| প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি? কবে থেকে পড়ছেন?
|
করোনার পর থেকে চেষ্টা করি আলহামদুলিল্লাহ। শুরুর দিকে উদাসীনতা ছিল। তাই ভালোভাবে বললে, ২০২২ সাল থেকে। |
| সাধারণত সপ্তাহে কত ওয়াক্ত নামায আপনার কাযা হয়?
|
হয় না আলহামদুলিল্লাহ। মাঝেমাঝে ১/২ ওয়াক্ত কাযা হয়, যদি কোনো ওজর থাকে। |
| শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন?
|
আলহামদুলিল্লাহ পারি। আরও সুন্দর ও সহীহ করার চেষ্টায় নিয়োজিত আছি। সুললিত কন্ঠে তিলাওয়াতের স্বপ্ন দেখি।
|
| আপনার মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে?
|
এলার্জির সমস্যা আছে সামান্য। করোনার টিকা দেওয়ার পর থেকেই এই সমস্যাটা দেখা দেয় মাঝেমাঝে। নিয়মিত এর জন্য কোনো ওষুধ খেতে হয় না। এছাড়া খাবারে অনিয়ম করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়। ডাস্ট এলার্জি আছে। ধুলাবালির কাজ করার সময় মাস্ক পরে নিলে সমস্যা হয় না।
|
| মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কি?
|
মাজারে গিয়ে সেখানে শায়িত ব্যক্তির কাছে কোনো কিছু চাওয়া এবং পাওয়ার মানসিকতা রাখা শিরক।
|
| আপনার পড়া হয়েছে এমন অন্তত ৩ টি ইসলামি বই এর নাম লিখুন
|
তাওহীদের কালিমা, হাদিসের নামে জালিয়াতি, সুইটহার্ট কুরআন, আল কুরআনের সান্নিধ্যে, সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া, সংযত জবান সংহত জীবনসহ আরও অনেক বই পড়া হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।
|
| আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন
|
শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহি.), শায়েখ আহমাদুল্লাহ, মুফতি জুবায়ের (রহি.), আবু তাহের মিসবাহ (রহি.) এবং শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
|
| নিজের শখ, পছন্দ-অপছন্দ, রুচিবোধ, স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে লিখুন |
ছোটবেলা থেকে তথাকথিত ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠেছি। তবে করোনাকালে ইসলামিক বই অধ্যয়ন, কুরআনের অর্থ অনুধাবন ও তাদাব্বুরের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ অনুগ্রহে আমার অন্তরকে হিদায়াতের আলোয় আলোকিত করেছেন। এরপর থেকে জীবনবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য—সবকিছুতেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জীবনের পরিসমাপ্তি যদি ঈমানের সঙ্গে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্য দিয়ে হয়, তবেই এ প্রচেষ্টা সফল হবে—ইনশাআল্লাহ। দ্বীনের পথে ফিরে আসার পর প্রায়ই মনে হতো—ইশ, যদি মাদ্রাসায় পড়ার সুযোগ হতো! সেই আক্ষেপকে হতাশায় পরিণত হতে দিইনি। মহিলা কলেজে কেমিস্ট্রিতে অনার্স করার পাশাপাশি আইওএম-এর আলিম প্রিপারেটরি কোর্সে ভর্তি হই। তৃতীয় সেমিস্টারের আগেই ঝরে যেতে হলেও বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে ইলম অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আবারও আলিম কোর্সে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা আছে। আলহামদুলিল্লাহ, মারকাযুন নাহদাতে তাজউইদ কোর্স সম্পন্ন করেছি এবং বর্তমানে সেখানে নাযেরা কোর্সে অধ্যয়নরত আছি। আমৃত্যু কুরআনের সঙ্গেই থাকতে চাই। নিজে সহীহভাবে কুরআন শিখে অন্যদের, বিশেষ করে মা, চাচি ও পরিবারের নারীদের শেখাতে এবং কুরআন নিয়ে তাদাব্বুরে উৎসাহিত করতে চাই। কল্যাণকর কাজে অংশ নিতে, নতুন বিষয় জানতে এবং আগ্রহী মানুষের সঙ্গে তা ভাগ করে নিতে ভালো লাগে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরামর্শ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত মোহ মানুষকে আখিরাত থেকে গাফেল করে দেয়—এ বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করি। তাই বিলাসিতা অপছন্দ করি; অল্পে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতেই বেশি ভালো লাগে। ঘরে অবস্থান করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। খুব প্রয়োজন না হলে বাইরে যেতে ইচ্ছা করে না। তবে মাহরাম বা পরিবারের সঙ্গে সুযোগ হলে পাহাড়, ঝর্ণা কিংবা সমুদ্রের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরতে যেতে ভালো লাগে। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে কুরআনের আয়াত নিয়ে ভাবতে ভাবতে এক অনন্য প্রশান্তি অনুভব করি। আপনজনদের কাছে গুরুত্ব পেতে ভালো লাগে। অকারণে অবহেলা, মিথ্যা বলা কিংবা রূঢ় আচরণ আমার অপছন্দ। একজন উত্তম স্ত্রী ও নেককার সন্তানের জননী হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আল্লাহ যদি সন্তান দান করেন, তবে উত্তম তারবিয়াহর মাধ্যমে তাদের কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শে গড়ে তুলতে চাই। আমার আকাঙ্ক্ষা, তারা যেন আল্লাহভীরু, উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং দ্বীনের কল্যাণে নিবেদিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে—যারা হবে আমাদের চক্ষুশীতলকারী। আল্লাহই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।
|