| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ।আমার জীবনযাপন, পোশাক পরিচ্ছদ, কথাবার্তা সবকিছুই খুবই সাধারণ। আর এই সাধারণভাবে থাকতেই আমি পছন্দ করি। স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পছন্দ করি যদিও তার শব্দচয়ন সাজানো এলোমেলো হয়ে যায়। এমনি আমি শান্ত স্বভাবের, কিছুটা রাগী, বেশি কথা বলা পছন্দ করি না, তবে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের সাথে আবার অনেক কথা বলি। ব্যক্তিগত জীবনে সৎ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দ্বীনের বুঝ দেওয়ার পর থেকে দুনিয়ার চাকচিক্যময় জীবন পরিহার করেছি। এই জীবনের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা, তাঁর রাসূলের দেখানো পথে দুনিয়ার জীবন পার করা। পরকালীন জীবনটা সুন্দর করা। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ঈমান ধরে রাখা খুবই কঠিন। আর যখন পরিস্থিতি এমন হয় যে সরাসরি কারো থেকে দ্বীনি উপদেশ পাওয়া ও দ্বীন মানতে সাহায্য করবে এমন মানুষ বা পরিবেশ না পাওয়া। তাই খুব করে চাই কেউ আমাকে গাইড করবে দ্বীনি বিষয়ে শেখাবে। আমি নিজে দ্বীনদার বলে পরিচয় দিবো না। আমি খুবই নগণ্য একজন মানুষ। দ্বীন সম্পর্কে যে খুব বেশি জানি তাও না। দ্বীনের ফরজ বিধান গুলো মেনে চলি, চলার চেষ্টা করি। স্বল্প জ্ঞানের ক্ষুদ্র একজন মানুষ, আমার জ্ঞানের পরিধি খুবই কম।বার বার ভুল পথে গিয়ে আবার ফিরে আসি, এভাবেই চলছে জীবন। অনেক চেষ্টা করেছি বুঝিয়েছি পরিবারকে, দ্বীনের যতটুকু জেনেছি তাঁদের জানানোর চেষ্টা করেছি কাজ হয়নি এতো বছরেও। ঘরের বাহিরে পরিপূর্ণ পর্দা করলেও, নিজ বাড়িতে এমন পরিবেশ পাইনি, গ্রামের বাড়ি হওয়ায় হুটহাট গাইয়ে মাহরামের সামনে পড়ে যেতে বসি।তাই স্বপ্ন একটা এমন পরিবেশ পাওয়া যেখানে আমি ঘরে বাহিরে পরিপূর্ণ পর্দা করে চলতে পারবো। আমি ইন্ট্রোভার্ট একজন মানুষ। সবার সাথে সহজে মিশতে কথা বলতে পারি না। অতিরিক্ত হইহুল্লোড় পছন্দ না। নিরব শান্ত পরিবেশে থাকতে ভালো না। অনেক মানুষের সমাগম ভীড় আমার ভালো লাগে না, শরীরের সাথেও যায় না অসুস্থ হয়ে যাই। ঝগড়া বিবাদ পছন্দ করি না। দিনের বেশিরভাগ সময় একা থাকা হয়।অবসর সময়ে ইসলামিক বই, গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে, রান্না করতে ভালো লাগে। ছোট বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে। বিড়াল ভালো লাগে। ইন্ট্রোভার্ট মানুষ হলেও আমার ভেতর থেকে এখনো বাচ্চাসুলভ আচরণ এখনো পুরোপুরি যায়নি, এটা শুধু বিশেষ মানুষ ছাড়া কারো কাছে প্রকাশ পায় না, যেমন আম্মা, বোন এর সাথে বেশি হয়ে যায়। রান্নাবান্না সাংসারিক কাজ টুকটাক প্রায় সবই পারি এবং করার চেষ্টা করি। এছাড়াও কাথা সেলাই, নিজের পোশাক বানাতে পারি, তবে নিজের সেলাই মেশিন নাই। নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করি। চেষ্টা করি নতুন নতুন কাজ শিখতে। একজন ভালো স্ত্রী হতে যা যা শেখা প্রয়োজনীয় সেসকল কিছু শেখার চেষ্টা করি, আম্মা ছোট থেকে সাংসারিক কাজ শিখতে উৎসাহ দিয়েছেন। মানুষের সাথে বিশেষ করে ননমাহরাম, যেমন দুলাভাই, চাচাতো মামাতো ভাই এদের সাথে অতিরিক্ত কথা হাঁসি ঠাট্টা ইয়ার্কি করা ছোট থেকেই পছন্দ না। পরিবার ও এসব পছন্দ করে না। কখনো ননমাহরামের সাথে ছোটবেলা থেকেই কোথায়ও বেড়াতেও যেতে দেয়নি। এছাড়া অনুষ্ঠান বাড়ি যাওয়া পছন্দ না, যাওয়া হয় না তেমন। যেই যেই পরিবেশ পর্দার জন্য ক্ষতিকারক সেই পরিবেশ পরিহার করে চলার চেষ্টা করি। তাই যিনি আসবেন তার পরিবারের এমন সদস্যদের থেকে আমায় দূরে রাখবে পর্দায় রাখবে আশা রাখি। শালীনতা সত্যবাদীতা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ। নিজের কাছে নিজে সৎ থাকার মাঝে কি যে আনন্দ তা একমাত্র সেই ব্যক্তিই জানেন যে নিজে সৎ থাকে। বিলাসী জীবন আমার কখনোই পছন্দ ছিলো না এখনও নাই। সাধারণ পরিপাটি থাকতে ভালো লাগে। বর্তমান সময়ের মেয়েদের মতো এতো আধুনিক আমি নই। সহজ সরল জীবন, সহজ-সরল ভাষা ভাবনা আমার ভালো লাগে। মানুষের ব্যক্তিত্ব আমাকে খুব করে বিমোহিত করে। মানুষের কথার মাধুর্যতা, চিন্তাচেতনা, শালীনতা, লজ্জাশীলতা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাকে মুগ্ধ করে। এবং নিজেকে তেমন মানুষ হিসেবে গড়ার চেষ্টা করি। এছাড়াও জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন শখ সবকিছুই ভবিষ্যত মাহরামকে ঘিরে। একটা ইসলামিক পরিবারের স্বপ্ন যা আমি প্রতিদিন দেখি, দোয়া করি রবের কাছে খুব করে চাই। ভবিষ্যত মাহরামের সাথে ওমরাহ করার স্বপ্ন প্রতিটি মানুষেরই থাকে, যেই স্বপ্ন আমিও দেখি, সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। একজন আদর্শ স্ত্রী আদর্শ মা হিসেবে হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আল্লাহ কবুল করুক আমিন।
|