| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। ছোটবেলা থেকেই নামাজের গুরুত্ব বুঝতে শিখেছি, আর প্রায় ১২ বছর বয়স (২০০৮, ২০০৯ সাল) থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেষ্টা করে আসছি। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
সাধারণত কাযা না করার চেষ্টা করি। তারপরও অনিচ্ছায় কখনো কখনো ফজরের সলাত কাযা হয়ে যায়। সপ্তাহে ২/৩ ওয়াক্ত। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
তিলাওয়াত করতে পারি। আরো সহি ভাবে পড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
আলহামদুল্লিাহ নেই।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
মাজারকে আমি সম্মান করি, কারণ এখানে অনেক আলেম ও নেককার ব্যক্তির কবর রয়েছে। তবে ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য—মাজারে গিয়ে কোনো কিছু চাওয়া বা ইবাদত করা শিরক; বরং তাদের জন্য দোয়া করা উচিত।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী, নূরে নূরানী নামাজ শিক্ষা, রাহে আমল ইত্যাদি।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
ডাঃ জাকির নায়েক, মাওলানা তারিক জামিল, খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর, মুফতি শায়খ আহমাদুল্লাহ, মিজানুর রহমান আজহারী, মুফতি নজরুল ইসলাম কাসেমী ইত্যাদি।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
শখঃ আমার শখের মধ্যে ভ্রমণ অন্যতম—নতুন নতুন জায়গা ঘুরে দেখা, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির নিদর্শনসমূহ গভীরভাবে চিন্তা করা আমার খুবই প্রিয়। ভ্রমণের মাধ্যমে আমি কেবল বিনোদনই খুঁজি না, বরং এটি আমার জন্য একটি চিন্তা ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যম; যেখানে আমি আল্লাহর কুদরত, সৃষ্টির বৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনব্যবস্থা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করার চেষ্টা করি। পছন্দঃ আমি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনাদর্শকে অনুসরণ করে একটি পরিপূর্ণ ইসলামিক জীবনযাপন গড়ে তুলতে আগ্রহী। তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য, বিনয়, দয়া ও পরিশ্রম আমার জীবনের অনুপ্রেরণা। আমি বিশ্বাস করি, একজন প্রকৃত মুসলিমের জীবনে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি নিজের চরিত্র ও আচরণকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে, যাতে আমার জীবন আল্লাহর সন্তুষ্টির উপযোগী হয়। অপছন্দঃ আমি অন্যায়, দুর্নীতি, মিথ্যা ও অবিচারকে ঘৃণা করি এবং ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে মনে করি। আমার বিশ্বাস, প্রতিটি মানুষের উচিত তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে ন্যায়ের পক্ষে থাকা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। রুচিবোধঃ ভালো ও হালাল খাবার গ্রহণ করা এবং পরিষ্কার-পরিপাটি থাকা আমার কাছে শুধু পছন্দ নয়, বরং ইসলামিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি সবসময় হালাল ও পবিত্র রিজিক গ্রহণের চেষ্টা করি এবং হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকি, কারণ এটি ইবাদতের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি, পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ—এই বিশ্বাস থেকে আমি নিজের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পোশাক ও পরিবেশ সুন্দর ও পরিপাটি রাখার চেষ্টা করি। আমি পরিমিত আহার, অপচয় পরিহার এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে আগ্রহী। স্বপ্নঃ আমার জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং পরকালে জান্নাত লাভ করা। দুনিয়ার এই সাময়িক জীবনকে আমি আখিরাতের প্রস্তুতির ক্ষেত্র হিসেবে দেখি। তাই আমি চেষ্টা করি আমার প্রতিটি কাজ, সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্য যেন ইসলামের সীমার মধ্যে থেকে পরিচালিত হয় এবং তা যেন আল্লাহর কাছে কবুলযোগ্য হয়। পাশাপাশি, আমার পেশাগত স্বপ্ন হলো ভবিষ্যতে সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারপতি হওয়া। আমি এমন একজন বিচারক হতে চাই, যিনি নিরপেক্ষতা, সততা ও আল্লাহভীতির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা শুধু একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত—যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়। মানুষের অধিকার রক্ষা করা, অবহেলিতদের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা—এই লক্ষ্যগুলোই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। আমি আশা করি, আল্লাহ তাআলা আমাকে এমন তাওফিক দান করবেন, যাতে আমি আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারি এবং আমার জীবনকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই সফল করতে পারি। (আল্লাহুম্মা আমিন)
|