| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
আলহামদুলিল্লাহ, হ্যা।৭ বছর যাবৎ। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
আউয়াল ওয়াক্তে সালাত পড়ার সাধ্যমত চেষ্টা করি।তবে সপ্তাহে ১-২ওয়াক্ত কাযা হয়। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
১০০% শুদ্ধ হয় না তবে মোটামুটি পারি এবং শুদ্ধ করে পড়ার চেষ্টা করি, কুরআন হিফজ করার ইচ্ছা এখনো আছে।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
না, আলহামদুলিল্লাহ।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
কবর জিয়ারত করা নিঃসন্দেহে সওয়াবের কাজ তবে মাজার পূজা শিরক ।মাজারে যাওয়া পছন্দ করি না।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
মিন্নাতুল বারী (আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক), জাল হাদিসের কবলে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর সালাত(ডঃ মুযাফফর বিন মুহসিন) ,নবীদের কাহিনী(মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব)
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
ডা: জাকির নায়েক, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক,ব্রাদার রাহুল আমিন ,ড.আসাদুল্লাহ আল গালিব, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ,ডঃ মুযাফফর বিন মুহসিন,হায়াত বিন বাশার আলী প্রমুখ।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আসসালামু আলাইকুম,প্রথমত চাকরি করার বিশেষ ইচ্ছা নেই যদিও বা আমি সরকারি চাকরি করছি। তবে জীবনে যেহেতু টাকার প্রয়োজন আছে তাই হালাল উপায়ে টাকা উপার্জন এর সর্বোত্তম চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ ।আঁকাআঁকি,নকশি কাঁথা, সেলাই কাজ, এমনকি ঘরোয়া প্রত্যেকটা জিনিসই তৈরি করতে চেষ্টা করি, নিজেকে সবসময় কাজে ব্যস্ত রাখতে ভালো লাগে। দ্বীনি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করি, ইসলামকে মন থেকে মেনে নিয়েছি, ঘরের ভিতরে থাকতে বেশি পছন্দ করি। সুদকে ঘৃণা করি, পরিবারকে সুদ থেকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। সহজ সরল জীবন যাপন করতে পছন্দ করি। নিজের চাহিদাগুলোকে সংকুচিত করে ফেলেছি, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করাই জীবনের লক্ষ্য। আমি আলহামদুলিল্লাহ পরিশ্রমী একজন ব্যক্তি। আল্লাহ আমাকে সমস্ত হারাম রিলেশনশিপ থেকে হেফাজত করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। তাই আমি চাই আমার জীবনসঙ্গী একজন নেককার ব্যক্তি হোক, এমন একজন যে কখনো বাতিলের সাথে আপোষ করে না, যার আকিদা বিশুদ্ধ। যে হবে সৎ এবং পরিশ্রমী। এমন একজন ব্যক্তি যে ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে পার্থক্য করবে না। আমি চাই আমার বিয়েতে আমার বাবাকে যেন অর্থ সংকটে পড়তে না হয়। আমি চাই আমার বিয়ের মোহরানা হয় যেন আমার স্বামীর সাধ্যের মধ্যে। পরিবার নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। আমি অধিক সন্তানের মা হতে চাই, আর প্রতিটি সন্তানকে দ্বীনি পরিবেশে বড় করতে চাই। আমি হানাফী পরিবারে বড় হয়েছি কিন্তু আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি তখন থেকে সালাফী মানহাজ কে অনুসরণ করছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার পরিবারের আমার সব ভাই বোন সালাফী। বাবা-মা এখনো হানাফী মাযহাবকে অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে আমার অনেক কষ্ট হয়, তাদের সাথে আমার অনেক মত মিলে না তবুও আমি তাদেরকে অনেক ভালোবাসি। আমার বাবা মাটির একজন মানুষ, অনেক সহজ সরল, আমি ছোট থেকেই বাবাকে সালাত পড়তে দেখে আসছি। আমার মা আমাদের সংসারটাকে আগলে রেখেছেন, আমরা ভাই-বোনরা যাতে পড়াশোনা করতে পারি সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তিনি অনেক কষ্ট করেছেন। তাই তারা চাই আমাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল দেখতে কিন্তু আমি দীনদারিতাকে বেশি প্রাধান্য দেই, আমি চাই স্বামীর আনুগত্য করতে, বিলাসিতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। আমি কোন কাজেই না করতে শিখিনি, আমি যদি কাজটা নাও পারি তবুও বিশ্বাসের সাথে বলি পারবো ইনশাল্লাহ। আমার লাইফে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে আমি কোন একটা কাজ প্রথম করেছি কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছি। আমি না বলতে শিখিনি। এমনকি আমি যা পারি আমি চাই তা অন্যকে আগ্রহের সাথে শিখাতে। সেটা হোক পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান, রুচিশীল কোন কাজ কিংবা ধর্মীয় জ্ঞান। আমার মনে পড়ে আমি ছোটবেলায় অনেক দুরন্ত ছিলাম কিন্তু এই দুরন্ত মেয়েটা এখন শান্ত হয়ে গেছে। অনার্স ফার্স্ট ইয়ার থেকে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজে চালানো, ছোট ভাই বোনদের পড়াশোনার খরচ এমনকি এখন সংসারও চালাতে হচ্ছে। বাস্তবতা মানুষের জীবনকে পাল্টে দেয় তার একটা উদাহরণ আমি নিজেই। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সকলকে এই সৌভাগ্য দেয় না । নিজের পরিবারকে সাহায্য করে যে তৃপ্তি আমি পেয়েছি, তার জন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া জানাই। যাইহোক নিজের জীবন সম্পর্কে কিছু বাস্তব তথ্য শেয়ার করলাম যাতে যে আমার জীবন সঙ্গী হবে সে আমার পরিবারকে বুঝতে পারে, আমাকে বুঝতে পারে। শুকরিয়া।
|