| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
আর রাহিকুল মাখতুম,সিরাতে আয়েশা,বিয়ে:অর্ধেকদ্বীন,আত্নার ওষুধ,বেলা ফুরাবার আগে,এছাড়াও আরও অনেক বই আছে।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন হলো নিজের সম্পর্কে বলা।তারপরেও চেষ্টা করছি।আমি স্বভাবগত ভাবে একটু চুপচাপ।এজন্য আমার পরিচিত অনেকেই মনে করে আমি একটু রাগী।তবে আমার একটুও রাগ নেই।কিন্তু একটু অভিমানী স্বভাবের (অবশ্যই উপযুক্ত কারনে)।কোনো দায়িত্ব পেলে সেটা পালন করতে অটুট থাকি। আমি একটু চাপা স্বভাবের মানুষ, এই অভ্যাসটা আমারআব্বুর কাছ থেকে পাওয়া আলহামদুলিল্লাহ। কষ্ট গুলো নিজের মধ্যে রাখতে ভালোবাসি।মন খারাপ থাকলে সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হলো সিজদাহ।শুধু আল্লাহকেই কষ্টগুলো নিবেদন করতে ভালো লাগে। আমি খুব নরম মনের মানুষ।কেউ দরদমাখা এবং মার্জিত ভাষায় কিছু বললে সহজেই বুঝতে পারি।আমার নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ যেখানে খাস দিলে আল্লাহকে স্মরন করা যায় এবং দ্বীন পালনও অনেকটা সহজ হবে।পারিপার্শ্বিক পরিবেশে অনেক বিষয়ের সাথে আমার যুদ্ধ করেই আমার টিকে থাকা।এজন্য দ্বীন নিয়ে একটু বেশি ভীতু।এমন একটা পরিবেশ চাই যেখানে নিজের কষ্টের দিন গুলো মনে থাকলেও স্বস্তির সাথে আল্লাহকে অশেষ শুকরিয়া জানাতে পারবো ইন শা আল্লাহ। মন খারাপ থাকলে ইসলামিক বই পড়ি।ইসলামিক বই পড়তে ভালো লাগে।ইচ্ছা আছে স্বল্প পরিসরে একটা লাইব্রেরি করার যেখানে শুধু ইসলামিক বই থাকবে যেন কেউ আমার বাড়িতে এলে ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জর্নে আগ্রহী হয়,চেষ্টা এবং মেহনত জারি আছে ইন শা আল্লহ। বিড়াল ও পাখি অনেক পছন্দ। পাখি পালনের শখটা পুরন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। তবে বিড়াল পালনের শখ টা পুরন করতে পারিনি এখনও। ইচ্ছা আছে ইং শা আল্লহ। আমার প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বাসার বাইরে বের হতে ইচ্ছে করেনা।বেশি মানুষ জন পছন্দ হয়না কারন মানুষ যত বেশি,গল্প তত বেশি,সেখানে গীবত চর্চা হয়।ইচ্ছা না থাকলেও শুনা লাগে।এজন্য এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি লোকসমাগম। তবে দ্বীনি কোনো মজলিস হলে ভালো লাগে।দ্বীনি সহবোধ ভালো লাগে, প্রয়োজনের তাগিদে যেতে হলেও নিজে যতটুকু শিখছি, সেটার ওপরেই চেষ্টা করি দাওয়াত দেওয়ার। আমি একটু গোছালো স্বভাবের, অগোছালো কিছু ভালো লাগেনা,রান্না করতে ভালো লাগে,নতুন নতুন রেসিপি বানানোর চেষ্টা করি,যেকোনো হালাল খাবারই আমার পছন্দ। অপচয় করা, উচ্চ শব্দে কথা বলা পছন্দ করি না,আমি একটু ইমোশোনাল, একটু প্র্যাকটিকাল তবে সিচুয়েশন অনুযায়ী,যার ভতরে ইমোশোন নেই তার ভেতরে মনুষ্যত্ব বোধ হারিয়ে যায় বলে আমি মনে করি।কষ্টের মুহুর্তে সবর করার,চুপ থাকার চেষ্টা থাকে।জটিলভাবে কিছু দেখিনা,সহজ এবং সাবলীল ভাষা আমার মনে মায়ার সৃষ্টি করে।বৃষ্টি অনেক ভালো লাগে কারন আল্লাহর রহমতের নিদর্শন বৃষ্টি। আমি এমন একটা মানুষ যাকে একটু আলোর পথে হাটতে শেখালে পরের স্টেপে যাবার রাস্তা নিজেই খুঁজে নিব,হতাশ হই না সহজে।বাবা মারা যাওয়ার পর আল্লাহ অনেক ধৈর্য দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলা পছন্দ করিনা, নিজেও স্পষ্টভাষী, মিথ্যা বলা অপছন্দ।আমাকে কেউ একটু আপন করলে তাকে আগলে রাখার ইচ্ছা টা আখিরাত পর্যন্ত ইং শা আল্লাহ । আমার খুব বড় কোনো সপ্ন নেই।আমি অনেক অল্পেই খুশি হয়ে যাই।প্রিয় মানুষদের গুরুত্ব দেই অনেক এবং প্রিয় মানুষের কাছে গুরুত্ব পাওয়াটাই অনেক মনে হয়। আমি পরিবারে ছোট তাই সবাই মনে করে আমি এখনো ছোট। তবে একজন মেয়ে হিসেবে যতটুকু শেখা প্রয়োজন সবই শিখেছি আলহামদুলিল্লাহ।রান্না -বান্না, সেলাই,বিভিন্ন হাতের কাজ,ডিজাইনের মধ্যে ডিজিটালি এবং হাতে এরাবিক ক্যালিগ্রাফি,ডিজিটালি গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং হাতে করা পেইন্টিং থেকে শুরু করে সবই শেখার সুযোগ হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।নিজের কাজ গুলো নিজেকে করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। যেকাজ গুলো জানি এগুলো দিয়েই সাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা এবং চেষ্টা জারি আছে ইন শা আল্লহ।আল্লাহ ছাড়া কারো থেকে দয়া,অনুগ্রহ পেয়ে বাঁচতে ইচ্ছে নেই।আল্লাহ তা'আলা যদি তৌফিক দেন, আমাকে দুঃস্থ অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর উসিলা করেন, তবে সুযোগ টা কাজে লাগাতে চাই ইন শা আল্লহ। আমার পরিবারে আমি মায়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ফ্রী হলেও, আব্বুর সাথে আমার বন্ডিং টা সবথেকে বেশি ছিলো,আব্বু যতদিন বেঁচে ছিলো জীবনটাকে অনেক রঙিন মনে হত।দুনিয়ার আসল রুপ কখনো বুঝতে পারিনি।আব্বুকে ছাড়া কোনো কাজ আমার সম্পূর্ন হতো না।আব্বুর ওপর ডিপেন্ড করতাম অনেক।আর আমার পরিবারের মাথা হিসেবে আব্বুও আম্মুকে আমাকে ভাইয়াকে সবাইকে হেল্প করতো অনেক।এলাকার মানুষের মুখে এখনও আব্বুর নাম উঠলেই সম্মানের জায়গা টা পাই আলহামদুলিল্লাহ।আমার জীবনের অর্ধেকের বেশি গল্প আমার আব্বুকে নিয়ে কারন এই মানুষটার অবদান আমার জীবনে সবথেকে বেশি।চলে গিয়েও আমাকে লড়াই করে বেঁচে থাকার উছিলা হয়ে গেছেন আলহামদুলিল্লাহ।শিক্ষক ছিলেন আব্বু শিক্ষাই দিয়েই গেছেন বলা যায়।শেষ নামাজ আমার সাথে ছিলো ভাবতেই ভালো লাগে আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।গুরজনদের প্রতি সম্মান এবং তাঁদেরকে আগলে রাখা আমার কাছে অনেক সম্মানের মনে হয়।জীবনে যতবার সুযোগ হয়েছে পরিবারের গুরুজনদের সন্তানের মত আগলে রাখার চেষ্টা করেছি এবং সকলের উচিত চেষ্টা করা। প্রত্যেক মুমিন বান্দার সপ্ন থাকে জীবনে একবার হলেও হজ্জে যাবে।জীবনসঙ্গীর সঙ্গে প্রথম সফর যেন হয় আল্লাহর ঘর,তাঁর কাছে এটাই প্রথম এবং শেষ চাওয়া।নিজের মা এবং শশুড়, শাশুড়ি (যদি থাকেন) সবাইকে নিয়ে একসাথে হজ্জ করার ইচ্ছে ইং শা আল্লাহ। উত্তরবঙ্গ ও ছোটবেলায় ঢাকা ছাড়া, আমার অন্য কোথাও কখনো যাওয়া হয়নি।তবে সামর্থ্য আর সুযোগ দুটোই থাকলে ভ্রমন করার ইচ্ছা আছে।সজ্জিত রঙ্গিন ধোঁকাময় দুনিয়ার জীবনের থেকে সাদামাটা সহজ সরল জীবন ভালো লাগে।একদম সাদামাটা! যেটাকে বলে একেবারে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট......! দ্বীনের দ্বায়ী হয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছে,দ্বীনকে আকড়ে ধরে।কুরআনের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করার বড্ড বেশি লোভ হয় ইং শা আল্লহ।আখিরাতে যেন আল্লাহকে অনেক আপন করে পেতে পারি,আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি যেন নাজিল হয় আমার ওপর সর্বদা এই চেষ্টাই থাকবে শেষ পর্যন্ত ইন শা আল্লাহ। জাঝাকুমুল্লাহ খইরন।
|