| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু লিখতে বেশ ভয় লাগে আমার।নিজের সম্পর্কে লিখতে গেলে নিজের ঢাক -ঢোল পেটানো হবে কি না ভাবছি।যেহেতু এখানকার নিয়ম অনুযায়ী আমাকে লিখতেই হবে তাই লিখব।যিনি পড়বেন তিনি ধৈর্য সহকারে এত বড় লেখা পড়বেন আশা করি। আমি জেনারেল পড়ুয়া শিক্ষিতা এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।ছোট বেলা থেকে অভাব কি জিনিস বুঝিনাই।অনেক আদরে মানুষ হয়েছি।আমার সামান্য শারীরিক প্রতিবন্ধীতা থাকা শর্তেও পরিবার এবং আত্বীয় স্বজনদের আদর -স্নেহ -ভালোবাসা আমি কম পাইনি বরং বেশি ই পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। যেহেতু গ্রামে বড় হয়েছি তাই ছোট বেলা থেকেই খুব চঞ্চল ছিলাম।পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করা,কবিতা লেখা,ছবি আকা সবকিছু করতাম।আস্তে আস্তে প্রাইমারি শেষ করে মাধ্যমিকে গ্রামের বালিকা বিদ্যালয়ের ভর্তি হলাম।ক্লাস সিক্স থেকেই আলহামদুলিল্লাহ নামাজ পড়তে শুরু করলাম।যখন থেকে ক্যারিয়ার মানে কি বুঝতে শিখলাম তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল আমি খুব বড় একজন ডাক্তার হবো ইনশাআল্লাহ যেহেতু পড়াশোনায় ভালোই ছিলাম।মাধ্যমিকে আশানুরূপ ফলাফল না হ(৪.৮১)হওয়ায় আর HSC তে ভর্তি হলাম না।ভাবলাম অন্তত ডিপ্লোমা ডাক্তার হয়ে নিজের শখ টা পুরন করব।আমি এমন এক পরিবারে জন্মেছি, এমন আব্বু -আম্মু পেয়েছি যারা কখনোই তাদের কোন ইচ্ছা আমার বা আমাদের উপর চাপিয়ে দেন নাই।আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি MATS (medical Assistant training school) চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডাক্তার কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা দিব।আলহামদুলিল্লাহ কৃতিত্বের সাথে চান্স পেয়ে গেলাম।পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে গেলাম।তখন হয়তো পর্দা করতাম না বা শরীয়তের অন্যান্য বিধি - নিষেধ মানতাম না কিন্তু নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত প্রতিদিন করতাম।অনেক সময় পড়াশোনার চাপ এত থাকতো যে সেই শেষ রাত ৩ টায় উঠে কুরআন তিলাওয়াত করে পড়তে বসতাম।একাডেমিক ৩ বছর পড়াশোনা,হসপিটালের প্লেসমেন্ট কৃতিত্বের সাথে শেষ করলাম।এরপর ৯ মাস ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করলাম।এরপর নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ মাস ইনটার্নশিপ কমপ্লিট করলাম। এরপর থেকে নিজেকে একজন ডিপ্লোমা ডাক্তার হিসেবে দেখার জন্য বগুড়ার একটা নার্সিং হোম গাজীপুর টংগিতে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ডিউটি ডাক্তার হিসেবে,সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট এ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে জব করি। এরপর কুমিল্লায় Family planning Association of Bangladesh e ECS (executive clinical service)পদে জয়েন করি ১১/১১/২০১৯। জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এই জবকালীন ই নেয় আলহামদুলিল্লাহ।চাকুরী জীবনে আমি সবসময়ই একা রুমে থেকেছি। সংগী হিসেবে ছিল শুধু ফোন টা ই।একাকীত্ব কাটাতে ফেসবুকিং, গান শোনা এবং নাটক দেখতাম।ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে অনেক সময় কুরআন তিলাওয়াত সামনে চলে আসতো।আগে ও কুরআন তিলাওয়াত শুনতাম কিন্তু কম, গান শুনতাম বেশি।একদিন একটা তিলাওয়াত আমার সামনে আসলো এবং আমি প্লে করতেই আমার বুকের ভিতর যেন তছনছ হয়ে গেলো। এত সুন্দর তিলাওয়াত টা লাগছিল যে কি বলব।এরপর থেকে আস্তে আস্তে আমি গান শোনা কমিয়ে দেয় আর ভাবতে থাকি এত সুন্দর কুরআন তিলাওয়াত অথচ আমি তো সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত ই জানিনা আর শুদ্ধ তিলাওয়াত না জানলে আমার নামাজ ই তো হবেনা।আমি তো আলহামদুলিল্লাহ সেই ছোট বেলা থেকেই নামাজী তাহলে এতদিনের নামাজ কি করে কবুল হবে?একদিন ফোন থেকে সমস্ত কিছু ডিলিট দিয়ে দিলাম।প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত শোনার আর করার অভ্যাস করলাম।দিনদিন মনে হতো জবের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।আমার শরীর টা ই শুধু অফিসে যেত কিন্তু মন টা না।মনে মনে ভাবতাম শুধু হিজাব,পরিপাটি ড্রেসআপ করলেই পর্দা হয়না।তাই কষ্ট পেতে লাগলাম এতদিন বেপর্দা হয়ে চলেছি আমি?কত গুনাহ হয়েছে আমার। এরপর থেকে অনলাইন অফলাইনে জবের পাশাপাশি সহীহ শুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত শিখতে চেয়েছি কিন্তু কিছুতেই হয়ে উঠতোনা।এদিকে দিন যত যাচ্ছে তত জবের প্রতি অনীহা বাড়ছে।সিদ্ধান্ত নিতে থাকি জব ছেড়ে বাসায় এসে দ্বীনি পথ খুজে নেব।মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে আল্লাহর কালাম শুদ্ধভাবে শেখার সাথে সাথে অন্তরেও ধারন করব ইনশাআল্লাহ।কত কান্না করেছি সেটা আমি আর রব জানেন। বাসায় জানালাম আব্বু -আম্মু শুধু বললো তুমি কি আত্ববিশ্বাসী?আমি বললাম জ্বী ইনশাআল্লাহ। আব্বু বললো ওকে আল্লাহর নামে শুরু করে দাও।এরপর করোনা পিরিয়ড পার করলাম।ওই সময় সবকিছু বন্ধ ছিল এরপর বাসায় এসে ভর্তি হয়ে গেলাম আমার স্বপ্ন পুরনে। রোজ যাওয়া আসা করেই আমার পড়াশোনা চলে আলহামদুলিল্লাহ। কঠোর পর্দা মানা, নন মাহারাম মেনে চলা আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়লো। দ্বীনি পথে আসার পর আত্বীয় -স্বজন, প্রতিবেশী,বন্ধু -বান্ধবের কিছু কথা তুলে ধরলাম : ১) ইসস জব ছেড়ে দিয়ে ভুল করেছো।জব করলে তোমার বিয়ে টা হতো। হয়তো কেউ টাকার লোভে তোমাকে বিয়ে করতো আর এখন সেই জব টা ছেড়ে দিলে?কে বিয়ে করবে তোমাকে? ২) কি গো তুমি নাকি হুজুর হয়ছো? জব কি তাহলে আর করবেই না? ৩) শুধু শুধু এত বছর কষ্ট করে বাপের টাকা ফুরিয়ে পড়াশোনা করে কি লাভ? ৪) -আরে আবেগের ঠ্যালায় জব ছাড়লে পারবেতো হাফেজা হতে? সারাজীবন দ্বীনের পথে থাকতে? ৫) -এতো হাত -পা মোজা পরে পর্দা করার কি দরকার?আমরা এত জানিনা বাবা আমরা কি তাহলে জান্নাতে যাব না? ৬)আত্বীয় স্বজন (নন মাহারাম) এড়িয়ে চলো কেন?দিনদিন কি জংগী হয়ে যাচ্ছো ৭)বাসা ছেড়ে এখানে আসছো মাত্র দুই মিনিটের রাস্তা তাতে আবার বোরকা পরা লাগে নাকি?তাদের মতে বোরকা শুধু অপরুপা,রুপসী,সুন্দরী মেয়েদের জন্য ই।তাদের ভাষ্যমতে আমি বোরকা ছাড়া চললেও নাকি আমার দিকে মানুষ তাকাবে না ৮)কোন অনুষ্ঠানে গেলে-আরে এই হুজুর তো সবার মাঝে খাবেনা ৯)মনে হয় প্রেম প্রীতিতে ছ্যাকা ট্যাকা খাইছে তাই এখন সাধু সাজতে আসছে(আল্লাহ তায়ালা জানেন কতটা কষ্ট হয় শুনে) ১০)বিয়ে কি করবেনা?(অথচ আমি বলিনাই বিয়ে না করে এই পথেই থেকে যাব) ১১)কাউকে দ্বীনি পরামর্শ দিতে গেলে-নিজের বেলায় এতদিন বুঝোনাই?আগে তুমিও তো এই রকম করছো ১২)ও এখন তো আমরা ভালো বন্ধু -বান্ধব না তাই এড়িয়ে চলিস ১৩)কত দেখলাম উপরে ফিটফাট ভিতরে সদর ঘাট (আস্তাগফিরুল্লাহ) এই রকম কতশত কুরুচিপূর্ণ কথা আমাকে শুনে হজম করতে হয় সেটা আমি আর আমার আল্লাহ জানেন। ১৪)আবার অনেকে আছেন যারা আমার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।মন ভরে দোয়া করেন আমার জন্য।রাস্তায় বেরোলে সালাম সহ কুশলাদি বিনিময় করেন।আমার পরিবার বরাবরই আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। নিজের পছন্দ :প্রিয় রঙ:গোলাপি,লাল,নীল, সবুজ,মোটামুটি সব রঙ ই এখন ভালো লাগে প্রিয় খাবার:সব ধরনের হালাল খাবার। এর মধ্যে -ডিম,গরুর গোশত,ডাল,দুধ।আলহামদুলিল্লাহ সব ধরনের দেশীয় খাবার ই আমি নিজে রান্না করতে পারি। মানুষের সাথে মিশতে ভালোবাসি,মিথ্যা বলা,প্রতিশ্রুতি ভংগ করা,আমানতের খিয়ানত করা মানুষকে সহ্য করতে পারিনা বা তাদের সংস্পর্শ সম্পুর্নরুপে এড়িয়ে চলি। সর্বপরি যারা দ্বীনের পথে চলে বা চলার আগ্রহ প্রকাশ করেন তাদের সাথে মিশতে বেশি পছন্দ করি। শখ:আমার খুব ইচ্ছা আমার একটা বড় ফুলের বাগান হবে।ফুল আমার অসম্ভব প্রিয় একটা জিনিস। ফুল দেখলেই জান্নাতি জান্নাতি একটা ভাব মনে আসে। কত সুন্দর সৃষ্টি আল্লাহ সুবহানু তায়ালার সুবহান আল্লাহ। আমাদের বাসায় অনেক ফুল গাছ আছে আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাহ আল্লাহ শ্বশুর বাড়িতে ফুলের বাগান করার ইচ্ছা আছে বাকিটা আল্লাহ ভরসা। স্বপ্ন:দুনিয়ায় নিজের জন্য শুধুমাত্র দুইটা গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্ন আছে আমার। ১) একজন কুরআনের হাফেজা হয়ে সারাজীবন দ্বীনের পথে অটল থাকা এবং দ্বীনি খেদমতে নিজেকে শামিল করা ২)একজন দ্বীনদার মানুষের আহলিয়া হওয়া ইনশাআল্লাহ দ্বীনি -দুনিয়াবি যোগ্যতা : যেহেতু জেনারেল পড়ুয়া তাই এখন পর্যন্ত দ্বীনি যোগ্যতা অর্জন করা হয়ে ওঠেনি। যেহেতু হিফজে পড়াশোনা করছি ইনশাআল্লাহ কুরআনের হাফেজা হবো এরপর ইচ্ছা আছে আলেমা ও হবার বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা তবে আমি নামাজ পড়তে জানি,সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত জানি,হালাল -হারাম সহ শরীয়তের বিধি নিষেধ জানি এবং সেই অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করি তাহলে এটাও তো দ্বীনি -দুনিয়াবি যোগ্যতা বলে আমার মনে হয়। হতে পারে আপনি হাফেজা,আলেমা নন কিন্তু আমল করেন।অল্প আমল ই নাজাতের জন্য যথেষ্ট।
|