| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জ্বি। সম্ভবত ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
সপ্তাহে হয় না আলহামদুলিল্লাহ। হঠাৎ ই হয়। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
জ্বী আলহামদুলিল্লাহ। তবে চেষ্টায় থাকি আরও শুদ্ধ হোক।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
আলহামদুলিল্লাহ আমার কোন রোগ নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে। যদিও এই প্রতিবন্ধকতা আমাকে কোন কিছু করাতে পিছিয়ে রাখতে পারেনি আলহামদুলিল্লাহ। ২০০৮ সালে আমার একটি পায়ে বোন ক্যান্সার ধরা পড়ে। ইন্ডিয়া তে নিয়ে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করা হয়। সর্বোচ্চ ট্রিটমেন্ট করার পরও লাস্ট স্টেজে থাকায় শেষ রক্ষা টা হয় নি। একটি পা (হিপ জয়েন্ট থেকে) বাদ দেওয়া হয়। আলহামদুলিল্লাহ। আশা রাখি আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা আমাকে এটি জান্নাতের টিকিট হিসেবে ধরিয়ে দিবেন,, আর আল্লাহর রহমতে দৌড়ে জান্নাতে চলে যেতে পারব ইন শা আল্লাহ। এইসবের পরেও আমি কেমন সেটা না হয় পরবর্তী অপশনে লিখবো।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
কবর ছাড়া কিছু মনে করিনা।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
বায়তুল্লাহ মুসাফির, বেলা ফুরাবার আগে, তিনিই আমার রব। (এছাড়াও আরও কিছু ইসলামিক বই পড়া হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ)
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
শায়েখ আহমাদুল্লাহ, মিজানুর রহমান আজহারী, ডক্টর খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
নিজেকে বিশ্লেষণের চেষ্টা করছি,ভুল এুটি আল্লাহ মাফ করুক। জীবনের ১২ টি বছর আমার হেসে,খেলে,দৌড়ে কেটেছে।যা প্রত্যেকের শৈশবে হয়,আমিও তেমনি ছিলাম।আমি মনে করি,আল্লাহ তায়ালা আমাকে অনেক পছন্দ করেন বিধায় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় আমাকে ফেলেছেন। আমি আমার ছোট্ট বয়সে যা দেখেছি তা আমাকে ধৈর্যশীল করে তুলতে সাহায্য করেছে।শখ মেটানোর সেই বয়সে বাস্তবতা মেনে নেওয়া শিখেছি।আল্লাহ তায়ালা আমাকে দেওয়া তারই একটি নিয়ামত(একটি পা)আমার কাছ থেকে আবার নিয়ে নিয়েছেন।ব্যস এখন রূহ টা যাওয়া বাকি। যদিও আমার এই অপূর্ণতা আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট। জীবনে কেউ দেরীতে আসলেও এমন কেউ আসবে আশা করি যে কিনা শুধুই তথাকথিত দ্বীনদার হবেনা,হবে খাঁটি দ্বীনদার,যে কেবল আল্লাহর জন্য আমায় আপন করে নিবে। তবে আমার আল্লাহ আমাকে কোনদিক থেকে কারও কাছ থেকে পিছিয়ে রাখেননি।আমি আলহামদুলিল্লাহ কারও উপর নির্ভরশীল নই। নিজের সকল কাজ আমি নিজে করি।বরং অন্যদেরকেই তাদের কাজে সাহায্য করি।একজন মেয়ে সাংসারিক জীবন পরিচালনা করতে যা যা করতে পারবে বা করা দরকার তার সবটুকুই আমার দ্বারা সম্ভব।আলহামদুলিল্লাহ। প্রথম দেখায় কেউ কেউ আমার এই অপূর্ণতা ধরতেও পারেনা। আলহামদুলিল্লাহ।আমি স্টিক নিয়েই চলাফেরা করি,তবে সতস্ফুর্তভাবে আলহামদুলিল্লাহ।অনেকেই বলেছে,আমি এমনভাবে চলাফেরা করি যে বুঝা ই যায় না কিছু একটা নেই। অপূর্ণতায় পূর্ন হবে এমনই কাউকে চাই।আল্লাহর জন্য। ঘুরতে ভাল লাগে। প্রকৃতি অনেক বেশি প্রিয়।অনেকেই ভাবতে পারে আমি বুঝি কোথাও বের হতে পারিনা।বিষয় টা মোটেও এমন নয়।আলহামদুলিল্লাহ আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি।সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ওমরাহ তে যাওয়া।আহ বায়তুল্লাহ দেখার বড্ড তৃষ্ণা। আল্লাহ তায়ালার কাছে চেয়েই যাচ্ছি,একবার,অন্তত একটাবার যেন বায়তুল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার,ছুঁয়ে দেখার,হাউমাউ করে কান্না করার তৌফিক নসীব হয়। আমি পরিপাটি ও গোছানো স্বভাবের মেয়ে।ঘরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন।রাঁধতে ভাল লাগে।পাক্কা রাধূনী হওয়ার ইচ্ছে।২০২৩ সালে এসে বই প্রেমী হয়েছি। হুম আমারও স্বপ্ন আছে,আসলে দুনিয়াবী মানুষ দেখতে দেখতে আমি অনেকটা বিরক্ত।ভাবি থাক দুনিয়ায় সব পেতে হবে এমন কোন কথা আছে নাকি,আমার আল্লাহ একেবারে আমাকে জান্নাতে বিয়ে দিবেন।কিন্তু যখন ভাবি হায়,আমার আমলের খাতা তো শূন্য,কি হবে আমার,তখন মনে হয় দুনিয়াতে যদি আল্লাহর রহমতে নেককার সন্তান রেখে যেতে পারি তাহলে তো তারা আমার জন্য সাদকায়ে জারিয়া স্বরুপ হবে।আমার জন্য দোয়া করবে আমার সন্তান হাফেজ,আলেম হলে তারা তো আমাকে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে,এসব ভাবলে চোখে পানি চলে আসে,স্বপ্ন জেগে উঠে,দুনিয়া ও আখেরাতের পাথেয় কুড়ানোর ইচ্ছে জাগে।সেই স্বপ্ন পূরণের সদিচ্ছায় হয়তো বিয়ের মত সিদ্ধান্ত নেওয়া। না হয় আমি মেয়েটা জান্নাতের অপেক্ষায় আজীবন কাটিয়ে দিতাম। অপূর্নতায় পূর্ন হবে এমন কাউকে না পেলে এভাবেই কাটিয়ে দিব ইন শা আল্লাহ। অনেকেই ভাবতে পারে এই মেয়ে কত অসহায়,সবসময় মনে হয় মন খারাপ করে থাকে।এমনটি নয়।আমি আলহামদুলিল্লাহ খুবই হাসি খুশি এবং মিশুক প্রকৃতির মেয়ে। যেখানেই যাই মায়া ছড়াই,আর কিছু মায়া কুড়িয়েও নিয়ে আসি। আল্লাহ তায়ালা ই ছড়িয়ে দেন সকলের মাঝে আমার প্রতি মুহাব্বত।অবশ্যই সেটি আমার অপূর্ণতার কারনে নয়।আমার আন্তরিকতায়,আমার মায়ায়। আমার প্রচুর আত্মসম্মানবোধ।কারও মাঝে যদি আমি দেখি আমাকে অনুগ্রহের চাহনিতে দেখেছে সেক্ষেত্রে চেষ্টা করি নির্বিঘ্নে সরে আসার।তবে এমন কোন কিছুর সম্মুখীন খুব কমই হয়েছি।ঐ যে বললাম,মায়া ছড়াই। পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের কাছে আমি অনেক আদরের একজন আলহামদুলিল্লাহ।আর কতটা নিজেকে বিশ্লেষণ করা যায় বুঝতে পারছিনা।
|