| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জি। শুধু ফজর কাযা হয়ে যাচ্ছে কিছু দিন হলো, তাছাড়া বাকি সব ওয়াক্ত সঠিক ভাবে পড়া হয় (২০১৯ থেকে) |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
২/৩ ওয়াক্ত শুধু ফজর এর সালাত কাজ হয়ে যাচ্ছে (ফজর পরবর্তীতে কাজা আদায় করা হয়), সালাতের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার চেষ্টা করছি। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
ছোটবেলায় শেখা হয়েছিল, কন্টিনিউ না করতে পাড়ায় এখন সঠিক ভাবে পড়তে পারি না, (খুব দ্রুত আবার শিখে নিবো ইনশা'আল্লাহ)
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
পূর্বে কিছু সময় সিজোফ্রেনিয়া ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগেছি। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে এবং সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
শির্কের আখড়া, কবর উঁচু করা নিষিদ্ধ। মাজারে গিয়ে দোআ করা, মানত করা, তাওয়াফ করা—সব শিরক বা বিদআত। মাজার তৈরি করাও শরীয়তবিরোধী।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা, উসুলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা), যেভাবে নামায পড়তেন রাসূলুল্লাহ সা:, সহ সালাফি আলেমদের বই এর অংশ বিশেষ পড়া হয়েছে (বেশির ভাগ ই অসমাপ্ত)
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.), মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রহ.), মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.), ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান, ড. খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.), ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া, ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ, আসিম আল-হাকিম, জাকির নায়েক, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক, ড. মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন, মতিউর রহমান মাদানী, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী, মাহমুদ বিন কাসিম, আবদুল আলীম ইবনে কাওসার মাদানী, নাসীল শাহরুখ এবং অন্যান্য সহীহ আকীদার সালাফি আলেমগণ।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আলহামদুলিল্লাহ, আমি চেষ্টা করি আল্লাহভীতি, দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং পরিবারকে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলার নীতিগুলো অনুসরণ করে জীবন যাপন করতে। দুনিয়াকে আখিরাতের প্রস্তুতির মাধ্যম হিসেবে দেখার চেষ্টা করি—প্রতিটি কাজেই সেই উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিই। আকীদা ও মানহাজের ব্যাপারে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আহলে হাদীস তথা সালাফি মানহাজই কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সবচেয়ে কাছাকাছি। তবে একইসাথে আমি চার মাযহাবের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল—অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং দলীলভিত্তিক গ্রহণে বিশ্বাসী। তথাকথিত আশআরী, মাতুরিদী বা আকীদাগত ভ্রান্ত ফিরকাসমূহ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। আমি বিশ্বাস করি: ফিকহে কিছু শিথিলতা থাকা স্বাভাবিক, তবে আকীদার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। তেমনিভাবে মাজহাব বা মানহাজ নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা গোঁড়ামিতেও বিশ্বাসী নই। জীবনে যতটুকু দুনিয়া প্রয়োজন, ততটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকার মানসিকতা রাখি। আমার মূল মনোযোগ আখিরাতের সফলতার দিকে—এবং সেই লক্ষ্যে একটি দ্বীনি পরিবার গঠনের স্বপ্ন বহুদিন ধরেই পোষণ করছি, বিশেষ করে যেদিন থেকে আল্লাহ তা‘আলা সঠিক বুঝ দান করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। ব্যস্ততার মাঝেও সুযোগ পেলে সালাফি আলেমদের লেকচার শুনি এবং বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইসলামিক আলোচনায় সময় দিই। অহেতুক ঘোরাফেরা বা ফান-ফুর্তি আমার স্বভাব নয়। আমরা কেউই গুনাহ মুক্ত নয়, গুনাহ থেকে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফেরাই সফলতা। সর্বোপরি, আমার দৃঢ় ইচ্ছা—আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একজন প্রকৃত তালিবুল ইল্ম হওয়া, যিনি কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে, সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ করে দ্বীন শিখবেন, বুঝবেন এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করবেন, ইনশাআল্লাহ। পরিবার নিয়ে চিন্তাভাবনা: আমি স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর, পরিপূর্ণ ইসলামিক পরিবারের — এমন একটি পরিবার, যেখানে প্রতিটি সদস্য কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় জীবন গড়ে তোলে। আমি চাই আমার সন্তানরা ইনশাআল্লাহ আলেম ও আলেমা হয়ে দীনকে বুঝুক, আমল করুক, এবং মানুষের মাঝে হিদায়াতের আলো ছড়িয়ে দিক। আমার ইচ্ছা, তারা যেন সালাফি মানহাজ অনুসরণকারী নির্ভরযোগ্য ইসলামিক প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে, এবং মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলম অর্জনের সুযোগ পায় ইনশাআল্লাহ। আমার পরিবার হবে এমন এক পরিবার, যা বড় বড় হারাম বিষয় থেকে দূরে থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের ঘরে টেলিভিশন নেই, আর আমরা ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো মাধ্যম ব্যবহার করি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে—শুধুমাত্র উপকারী জ্ঞান অর্জন ও দীনী ইলমের উদ্দেশ্যে। আমার আশা, আমাদের ঘর হবে ইলম, তাকওয়া, ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একটি প্রশান্ত আশ্রয়স্থল—যেখানে প্রতিটি শ্বাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশা থাকবে। আকিদা ও মানহাজের পর গুরুত্বপূর্ণ হলো আখলাক—নফসের পরিশুদ্ধি। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “মুমিনের মিজানে কিয়ামতের দিনে উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কিছুই থাকবে না।” (সুনান আত-তিরমিজি, হাদীস: ২০০২) গীবত, হিংসা, অহংকার ইত্যাদি মানুষের স্বাভাবিক দোষ। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এগুলো ত্যাগ করাই প্রকৃত সফলতা ও নফসের পরিশুদ্ধি। মজার ছলে অন্য মানুষকে আঘাত করা বা অপদস্ত করা মোটেও আমার পছন্দ নয়। তেমনি, কেউ আমার সাথেও এমন আচরণ করুক—এটাও আমি কামনা করি না। আমি চাই নিজেকে একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং এমন মানুষদেরই ভালোবাসি ও সম্মান করি, যারা নিজেদের চরিত্র ও আচরণে মর্যাদাবান। তবে এর মানে এই নয় যে হাসি-আনন্দ বা হালকা মজার কোনো জায়গা নেই। হাসি-মজা করাও যেতে পারে—যেমনটা আমরা আল্লাহর রাসুল ﷺ এবং সাহাবিদের জীবনে দেখতে পাই।
|