| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি অবশ্যই সালাফী মানহাজ পালন করি, সালাফগণ যেহেতু রাসূল (স.) এর সাথে থেকে ইসলাম কে সবচেয়ে সহজ এবং সুন্দর ভাবে বুঝতে পেরেছে, তাই তাদের মানহাজ বা পথ অনুসরণ করাই আমার কাছে সর্বোত্তম মনে হয়। কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনা অনুসারে জীবন পরিচালনা করাই আমার উদ্দেশ্য। আমি যেভাবে দ্বীন পালন করি তার অল্প কিছু বৈশিষ্ট্য আমি বলতে পারি, আমি দ্বীনী ইলম অর্জন করার জন্য বিভিন্ন বই কিনার এবং পড়ার চেষ্টা করি, ইসলামী আকীদা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই। আমি বিশ্বাস করি (বিজ্ঞ আলেমদের ফতোয়া অনুসারে) যে এক ওয়াক্ত সালাত ইচ্ছা করে ছেড়ে দিবে সে কাফির, আর কাফির আর মুমিনের মধ্যে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা সম্ভব না, তাই কেউ যদি নিজ ইচ্ছায় এক ওয়াক্ত সালাত ছেড়ে দেওয়ার ও মন-মানসিকতা রাখেন, তাহলে যোগাযোগ না করার অনুরোধ থাকবে। আমি চেষ্টা করি আওয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায় করার ইনশাআল্লাহ। সকল ধরণের বিদআত থেকে আমি দূরে থাকার চেষ্টা করি ইনশাআল্লাহ, ইসলামে নব্য কোনো উদ্ভাবন নিষিদ্ধ। আমাদের দেশের সবচেয়ে Common বিদআত যেমন মিলাদ, সালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত সহ যত ধরণের নব্য উদ্ভাবন আছে, এগুলা থেকে দূরে থাকা আপনার ও বৈশিষ্ট্য হতে হবে ইনশাআল্লাহ। কে কোন শায়েখ দের অনুসরণ করে তা দিয়েও আসলে একজন মানুষের মানহাজ সম্পর্কে বুঝা যায়। অবশ্যই আমি সর্বপ্রথম হযরত মুহাম্মদ (স.) কে অনুসরণ করি, এরপর তার সাহাবী গণ দের, ৪ খলিফাকে, তাদের পর আমি ইসলামের সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) কে অনেক পছন্দ করি, উনার অনেক বড় জীবনী আমি পড়েছি, এর কারণ বোধহয় এই যে আমার কাছে সবসময় মনে হয় ইসলাম প্রচারের সেই সময় থাকলে আমিও জান প্রাণ দিয়ে যুদ্ধ করতাম। যাহোক, এযুগের শায়খ দের মধ্যে শাইখ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ, শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ, শাইখ সালিহ আল উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ, শাইখ সালিহ আল ফাওজান রাহিমাহুল্লাহ উনাদের ফতোয়া শুনার,পড়ার চেষ্টা করি। আর একদম রিসেন্ট বাংলাদেশের শায়েখ দের মধ্যে শায়েখ ড. মনজুর ই এলাহী হাফিজাহুল্লাহ, শায়েখ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহ, শায়েখ মতিউর রাহমান মাদানী হাফিজাহুল্লাহ, শায়েখ শহীদুল্লাহ খান মাদানী হাফিজাহুল্লাহ, ড. ইমাম হুসাইন হাফিজাহুল্লাহ উনাদের বই পড়ার এবং লেকচার শুনার চেষ্টা করি, কুরআন এবং হাদীসের আলোকে যার কথা সঠিক মনেহয়, তা জানার এবং মানার চেষ্টা করি। আমি শায়েখ ড. মঞ্জুর ই এলাহী দ্বারা পরিচালিত তাইবাহ একাডেমি তে Diploma in Islamic studies এ পড়াশুনা করছি,সহীহ ইলম অর্জন এবং দ্বীনী সহবতে থাকাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। আমি যে জায়গায় পড়ালেখা করেছি, সেখান থেকে সবচেয়ে best option হলো পড়ালেখার জন্য দেশের বাইরে চলে যাওয়া এবং বাইরেই সেটেল হওয়া, এখন পর্যন্ত আমার অনেক বন্ধু ই চলে গেছে। আমি না যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হলো বিধর্মী দের দেশে (ইউরোপ,আমেরিকা) তে আমি স্থায়ীভাবে থাকতে পারবো না যেহেতু বিধর্মী দেশে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যাওয়া নিষেধ, এছাড়াও সরকারি চাকরি বিশেষ করে BCS ও আমি এজন্যই দেই নাই কারণ সেখানেও প্রেশারে পড়ে অনেক হারাম এর সাথে যুক্ত হওয়া লাগে। তবে মেকানিক্যাল মানে আমার সাবজেক্ট এর কিছু সরকারি চাকরি যেগুলার জন্য আমি মাঝে মধ্যে পড়ালেখা করার চেষ্টা করি, আমার বর্তমান চাকরি তে অনেক প্রেশার, কিন্তু satisfaction এক জায়গা তেই লাগে যে উপার্জন টা যতটুকু মনে করি হালাল ইনশাআল্লাহ। সহজ কথায়, হারাম উপার্জন এর কাছে ধারেও যাওয়ার কোনো শখ আমার নেই ইনশাআল্লাহ। আমার একটাই শুধু ব্যাংক একাউন্ট (salary account) যেটা আমি interest free করার জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করেছি। হারাম ছাড়া এদেশে অনেক সম্পদের মালিক হওয়া আমার কাছে কঠিন ই মনেহয়। তাই সম্পদের লোভ, রিজিকের টেনশন, দুনিয়াবী অনেক চাহিদা থাকলে আমার সাথে দেখা না করার আহবান থাকবে। রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর, আল্লাহ রিজিক দিবেন,আমরা শুধু পরিশ্রম করব,চাকরি না করলে ব্যবসা করবো, রিজিক তল্লাশ এর জন্য যতটুকু পরিশ্রম প্রয়োজন,করবো ইনশাআল্লাহ। আর আপনি থাকবেন ঘরের রাণী ইনশাআল্লাহ। সালাফগণের দুনিয়াবিমুখতা একটা বই আছে, ঐ লেভেলের দুনিয়া বিমুখতার কাছেও আমি নাই, সত্য বলতে দুনিয়া বিমুখ আমি না পুরোপুরি, আমার রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া, ঘুরতে যাওয়া এগুলো ভালো লাগে। তাও কিছুটা দুনিয়া বিমুখ ও আখিরাত মুখী হওয়ার চেষ্টা করছি, একসাথেই চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমি বিনয়ী কাউকে আহলিয়া হিসেবে চাই,অতিরিক্ত রাগ থাকলে আসলে সামনে না আগানোই ভালো কারণ মানুষ সবচেয়ে খারাপ কাজগুলো করে রাগের বশে। বিয়ের পর আমি আমার আম্মু-আব্বুর সাথেই থাকবো ইনশাআল্লাহ যেহেতু আমি ই তাদের একমাত্র ছেলে, আপনি ও অবশ্যই আমাদের সাথেই থাকবেন ইনশাআল্লাহ। আশা করি একজন মুমিনা নারী কিভাবে জীবনযাপন করা উচিত তা আপনি জানেন এবং স্বামীর প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কেও আপনার ধারণা আছে। এখানে আমি আমার বৈশিষ্ট্য গুলো লিখার চেষ্টা করেছি। আমার ইচ্ছা আমরা ২ জন মিলে এত সুন্দর আলোকিত সংসার গড়ে তুলব যাতে ২ জনের আবার জান্নাতে দেখা হয় ইনশাআল্লাহ। দেখুন,আমার মধ্যে কিছু খারাপ দোষ থাকতে পারে, আর আশেপাশের পরিবেশ এ এবং আমার বৈশিষ্ট্যে মানুষ হিসেবে কিছু সমস্যা ও হয়তো আছে, সেগুলার যদি দেখা হয় অথবা যোগাযোগ হয় তখন অবশ্যই বিস্তারিত বলবো ইনশাআল্লাহ। আমার personally অনেক বেশি জমকালো ভাবে বিয়ে করার ইচ্ছা নাই,সাধারণ ভাবেই করার ইচ্ছা, তবে আমি সম্পূর্ণ মোহরানা পরিশোধ করে বিয়ে করবো ইনশাআল্লাহ, তাই মোহরানা আমার সাধ্যের মধ্যে ধরা লাগবে, সমাজের চাপে বা সমাজকে দেখানোর জন্য বেশি ধরা যাবে না এবং আপনি আপনার বাবা বাড়ি থেকে আসার সময় যৌতুক তো দূরের কথা, একটা আপেল বা মিষ্টি ও আনতে পারবেন না। এগুলো সামনাসামনি বিস্তারিত কথা হবে ইনশাআল্লাহ। আর আপনি আপনার বাবার ঘর ছেড়ে আমার বাড়িতে আসবেন, আপনাকে রাজার রাণীর মতো রাখা সম্ভব না হলেও সত্যই ঘরের রাণী করে রাখার পরিপূর্ণ চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আপনি যদি একটু sacrificing mentality নিয়ে আমার ও আমার পরিবারের সাথে থাকতে পারেন এবং খুব বেশি বিলাসী না হোন, তাহলে আপনার জীবন আমার বাসায় অনেক সুখে কাটবে ইনশাআল্লাহ। আমি সেটা ensure করার সম্পূর্ণ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আর আমি পরিবারের সবার ছোট, তাই সবার খুব আদরের ছিলাম সবসময়, আমার পরিবার থেকে আপনিও অনেক আদর,মায়া পাবেন ইনশাআল্লাহ। এমনকি আমি আমার দাদার গোষ্ঠীর সবার ছোট, সবাই আমাকে অনেক বেশি আদর করে আলহামদুলিল্লাহ, আপনি সবার সাথে মিশে চলতে পারলে আমার থেকে মায়া বেশি পাবেন ইনশাআল্লাহ। আর আমার দুনিয়াবী কিছু বৈশিষ্ট্য হলো,আমি দেখতে মধ্যম,কালো হলেও decent looking, অন্তত সবাই তাই বলে আরকি, শারীরিক ভাবে ফিট আলহামদুলিল্লাহ, ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা করার ফসল আলহামদুলিল্লাহ,স্বাস্থ্য আরেকটু কমানোর চেষ্টায় আছি,গত ১ মাসে প্রায় ৫-৬ কেজি কমিয়েছি, আপনার যাতে আমাকে দেখতে ভালো লাগে, আহলিয়ার প্রতি dedication,smart ভাবে চলাফেরা করার চেষ্টা করি,আতর ব্যবহার করি সবসময়, আতরের সুঘ্রাণ খুব ভালো লাগে, পরিষ্কার পরিছন্নতা পছন্দ করি, অর্থাৎ শরীরের কালারে খুব একটা সমস্যা না থাকলে আমার rating decent আলহামদুলিল্লাহ।
|