বা offline সাবলীলভাবে কোরআন তিলাওয়াত শিখতে চাই, ইন শা আল্লাহ্। তিলাওয়াতের অডিও শুনে মুখস্থ করার চেষ্টা করি। কিছু সংখ্যক সূরাহ মুখস্থ করেছি। প্রতিদিন কুরআন পড়ার এবং কাজের মধ্যেও শোনার চেষ্টা করছি। প্রতি শুক্রবার সূরাহ কাহ্ফ পড়ি।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
১) ২০২৪ সালে PCOS (Polycystic Ovarian Syndrome) ধরা পড়েছে। এটা কোনো রোগ নয়, হরমোনাল ইমব্যালেন্সের কারনে এমন হয়। এর অনেক গুলো লক্ষণ বা জটিলতা হয়ে থাকে, আমার মধ্যে খুব কম সংখ্যক জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি মেডিসিন ভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশ্বাসী নই। ইন শা আল্লাহ, সঠিক উপায়ে জীবনব্যবস্থা পরিবর্তন করলে সব রোগ এমনকি ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব আমি এই নিতিতে বিশ্বাসী। অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করলে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। অযথা বিভ্রান্ত হবেন না। ২) আমার upper second premolar, upper first molar এই দুটি দাঁতে root canal করানো হয়েছে, upper first molar ২০২৬ এর রমজান মাসে জরুরী কারণে ফেলে দিতে হয়েছিল। এখন bridge cap teeth লাগানো আছে।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
মাজার নির্মাণ করা গুনাহ। একে ঘিরে যেসব কর্মকাণ্ড হয় তা শিরক।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
বই পড়ার অভ্যাস এখনো হয়নি। ইসলামিক লেকচার, তাফসীর শোনার চেষ্টা করি।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
আহমদুল্লাহ, ডা. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর, Assim Al Hakeem সহ আরো অনেকে। আমার মানার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু যারা সর্বাবস্থায় আপোসহীন থাকে তাদেরকে পছন্দ করি, বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রবীণ আলেমদের (রাহিমাহুমুল্লাহ ওয়া হাফিযাহুমুল্লাহ জামী'আন)।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
📌 শখ: আমার শখের কোনো শেষ নেই। ২০২২ এর বন্যার আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর গাছের (house plants) নেশা ছিল, বন্যায় অনেক গাছ নষ্ট হওয়ায় ঐদিক থেকে মনোযোগ উঠে যায়। এখন মেশিনে সেলাইয়ের কাজ, Hand embroidery, crocheting, crafting etc. সবই YouTube দেখে শিখছি। Perfect হোক বা imperfect, Handcrafts এর জিনিসপত্র সংগ্রহ করে রাখি, যাতে যে সময় যেটা মন চায় করতে পারি। ***বর্তমানে দ্বীন পালনে যেসব ঘাটতি আছে সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি। (শতভাগ তো কখোনোই সম্ভব নয়,কারণ আমরা মানুষ, বুঝে না বুঝে ভুল পথে চলবো, আবার তাউবাহ করে রবের দিকে ফিরে আসবো) তাই ঐসব আপাতত বাদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার শখ আছে। 📌 পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ: দ্বীনের ক্ষেত্রে, একজন মু'মিন অথবা মু'মিনাহ এর যেসব বিষয় পছন্দ-অপছন্দ হওয়া উচিত, আমার ক্ষেত্রে ও তাই। দুনিয়াবি ক্ষেত্রে, খুব সাধারণ ভাবে জীবনযাপন কর। সবকিছু একটু গুছিয়ে রাখতে, নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করি। বাইরে রাস্তায় বসে খাওয়া, রেস্টুরেন্টে খাওয়া একদমই পছন্দ না। বাইরের খাবারও খুব একটা পছন্দ করি না, যতটা সম্ভব ঘরে তৈরির চেষ্টা করি। যারা আমার মতো না তাদের কাছে একটু বেশি বেশি মনে হতে পারে। শুধু বলার জন্য বলছি, আমার কিছু নির্দিষ্ট রং পছন্দ না, চোখের সামনে থাকলে অশান্তি লাগে। সেটা দেয়ালের রং হোক, কাপড়ের রং হোক আর ঘরের ব্যবহার্য জিনিস হোক। ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্র যথাসম্ভব প্রাকৃতিক, ছিমছাম, সুন্দর তবে সাদামাটা হবে। যেমন: আমি মাটির, কাঠের, বাঁশ বেতের, সিরামিকের জিনিসপত্র পছন্দ করি। যেকোনো জিনিস যেমন কাপড়চোপড়, জুতা ব্যবহার্য ডিভাইস উচ্চমূল্যের হওয়া কখনোই জরুরি নয়, কিন্তু মানসম্মত হতে হয়। খুব বেশি Skincare সামগ্রীও ব্যবহার করিনা, কিন্তু যে তেলটা ব্যবহার করবো ওটা যেন প্রাকৃতিক হয়, Chemical based জিনিসপত্র পছন্দ করি না। অনেক টাকা-পয়সা, সোনা-গয়না, বাড়ি-গাড়ি হবে এসব কখনো স্বপ্নেও মাথায় আসে না। ছোটখাটো শখগুলো পূর্ণ হলেও ভালো, অপূর্ণ থাকলেও হয়তো খুব অসুবিধা হবে না। আমি মনে করি আমার দুনিয়াবি মোহ কমই আছে, প্রয়োজনটুকু আমার মনমতো হলেই হয়। আবার এই চিন্তা ও করি যে শখ, ইচ্ছা যত যাই থাকুক আল্লাহ চাইলে হয়তো সবকিছু বাদ দিয়ে একদম সাদামাটা জীবনযাপন করাও সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ। সবসময় হাসি তামাশার মধ্যে থাকাও অপছন্দ করি। কারণ তখন আল্লাহর কথা মনে থাকে না। কম হাসা, কম কথা বলার চেষ্টা করি। ছোটবেলা থেকেই সাজগোজের প্রতি একদমই টান নেই, টুকটাক কিনতাম কিন্তু ব্যবহার করতাম না। ভবিষ্যতে যদি সাজসজ্জা করার ইচ্ছা জাগে, তবে তা অবশ্যই ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, ইনশাআল্লাহ। নিজের ছবি তুলি না। বিনা প্রয়োজনে ছবি তোলা এবং সংরক্ষণ করা নাজায়েয মনে করি। একসময় মোবাইল ফোটোগ্রাফি এর পাগল ছিলাম। Friend circle বলতেও কিছু নেই। Facebook বা অন্যান্য social media platform এ কোনোও এক্টিভিটি নেই। আমাদের বিড়াল আছে। আদিখ্যেতা বা শখের বশে রাখি এমন নয়। আশপাশের মানুষ পশুপাখির সাথে তুচ্ছ ব্যবহার করে দেখে খুব কষ্ট লাগে। সবাইকে তো একা ভালো রাখতে চাইলেও সম্ভব না। বিড়ালের প্রতি একটু বেশী মায়া জন্মেছে, তাই ঘরে আশ্রয় দেই এবং ওদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা আমরাই করি। এই মনোভাব আজীবন থাকবে ইন শা আল্লাহ, তাই এখানে লিখলাম। 📌স্বপ্ন: দুনিয়ায় আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যার ফলে অশান্ত মন শান্ত হবে এবং আখিরাতে যার পরিণতি হবে জান্নাতুল ফিরদাউস আল-আ'লা। ইন শা আল্লাহ। 📍রং - কালো ও না শ্যামলা ও না, আল্লাহ যেমন বানিয়েছেন তাতেই খুশি, আলহামদুলিল্লাহ।
|