| অভিভাবক আপনার বিয়েতে রাজি কি না? |
হ্যাঁ, অবশ্যই রাজি।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে পর্দায় রাখতে পারবেন? |
জি, অবশ্যই ইনশাআল্লাহ। আমি মনে করি, স্ত্রীর পর্দার বিধান রক্ষা করা একজন স্বামীর অন্যতম ঈমানি দায়িত্ব। আমি আমার জীবনসঙ্গিনীকে পূর্ণ শরীয়াহ মোতাবেক পর্দায় রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব। তবে আমি বিশ্বাস করি জোর করে নয়, বরং ভালোবাসা, সঠিক দ্বীনি শিক্ষা এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আমি তাকে পর্দার সৌন্দর্য ও মর্যাদার প্রতি আগ্রহী করে তুলব।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে পড়াশোনা করতে দিতে চান? |
আমি মনে করি বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়া ও পারিবারিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। আমার অগ্রাধিকার হলো স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখা। তাই যদি তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের বর্তমান বসবাসের স্থান থেকে দূরে হয়, তবে তা বেশ কষ্টসাধ্য হবে। ইনশাআল্লাহ, বিয়ের পর আমরা উভয় পক্ষ মিলে আলোচনা সাপেক্ষে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেব যা আমাদের দাম্পত্য সুখ এবং শরীয়তের বিধান—উভয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে চাকরী করতে দিতে চান? |
না, অন্তত আমি জীবিত থাকাকালীন তার চাকরিতে যোগদানের কোনো সুযোগ নেই।
|
| বিয়ের পর স্ত্রীকে কোথায় নিয়ে থাকবেন? |
আমি মনে করি স্বামী-স্ত্রীর একত্রে থাকা একটি সুখী ও বরকতময় দাম্পত্যের মূল ভিত্তি। তাই আমার কর্মস্থলের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, ইনশাআল্লাহ আমার স্ত্রী সর্বদা আমার সাথেই থাকবেন। চাকরির প্রয়োজনে যদি আমাকে ঢাকায় থাকতে হয়, তবে তিনি ঢাকায় আমার সাথে ঘর সাজাবেন; আর যদি কখনো কর্মজীবন শেষে বা ব্যবসার প্রয়োজনে গ্রামে ফিরে যাই, তবে সেখানেও আমরা একসাথেই থাকব। এক কথায়, পরিস্থিতির প্রয়োজনে যেখানেই আমার ঠিকানা হবে, সেখানেই আমরা সপরিবারে অবস্থান করব।
|
| আপনি বা আপনার পরিবার পাত্রীপক্ষের কাছে কোনো উপহার আশা করবেন কি না? |
পাত্রীপক্ষের কাছে আমার একমাত্র প্রত্যাশা হলো একজন দ্বীনদার ও সৎ জীবনসঙ্গিনী। উপহার বা অন্য কোনো বৈষয়িক চাহিদা আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নেই। আমি এবং আমার পরিবার পাত্রীপক্ষের কাছে কোনো প্রকার উপহার, যৌতুক বা বৈষয়িক চাহিদা পোষণ করি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, একটি বরকতময় বিয়ের মূল ভিত্তি হলো সুন্নাহর অনুসরণ, কোনো আর্থিক লেনদেন নয়। বিয়ের যাবতীয় আয়োজন—তা নিজেকে সাজানো হোক বা হবু স্ত্রীকে—ইনশাআল্লাহ আমি আমার নিজস্ব সামর্থ্য ও উপার্জনে সম্পন্ন করব। আমি যৌতুক বা গোপন কোনো আর্থিক চুক্তিকে কেবল একটি সামাজিক ব্যাধি নয়, বরং একটি ভয়াবহ পাপ বলে মনে করি। যদি কখনো জানতে পারি যে, আমার অগোচরে এ জাতীয় কোনো লেনদেন বা শর্তের আলাপ হয়েছে, তবে আমি সেই সম্পর্ক বা বিয়ে মেনে নেব না। কারণ, দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে আমি আমার পরকালকে ধ্বংস করতে এবং মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে জীবন শুরু করতে কোনোভাবেই প্রস্তুত নই।
|
| কেন বিয়ে করছেন? বিয়ে সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? |
আমি একজন মুসলিম ছেলে। আমার জীবন, চিন্তা ও স্বপ্ন সব আল্লাহর নির্দেশের অধীন। তাই আমি বিয়ে করব কোনো দুনিয়াবি কারণে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কেন আমি বিয়ে করতে চাই? ১। দ্বীন ও ঈমান পূর্ণ করার জন্যঃ আল্লাহ বলেন, "তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের বিবাহ সম্পাদন কর।" (সূরা আন-নূর ২৪:৩২)। বিয়ে আমার দ্বীনের অঙ্গ এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পথ। ২। গুনাহ থেকে বাঁচার জন্যঃ মানুষের নফস ও অনুভূতির জন্য বিয়ে হলো হালাল পথ, যা হারাম থেকে দূরে রাখে। নবী ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি বিবাহ করল, সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করল।" (সহীহ বায়হাকী) ৩। রহমত ও শান্তির জন্যঃ বিয়ে শুধু সম্পর্ক নয়, এটি ভালোবাসা, দয়া ও শান্তির মিলনস্থল। আল্লাহ বলেন, "আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হলো-তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও।" (সূরা আর-রূম ৩০:২১) ৪। উম্মতের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যঃ বিয়ে আমাকে স্বামী ও ভবিষ্যতে বাবা হিসেবে গড়ে তুলবে। নবী ﷺ বলেছেন, "তোমরা এমন নারীদের বিয়ে করো, যারা সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম।" (আবু দাউদ) সংক্ষেপে: আমি বিয়ে করব যেন ঈমান নিরাপদ থাকে, দ্বীনের পথে চলা সন্তান লালন করা যায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয় এবং জান্নাতের সাথী পাওয়া সম্ভব হয়।
|