জীবনসঙ্গীর যেসব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী প্রত্যাশা করেন:
সংক্ষেপে বললে এমন একজন আল্লাহর বান্দা যিনি হবেন মুত্তাকী। বিস্তারিতভাবে বললে এমন কেউ যিনি তার হৃদয়ে জান্নাতের স্বপ্ন লালন করেন,যিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার দেয়া জীবনবিধানকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন বা দেওয়ার মানসিকতা রাখেন। বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষনকারী(আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআ'র আক্বীদা),মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী,শিরক-বিদআত এর ব্যাপারে সচেতন , সুন্নাহকে ভালোবাসেন ও মেনে চলেন, আমল-আখলাকের পাশাপাশি যিনি লিবাসের ক্ষেত্রেও সুন্নাতের অনুসরণ করেন, পর্দার গুরুত্ব বোঝেন, আল্লাহর হক্ব আদায়ে সচেষ্ট, পরিবারের হক্ব আদায়ে যত্নশীল, হালাল-হারাম মেনে চলেন,আল্লাহর দ্বীনের জন্য সময় দিতে ইচ্ছুক, পরবর্তী প্রজন্মকে যিনি দ্বীনের দায়ী ও আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। দ্বীনের ফরজ ইলম থাকলে ভালো হয়। না থাকলেও ফরজ ইলম অর্জনে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক। যিনি ডিভোর্সের মাসআলা জানেন বা বিয়ের পূর্বেই জেনে নিবেন, যিনি তার আহলিয়াকে পরিপূর্ণ পর্দায় রাখবেন ও এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র আপোষ করবেন না, যিনি তার আহলিয়াকে রেসপেক্ট করবেন। যিনি তার হালাল জীবনসঙ্গিনীকে বোঝার মতো, তার পাশে সর্বদা থাকার মতো মানসিকতা রাখেন, যার মধ্যে সম্পর্কগুলোর মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখার গুণ বিদ্যমান, গায়রতবান,দৃষ্টির হিফাজতকারী,কুসংস্কারমুক্ত, স্পষ্টভাষী ,সাহসী, ধৈর্যশীল, রাগ সংবরণকারী,দানশীল, দ্বীনি ইলম অন্বেষণে আগ্রহী, সর্বোপরি আল্লাহভীরু, উত্তম আখলাকওয়ালা আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা। উপরোক্ত বিষয়গুলো আমি আশা করছি তবে হুবহু এমনটাই হতে হবে বিষয়টি এমনও নয়। মূল বিষয় হলো তাকওয়া। যদিও উল্লিখিত সবগুলো গুণাবলি একজন মানুষের মাঝে পাওয়াটা দুষ্কর মনে হতে পারে তবে আমার আল্লাহ যদি চান তাহলে এটা অসম্ভব কিছুই না। তবে আর কিছু না হলেও অন্তরে তাকওয়া থাকাটা মূখ্য।কেননা অন্তরে তাকওয়া থাকলে বাকি গুণাবলি আল্লাহ চাইলে এমনিতেই গ্রো করবে। উক্ত গুণগুলো আমি নিজেও অর্জন করার চেষ্টা করছি তবে পুরোপুরি পেরেছি এমনটাও নয়,চেষ্টা করে যাচ্ছি। রবের কাছে প্রতিনিয়ত দুআ করি রব যেন আমায় মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন এবং তাঁর কোনো মুত্তাকী ও দুনিয়াবিমুখ বান্দাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে মিলিয়ে দেন। দ্বীনদারিতা পছন্দ হলে দুনিয়াবি বিষয়গুলোতে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রাখি। বি:দ্র: বায়োডেটা পছন্দ হলে ইস্তিখারা করার পর যোগাযোগ করবেন ইন শা আল্লাহ। দ্বীনের বিষয়ে আন্তরিক না হলে(লেবাসধারী হলে), বদমেজাজী হলে,মাম্মাস বয় হয়ে থাকলে(হাসবেন্ডের মাঝে এই সিফাত থাকার কারনে আমার ফ্রেন্ডকে অনেক সাফার করতে দেখেছি, দেখছি) ,খাবার-দাবার এর বিষয়ে অতিমাত্রায় খুঁতখুঁতে হলে, খোটাদানকারী হলে, স্মোকিং-এলকোহল ইত্যাদির সাথে সংযুক্ততা থাকলে, স্ত্রীকে ফিজিক্যালি/মেন্টালি টর্চার করার মতো মানসিকতা থেকে থাকলে যোগাযোগ না করার অনুরোধ। এছাড়া বিয়ে ও বিয়ে পরবর্তী সময়ে যদি মেয়ের পরিবার থেকে অনেক বেশি ফাইন্যানশিয়াল এবং সোশ্যাল এক্সপেকটেশন থেকে থাকে তাহলে এই বায়োডাটা স্কিপ করাই ভালো হবে।
|