| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
জ্বী আলহামদুলিল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। আমার বয়স যখন ১০-১১ বছর.. তখন থেকেই নামাজ পড়ি আল্লাহর রহমতে।২০১৩ বা ২০১৪ সাল থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করছি। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
আলহামদুলিল্লাহ আমার নামাজ কাযা হয় না। কোথাও গেলে নামাজের সময়সূচী মেইনটেইন করে বের হই।যাতে নামাজ কাযা না হয়।কারন আমার কাছে সবকিছুর আগে নামাজ। আল্লাহ পাকের ফরজ বিধানে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হয় না। আলহামদুলিল্লাহ। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
আলহামদুলিল্লাহ পাড়ি। এখন ইচ্ছে আছে কোনো হাফেজার কাছে গিয়ে পড়াটা শুনানো লাগবে পরিপূর্ণ ভাবে শুদ্ধ হয় কি না!!!
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
আলহামদুলিল্লাহ না। তবে..পড়ার সময় বা ফোন ব্যবহার করার সময় আর বাড়ির বাইরে বের হলে,,নিকাবের সাথে চশমা পড়া হয় (০.২৫ পাওয়ার এর)।For safety..!!
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
মাজারে যারা শুয়ে আছে..তাদের কাছ থেকে কিছু চাওয়া শিরক.. এখানে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করা হয়। তবে মাজার জিয়ারত করা জায়েজ আছে।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
১)বেলা ফুরাবার আগে ২)প্যারাডক্সিক্যাল সাজীদ ৩) জান্নাতি রমণী ৪) মুসলিমের সুরক্ষা। এখন দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভাবে জানার জন্য কিছু ইসলামিক বই সংগ্রহ করে পড়তেছি। দ্বীনের পথে পরিপূর্ণ ভাবে প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টায় স্বল্প পরিসরে ইলম অর্জনের চেষ্টা করতেছি শুধুমাত্র রবের সন্তুষ্টির জন্য।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
১)ড.খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ২)আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ৩)ড.মিজানুর রহমান আজহারি ৪) আনিসুর রহমান আশরাফি।আরো অনেক হক্কানী আলেমদের লেকচার শুনা হয়।
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
আস-সালামু আলাইকুম!!! আমি খুব একটা গুছিয়ে লিখতে পারি না..আর এটা তো আবার আমার নিজের সম্পর্কে..!! চেষ্টা করবো আমি আমার নিজেকে যতোটুকু জানি বা বুঝি..তার মধ্যে কিছু সত্য কথা সৎ ও স্পষ্ট ভাষায় লিখার জন্য...!!! আমি আল্লাহ পাকের সদ্য হেদায়েতপ্রাপ্ত একজন গোনাহগার বান্দী। ছোট বেলা থেকেই মনের মধ্যে একটা ইচ্ছে ছিল যে, আমি আমার রবের প্রতিটা আদেশ-নিষেধ মেনে চলবো..ইসলামে একটা মেয়ের ঠিক যেভাবে চলাফেরা করা উচিত..ঐভাবেই চলবো।তো.. ছোট থেকেই ইসলাম অনুযায়ী চলতাম।ছোটবেলা থেকেই নামাজ কালাম পড়তাম এবং শালীন ভাবে চলাফেরা করতাম.. তখন হয়তো দ্বীনের সঠিক বুঝ ছিল না। কারন আমাদের পরিবারটা আর পাঁচটা মুসলিম পরিবারের মতোই। তখন হয়তো দ্বীন পালন করতাম না বুঝে। এখন যেমন প্রতিটা বিষয় বুঝে শুনে বা উপলব্ধি করে পালন করি.. তখন হয়তো এরকম বোধ ছিল না। আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় জুড়ে ছিল আমার পড়াশোনা, নামাজ-কালাম আর আমার মা-বাবা।আর বুঝ হওয়ার পর থেকে আমি বাড়ীর বাইরে বের হই না।তো..আল্লাহর অশেষ রহমতে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করা অবস্থায় হেদায়েতের নূর অন্তরে আসা শুরু হয়।যতটুকু দ্বীন সম্পর্কে ইলম অর্জন করছি.. সবটুকুই অনলাইন থেকে ইসলামিক বক্তাদের ওয়াজ শুনে অর্জন করছি এবং বিভিন্ন দ্বীনি গ্ৰুপ থেকে অর্জন করছি।এখন হেদায়েতের পরিপূর্ণ বুঝ অন্তরে আসছে এবং নিজের মধ্যে যতোটুকু ইলম আছে..ততটুকু আমল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি। আলহামদুলিল্লাহ। তো..আমি আমার নিজেকে এখন ঐভাবেই গুছাইতেছি..যেনো আমার আল্লাহ আমার উপড় পরিপূর্ণ ভাবে সন্তুষ্ট হন..রাসূলের আনুগত্য হয়..আমার পরকালীন জীবন সুখের হয় এবং জীবনে আসা সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষটি দৃঢ়কন্ঠে বলতে পারে যে,"আপনি আমার দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার এবং আমি আপনাকে পেয়ে সন্তুষ্ট"। ইনশাআল্লাহ। দুনিয়ার এই স্বল্পস্থায়ী জীবনের উদ্দেশ্য এখন একটাই .. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন যাপন করা এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহর হেদায়েতের পথে থেকে পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করা। চূড়ান্ত স্বপ্ন একটাই:"জান্নাতুল ফেরদাউস"এ আল্লাহর রহমত নিয়ে প্রবেশ করা।তো..এর জন্য দুনিয়াতে ঠিক যেভাবে চলাফেরা করা উচিত..ঐভাবেই চলতেছি বা চলার চেষ্টা করতেছি এবং চেষ্টা করে যাবো। ইনশাআল্লাহ।আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ পাক সাহায্য করতেছেন। আমার পুরো জীবনটাই এখন আল্লাহ কে ঘিরে, রাসূলকে ঘিরে এবং জান্নাতকে ঘিরে। আসলে যখন আমরা পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনি.. তখন আমাদেরকে অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেন,"মানুষ কি মনে করে যে,'আমরা ঈমান এনেছি'শুধু এটুকু কথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে,আর তাদেরকে কোনো পরীক্ষা করা হবে না?"(সূরা:আনকাবূত-০২)। অর্থাৎ, ঈমান আনলেই পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া লাগে বা লাগবে। দুনিয়ার জীবন টা কে ঐভাবেই কাটাতে চাই..যেভাবে আল্লাহ পাক এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাটাতে বলেছেন।আর আমি সবসময় এই দিক থেকে খুবই সিরিয়াস থাকি যে,আমার দ্বারা যেনো কোনো মানুষের হক নষ্ট না হয়..নিজে ঠকে যাবো..কিন্তু আমার দ্বারা যেনো অন্য কোনো মানুষ না ঠকে বা যেনো কষ্ট না পায়।আল্লাহ পাক সহজ করে দিক। আমিন 🤲। দুনিয়ার কিছু শখ বা স্বপ্ন:১) আল্লাহর দ্বীনের পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করা।২) মানুষকে সাহায্য করা। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।৩) মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে ভালো লাগে।৪) ভ্রমণ করতে অনেক ভালো লাগে..যদিও আমার জীবনের গন্তব্য বাড়ি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত।বুঝ হওয়ার পর থেকে বাড়ি থেকে প্রয়োজন ব্যতীত বের হই না।৫) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বা গুছিয়ে চলতে পছন্দ করি।৬)উদার মনের মানুষদের খুব ভালো লাগে।৭) জীবনে যত কষ্টই আসুক.. আল্লাহর উপড় তাওয়াক্কুল রেখে ধৈর্য ধারন করি। কারন আমি মনে করি, দুনিয়ার জীবন টা তো মাত্র কয়দিনের!!আর আল্লাহ পাক যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন,তাকেই দুঃখ-কষ্ট বেশি দিয়ে থাকেন।৮) সাদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে নেক সন্তান দুনিয়াতে রেখে যেতে চাই..যারা আল্লাহ এবং রাসূলের পথে জিহাদ করবে, দ্বীনের পথে শহীদ হবে। ইনশাআল্লাহ।৯) রাসূলের রওজা মোবারক দেখে আসা।১০)অবসর সময়ে বই পড়ি, ইসলামিক বক্তাদের লেকচার শুনি আর কিছু সুন্নাহ এবং নফল ইবাদত নিজের আমলে নিয়ে ফেলছি। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ পাক সকল প্রকার রিয়া থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখুক। অপছন্দের কয়েকটি বিষয় হলো:১) মিথ্যা,লোভ, হিংসা, অহংকার এবং গীবত..এসব পছন্দ করি না। চেষ্টা করি নিজেকে এসব থেকে বাঁচিয়ে রাখার। ২) দুনিয়ার জীবন নিয়ে ব্যস্ত মানুষদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। ৩) অগোছালো বা অপরিষ্কার কোনো কিছুই পছন্দ করি না (আল্লাহর রহমত থাকে না) ৪)যারা সামনে সুনাম করে আর পিছনে বদনাম করে.. তাদের থেকে সবসময় ই দূরে থাকার চেষ্টা করি। কারন এরা খুবই ভয়ংকর স্বভাবের হয়ে থাকে।৫) গায়রতবিহীন মানুষদের খুব একটা পছন্দ করি না। কারন একটা মানুষের ব্যক্তিত্বই হলো তার গায়রতে।৬) কৃপণতা আমার চরম শত্রু ৭)যারা সামাজিকতার সাথে তাল মিলিয়ে দ্বীন পালন করে.. তাদের দ্বীনদারিতা নিয়েই আমার প্রশ্ন জাগে!!৮) বর্তমানে ঘরে ঘরে পরকিয়া আর হারাম লেনদেন..এই বিষয় গুলো আমি অনেক ভয় পাই 😓 আর সহজে নিতে পারি না।৯) আমার একটা বাজে দিক হলো, আমার মানুষের প্রতি মায়া জিনিসটা একটু বেশি আর যেকোনো মানুষকে খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলি।১০)যাদের কথার সাথে কাজের মিল নেই.. এমন মানুষ ভালো লাগে না। সর্বশেষ.. আমি দুনিয়ার জীবনের সুখের চাইতে পরকালীন জীবনের সুখের প্রতি বেশি আগ্রহী।কারন মুসাফিরের এই জীবন কোনো না কোনো ভাবে কেটেই যাবে। মাঝখানে নিজের ঈমান,আমল আর মনে সুকুন ঠিক থাকলেই হলো..!!!আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন"এ দুনিয়ার জীবন এক খেলা ও মন ভুলানো বিষয় ছাড়া কিছুই না।আসল জীবনের ঘর হলো আখিরাতের ঘর"(সূরা: আনকাবূত-৬৪)।আর প্রদর্শনের এই নগ্ন দুনিয়ায় নিজেকে আড়ালে রাখতেই বেশি পছন্দ করি। কারন সৌন্দর্য প্রদর্শনের উপযুক্ত স্থান বা ব্যক্তি হলো নিজের কাছে নিজে এবং জীবনসঙ্গী। ওয়াল্লাহি..!!প্রতিটা কথা নিজের অন্তর থেকে বলা।আমি চাই পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহ এবং রাসূলের প্রতিটা আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে।তো.. জীবনসঙ্গী হিসেবেও ঐরকম মন-মানসিকতার কাউকে চাচ্ছি।যে দুনিয়ার বুকে আখিরাতকে কামিয়াব করবে.. দুনিয়াকে না। আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল। বায়োডাটা টা একটু বেশিই বড় হয়ে গেছে 😑।তার জন্য অনেক দুঃখিত 😑। কারন বিয়েটা দুনিয়ার জীবন এবং পরকালীন জীবন উভয় জীবনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।তাই..এই জায়গায় ভুল করতে চাই না। আল্লাহ সাহায্য করুক। আমিন । বায়োডাটা পছন্দ হলে ইস্তেখারা করে..ই-মেইলে বায়োডাটা পাঠাবেন। জাযাকাল্লাহ খাইরান।
|